সকালে ঘুম থেকেই চোখ চড়কগাছ আশিক সাহেবের। ঘড়ির কাঁটা বলছে, নয়টা বেজে গেছে। ব্রাশটা মুখে গুঁজে কোনোমতে শার্ট পরে, ব্যাগ নিয়ে ছুটলেন তিনি। বাসা থেকে বেরিয়েই মেজাজ গেল বিগড়ে। জুতার ভেতর নুড়িপাথর আটকে গেছে। জুতা খুলে সেটি বের করে প্রাণপণে দৌড়ে বাস স্টপেজে পৌঁছানো গেল বটে; কিন্তু লাভ হলো না। বাস তার পাঁচ মিনিট আগেই চলে গেছে।
এরপর লক্কড়ঝক্কড় মার্কা আরেকটা বাসে কোনোমতে ঝুলতে ঝুলতে মতিঝিল পৌঁছানো হলো তাঁর। বাস থেকে নামার পর নিজের দিকে তাকিয়ে মনে হলো, ফেসবুকে পোস্ট দিতে আশির দশকের ছবি বানানোর দরকার নেই, আজকের ছবিটাই চাইলে ‘দুর্যোগের পরের ঢাকা’ নামে পোস্ট করা যায়।
অফিসের লিফটে ঢুকতেই ধীরেসুস্থে পকেটে হাত ঢুকিয়ে দাঁড়ালেন আশিক সাহেব। বয়স পঁয়তাল্লিশ ছুঁই ছুঁই। কুড়ি বছর ধরে মতিঝিলের এক পুরোনো ব্যাংকে চাকরি করছেন।
আশিক সাহেবের আশির দশকটা কেটেছিল মালিবাগের মেসঘরে কেরোসিনের স্টোভে নিজে রান্না করে খেয়ে আর গণিতের প্রাইভেট পড়িয়ে। অথচ গতকাল ফেসবুকে যে ছবিটা তিনি ছেড়েছেন, দেখলে মনে হবে ওই আমলে তিনি কোনো রাজবংশের ছেলে ছিলেন।
গায়ে হাতাকাটা সোয়েটার, গলায় মাফলার, চোখে একধরনের রহস্যময় দৃষ্টি; আর ব্যাকগ্রাউন্ডে রেট্রো স্টাইলের ক্যাফে। ছবিটা দেখে আশিক সাহেব নিজেই কিছুক্ষণ সেটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তারপর মনে মনে বলেছিলেন, ‘মানুষ আমাকে এত দিন চিনলই না!’
আসলে গত রাতে এই ইমেজ বানাতে গিয়ে আর লাইক-কমেন্ট চেক করতে করতেই ঘুমাতে অনেক রাত হয়ে যায়। একটা ছবিতে কে লাভ দিল, কে ‘ওয়াও’ দিল, কে কমেন্টে লিখল ‘হিরো’, এসব হিসাব করতে করতে রাত প্রায় তিনটা। ফলস্বরূপ আজকে তার লেট হয়েছে।
অফিসের লিফটে ওঠার পর লিফটের মকবুল আশিক সাহেবকে দেখে একগাল হেসে বলে উঠল, ‘স্যার, কালকের ছবিটা কিন্তু একদম ফাটাফাটি হইছে! আপনার জোয়ান বয়সের ছবিটা দেইক্কা তো আমার বউ কইল, আপনি নাকি ওই যুগে বাংলা সিনেমার হিরো হইতে পারতেন!’
আশিক সাহেব মৃদু হেসে বললেন, ‘আরে না না, এসব তো এআইয়ের কারসাজি।’
মকবুল বলল, ‘এআই যদি এই কাম করতে পারে, তাইলে আমারে একটু কম বয়সী বানাইয়া দিয়েন তো স্যার। আমার বউ কয়, বিয়ের সময় আমি নাকি ভালো আছিলাম, এখন নাকি বাজারের ব্যাগের মতো হইয়া গেছি!’
কথা শেষ হতে না হতেই লিফটটা হুট করে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে চারতলার কাছে আটকে গেল।
লোডশেডিং! কারেন্ট চলে গেছে।
ভ্যাপসা গরমে লিফটের ভেতরে তাদের অবস্থা একেবারে কাহিল। আশিক সাহেবের নাকের ডগা দিয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়তে শুরু করল। ঠিক তখনই তাঁর পকেটে রাখা লেটেস্ট মডেলের ফোনটা টুং করে বেজে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল ফেসবুকের নোটিফিকেশন, ‘তার ছবিতে নতুন ১০টা লাভ রিঅ্যাক্ট পড়েছে।’
আশিক সাহেবের মুখে সঙ্গে সঙ্গে হাসি ফুটে উঠল। মকবুল অবাক হয়ে বলল, ‘স্যার, গরমে তো আমি মইরা যাইতেছি, আপনি হাসতেছেন ক্যান?’
আশিক সাহেব কথাটা খেয়াল করলেন না; কারণ, তিনি ফোনে মজে গেছেন।
মিনিট সাতেক পর জেনারেটরের বদৌলতে তিনি লিফট থেকে বের হলেন। আশিক সাহেব ডেস্কে বসতেই তাঁর বস হাজির! এসেই হেসে হেসে বললেন, ‘কী আশিক সাহেব, আশির দশক থেকে এত জলদি চলে এসেছেন নাকি? আমি তো ভেবেছি, আপনি আশির দশকেই আটকে গেছেন।’
এ কথা শুনেই আশিক সাহেব আমতা–আমতা করতে লাগলেন।
দুপুরে ক্যানটিনে খাওয়ার সময় আশিক সাহেবের সঙ্গে যোগ দিলেন মফিজ সাহেব। খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে বসেই তিনি আশিক সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আশিক ভাই, আশির দশকে কি আপনি এসব খাবারই খেতেন?’
আশিক সাহেব বললেন, ‘কেন?’
মফিজ সাহেব বললেন, ‘তখন তো দারুণ ফিট ছিলেন। এখন অবশ্য ভুঁড়িটা বেশ বেড়েছে।’
আশিক সাহেব চুপ করে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, ‘ছবিটা এআই বানাইছে।’
মফিজ সাহেব বললেন, ‘তা বুঝছি; কিন্তু ভুঁড়িটা তো এআই বানায় নাই!’
আশিক সাহেব অস্বস্তিকর একটা হাসি দিলেন।
সারা দিনের নানা ঝামেলা ও কাজ শেষে আশিক সাহেব বাসায় ফিরলেন মনে মনে একটু স্বস্তি পাবেন ভেবে; কিন্তু হায় বিধি বাম! তা কি আর হয়!
বাসায় ফিরে স্ত্রী রত্নার মুখ দেখেই আঁচ করেছিলেন, ঝড় বইবে। হলোও তাই। সবকিছুতেই যেন কেমন ঘেটছেট ভাব। আশিক সাহেব সাবধানে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হয়েছে?’
রত্না কোনো উত্তর দিলেন না।
তিনি আবার বললেন, ‘শরীর খারাপ?’
এবারও নীরবতা।
আশিক সাহেব ভাবলেন, নিশ্চয়ই বাজারের কিছু কিনতে ভুলে গেছেন; কিন্তু কিছুক্ষণ পর রহস্য জানা গেল। আজ বিকেলে পাশের বাসার সাদিয়া ভাবি এসেছিলেন। তিনিই রত্নার কাছে আশিক সাহেবের সেই আশির দশকের এআই কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ছবির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
‘ভাবি, আপনার স্বামীকে কিন্তু এই বয়সেও বেশ ভালো লাগে। আর আশির দশকের ছবিটা তো একদম সিনেমার নায়ক!’
ব্যস! এতেই আশিক সাহেবের ঘরেই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে।
সবকিছু মিলিয়ে মেজাজ হারিয়ে আশিক সাহেব বলে উঠলেন, ‘ধ্যাৎ! এক এআইতে এত সমস্যা, ফোনই রাখব না!’
এই বলে ফোনটা সোজা আছাড় মেরে ফেলে দিলেন। ফোনটা মেঝেতে পড়ে দু-তিনবার কেঁপে উঠল।
স্ক্রিনে তখনো ভেসে আছে নতুন একটা নোটিফিকেশন ‘Sadia Akter Reacted to your Photo’।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) প্রশাসন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের (পিএফআইএল) অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আমানতকারীরা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, এমপি; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তার, এনডিসি; বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান।