একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গত মঙ্গলবার এজলাস ছেড়ে প্রধান বিচারপতির চলে যাওয়ার ঘটনাটি সংসদের নজরে আনলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান। তিনি ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যায়িত করে বলেন, জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগে এ ধরনের ঘটনা জনগণকে কী বার্তা দিচ্ছে, তা ভাবতে হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্য নাজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে প্রসঙ্গটি তোলেন। বিষয়টি বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার ঘটনার বার্তা দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখারও আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রীর কাছে বিবৃতি চান।
জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ঘটেছে। এটি রাষ্ট্রের কোনো অর্গানের মধ্যে পড়ে না। তবে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কেউ ঘটাবেন না বলে তিনি মনে করেন।
নাজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে বলেন, ‘আমাদের সম্মানিত সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। ওনার সাথে প্রধান বিচারপতির একটি বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে, যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের সব বিচারপতি তাঁদের এজলাস ত্যাগ করেন এবং গতকাল (মঙ্গলবার) তাঁরা আর কোর্টে ফিরে আসেননি।’
ঘটনার সময় নিজে উপস্থিত ছিলেন উল্লেখ করে আইনজীবী নাজিবুর রহমান বলেন, ‘মূল ঘটনাটি যখন ঘটে, সে সময় আমি কোর্টে উপস্থিত ছিলাম। একজন আইনজীবী বারবার সত্যকে গোপন করে রিট করার কারণে পেনাল্টি হিসেবে জরিমানা করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।’
বিরোধী দলের এই সদস্য বলেন, ‘ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন শুধু একজন আইনজীবী নন, তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি এই সংসদের একজন সম্মানিত সদস্য, সরকার দলের একজন প্রভাবশালী সদস্য। আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলি, জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগে এ ধরনের ঘটনা জনগণকে কী বার্তা দিচ্ছে, তা আমাদের চিন্তা করা উচিত।’
‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়’ প্রবাদ উদ্ধৃত করে নাজিবুর রহমান বলেন, ‘অতীতে এক দুঃখজনক ঘটনা আমরা দেখেছি। ফ্যাসিবাদী আমলে প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে কিন্তু তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনা সে ধরনের বার্তা দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।’
সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত বলে মন্তব্য করে নাজিবুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের যে তিনটি প্রধান অঙ্গ রয়েছে। এই তিনটির কোনোটিই সার্বভৌম নয়। এই তিনটা মিলে জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সেই ক্ষমতাকে আমাদের সেইভাবে ব্যবহার করতে হবে—একটা অঙ্গ আরেক অঙ্গের ওপরে কোনো প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করবে না, এটাই সকলের জন্য প্রযোজ্য হবে।’
এ বিষয়ে নাজিব আইনমন্ত্রীর একটি বক্তব্য আশা প্রত্যাশা করেন, যাতে জনগণ এ ব্যাপারে আশ্বস্ত হতে পারেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য যে প্রশ্নটা উত্থাপন করেছেন, নিশ্চিতভাবে প্রশ্নটা আলোচনার দাবি রাখে। কারণ, উনি যেটা বললেন, সেপারেশন অব পাওয়ারের যে থিওরি, তা এখানে অ্যাপ্লাই করে না। কারণ, ঘটনাটি ঘটেছে একজন আইনজীবীর সঙ্গে, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গে।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের তিনটা অর্গানের পার্ট নয়। একটি একটি ইনফরমাল বডি। এটি আইনজীবীদের সংগঠন, যারা সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করেন। সুতরাং তারা জনগণের অংশ। এটি বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ বা শাসন বিভাগকে প্রতিনিধিত্ব করেনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে আমি ওই ঘটনাটিতে বৈধতা দিচ্ছি।’
আদালতে অতীতের একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আইনজীবী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিচারালয়ে এ ধরনের ঘটনা হয়ে থাকে। এটি বার ও বেঞ্চের সম্পর্কের বিষয়। অনেক সময় দেখা যায়, আমরা আইনজীবী হিসেবে কখনো প্রতিপক্ষ আইনজীবীর সঙ্গে, কখনো বেঞ্চের সঙ্গে ফাইট করছি। কিন্তু বাইরে গিয়ে আবার এক হয়ে যাই। এতে মক্কেল বাইরের থেকে দেখেন যে কী ব্যাপার, পয়সা দিলাম আমরা কথা বলার জন্য, বাইরে যেয়ে ওনারা এ রকম করছেন?’
প্রধান বিচারপতির এজলাস থেকে উঠে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কালকে (মঙ্গলবার) মাননীয় প্রধান বিচারপতি যেভাবে কোর্ট থেকে উঠে গেলেন। আমাদের কাছে মনে হয়েছিল আজকে (গতকাল বুধবার) মাননীয় প্রধান বিচারপতি কোর্টে উঠে—উনি কনটেম্পট রুল ইস্যু করবেন। কিন্তু তিনি সকাল ৯টায় উঠেই যথারীতি কাজ শুরু করেছেন এবং ওই আইনজীবী (মাহাবুব উদ্দিন খোকন) সেই মাননীয় প্রধান বিচারপতির কোর্টেই গিয়ে স্বাভাবিকভাবে মামলা করেছেন বলে খবর পেয়েছি।’
ঘটনাটিকে সংসদের নজরে আনার কারণে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এ রকম একটি ইস্যু সামনে নিয়ে আসার কারণে আমরা আলোচনা করতে পারলাম। তবে এটা রাষ্ট্রের কোনো অর্গানের মধ্যেই যেহেতু পড়ছে না, এটা জনগণের একটা অংশ হিসেবে উনি নিয়ে এসেছেন। আর এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কেউ ঘটাবেন না বলে আমরা প্রত্যাশা রাখি।’
পরে মাহবুব উদ্দিন খোকন এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে দাঁড়ান। তিনি ঘটনার বৃত্তান্ত বলার চেষ্টা করলে স্পিকার বলেন, ‘এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এতে সংসদ কনভিন্সড।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দেশে সারের কোনো সংকট নেই, বরং চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৬ লাখ টন সার উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একইসঙ্গে তিনি বিরোধীদলের উদ্দেশে বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির যে ষড়যন্ত্র করছে, আপনারা সেই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেবেন না। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানের উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নতুন ডিলার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘শূন্য ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, যার আবেদনের শেষ দিন আগামীকাল। আবেদনের তারিখই শেষ হয়নি, কে পেলো না পেলো তা নির্ধারণের আগেই আপনারা দুর্নীতির কথা বলছেন! আপনারা কল্পনায় ভাসছেন।’ তিনি জানান, দেশজুড়ে প্রায় ৮ হাজার নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা প্রত্যেকে আবার দুজন করে খুচরা ডিলার নিয়োগ দিতে পারবেন। ফলে আরও ১৬ হাজার ডিলার যুক্ত হবেন। এর বাইরে আগে থেকেই ৩১ হাজারের বেশি ডিলার রয়েছেন। সারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন মাঠপর্যায়ে তীব্র সার সংকটে কৃষকরা হাহাকার করছেন: সংসদে শফিকুল ইসলাম সার মজুত ও চাহিদার পরিসংখ্যান সারের মজুত পরিস্থিতি স্পষ্ট করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মোট সারের চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে জোগান রয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ, ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন সার উদ্বৃত্ত থাকবে ইনশাআল্লাহ। এ নিয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন।’ তিনি আরও জানান, বর্তমানে আমন ধানের শিষ বা কুশি বের হওয়ার পর্যায় চলছে। এসময়ে সারের খুব একটা প্রয়োজন হয় না। এখন মূলত সামনের রবি মৌসুমের জন্য কৃষকরা সার সংগ্রহ করছেন। ৬৪ জেলায় মনিটরিং সেল সারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের দুজন যুগ্ম সচিব ও দুজন উপসচিবের তত্ত্বাবধানে দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪টি মনিটরিং সেল কাজ করছে। কোথাও কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনিয়ম করতে গিয়ে এরই মধ্যে পাঁচজন ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আরও পড়ুন সারের কোনো সংকট নেই, ঘাটতি অভিযোগ সঠিক নয়: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কৃষক কার্ড উদ্বোধনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সম্মানিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সারের অপচয় রোধ হবে। কোন কৃষকের কতটুকু জমি এবং সেখানে কতটুকু সার প্রয়োগ করতে হবে, তা নির্ধারিত থাকবে। বিএনপি যা বলে, তাই করে। বিএনপি কখনোই জনগণের বিপক্ষে যায় না। বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের গৃহপালিত বলতে চাই না। আমরা আপনাদের এই সংসদ গৃহে রাখতে চাই। আপনারা দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে কথা বলুন। বিগত দিনে যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, তারা এখন ষড়যন্ত্র করছে। দয়া করে তাদের উসকানিতে বা ষড়যন্ত্রে পা দিয়ে নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।’ বর্তমান সংসদকে মজলুমের পার্লামেন্ট আখ্যা দিয়ে টুকু বলেন, ‘আমরা যদি সবাই মজলুম হয়ে থাকি, তবে দেশের ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত। যাতে এই দেশে আর কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করার সুযোগ না পায়।’ এমওএস/একিউএফ
নাক থাকলে তো ঘ্রাণ এমনিতেই পাওয়া যায়। সাধারণত আমরা আলাদা করে ঘ্রাণ চিনতে শিখি না। স্কুলে বা বাসায়—কোথাও ঘ্রাণ চেনানো হয় না। কিন্তু ঘ্রাণ নিয়ে গবেষণা করা ইতিহাসবিদ ড. উইল টালেটের দাবি, শিশুদের ঘ্রাণ শোঁকা আরও ভালোভাবে শেখানো দরকার। এতে তাদের সুস্থতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি চারপাশের পৃথিবীকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করতে পারে।যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্কের এই গবেষক বলেন, বায়ুদূষণের কারণে মানুষের ঘ্রাণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার আজকাল অনেক বস্তু ও পদার্থের স্বাভাবিক ঘ্রাণও বদলে দেওয়া হয়। গাড়ির ভেতরের অংশ, আমাদের ঘরবাড়ি ইত্যাদির ক্ষেত্রে আমরা আসল ঘ্রাণ পাই না। কৃত্রিম সুগন্ধ এসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।টালেটের প্রশ্ন, প্রতিদিনের জীবনে কৃত্রিম ঘ্রাণের এই বহুল ব্যবহার আমাদের বিভিন্ন ঘ্রাণের পার্থক্য বোঝার ক্ষমতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে?তাই তিনি ঘ্রাণ নিয়ে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। তাঁর মতে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের নাক দিয়ে চারপাশের ঘ্রাণ চিনতে ও সেগুলো নিয়ে ভাবতে শেখাতে হবে। এই অনুশীলন বাসায়ও করা সম্ভব।পেট ভরা, তবু ডেজার্ট খেতে চাই কেনকীভাবে শেখানো যেতে পারে? টালেটের পরামর্শ, মানুষকে আরও বেশি জিনিস শুঁকতে উৎসাহিত করা উচিত। যত বেশি ঘ্রাণ শোঁকা হবে, তত বেশি ঘ্রাণ বর্ণনা করার শব্দভান্ডার তৈরি হবে। ওয়াইনের স্বাদ ও ঘ্রাণ বিচার করেন যাঁরা, সেই সোমেলিয়েররাও একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তাঁরা বাজারে ঘুরে নানা জিনিসের ঘ্রাণ শোঁকেন। এতে তাঁদের পরিচিত ঘ্রাণের পরিসর বাড়ে। পরে বিভিন্ন ঘ্রাণের মধ্যে মিল-অমিল তুলনা করা সহজ হয়।ঘ্রাণ নিয়ে ভাবলে আমরা নিজেদের বুঝতে পারব। যেমন কোন ঘ্রাণ আমাদের কেন স্বস্তি দেয়, তা নিয়ে আমরা ভাবতে পারি। আবার ঘ্রাণ কিন্তু আমাদের চারপাশের পৃথিবী সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।এর একটি সহজ উদাহরণ খাবার। খাবার তাজা আছে কি না, নষ্ট হয়েছে কি না, ঘ্রাণ শুঁকে অনেক সময় বলে দেওয়া যায়। শুধু ‘ব্যবহারের শেষ তারিখ’ দেখে খাবার ফেলে না দিয়ে ঘ্রাণের মাধ্যমেও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।ঘ্রাণের সঙ্গে আমাদের ভালো থাকার অনুভূতির গভীর সম্পর্ক আছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ঘ্রাণ উপভোগ করার ক্ষমতা আমাদের মানসিক সুস্থতার সঙ্গে যুক্ত। যাঁরা কোনো কারণে ঘ্রাণশক্তি হারান, তাঁদের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।পেটের অণুজীবগুলো কি খাওয়ার ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করেতবে টালেট মনে করেন না যে মানুষ ঘ্রাণকে একেবারেই গুরুত্ব দেয় না। বরং মানুষকে ঘ্রাণ নিয়ে কথা বলার সুযোগ দিলে তারা অনেক সময় নির্দিষ্ট ঘ্রাণের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরোনো স্মৃতির কথা খুব সুন্দরভাবে বলতে পারেন। সমস্যা হলো, ঘ্রাণ নিয়ে কথা বলার মতো উপযুক্ত শব্দ বা আত্মবিশ্বাস অনেকের থাকে না।৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হতে যাচ্ছে টালেটের বই সিনিফ: আ হিস্টরি অব স্মেলস। বইটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি গন্ধ নিয়ে একটি প্রচলিত ধারণার কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, অতীত নাকি বর্তমানের চেয়ে বেশি দুর্গন্ধময় ছিল।টালেটের মতে, এটা ঠিক নয়। অতীতে ঘ্রাণ কম-বেশি ছিল না, ঘ্রাণ ছিল আলাদা। আর এখানেই ঘ্রাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে। মানুষ প্রায়ই ঘ্রাণকে ব্যবহার করে অন্যদের থেকে পার্থক্য তৈরি করতে।এখনো ঘ্রাণের কারণে মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়। যেমন কোনো খাবারের গন্ধ নিয়ে ধারণার কারণে বাড়ির মালিক কোনো নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে বাড়িভাড়া দিতে না চাইতে পারেন। এমনকি যুক্তরাজ্যে রাস্তায় বসবাসকারী মানুষদের ‘অতিরিক্ত’ গন্ধের জন্য অপরাধী বানানোর একটি প্রস্তাবও উঠেছিল।তাই কোনো ঘ্রাণ বা গন্ধকে ভালো বা খারাপ মনে করার আগে আমাদের ভাবা উচিত, কেন আমরা সেটিকে এভাবে দেখছি। এই ধারণা কোথা থেকে এসেছে? অন্য মানুষ সেই গন্ধ বা ঘ্রাণকে কীভাবে দেখেন?যেভাবে সিংহাসনে বসেছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট্ট রাজাটালেটের মতে, নিজের ঘ্রাণ-সংক্রান্ত পছন্দ ও ধারণা সম্পর্কে আমাদের আরও সচেতন হওয়া দরকার। একই সঙ্গে অন্য মানুষের ঘ্রাণ পছন্দের প্রতিও আরও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। ঘ্রাণকে ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করার বদলে একটু মনোযোগ দিয়ে গন্ধ শোঁকা আমাদের নিজেদের এবং অন্যদের আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করতে পারে।ঘ্রাণ আবার নির্দিষ্ট সময়, জায়গা ও পরিস্থিতির সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে। টালেট মনে করেন, একুশ শতকের ব্রিটেনকে হয়তো একদিন হাত জীবাণুমুক্ত করার স্যানিটাইজার, দাবানল ও দূষিত পানির ঘ্রাণ দিয়ে মনে করা হবে।কাঠ পোড়ার ঘ্রাণ যেমন অনেকের কাছে পুরোনো দিনের সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনে, ভবিষ্যতে গাছপালা ও কাঠ পোড়ার ঘ্রাণ হয়তো আর তেমন নস্টালজিক লাগবে না। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তা মানুষের মনে ভয় তৈরি করতে পারে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ানবিশ্বের নতুন মানচিত্র, থাকবে আফ্রিকার আসল আকার
দেশে তীব্র সার সংকট, কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়া কিংবা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতিসংক্রান্ত যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম। তিনি জানান, সরকার কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত উৎপাদন, আমদানি ও নিরাপদ মজুত বজায় রেখেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধিতে উত্থাপিত এক জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সংসদ সদস্য মো. নাজিবুর রহমান দেশের বিভিন্ন স্থানে সার সংকট ও সম্ভাব্য খাদ্য সংকটের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করলে তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সার উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন ও মজুত নিশ্চিত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে তা সরবরাহ করে থাকে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৮ হাজার ৭৯৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়েছে এবং ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৯৯ মেট্রিক টন সার আমদানি করা হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে ৪ লাখ ৯ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার নিরাপদে মজুত রয়েছে। আসন্ন পিক ও মিনি পিক সিজনে কৃষকদের সার সংকট যেন না হয়, সে লক্ষ্যে সার কারখানাগুলোর উৎপাদন ও বিদেশ থেকে আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দেশের সার কারখানাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন সাতটি সার কারখানার মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া, একটি টিএসপি ও একটি ডিএপি সার কারখানা রয়েছে। বর্তমানে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার এবং সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। এর পাশাপাশি চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ায় এটি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই পুরোদমে উৎপাদন শুরু হবে। তবে কাঁচামাল ও গ্যাস সরবরাহের জটিলতায় যমুনা ফার্টিলাইজার, ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি এবং টিএসপি ও ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। সামনের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে যথাক্রমে আরও ৮৮ হাজার ও ১ লাখ ১৩ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আরও পড়ুন মাঠপর্যায়ে তীব্র সার সংকটে কৃষকরা হাহাকার করছেন: সংসদে শফিকুল ইসলাম বিগত অর্থবছরের চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ১১ লাখ ৬১ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ইউরিয়া, ৬৮ হাজার মেট্রিক টনের বেশি টিএসপি এবং ৮২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ডিএপি সার উৎপাদিত হয়েছে। এছাড়া উক্ত অর্থবছরে ১৪ লাখ ৭ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করা হয় এবং সারাদেশে ২৫ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়েছে। ফলে বিদ্যমান তথ্য-উপাত্ত স্পষ্ট প্রমাণ করে যে সার নিয়ে উদ্বেগের কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর সুযোগ নেই। সংসদ সদস্যরা বিরোধীদল হিসেবে যে গঠনমূলক পরামর্শ দিয়েছেন তাকে সরকার স্বাগত জানায় এবং প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে সরকার বিরোধীদের মতামত শুনে সংসদকে প্রাণবন্ত রাখতে চায়। কৃষি ব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন খাল কাটা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি স্বাবলম্বী করেছিলেন, ঠিক তেমনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার খাল কাটা কর্মসূচি, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, সামাজিক ও ধর্মীয় ভাতা প্রদান এবং কৃষি ঋণ মওকুফের মাধ্যমে কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করার কাজ করে যাচ্ছে। বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার কমিটিতে স্থানীয় এমপিদের উপদেষ্টা করার কোনো বাস্তবসম্মত প্রয়োজন নেই। কারণ এটি একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে তা যথাযথভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত। মাঠ পর্যায়ে সারের কৃত্রিম সংকট ও ডিলারদের অব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন, বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের আমলে নিয়ন্ত্রিত যেসব ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তারা এখনো বহাল থাকার কারণে কিছু প্রশাসনিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে ডিলারশিপ বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং নতুন সার ডিলার নিয়োগের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সার্কুলার জারি করেছে। অবৈধভাবে সার মজুত, পাচার কিংবা দুই নম্বরি রুখতে মাঠে সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। সারাদেশে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সার জব্দ করা হচ্ছে, গোডাউন সিলগালা করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের চেষ্টা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে সারের দাম প্রতিবেশীর তুলনায় কম। সমন্বিত ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এসব ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি দূর করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দেশে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিপ্লব ঘটাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এমওএস/একিউএফ