২৫ বছর আগে আজকের এই দিনে দুরুদুরু বুকে প্রথম নাটকের শুটিংয়ে নেমেছিলেন চয়নিকা চৌধুরী। ২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর শুটিং শুরু করা সেই নাটকের নাম ‘শেষ বেলায়’। এরপর পেরিয়েছে আড়াই দশক। নির্মাণ করেছেন চার শতাধিক নাটক। বড় পর্দায় বানিয়েছেন ‘বিশ্বসুন্দরী’ ও ‘প্রহেলিকা’। তবে চলচ্চিত্র নির্মাণে নাম লেখালেও টেলিভিশন নাটক থেকে কখনো দূরে যাননি। নির্মাণজীবনের ২৫ বছর পূর্তির দিনটিও তাই উদ্যাপন করছেন নতুন কাজ দিয়েই। আজ শুক্রবার একই দিনে চারটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হবে তাঁর চারটি নতুন নাটক।
চয়নিকার ভাষায়, এত বছর পরও নতুন কাজের শুটিং শুরুর সময় প্রথম দিনের সেই অনুভূতি ফিরে আসে। তিনি আরও বলেন, ‘২৫ বছর আগে প্রথম দিন যেভাবে দুরুদুরু বুকে কাজ করেছিলাম, আজও কাজ করতে গিয়ে তা-ই মনে হয়। কারণ, আমার সেরা কাজটা এখনো দিতে পারিনি। আরও ভালো কিছু দেওয়ার বাকি।’
নির্মাণের এত বছরের পথ পেরিয়েও নিজের কাজ নিয়ে তাঁর এই অতৃপ্তিই তাঁকে নিয়মিত নতুন কাজে ফিরিয়ে আনে। তিনি মনে করেন, একজন নির্মাতার জন্য অর্জনের চেয়ে সামনে আরও ভালো কিছু করার আকাঙ্ক্ষাই বড়। তাই ২৫ বছর পূর্তিকে কেবল স্মৃতিচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি। দর্শকের জন্য নতুন চারটি নাটক নির্মাণ করেই দিনটি স্মরণীয় করে রাখছেন।
এক দিনে চার নাটক
২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত চার নাটকের একটি ‘সময় একটু থামো’। ইফফাত আরেফিন তন্বির লেখা নাটকটি আজ চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হবে। এতে অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন, জাকিয়া বারী মম, রোজী সিদ্দিকী, ফারজানা ছবি প্রমুখ। টেলিভিশনে প্রচারের পর আগামীকাল গানচিলের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হবে নাটকটি।
এটিএন বাংলায় প্রচারিত হবে ‘বিষণ্ন মেঘ’। চয়নিকা চৌধুরীর দেখা একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নাটকটি লিখেছেন ইফফাত আরেফিন তন্বি। এতে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, জাকিয়া বারী মম, সাদিয়া আয়মান, ডলি জহুর প্রমুখ। টেলিভিশনে প্রচারের পর নাটকটি দেখা যাবে লেজার ভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে।
শফিকুর রহমান শান্তনুর লেখা ‘জোছনায় ফেরা’ প্রচারিত হবে বৈশাখী টেলিভিশনে। এতে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, আইশা খান, দীপা খন্দকার প্রমুখ। পরে
লেজার ভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হবে নাটকটি।
মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হবে আহমেদ তৌকীরের লেখা ‘প্রথম দেখার পর’। এতে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, তানজিন তিশা, আবুল হায়াত ও ডলি জহুর। টেলিভিশনে প্রচারের পর জি সিরিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাবে নাটকটি।
কোনো উৎসব বা বিশেষ দিবস নয়, শুধু তাঁর নির্মাণজীবনের ২৫ বছরকে ঘিরে চারটি টেলিভিশন চ্যানেল ও ইউটিউব প্ল্যাটফর্মের এমন আয়োজন চয়নিকার কাছে বিশেষ প্রাপ্তি। তিনি বলেন, ‘২৫ বছর তো এমনিতেই হয়ে যায়নি। ভালোবাসা, সমর্থন ও আনন্দের পাশাপাশি ঝড়ঝাপটা, কষ্ট, চোখের জল, অপমান ও অপবাদও ছিল। এ সময়ে এসে কোনো উৎসব ছাড়াই যখন চারটি চ্যানেল ও ইউটিউব চ্যানেল আমার ২৫ বছর উদ্যাপনের জন্য এগিয়ে এল, আর একই দিনে সব কটি নাটক প্রচারিত হচ্ছে—সত্যি এটিই আমার জন্য আনন্দ, প্রাপ্তি ও অর্জন।’
প্রথম নাটক, প্রথম প্রচার
২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ‘শেষ বেলায়’ নাটকের শুটিং দিয়ে নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এটি চয়নিকা চৌধুরীর প্রথম প্রচারিত নাটক নয়। তাঁর নির্মিত প্রথম প্রচারিত নাটক ছিল ‘এক জীবনে’। অ্যাড মিডিয়া প্রযোজিত নাটকটির প্রযোজক ছিলেন জায়েদান রাব্বী। ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ টেলিভিশনে নাটকটি প্রচারিত হয়।
নির্মাতা হিসেবে প্রথমবার ক্যামেরার পেছনে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়ার কথা স্মরণ করে চয়নিকা বলেন, একজনের যোগ্যতা থাকলেও কাজের উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম না পেলে তা দেখানোর সুযোগ তৈরি হয় না। সেই জায়গা থেকে লাইট অ্যান্ড শেডের মুজিবুর রহমান, অ্যাড মিডিয়ার জায়েদান রাব্বী ও তমালিকাকে বিশেষভাবে স্মরণ করেন তিনি।
চয়নিকা বলেন, ‘তাঁরাই আমাকে প্রথম প্ল্যাটফর্ম দিয়েছিলেন। আমার মধ্যে যোগ্যতা থাকলেও সেটি তো দেখাতে হবে। আর তা দেখানোর জন্য আগে একটি সুযোগ প্রয়োজন। তাঁদের কাছে আমি সব সময় কৃতজ্ঞ।’
তবে নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ১৯৯৮ সালে ‘বোধ’ নাটক দিয়ে চিত্রনাট্যকার হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু। লেখালেখির পথ ধরেই পরে তিনি নির্মাণে আসেন। ধীরে ধীরে নাটক নির্মাণই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের প্রধান পরিচয়।
প্রথম দিকের সহযাত্রী
নির্মাণজীবনের শুরুর দিকে যাঁরা তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন, তাঁদের অবদানও বিশেষভাবে স্মরণ করেন চয়নিকা। তাঁর প্রথম দিকের নাটকগুলোতে অভিনয় করেছিলেন ইমদাদুল হক মিলন, মাহফুজ আহমেদ, অপি করিম, শ্রাবন্তী ও শাহেদ। ঈশিতা ও জয়া আহসানও ছিলেন তাঁর শুরুর দিকের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে।
চয়নিকার ভাষায়, সে সময় তাঁরা ছিলেন প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী, আর তিনি ছিলেন একেবারেই নতুন নির্মাতা। তবু তাঁরা তাঁর নির্দেশনায় কাজ করেছেন এবং নিয়মিত পাশে থেকেছেন। চয়নিকা বলেন, ‘তখন তাঁরা সুপারস্টার, আর আমি নতুন। তাঁরা আমার অনেক কাজ করেছেন। তাঁদের কাছে আমি অবশ্যই ঋণী।’
দীর্ঘ ২৫ বছরের নির্মাণযাত্রায় কিছু অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে তাঁর কাজের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। নারী অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে তারিন জাহানের সঙ্গে তিনি সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন। নারী-পুরুষ মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি নাটক করেছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। পার্শ্বচরিত্রের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে আবুল হায়াতের সঙ্গে তাঁর কাজের সংখ্যা আড়াই শতাধিক।
চয়নিকা জানান, প্রয়াত অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদ তাঁর প্রায় ২৭০টি নাটকে অভিনয় করেছেন। ডলি জহুর অভিনয় করেছেন ২২৩টি নাটকে। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করতে করতে তাঁদের সঙ্গে নির্মাতা-শিল্পীর সম্পর্কের পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্কও তৈরি হয়েছে।
রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন
চয়নিকা চৌধুরীর সৃজনশীল পথচলা নির্মাণ দিয়ে শুরু হয়নি। ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী হওয়ার। গান ও সংগীতের পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। রবীন্দ্রসংগীতে মিতা হক, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও সন্জীদা খাতুন ছিলেন তাঁর আদর্শ। সংগীতের পথে এগিয়ে যাওয়ার পেছনে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর মা।
গান শেখার জন্য শান্তিনিকেতনেও গিয়েছিলেন চয়নিকা। কিন্তু ১৯ বছর ২ দিন বয়সে বিয়ের পর সংসার ও পরিবারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে আর সেখানে ফেরা হয়নি। রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও শিল্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। প্রথমে লেখালেখি, পরে নির্মাণ—ভিন্ন পথে সেই শিল্পচর্চাই তাঁর জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।
চয়নিকার নাটকে শুরু থেকেই গান, বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া, ধীরগতির দৃশ্য, পারিবারিক সম্পর্ক, মা-বাবা, প্রেম ও ভালোবাসার উপস্থিতি ছিল। অনেকে তাঁর নির্মাণকে পুরোনো ধারার বলে মন্তব্য করলেও চয়নিকা বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখেন। তিনি বলেন, ‘২৫ বছর আগে যখন নাটকে গান রাখতাম, বৃষ্টি দিতাম, ঝোড়ো হাওয়া রাখতাম, স্লো মোশনে হাঁটার দৃশ্য দিতাম, পারিবারিক গল্প করতাম—তখনো আমার নাটকে মা-বাবা, প্রেম, সম্পর্ক ও ভালোবাসা ছিল। ২৫ বছর পরও তো এসব কাজই দেখি। তার মানে, ২৫ বছর আগে আমি আসলে নতুনই ছিলাম।’
চয়নিকার মতে, মানুষের সম্পর্ক, ভালোবাসা, পরিবার ও আবেগ কখনো পুরোনো হয়ে যায় না। সময়ের সঙ্গে নির্মাণের ধরন ও উপস্থাপন বদলাতে পারে, কিন্তু মানুষের মৌলিক অনুভূতিগুলো একই থাকে। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি সম্পর্কের গল্প নির্মাণ করে চলেছেন।
সিনেমা দেখার দুই জানালা
চয়নিকার চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ তৈরির পেছনেও তাঁর মা-বাবার বড় ভূমিকা ছিল। মায়ের হাত ধরে তিনি দেখেছেন সত্যজিৎ রায় ও মৃণাল সেনের চলচ্চিত্রসহ নানা ধরনের ভালো ছবি। অন্যদিকে বাবার সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখতেন বাণিজ্যিক সিনেমা। ফলে ছোটবেলা থেকেই একই সঙ্গে দুই ধারার চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ হয়েছে তাঁর।
মায়ের সঙ্গে দেখা জীবনঘনিষ্ঠ ও শিল্পমানসম্পন্ন চলচ্চিত্র যেমন তাঁর রুচি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে, তেমনি বাবার সঙ্গে দেখা বাণিজ্যিক সিনেমা তাঁকে দর্শকের বিনোদনের চাহিদা বুঝতে সাহায্য করেছে। পরে নিজের নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় এই দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই কাজে লেগেছে বলে মনে করেন তিনি।
নির্মাণের পথে অপর্ণা সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ, মোস্তফা কামাল সৈয়দ, হুমায়ূন আহমেদ, নওয়াজেশ আলী খান, বরকতউল্লাহ, জিয়া আনসারী, আখতার ফেরদৌস রানা ও মোহন খানের কাজ থেকে শেখার চেষ্টা করেছেন চয়নিকা। এই তালিকায় বিশেষভাবে স্মরণ করেন আফজাল হোসেনকে। তাঁর কাছ থেকে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে নিয়মিত সমর্থন পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
চয়নিকা বলেন, ‘আফজাল ভাই আমাকে অনেক সমর্থন ও ভালোবাসা দিয়েছেন। এখনো তাঁর কাছ থেকে যখন কোনো কথা শুনি, তখন সেটি আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়। আমার সন্তানের অসুস্থতার সময়ও তিনি প্রতিদিন ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। এই বিষয়গুলো আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।’ নানা সময় পরীমনিও পাশে দাঁড়িয়েছেন।
শুধু নির্মাতাদের কাজ থেকেই নয়, অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকেও চয়নিকা শিখেছেন। সুবর্ণা মুস্তাফা, ফেরদৌসী মজুমদার, শর্মিলী আহমেদ, ডলি জহুর, আবুল হায়াতের মতো অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর নির্মাণবোধকে সমৃদ্ধ করেছে।
নারী নির্মাতার দীর্ঘ পথ
দেশের টেলিভিশন নাটকে নারী নির্মাতার সংখ্যা যখন ছিল হাতে গোনা, তখন পরিচালনায় এসেছিলেন চয়নিকা। সেই জায়গা থেকে টানা আড়াই দশক নির্মাণে সক্রিয় থাকা তাঁর কাছে যেমন আনন্দের, তেমনি এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। কাজ করতে গিয়ে প্রশংসা, স্বীকৃতি ও ভালোবাসার পাশাপাশি নানা প্রতিকূলতা, সমালোচনা ও অপমানেরও মুখোমুখি হয়েছেন।
তবে এসব কারণে কখনো নির্মাণ থেকে সরে যাননি। বরং প্রতিটি বাধাকে কাজ দিয়েই অতিক্রম করার চেষ্টা করেছেন। একজন নারী নির্মাতা হিসেবে তাঁকে নিজের যোগ্যতা বারবার প্রমাণ করতে হয়েছে। তবু তাঁর বিশ্বাস, কাজে নিষ্ঠা ও একাগ্রতা থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে কাউকে আটকে রাখা যায় না।
চয়নিকা বলেন, ‘সবকিছুর ঝড়ঝাপটার মধ্যেও জীবনের পথে যখন এগিয়েছি, বিভিন্ন বাঁকে কিছু মানুষের হাত আমার দিকে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই মানুষগুলোই আমার জীবনের আশীর্বাদ। তাঁদের সমর্থন ও আশীর্বাদ নিয়েই আমার পথচলা।’
সেই সহযাত্রীদের প্রতিও নিজের গভীর কৃতজ্ঞতার কথা জানান চয়নিকা। নির্মাণজীবনের অর্জনকে কখনোই একার সাফল্য হিসেবে দেখতে চান না তিনি। তাঁর মতে, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রনাট্যকার, কলাকুশলী, টেলিভিশন চ্যানেল ও দর্শকের সম্মিলিত সমর্থন ছাড়া এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব ছিল না।
নাটক ছাড়বেন না
চার শতাধিক নাটক নির্মাণের পর ‘বিশ্বসুন্দরী’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় চয়নিকা চৌধুরীর। এরপর নির্মাণ করেন ‘প্রহেলিকা’। চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করলেও টেলিভিশন নাটক নির্মাণ কখনো ছাড়তে চান না তিনি। কারণ, নাটকই তাঁকে নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে এবং দর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
নাটক ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজেকে মেলে ধরতে চান চয়নিকা। তবে মাধ্যম বদলালেও তাঁর গল্পে মানুষ, সম্পর্ক ও আবেগই গুরুত্ব পাবে। তিনি বিশ্বাস করেন, গল্প ভালো হলে এবং নির্মাণ আন্তরিক হলে যেকোনো মাধ্যমেই দর্শকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
দেশের চলচ্চিত্রের সুদিন ফেরাতে শুধু ভালো ছবি বানানো যথেষ্ট নয় বলেও মনে করেন চয়নিকা। তাঁর মতে, ভালো নির্মাণ, অসাধারণ গল্প ও দক্ষ অভিনয়শিল্পীর পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত সিনেমা হল ও দর্শকবান্ধব পরিবেশ। প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শক স্বস্তিতে সিনেমা দেখতে না পারলে ভালো ছবি নির্মিত হলেও চলচ্চিত্রশিল্পের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।
২৫ বছরের পথ পেরিয়েও নিজেকে গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া নির্মাতা মনে করেন না চয়নিকা। সামনে আরও ভালো কাজ করার স্বপ্নই তাঁকে চালিত করছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমার কাজই আমার একমাত্র প্রেম, ভালোবাসা, যা আমার কাছে প্রার্থনার মতো। ক্যারিয়ারের এই দিনে দর্শকদের জন্য কাজ করতে পারলাম, এটিই আমার ভালো লাগা ও অনুপ্রেরণা।’
চয়নিকা আরও বলেন, ‘ওপরে যিনি আছেন, তিনি যদি চান এবং নিজের কাজে নিষ্ঠা থাকে, তাহলে কেউ আটকে রাখতে পারে না। আমি নিজেকে আশীর্বাদপুষ্ট মনে করি। আমার দীর্ঘ পথচলায় যাঁরা পাশে ছিলেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহিম ভূঞা বলেন, এই সম্পদ কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পদ নয়। এটি পলিসিহোল্ডার, গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের ঘাম ঝরানো সঞ্চয়ের আমানত। এই আমানত সুরক্ষার দায়িত্ব পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের। কিন্তু বর্তমানে এই সম্পদ বেআইনি হস্তক্ষেপ ও পেশিশক্তির হুমকির মুখে।
ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রথমবারের মতো আয়োজিত বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬-এ ‘বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ’ পুরস্কার অর্জন করেছেন।
ঢাকাই সিনেমার দর্শকদের কাছে ‘নসীব’ নামটি বেশ পরিচিত। ১৯৮৪ সালে মোমতাজ আলী পরিচালিত এবং উজ্জ্বল-শাবানা অভিনীত ‘নসীব’ সিনেমা দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল।