জাতীয়

ঘুরে আসুন ঢাকার নতুন বিনোদনকেন্দ্র অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কে, যেখানে আছে মাছ, পাখি ও জলপ্রপাত

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
ঘুরে আসুন ঢাকার নতুন বিনোদনকেন্দ্র অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কে, যেখানে আছে মাছ, পাখি ও জলপ্রপাত
ঘুরে আসুন ঢাকার নতুন বিনোদনকেন্দ্র অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কে, যেখানে আছে মাছ, পাখি ও জলপ্রপাত

মাছের রঙিন দুনিয়া, ৪০ ফুট উঁচু কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনা, ম্যাকাউ পাখির সঙ্গে ছবি তোলাসহ আরও অনেক আয়োজন নিয়ে গত ২৮ আগস্ট উদ্বোধন হয়েছে অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক।

মাছের রঙিন দুনিয়া

ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘরে যাঁরা গেছেন, তাঁরা আবারও নতুন করে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। কারণ, সম্প্রতি এখানে চালু হয়েছে অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক। ঘুরে ঘুরে কাচের দেয়ালের ওপাশে থাকা মাছের রঙিন দুনিয়া দেখা, মাছ ধরা, মাছকে খাওয়ানো—সবকিছুই মুগ্ধ করবে।

৪০ ফুট উঁচু কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনা, ম্যাকাউসহ ভিনদেশি সব পাখির সঙ্গে ছবি তোলাসহ আরও অনেক আয়োজন নিয়ে গত ২৮ আগস্ট উদ্বোধন হয়েছে অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক। সেটাই আমাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালেন অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কের পরিচালক তাহসিন রহমান ও এস এম এহসানুল হক।

বিস্ময়কর মাছের জগৎ

সম্প্রতি বিমানবাহিনী জাদুঘরে উদ্বোধন হয়েছে অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কের

পার্কে আছে ৩৫টি অ্যাকুয়ারিয়াম ট্যাংক। প্রতিটি ট্যাংকের ওপরে প্ল্যাকার্ডে মাছের নাম, আবাস, পরিচিতি লেখা আছে। এখানে রয়েছে ঝুঁটিওয়ালা ফ্লাওয়ার হর্ন, চিংড়ির মতো দেখতে ক্রেফিশ, কুমিরের মতো মুখ অ্যালিগেটর গার, ভয়ংকর অ্যালবিনো শার্ক, রেইনবো শার্ক, পেরুন শার্ক, পাঙাশ মাছের মতো দেখতে পাঙ্গাসিয়াস শার্কসহ আরও অনেক মাছ।

মনে হচ্ছিল, টিভি পর্দায় বা মুঠোফোন স্ক্রিনে দেখা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের মাছের দুনিয়া যেন বাস্তবে চোখের সামনে এসে হাজির হয়েছে। শামুক খেয়ে বড় হওয়া ৪ বছর বয়সী ১২ কেজি ওজনের ব্ল্যাক কার্প, ৮ কেজি ওজনের গ্রাস কার্প, আড়াই কেজি ওজনের তেলাপিয়া—কোনটা রেখে কোনটার কথা বলব! আছে শোল, খলশেসহ দেশি মাছের সংগ্রহ।

কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনাধারা

৪০ ফুট উঁচু কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনা

মাছের জগৎ থেকে বেরিয়ে এক পাশে পদ্মফুলের বাগান রেখে সামনে এগোলেই একটা টানেল। কৃত্রিম ধোঁয়া সময়ে সময়ে রং পাল্টাচ্ছে। এরপরই সামনে ঝমঝমিয়ে পড়া কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনাধারার পানি। সেই পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে রঙিন সব কই, কার্প মাছ। মাছকে নিজ হাতে খাবার খাওয়ানোর সুযোগ মিলবে।

আছে পাখির রাজ্য

ম্যাকাউ পাখি হাতে নিয়ে ছবি তোলার ব্যবস্থা থাকছে এখানে

কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনাধারার পর লোহার শিকলের পর্দা সরিয়ে পা ফেলি পাখির রাজ্যে। এখানে রয়েছে গ্রিন-উইংড ম্যাকাউ, ব্লু অ্যান্ড গোল্ড ম্যাকাউ, লাভবার্ডসহ বিচিত্র সব পাখি। পার্কের পাখিশালায় বিভিন্ন রঙের পাখিকে কাছ থেকে দেখার সঙ্গে রয়েছে ছবি তোলার সুযোগও।

শুধু ঘুরে দেখাই নয়, দর্শনার্থীদের জন্য আছে দারুণ কিছু সক্রিয় আয়োজন

শিশুদের মাছ ধরা

শিশুদের জন্য আছে মাছ ধরার সুযোগ

১২ ও এর কম বয়সী শিশুরা ১০০ টাকার বিনিময়ে ছোট নেট দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ পাবে। অ্যাকুয়ারিয়াম চাষের উপযোগী সেই ছোট ছোট মাছ যে কয়টা ধরতে পারবে, তা সে সঙ্গে করে নিয়েও যেতে পারবে। চাইলে এখান থেকে অ্যাকুয়ারিয়ামের জারও কিনে নিতে পারবে।

মাছকে খাবার খাওয়ানো

নিজ হাতে মাছকে খাবার দিতে পারবেন

৫০ টাকার টিকিটে যে কেউ নির্দিষ্ট দুটি জায়গায়—লিচুতলার বড় পানির ট্যাংক আর ৪০ ফুট উঁচু থেকে পড়া পাহাড়ি ঝরনার তলা—নিজ হাতে মাছকে খাবার দিতে পারবেন। ছোট্ট কৌটায় শর্ষের দানার মতো খাবার হাতে নিয়ে পানিতে ফেলবেন, অমনি ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা মাছগুলো সব দল বেঁধে ছুটে আসবে আপনার কাছে।

পাখির সঙ্গে ছবি তোলা

দর্শনার্থীদের জন্য আছে নানা আয়োজন

২৫০ টাকার টিকিট কেটে পাখিশালায় ম্যাকাউ পাখি হাতে নিয়ে ছবি তোলার ব্যবস্থাও আছে। চাইলে ৩০০ টাকার বিনিময়ে ম্যাকাউ কাঁধে নিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি ফটো বুথেও ছবি ওঠাতে পারেন। পুরো পার্ক ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হলে অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক ক্যাফেতে আছে খাবারদাবারের ব্যবস্থা।

আরও যা যুক্ত হবে

অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কটি রোববার বন্ধ থাকবে

অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ সিদ্দিকী জানান, শিগগিরই পার্কে যোগ হচ্ছে লোনাপানির বিচিত্র সব মাছ। মাছের গ্যালারি শেষে ঝরনার আগে যে টানেল পড়ে, সেখানে কাচের জারে প্রদর্শিত হবে বিশেষ উপায়ে সংরক্ষিত বিলুপ্তপ্রায় সব মাছ।

এসব মাছকে জীবন্ত অবস্থায় প্রদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই এ ব্যবস্থা। মাছের পাশাপাশি যোগ হবে বার্ড ফিডিং জোন, যেখানে দর্শনার্থীদের হাত থেকেই পাখিরা উড়ে উড়ে এসে খাবার খেয়ে যাবে। এ ছাড়া স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে বিশেষ কুইজ, ওয়ার্কশপ ও লার্নিং সেশন জোন।

টিকিট খরচ

পার্কের পাখিশালা

বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘরের ভেতরেই পার্কটির অবস্থান। তাই শুরুতে দুই বছরের বেশি বয়সী দর্শনার্থীদের জাদুঘরের ৫০ টাকা দামের টিকিট কাটতে হবে। জাদুঘরে ঢুকে হাতের ডানে হেঁটে গেলেই অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক।

সেখানেও দুই বছরের বেশি বয়সীদের ১৫০ টাকায় টিকিট কেটে পার্কে প্রবেশ করতে হবে। ২৭ সেপ্টেম্বরের পর টিকিটের মূল্য হবে ২০০ টাকা। দলগতভাবে ভ্রমণে আসা স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য টিকিটের মূল্যে মিলবে ৫০ শতাংশ ছাড়।

কখন ও কীভাবে যাবেন

মাছের রাজ্যে

আগারগাঁও মেট্রোস্টেশনের একেবারে লাগোয়া জাদুঘরটির অবস্থান। তাই আগারগাঁও আসতে হবে। সোম থেকে বৃহস্পতি বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আর শুক্র, শনি ও সরকারি ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। রোববার সাপ্তাহিক ছুটি।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আপত্তির মুখে দিরাইয়ে মহিলা প্রীতিম্যাচ স্থগিত
আপত্তির মুখে দিরাইয়ে মহিলা প্রীতিম্যাচ স্থগিত

সুনামগঞ্জের দিরাই প্রেসক্লাব মহিলা প্রীতি ফুটবল খেলা আপত্তির মুখে স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে দিরাইয়ে স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যকার নারী ফুটবলের একটি প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা

ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা

পৃথিবীর বৃহত্তম ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ৭৮তম আসরে থাকছে পাঞ্জেরী

পৃথিবীর বৃহত্তম ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ৭৮তম আসরে থাকছে পাঞ্জেরী

স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

0 Comments