জাতীয়

ব্রিটেন কেন ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
ব্রিটেন কেন ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে
ব্রিটেন কেন ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় লেখা মাত্র ৬৭ শব্দের একটি চিঠি মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বালফোর ব্রিটিশ ইহুদি নেতা লর্ড রথচাইল্ডকে একটি চিঠি লেখেন। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনে ‘ইহুদি জনগণের জন্য একটি জাতীয় আবাসভূমি’ প্রতিষ্ঠার প্রতি ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন জানান।

ইতিহাসে এটি বালফোর ঘোষণা নামে পরিচিত। সেই সময় ফিলিস্তিন ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অধীন। সেখানে আরব জনগোষ্ঠী ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং ইহুদিরা ছিল একটি ছোট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।

এক শতাব্দীর বেশি সময় পর সেই ব্রিটেনই এখন ইসরায়েলের কিছু নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়গুলো সামনে এসেছে।

সম্প্রতি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইসরাইলের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। এর আগে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ব্রিটেন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়। ফলে একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে: ব্রিটেন কি অতীতের দায়বোধ থেকে এ অবস্থান নিয়েছে, নাকি এটি বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতার ফল?

ইসরায়েলের দখল করা পশ্চিম তীরে ইহুদিদের অবৈধ মালে আদুমিম বসতি

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়পর্বে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অটোমান সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সুযোগে ব্রিটেন মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব বাড়াতে চায়। একই সময়ে ব্রিটেন বিভিন্ন পক্ষকে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়। আরবদের বলা হয়, তারা অটোমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে যুদ্ধের পর স্বাধীনতার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে ১৯১৭ সালের বালফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনে ইহুদি জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন জানানো হয়। একই সময়ে ব্রিটেন ও ফ্রান্স সাইক্স-পিকো চুক্তির (১৯১৬) মাধ্যমে অটোমান ভূখণ্ড ভাগ করার পরিকল্পনা করে।

ব্রিটেনের এই দ্বৈত নীতিই ভবিষ্যতের সংকটের ভিত্তি তৈরি করে। ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয় এবং অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। ১৯২০ সালে লিগ অব ন্যাশনস ব্রিটেনকে ফিলিস্তিন শাসনের দায়িত্ব দেয়। এই সময় ইউরোপ ও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইহুদি অভিবাসন বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি আরবদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ে। তারা মনে করতে থাকে, তাদের ভূমি ও রাজনৈতিক অধিকার ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বর্তমান ব্রিটিশ নীতির পরিবর্তনকে তাই শুধু অনুশোচনার ফল হিসেবে দেখলে পুরো বিষয় বোঝা যাবে না। ইতিহাসের দায় এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও বর্তমান বাস্তবতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গাজা যুদ্ধ, মানবিক সংকট, আন্তর্জাতিক চাপ এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ব্রিটিশ নীতিতে প্রভাব ফেলছে।

১৯৩০-এর দশকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সালের ফিলিস্তিনি আরব বিদ্রোহ ছিল এ অসন্তোষের বড় একটি প্রকাশ। সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার ১৯৩৭ সালে পিল কমিশন গঠন করে। কমিশন ফিলিস্তিনকে ভাগ করে একটি ইহুদি রাষ্ট্র এবং একটি আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়। এটি ছিল দুই রাষ্ট্র ধারণার প্রথম বড় আন্তর্জাতিক প্রস্তাবগুলোর একটি। তবে আরব ও ইহুদি উভয় পক্ষই এ পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। নাৎসি জার্মানির হাতে ইহুদিদের গণহত্যার পর একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি আন্তর্জাতিক সমর্থন পায়। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিন বিভাজন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এতে একটি ইহুদি রাষ্ট্র এবং একটি আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়। জেরুজালেমকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনার অধীন রাখার কথাও বলা হয়।

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ ম্যান্ডেট শেষ হওয়ার পর ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পরপরই আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৬, ১৯৬৭, ১৯৭৩ ও ১৯৮২ সালে আরব-ইসরায়েল সংঘাত ও যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এসব সংঘাতে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি হারান এবং শরণার্থী হয়ে পড়েন।

বর্তমান ব্রিটিশ নীতির পরিবর্তনকে তাই শুধু অনুশোচনার ফল হিসেবে দেখলে পুরো বিষয় বোঝা যাবে না। ইতিহাসের দায় এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও বর্তমান বাস্তবতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গাজা যুদ্ধ, মানবিক সংকট, আন্তর্জাতিক চাপ এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ব্রিটিশ নীতিতে প্রভাব ফেলছে।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ব্রিটেন বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। ব্রিটিশ সরকারের মতে, ‘ই-১’ প্রকল্পের মতো বসতি কার্যক্রম ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সংযোগ দুর্বল করতে পারে। এ কারণে বসতি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ই-১ এলাকা হলো ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি অঞ্চল। ১২ বর্গকিলোমিটার বা ৪ দশমিক ৬ বর্গমাইল আয়তনের এই এলাকায় ইতিমধ্যে ৩ হাজার ৪০০টি নতুন বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ই-১ প্রকল্পকে ‘দুই রাষ্ট্র সমাধানকে কবর দেওয়ার’ একটি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এই ভূমি ইসরায়েলের মালিকানাধীন।

দুই রাষ্ট্র সমাধানের ধারণা হলো, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি স্বাধীন ও নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে পাশাপাশি অবস্থান করবে। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ এই সমাধানকে সমর্থন করে আসছে। কিন্তু পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ, রাজনৈতিক অবিশ্বাস এবং নিরাপত্তা সংকট এ পথকে ক্রমেই কঠিন করে তুলেছে।

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া বা ইসরায়েলের কিছু নীতির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হতে পারে। তবে এটি একা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনতে পারবে না। এর জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান, উভয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা।

এক শতাব্দীর বেশি সময় আগে বালফোর ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছিল, তার প্রভাব এখনো শেষ হয়নি। ব্রিটেনের বর্তমান অবস্থানকে ইতিহাসের দায়, বর্তমান কূটনৈতিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার প্রয়োজনের সম্মিলিত ফল হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে বড় প্রশ্ন হলো, এ পরিবর্তন কি শুধু প্রতীকী পদক্ষেপ হয়েই থাকবে, নাকি সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথ তৈরি করতে সাহায্য করবে?

  • ড. মো. সাহাবুল হক অধ্যাপক, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
চাকরির প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড 
চাকরির প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড 

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রেখে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল। 

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
গ্রেপ্তার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ, ২৬ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার 

গ্রেপ্তার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ, ২৬ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার 

লাল চাঁদ হত্যা: হাইকোর্টের দেওয়া জামিন চেম্বারে স্থগিত

লাল চাঁদ হত্যা: হাইকোর্টের দেওয়া জামিন চেম্বারে স্থগিত

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের বিদায়ী হাইকমিশনার সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
বাংলাদেশের বিদায়ী হাইকমিশনার সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

বাংলাদেশের বিদায়ী হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে নয়া দিল্লিতে বিদায়ী সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। নতুন দিল্লিতে রবিবার এই বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসারে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
‘সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ’

‘সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ’

ফ্রান্সে ৫০০ বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

ফ্রান্সে ৫০০ বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

সুশাসন ও সেলফ-রেগুলেশন ছাড়া পুঁজিবাজারের পরিবর্তন সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

সুশাসন ও সেলফ-রেগুলেশন ছাড়া পুঁজিবাজারের পরিবর্তন সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা টু খুলনা লং মার্চ পেছাল ১১ দলীয় ঐক্য 
ঢাকা টু খুলনা লং মার্চ পেছাল ১১ দলীয় ঐক্য 

ঢাকা টু খুলনা লং মার্চের দিন পিছিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আগামী ১০ অক্টোবরের পরিবর্তে ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা লং মার্চ কর্মসূচি পালন করবে জোটটি।

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ছোট্ট ঘরে নয় বছর, এবার প্রকৃতির ছোঁয়া পাবে দুই লেপার্ড

ছোট্ট ঘরে নয় বছর, এবার প্রকৃতির ছোঁয়া পাবে দুই লেপার্ড

চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১

চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১

0 Comments