জাতীয়

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের স্মৃতিকথা: ’৭১ ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়া প্রশ্নে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের স্মৃতিকথা: ’৭১ ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়া প্রশ্নে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের স্মৃতিকথা: ’৭১ ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়া প্রশ্নে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস বইটি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের স্মৃতিকথা। এটি শুধু জামায়াতের ১৯৭১ সালের ভুলগুলোর বিবরণ নয়; এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে গোপনীয় রাজনৈতিক দলগুলোর একটি কীভাবে পরিচালিত হয় এবং স্বাধীনতার পর থেকে দলটির নেতৃত্বকে প্রভাবিত করা বিভিন্ন যুক্তি ও বিতর্ক কীভাবে গড়ে উঠেছে, তার একটি বিরল ও অকপট চিত্র তুলে ধরে। ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের স্মৃতিকথা নিয়ে লিখেছেন ডেভিড বার্গম্যান

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ৩৩ বছরের সম্পর্ক নিয়ে দলটির সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রাজ্জাকের মরণোত্তর প্রকাশিত স্মৃতিকথায় তিনি কোনো রাখঢাক করেননি। দলের একসময়কার গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, দলের নেতৃত্ব ‘বেশ কয়েকটি নীতিগত ভুল ও মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে এবং এখন দলটি ‘অস্তিত্বের সংকটে’ পড়েছে।

সম্ভবত আবদুর রাজ্জাক এ মূল্যায়ন করেছিলেন ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অনেকটাই অপ্রত্যাশিত গণ–অভ্যুত্থানের আগে। ওই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক পুনরুত্থানের পথ তৈরি হয়।

দুঃখজনকভাবে, রাজ্জাক ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যানসারে মারা যান। ফলে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের অভূতপূর্ব সাফল্য তিনি দেখে যেতে পারেননি। ওই নির্বাচনে দলটি ৩২ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদে ৬৮টি আসন লাভ করে। দলের ইতিহাসে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় নির্বাচনী সাফল্য। ফলে অন্তত রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের জন্য অস্তিত্বের কোনো সংকট দেখা যায়নি। কিন্তু আবদুর রাজ্জাক যে ‘ভুলগুলো’র কথা বলেছেন, সেগুলো কী?

এর কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি বিষয়। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফাভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রতি জামায়াতের সমর্থন না দেওয়া; ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও ওই যুদ্ধে নিজেদের ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাওয়া।

প্রশ্ন হলো, দলের বর্তমান রাজনৈতিক সাফল্যের পরও এই ‘ভুলগুলো’ কি আগামী দিনগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর জন্য দুর্বলতার জায়গা হয়ে থাকবে? নাকি ২০২৪ সালের আগস্টের পর বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা জামায়াতকে তার অতীতের এসব প্রশ্নের রাজনৈতিক অভিঘাত থেকে কার্যত মুক্ত করে দিয়েছে?

প্রথম ভুলটির বিষয়ে আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জনগণের মনোভাব বুঝতে জামায়াতের নেতৃত্ব ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ‘জামায়াত ছয় দফার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার পরপরই বাঙালির স্বার্থবিরোধী এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থের পক্ষে থাকা একটি শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়।’

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো নতুন সংসদ বর্জনের ঘোষণা দেন। আবদুর রাজ্জাক লিখেছেন, সে সময় জামায়াত প্রথম দিকে ‘জনগণের পক্ষে’ ছিল।

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক

তৎকালীন দলীয় নেতা গোলাম আযম একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে ‘সংবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের’ জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ২৬ মার্চ সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর ‘জামায়াত তার অবস্থান পুরোপুরি পাল্টে ফেলে এবং সামরিক অভিযানকে সমর্থন করে’।

রাজ্জাকের মতে, জামায়াতের এ অবস্থান তাদেরই আগের একটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। দলের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের শুরা আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আওয়ামী লীগ একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করলে কিংবা সেনাবাহিনী দমন-পীড়ন শুরু করলে ‘জামায়াত কোনো পক্ষকেই সমর্থন করবে না’।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে জামায়াতের সমর্থনের সমালোচনায় আবদুর রাজ্জাক ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। তিনি স্বীকার করেছেন, ওই বাহিনী ‘বাঙালি জনগণের ওপর নৃশংসতা চালিয়েছিল’। তাঁর মতে, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী থেকে নিজেদের আলাদা করতে’ জামায়াতের ব্যর্থতা ছিল ‘অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী’।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে ধর্ষণ করেছে, তার কোনোভাবেই সাফাই দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু এই একটি বিষয় বিবেচনা করলেও জামায়াতের উচিত ছিল সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া।’

# প্রথম ভুলটির বিষয়ে আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জনগণের মনোভাব বুঝতে জামায়াতের নেতৃত্ব ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছিল।# ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে জামায়াতের সমর্থনের সমালোচনায় আবদুর রাজ্জাক ছিলেন অত্যন্ত কঠোর।

জামায়াতের তৃতীয় ভুল ছিল স্বাধীনতার পর নিজেদের ভুলের মুখোমুখি না হওয়া এবং এর জন্য ক্ষমা না চাওয়া। নেতৃত্বকে এ বিষয়ে রাজি করাতে আবদুর রাজ্জাক যে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, তার বিবরণ পুরো বইয়েই রয়েছে। সাবেক এই দলীয় নেতা লিখেছেন, ‘জামায়াত কেন এই বিষয়টির মোকাবিলা করেনি, তা বোধগম্য নয়।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘১৯৭১ সালে নিজেদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে জামায়াত কেন কোনো বিস্তারিত ও যুক্তিনির্ভর বিবৃতি দেয়নি, সেটিও সমানভাবে বিস্ময়কর। অথচ এ বিষয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে বহু বই লেখা হয়েছে।’

প্রথম উদ্যোগটি নেওয়া হয় ১৯৯৪ সালের জুনে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বহাল রাখার পরপরই। একটি কমিটি গোলাম আযমের জন্য একটি বক্তব্য তৈরিতে তাঁকে সহায়তা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলীয় নেতা শুধু বলেছিলেন, ‘অতীতে আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করবেন।’

এ বিষয়ে রাজ্জাক লিখেছেন, ‘অধ্যাপক আযমের বক্তব্য কোনোভাবেই ক্ষমা প্রার্থনা হিসেবে গণ্য হওয়ার মতো ছিল না। বরং গুরুতর একটি বিষয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে এটি ছিল দায়সারা একটি প্রচেষ্টা।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোগো

এরপর আরেকটি সুযোগ আসে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের সাফল্যের পর। সে সময় রাজ্জাক জামায়াতকে ১৯৭১ সালের বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য উদ্যোগী হন। একটি খসড়া বিবৃতিও তৈরি করা হয়েছিল। এতে ‘একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষে জামায়াতের সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছিল এবং ১৯৭১ সালে দলটির রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছিল’।

জামায়াতের তিন নেতা—আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এ প্রস্তাব সমর্থন করেছিলেন। পরে ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তাঁদের তিনজনেরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। কিন্তু তত দিনে জামায়াতের নেতা হয়ে যাওয়া মাওলানা নিজামী তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেন। ফলে ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ আর বাস্তবায়িত হয়নি।

এর চার বছর পর, ২০০৫ সালের অক্টোবরে জামায়াতের ওয়ার্কিং কমিটিতে আবারও বিষয়টি ওঠে। এবারও প্রস্তাবটি ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

রাজ্জাক লিখেছেন, ‘যাঁরা প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁদের যুক্তি ছিল বিভিন্ন ধরনের।’ তিনি এর পক্ষে দেওয়া তিনটি প্রধান যুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন।

প্রথমত, দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ পাকিস্তানের অখণ্ডতা বজায় রাখার পক্ষে জামায়াতের অবস্থানে কোনো ভুল ছিল না।

দ্বিতীয়ত, ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা ছিল যৌক্তিক।

তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা জামায়াতের কোনো ক্ষমা প্রার্থনাই কখনো মেনে নেবে না।

১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকার জন্য নিজের দলকে দিয়ে ক্ষমা চাওয়ানোর যে চেষ্টা আবদুর রাজ্জাক ২০১৯ সাল পর্যন্ত চালিয়ে গেছেন, তার জন্য তাঁকে প্রশংসা করা যেতে পারে। তবে তিনি সফল হলেও সেই ক্ষমা প্রার্থনা হতো সীমিত পরিসরের। কারণ, জামায়াত ও এর ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার যে অভিযোগ রয়েছে, সেই অপরাধগুলোর দায় সেই ক্ষমা প্রার্থনার আওতায় আসত না।

প্রকৃতপক্ষে, পুরো বইয়ে কোথাও আবদুর রাজ্জাক স্বীকার করেননি যে ১৯৭১ সালে জামায়াত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এর সঙ্গে নিঃসন্দেহে তাঁর নিজের ভূমিকারও সম্পর্ক রয়েছে।

স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি জামায়াতের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত দলের কয়েকজন নেতার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন।

# ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে ধর্ষণ করেছে, কোনোভাবেই তার সাফাই দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু এই একটি বিষয় বিবেচনা করলেও জামায়াতের উচিত ছিল সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া।’# রাজ্জাক মনে করেন, তিনি যদি জামায়াতের নেতৃত্বকে ১৯৭১ সালের অতীতের মুখোমুখি করাতে সফল হতেন, তাহলে আওয়ামী লীগ হয়তো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব মামলা শুরু করত না।

মজার বিষয় হলো, রাজ্জাক মনে করেন, তিনি যদি জামায়াতের নেতৃত্বকে ১৯৭১ সালের অতীতের মুখোমুখি করাতে সফল হতেন, তাহলে আওয়ামী লীগ হয়তো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব মামলা শুরু করত না। সে ক্ষেত্রে ২০১০ সালের তৎকালীন জামায়াত নেতৃত্বের মৃত্যুদণ্ডও হয়তো এড়ানো সম্ভব হতো

২০১৯ সালে আবদুর রাজ্জাক জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭১ সালের বিষয়টি মোকাবিলা করতে দলের ব্যর্থতা ছিল তাঁর পদত্যাগের অন্যতম প্রধান কারণ।

তবে অন্যান্য ক্ষেত্রেও দলের সংস্কারে ব্যর্থতা, বিশেষ করে নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত না করার বিষয়টিও তাঁর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছিল। তত দিনে রাজ্জাক লন্ডনে নতুন জীবন গড়ে তুলেছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাতে নিজে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন।

জামায়াত থেকে পদত্যাগের পর তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেন। তাঁর আশা ছিল, দলটি ‘ইসলামিক রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে ‘ইসলামি মূল্যবোধ ও নীতির ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার দিকে মনোযোগ দেবে।

কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দলটির প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। কারণ, তাঁর মতে, দলের কর্মসূচিতে ইসলামি মূল্যবোধ ও নীতিকে যথেষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

আকারে ছোট এই বইটি শুধু জামায়াতের ১৯৭১ সালের ভুলগুলোর বিবরণ নয়। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে গোপনীয় রাজনৈতিক দলগুলোর একটি কীভাবে পরিচালিত হয় এবং স্বাধীনতার পর থেকে দলটির নেতৃত্বকে প্রভাবিত করা বিভিন্ন যুক্তি ও বিতর্ক কীভাবে গড়ে উঠেছে, তার একটি বিরল ও অকপট চিত্র তুলে ধরে।

এখন জামায়াত জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক বিরোধী দল এবং এর ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী। কিন্তু রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ দলটিকে কি তার অতীতের বোঝা থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে—কোনো ঐতিহাসিক ভুলের দায় স্বীকার না করেই—তা এখনো অনিশ্চিত।

(আবদুর রাজ্জাকের লেখা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় লেকশোর গ্র্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে। বইটির প্রকাশক ইউপিএল। অনুষ্ঠানে একাধিক বক্তা অংশ নেবেন।)

  • ডেভিড বার্গম্যান সাংবাদিক

    ফেসবুক অ্যাকাউন্ট: david.bergman.77377

    ইংরেজি থেকে অনূদিত

    *মতামত লেখকের নিজস্ব

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১
চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১

কক্সবাজারের চকরিয়ায় অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে মোটরসাইকেলের চাকার ভেতর থেকে ১৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
বিডিনিউজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক বিশ্বদীপ দাশ

বিডিনিউজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক বিশ্বদীপ দাশ

সাংবাদিক শাহীন গোলদারের মায়ের ইন্তেকাল

সাংবাদিক শাহীন গোলদারের মায়ের ইন্তেকাল

হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারের সামরিক অভিযানের ঘোষণা

হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারের সামরিক অভিযানের ঘোষণা

লালন মাজারে নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলার অভিযোগ
লালন মাজারে নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলার অভিযোগ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ায় লালন শাহ মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও তার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার অগ্নিদগ্ধ কলেজছাত্রের মৃত্যু, রহস্য উদঘাটনে চলছে তদন্ত

তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার অগ্নিদগ্ধ কলেজছাত্রের মৃত্যু, রহস্য উদঘাটনে চলছে তদন্ত

পাবনায় মাদকাসক্ত যুবককে কুপিয়ে হত্যা

পাবনায় মাদকাসক্ত যুবককে কুপিয়ে হত্যা

ফেসবুক কমেন্ট ঘিরে রাকসু ও ছাত্রদল নেতার মধ্যে উত্তেজনা

ফেসবুক কমেন্ট ঘিরে রাকসু ও ছাত্রদল নেতার মধ্যে উত্তেজনা

শক্তিশালী কোম্পানিগুলো সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
শক্তিশালী কোম্পানিগুলো সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সরাসরি তালিকাভুক্তির নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় কারা তালিকাভুক্ত হতে পারবে, সে বিষয়ে যোগ্যতার শর্ত কঠোর করা হয়েছে।

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
শুটিং সেটে অগ্নিকাণ্ড: অভিনেত্রীর দুঃসহ অভিজ্ঞতা

শুটিং সেটে অগ্নিকাণ্ড: অভিনেত্রীর দুঃসহ অভিজ্ঞতা

মিরপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদককে হয়রানির অভিযোগ

মিরপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদককে হয়রানির অভিযোগ

ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব কারাগারে

ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব কারাগারে

0 Comments