দুপুরের খাবারের বিরতির পর ইউনিভার্সেল ম্যানসওয়্যার নামের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায় স্বাভাবিকভাবে কাজ চলছিল। হঠাৎ তৃতীয় তলার একজন নারী শ্রমিক ‘ভূত’ বলে চিৎকার দিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। তারপর কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তৃতীয় তলার পাশাপাশি দ্বিতীয় তলায়ও একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন অর্ধশত শ্রমিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পরদিন সকালেও একই ঘটনা ঘটলে ওই দিনও ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
গত ২২ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের অনন্ত গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সেল ম্যানসওয়্যারে এ ঘটনা ঘটে। তবে পোশাক খাতে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। গত এক দশকে এ ধরনের অন্তত ১১টি ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২০০৮ সালে একই ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল একাধিক কারখানায়, যা অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি।
ঘটনাগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক দশকে তৈরি পোশাকশিল্পে যতগুলো কারখানায় ভূত বা ‘জিন’ আতঙ্ক ছড়িয়েছে, সেগুলো তুলনামূলক বড় কারখানা।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোথাও বাথরুমে ভূত দেখার গুজব ছড়িয়েছে। কোথাও ‘জিনে ধরেছে’ বলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আবার কোথাও একজন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার পর একে একে অসুস্থ হয়েছেন আরও কয়েকজন শ্রমিক। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সত্যিই কি পোশাক কারখানায় ভূত দেখা যাচ্ছে। নাকি এর পেছনে অন্য কোনো বাস্তবসম্মত কারণ রয়েছে?
ঘটনাগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক দশকে তৈরি পোশাকশিল্পে যতগুলো কারখানায় ভূত বা ‘জিন’ আতঙ্ক ছড়িয়েছে, সেগুলো তুলনামূলক বড় কারখানা। সেখানকার কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নিয়মিত তদারকি করে থাকেন।
এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, নারী পোশাকশ্রমিকেরা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগেন। কম মজুরির কারণে মাসের অধিকাংশ দিন পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন না তাঁরা। আবার পারিবারিক সংকটের কারণে অনেকে মানসিক চাপে থাকেন। অনেক সময় অসুস্থ শরীর নিয়েও কাজ করেন। ফলে কাজের চাপে অনেক সময় তাঁরা কারখানায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর সেই সুযোগে সুযোগসন্ধানী এক বা একাধিক পক্ষ আতঙ্ক ছড়িয়ে থাকতে পারে।
ভূত বা জিন আতঙ্কে শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনার অনেকগুলোর সূচনা বাথরুম থেকে। এ ধরনের ঘটনায় শুরুতে কোনো একজন শ্রমিক অসুস্থ বা অচেতন হয়ে পড়েন। তারপর ছড়িয়ে পড়ে ভূত বা ‘জিনে ধরার’ গুজব। তারপর একে একে অসুস্থ হতে থাকেন অন্য আরও কিছু শ্রমিক। তবে চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসায় সেরে যায় এসব অসুস্থতা।
এক দশকে যত ঘটনা
২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় একেএইচ ডায়িং অ্যান্ড নিটিং কারখানার সম্প্রসারিত ভবনটি শ্মশানের জায়গার ওপর নির্মিত হয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে অর্ধশত নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁরা মাথাব্যথা, বুকব্যথা ও বমি ভাব নিয়ে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসাও নেন। এই ঘটনায় সেদিন কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।
এরপর ২০১৬ সালের আগস্টে ঢাকার আশুলিয়ার নরসিংহপুরের ডেকো ডিজাইন নামের কারখানায় দুপুরের খাবারের পর কয়েকজন শ্রমিক বাথরুমে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ খবর জানাজানির পর কারখানার ছয়তলা ভবনের বিভিন্ন তলার শ্রমিকদের মধ্যে ভূত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাতে আরও বেশ কিছু শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে ৪৯ জন শ্রমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসাও নেন। পরদিনও কারখানাটিতে ভূত আতঙ্কে কয়েকজন শ্রমিকের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে।
ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে গাজীপুরের ইউটাহ নিটিং অ্যান্ড ডায়িং কারখানার একজন শ্রমিক অসুস্থ হন। এরপর তাঁকে ‘জিনে’ ধরেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লে আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের উপসর্গ ছিল পেটে ব্যথা, বমি ও মুখ দিয়ে লালা ঝরা। কারখানার ২৫ জন অসুস্থ শ্রমিককে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের ক্লিনিকে চিকিৎসাও দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গত বছরের ১৩ মার্চ সকালে গাজীপুরের এসপি গার্মেন্টস অ্যান্ড ওয়াশিং কারখানার বাথরুমে ভূত রয়েছে—এমন আতঙ্কে ১০-১৫ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে বেলা ১১টায় সেদিনের মতো কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার চার দিন পর জিন আতঙ্কে আবার ১৩ জন শ্রমিক অসুস্থ হন। তাঁদের স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।
গত বছরের ১৯ মার্চ গাজীপুরের গোল্ডেন রিফিট গার্মেন্টস কারখানায় জিন আতঙ্কে অর্ধশত শ্রমিকের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের নর্থ হেয়ার প্রোডাক্ট কারখানায় ভূত আতঙ্কে ৯ জন শ্রমিক অসুস্থ হলে তাঁদের দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকার হপলুন অ্যাপারেলস কারখানায় গত জুলাইয়ে একই ধরনের ঘটনায় ৬০ জনের মতো শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় কারখানাজুড়ে ভূত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কারখানায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় দুই দিন কারখানাও বন্ধ ছিল।
এদিকে গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে নিউএইজ গ্রুপের একটি কারখানার বাথরুমে দুজন নারী শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তারপর জিন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাতে আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হন। কয়েক দিন একই সমস্যা চলে। এক দিন জিন তাড়াতে কারখানায় মিলাদ দেয় কর্তৃপক্ষ। সেই মিলাদের পর আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হন। পরে আরেক দিন তান্ত্রিক এনে কারখানা ঝাড়ফুঁকও করানো হয়। সব মিলিয়ে কারখানাটির ১৭২ জন শ্রমিক শরীর দুর্বলতা, চোখে ঝাপসা দেখা ও মাথা ঘোরানোর সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাঁদের কয়েক দিন ছুটিতে রাখে কর্তৃপক্ষ। কারখানাও দুই দিন বন্ধ রাখা হয়। তারপর কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নতি হতে থাকে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নিউ এইজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম প্রথম আলোকে বলেন, গত মে মাসে তাঁদের গ্রুপের কারখানাটির উৎপাদন সব মিলিয়ে ৬-৭ দিন ব্যাহত হয়েছে।
বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের গোড়াপত্তন হয় আশির দশকের শুরুতে। পরের দশকে শ্রমঘন এই শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটে। সেই সময় থেকেই পোশাক কারখানায় ভূত আতঙ্কের ঘটনা ঘটছে বলে জানান বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
ভূত কি শুধু বাথরুমে
ভূত বা জিন আতঙ্কে শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনার অনেকগুলোর সূচনা বাথরুম থেকে। এ ধরনের ঘটনায় শুরুতে কোনো একজন শ্রমিক অসুস্থ বা অচেতন হয়ে পড়েন। তারপর ছড়িয়ে পড়ে ভূত বা ‘জিনে ধরার’ গুজব। তারপর একে একে অসুস্থ হতে থাকেন অন্য আরও কিছু শ্রমিক। তবে চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসায় সেরে যায় এসব অসুস্থতা।
নিউ এইজ গ্রুপের কারখানায় জিন আতঙ্কের ঘটনার সূত্রপাতও বাথরুম থেকে হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রথম যে দুজন নারী শ্রমিক বাথরুমে গিয়ে অসুস্থ হয়েছিলেন, তাঁদের একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেন, তাঁর রক্তে সুগারের পরিমাণ অনেক বেশি। সে কারণে তিনি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। আরেকজন নারী শ্রমিক আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন।
এদিকে গত মাসে ইউনিভার্সেল ম্যানসওয়্যারের কারখানায় ভূত দেখার যে ঘটনা ঘটে, সেটি বাথরুম থেকে নয়। এ বিষয়ে কারখানার মহাব্যবস্থাপক বিল্লাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কারখানায় অসুস্থ হয়েছিলেন এমন ৮-৯ জনকে আমরা বেপজার হাসপাতালে নিয়েছিলাম। সেখানে তাঁরা আধা ঘণ্টার মধ্যেই সুস্থ হয়ে যান।’
ভূতের আড়ালে কী
বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের গোড়াপত্তন হয় আশির দশকের শুরুতে। পরের দশকে শ্রমঘন এই শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটে। সেই সময় থেকেই পোশাক কারখানায় ভূত আতঙ্কের ঘটনা ঘটছে বলে জানান বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
বাবুল আখতার বললেন, মূলত ৩-৪টি কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা থাকে। অনেকে পুষ্টিহীনতায় ভোগেন। আবার শারীরিক দুর্বলতার কারণেও অনেক সময় শ্রমিকেরা মাথা ঘুরে বাথরুমে পড়ে যান। এ ছাড়া শ্রমিকদের মধ্যে কুসংস্কার ও গুজব বিশ্বাস করার প্রবণতাও রয়েছে। আবার একটি স্বার্থান্বেষী মহলও কারও কারও অসুস্থতার সুযোগকে নানাভাবে কাজে লাগান।
এই শ্রমিকনেতা আরও বলেন, শ্রমিকদের কাউন্সেলিং দরকার। এ ছাড়া কারখানায় রেস্টরুম থাকা দরকার; কেউ অসুস্থ হলে যাতে বিশ্রাম নিতে পারেন। আবার শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। একই সঙ্গে শ্রমিকের মানসম্মত জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় মজুরি দিতে হবে।
পোশাকশিল্পে বর্তমানে ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এই মজুরিকাঠামো কার্যকরের আগে ন্যূনতম মজুরি ছিল ৮ হাজার টাকা। মজুরি কম হওয়ায় বাড়তি আয়ের জন্য শ্রমিকদের মধ্যে ওভারটাইম বা অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতাও রয়েছে। এতে অতিরিক্ত কাজের চাপে শ্রমিকদের মানসিক ও শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
কম মজুরির কারণে শ্রমিকেরা প্রতিদিন প্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণ করতে পারছেন কি না, এমন প্রশ্নে নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, পোশাক কারখানার হেলপাররা মাসে ওভারটাইমসহ ১৪-১৫ হাজার টাকা আয় করেন। অপারেটররা আয় করেন ১৭-১৮ হাজার টাকা। ফলে তাঁদের প্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তিনি বলেন, ভূত বা জিন আতঙ্কের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এটি পুরোপুরি শ্রমিকদের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়।
পোশাকশিল্প মালিকদের অনেকের ধারণা, কারখানায় ভূত বা জিন আতঙ্কের পেছনে একটি চক্র রয়েছে। তারা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন কারখানাকে টার্গেট করে। আতঙ্ক ছড়িয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। মালিকপক্ষের কয়েকজনের অভিযোগ, এর পেছনে পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত করার চেষ্টা থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তথ্য–প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভয় ছড়ায়, উপসর্গও ছড়ায়
গত ১৮ জুন গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় ড্রেসম্যান লিমিটেড নামের কারখানায় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকালে কাজে যোগ দেওয়ার পর কারখানার সরবরাহ করা পানি পান করেন শ্রমিকেরা। কিছুক্ষণ পর তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বমি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরানো, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। একপর্যায়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ শ্রমিকদের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠায়।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাশেদ রুম্মান আবদুল্লাহ বলেন, ‘কারখানার পানি আমরা ছাড়াও আমাদের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করিয়েছে। পানিতে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। একজন শ্রমিক কোনো কারণে অসুস্থ হওয়ার পর তা অন্যদের মধ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া অতীতে অনেক কারখানার বাথরুম থেকে “ভূত” আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। সে জন্য আমরা আমাদের বাথরুমে প্রবেশের আগে দেয়ালে আরবি ও বাংলায় দোয়া লিখে রেখেছি।’
পোশাকশিল্প মালিকদের অনেকের ধারণা, কারখানায় ভূত বা জিন আতঙ্কের পেছনে একটি চক্র রয়েছে। তারা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন কারখানাকে টার্গেট করে। আতঙ্ক ছড়িয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। মালিকপক্ষের কয়েকজনের অভিযোগ, এর পেছনে পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত করার চেষ্টা থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তথ্য–প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেউ না কেউ এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে। তবে কারা, সেটি আমরা খুঁজে বের করতে পারিনি। যেসব কারখানায় এসব ঘটনা ঘটে, সেগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।’ তিনি আরও বলেন, কারখানায় ভূত বলে কিছু নেই। এসব ঘটনা বন্ধে ব্যাপক সচেতনতা দরকার।
সমাধান কী
জানতে চাইলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সাইকিয়াট্রি বিভাগের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কোনো মানুষের মাথা ঘোরানো, বমি ভাব, পেটব্যথার উপসর্গগুলোকে মনোরোগ চিকিৎসার ভাষায় কনভারশন ডিজঅর্ডার বলা হয়। যখন এই উপসর্গ একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায়, সেটিকে মাস সাইকোজেনিক ইলনেস বা গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ বলা হয়। এ ধরনের ঘটনা স্কুল, হোস্টেল, কারখানায় ঘটে থাকে।
হেলাল উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, মানুষ ইচ্ছা করে এসব করে না। মানসিক চাপ, পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে কনভারশন ডিজঅর্ডার হয়। এমন লক্ষণ দেখা দিলে মানসিক চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। এ ধরনের সমস্যা প্রতিরোধের উপায় হচ্ছে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। একমাত্র মানসিক যত্নই এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপ যেন ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে। এবার লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান। গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) লিথুয়ানিয়ার জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, ড্রোনটি বেলারুশ হয়ে দেশটির আকাশসীমায় ঢুকেছিল। পরে মধ্যাঞ্চলের প্রাতকুনাই গ্রামের কাছে সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। এলাকাটি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কাউনাসের কাছাকাছি। ড্রোনটি আকাশসীমায় ঢোকার পর ন্যাটোর মিশনে থাকা ইতালির একটি যুদ্ধবিমান সেটিকে ভূপাতিত করে। আরও পড়ুন রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প ড্রোনটিতে বিস্ফোরক ছিল বলে জানিয়েছেন লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্তাস কাউনাস। তবে, সেটি রাশিয়ার নাকি অন্য কোনো দেশের, তা নিশ্চিত করতে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেছেন, ড্রোনটি সম্ভবত রাশিয়া থেকে এসেছিল। লিথুয়ানিয়ায় ন্যাটোর মিশনে থাকা ইতালির যুদ্ধবিমান ড্রোনটি ভূপাতিত করায় জোটটির গুরুত্ব এবং মিত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এদিকে, ঘটনাটিকে ইউরোপের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন ও উসকানি’র ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুলও এ ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করেছেন। তবে, এ বিষয়ে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আরও পড়ুন রাজপুত্রের হাতের হাড় দেখিয়ে সেনাদের মনোবল বাড়ানোর উদ্যোগ রাশিয়ার এর আগে, গত সোমবার বাল্টিক সাগরে রুশ একটি যুদ্ধজাহাজকে নজরদারি করা ডেনমার্কের সামরিক হেলিকপ্টারের দিকে রাশিয়া ফ্লেয়ার ছুড়েছিল বলে অভিযোগ করেছে ন্যাটোর সদস্যদেশ ডেনমার্ক। এর এক দিন পরই লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটল। এদিকে, পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিজ বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড পুরো ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। এর আগে রাশিয়ার ড্রোন হামলার পর ইউক্রেন সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছিল পোল্যান্ড। আরও পড়ুন ইউক্রেনের ট্রেনে রুশ হামলা, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ইউরোপীয় নেতারা তবে, লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন ঢুকে পড়ার ঘটনায় ইউক্রেনের যুদ্ধ ন্যাটোর সীমান্তের আরও কাছে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে নতুন করে আসঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলোর আকাশসীমায় ২০০৪ সাল থেকে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান টহল দিয়ে আসছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমডিআরএইচ/
সিডনিতে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কৃষিবিদদের সংগঠন ‘কৃষিবিদ অস্ট্রেলিয়া’র বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৬-২৮ মেয়াদের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এতে কৃষিবিদ আবুল সরকার সভাপতি এবং ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি সিডনির ইঙ্গেলবার্নে আয়োজিত এ সভায় নির্বাচন কমিশনার ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ নতুন পূর্ণাঙ্গ পরিষদ ঘোষণা করেন।সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বিদায়ী সভাপতি কৃষিবিদ আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের চলমান শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম ও সাংগঠনিক অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com
চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের ফলে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় এবং নতুন কাজের আদেশ কমে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পশ্চাৎমুখী সংযোগ শিল্প (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি) গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ে। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তাদের ব্যবসা মূলত এখাতের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাদের ব্যবসা বর্তমানে স্থবিরতা ও ধীরগতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কাজের আদেশ কমে যাওয়া এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হওয়ায় পোশাকের উপকরণ ও মোড়কজাত পণ্যের চাহিদা কমেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে দেশের পোশাকের উপকরণ ও মোড়ক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প হিসেবে স্থানীয় পোশাকশিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ উপকরণের চাহিদা পূরণে সক্ষম। এছাড়া এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বিভিন্ন দেশে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য রপ্তানি করছে। পাশাপাশি পরোক্ষ রপ্তানির মাধ্যমে এ খাতের রপ্তানি আয় ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি হয়েছে। ফলে পোশাকের উপকরণ ও মোড়ক শিল্প দেশের রপ্তানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শিল্প হিসেবে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। কেন নেতিবাচক প্রভাব তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং শিল্প নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। পোশাকশিল্পে কোনো ধরনের সংকট দেখা দিলে এর সরাসরি প্রভাব পোশাকের উপকরণ প্রস্তুতকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও পড়ে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার। তিনি বলেন, পোশাক কারখানায় ক্রয়াদেশ কমে গেলে উৎপাদন কমে যায়। এর সঙ্গে বোতাম, জিপার, লেবেল, প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক উপকরণের চাহিদাও হ্রাস পায়। ফলে এসব উপকরণ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিক্রি, আয় ও উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শাহরিয়ার আরও বলেন, পাশাপাশি, পোশাক কারখানাগুলো আর্থিক সংকটে পড়লে সরবরাহকারীদের বিল ও পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হতে পারে। এতে উপকরণ প্রস্তুতকারকদের নগদ অর্থের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, কাঁচামাল, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও শ্রম ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহের চাপ থাকায় উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে মুনাফার পরিমাণও কমে যায়। বিপিএএমইএ সভাপতি জানান, পোশাকশিল্পের সংকট শুধু পোশাক কারখানাগুলোকেই প্রভাবিত করে না; এর প্রভাব পুরো সরবরাহব্যবস্থাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পোশাকশিল্প ও উপকরণশিল্প একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় একটি খাতে অস্থিরতা তৈরি হলে অন্য খাতেও এর প্রভাব পড়ে। আরও পড়ুন উৎপাদন আংশিক বন্ধ ৭৮ শতাংশ কারখানায়, ক্রয়াদেশ কমেছে ৫৫ শতাংশের বাব আল-মান্দেবও অনিরাপদ, জ্বালানি-বাণিজ্যে বাড়ছে ঝুঁকি যা বলছেন প্রস্তুতকারকরা পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে গার্মেন্টসের আনুষঙ্গিক ও প্যাকেজিং পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। পোশাকের অর্ডার কমলে স্বাভাবিকভাবেই এসব প্রতিষ্ঠানের অর্ডারও কমে যায়। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্পভাবে জেনারেটর চালাতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। কিন্তু এই বাড়তি ব্যয় পোশাক কারখানাগুলোর কাছ থেকে আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে, বলে জানিয়েছেন বিপিএএমইএর পরিচালক ও বাদশা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম সবুজ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, অর্ডার কম থাকায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নতুন অর্ডার আসতে শুরু করায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির আশা করছেন উদ্যোক্তারা। চট্টগ্রামভিত্তিক পোশাকের উপকরণ সরবরাহকারী আদিল ট্রিমসের স্বত্বাধিকারী এস এম আরিফুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, একসময় ব্যবসায় ভালো অবস্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পোশাকের উপকরণ সরবরাহের ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, পোশাক রপ্তানিকারকদের রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় নতুন করে উপকরণ ও মোড়কজাত পণ্যের অর্ডারও কমে গেছে। এর পাশাপাশি চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পোশাকের উপকরণ সরবরাহকারীদের ব্যবসায়। আরও পড়ুন পোশাক কারখানায় তালা, কর্মসংস্থানের দরজা কি বন্ধ হয়ে যাবে? গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল শিল্প, ১১ দফা দাবি বিকেডিওএ’র আরিফুর রহমানের মতে, রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধেও বিলম্ব হচ্ছে। ফলে ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নগদ প্রবাহ উভয়ই চাপের মুখে পড়েছে। কাজ কমে যাওয়ার কারণে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও উৎপাদন কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি পরিশোধের চাপ রয়েছে। এতে শ্রমিকের বেতন, কাঁচামাল কেনা এবং অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে উদ্যোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন অনেক ব্যবসায়ী। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিস্থিতি বেশি কঠিন। বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় তাদের নগদ অর্থের মজুত ও ব্যাংকিং সুবিধা সীমিত হওয়ায় কয়েক মাসের কম অর্ডার ও উচ্চ ব্যয়ের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তারা। আরও পড়ুন নারায়ণগঞ্জ / গ্যাস সংকটে কমেছে উৎপাদন, বাড়ছে কারখানা বন্ধের শঙ্কা গ্যাস সংকটে বসে আছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র সংকট কাটাতে কী প্রয়োজন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্পমেয়াদে সবচেয়ে জরুরি হলো শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে উৎপাদন পরিকল্পনা অনুযায়ী চালানো সম্ভব হবে, বিকল্প জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় কমবে এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে। তবে শুধু জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করলেই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তৈরি পোশাক খাতে নতুন অর্ডার বাড়ানো, রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং স্থানীয় অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও প্রয়োজন। তাদের দাবি, গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ শিল্পকে শুধু পোশাক খাতের সহায়ক শিল্প হিসেবে দেখলে হবে না। তৈরি পোশাকের সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা জরুরি। এজন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি অর্ডার বাড়ানোর উদ্যোগ একসঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। আইএইচও/এমএমএআর/এমএফএ