চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া হলে এর সঙ্গে শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক, সামরিক ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও জড়িত হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তাঁর মতে, বন্দরের পরিচালনার দক্ষতা বাড়াতে বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। কাস্টমস, আমলাতন্ত্র ও অবকাঠামোর সংস্কারের পাশাপাশি দেশীয় সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এ কথা বলেন। ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজক মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটি (এমসিআরএস)।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বিদেশি কোম্পানি আনার অর্থটা এটা শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটার যে রাজনৈতিক–সামরিক মাত্রাটাও আছে, সেটাও আমাদের খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।’
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে বিদেশি স্বার্থের তৎপরতা নতুন নয়। ১৯৯৭ সালে এসএসএ নামের একটি মার্কিন কোম্পানিকে দীর্ঘ মেয়াদে বন্দর ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ হয়েছিল। শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলন ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, সরকার বদলালেও একই ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানির বড় অংশ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, এর নিয়ন্ত্রণ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এর সঙ্গে রাজনৈতিক, সামরিক ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও জড়িত।
বিদেশি কোম্পানি এলে সক্ষমতা বাড়বে—এই যুক্তিরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর মতে, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের মতো দেশ নিজস্ব জাতীয় সক্ষমতা তৈরি করেই বন্দরকে শক্তিশালী করেছে।
সরকারের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতির অভিযোগ তুলে আনু মুহাম্মদ বলেন, বন্দর নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠছে, সেগুলোর বিশ্বাসযোগ্য জবাব দিতে হবে। জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি। চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের অতীতের আন্দোলনকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন।
এনসিটির আয় ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন
গোলটেবিল আলোচনায় একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান সোহাগ কুমার বিশ্বাস। প্রবন্ধে বলা হয়, বিষয়টি দেশি না বিদেশি—এই বিতর্কে সীমাবদ্ধ না রেখে চুক্তির শর্ত, আর্থিক লাভ ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি দেখা জরুরি। এনসিটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে নির্মিত। এতে সরকারি বিনিয়োগ প্রায় ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে আরও প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন (বন্দরের জেটিতে বসানো বিশাল ক্রেন, যা জাহাজ থেকে কনটেইনার নামায় ও জাহাজে তোলে) ও ৩৩টি আরটিজি (বন্দরের কনটেইনার ইয়ার্ডে ব্যবহৃত চাকাওয়ালা ক্রেন) যুক্ত হয়েছে। দেশীয় ব্যবস্থাপনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনসিটি ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টিইইউ (২০ ফুট দীর্ঘ একটি কনটেইনারকে এক টিইইউ ধরা হয়) হ্যান্ডলিং করেছে, যা জার্মান পরামর্শকের নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়ে প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি।
প্রবন্ধে প্রস্তাবিত কাঠামোর তিনটি পরিবর্তনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। প্রথমত, দায়িত্বের ধরন—শুরুতে ‘অপারেটর’, পরে ‘কনসেশনিয়ার’; ফলে মাশুলের অর্থ আর সরাসরি বন্দরের হিসাবে জমা হবে না। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট পার-টিইইউ রাজস্বের বদলে স্তরভিত্তিক রয়্যালটি, যেখানে ‘গড় আয়’ কত দেখানো হবে, তার ওপরই বন্দরের প্রাপ্তির হার নির্ভর করে। তৃতীয়ত, মেয়াদ—১৫ বছরের আর্থিক মডেলে হিসাব প্রস্তুত হলেও দাবি এখন ৩০ বছরের।
প্রবন্ধে চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর করার যৌক্তিকতা, শর্ত প্রকাশ না করা এবং একই অপারেটরের একাধিক টার্মিনাল পরিচালনার ঝুঁকি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তা, সাইবার ঝুঁকি ও বন্দরের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সাত দফা প্রস্তাব
মূল প্রবন্ধে বন্দরের কৌশলগত অবকাঠামো পরিচালনায় উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র, বিদেশি বিনিয়োগে দেশীয় অংশীদারের ৫১ শতাংশ মালিকানা, সর্বোচ্চ ১৫ বছরের মেয়াদ এবং একই অপারেটরকে একাধিক কনটেইনার টার্মিনাল না দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) ও পরিচালন তথ্যের মালিকানা রাষ্ট্রের কাছে রাখা, চুক্তির খসড়া প্রকাশ এবং সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপনের কথাও বলা হয়। শ্রমিকদের চাকরি ও সেবাশর্ত সুরক্ষা এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অংশীদার করার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, বিদেশি অপারেটরের বদলে বন্দরের উন্নয়নে বাংলাদেশের নিজস্ব বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
বন্দর রক্ষা কমিটির নেতা শেখ নুরুল্লাহ বলেন, ডিপিওয়ার্ল্ডকে বন্দর দেওয়া হলে শ্রমিকদের অধিকার হুমকিতে পড়বে। এ কারণে শ্রমিকদের আন্দোলন আরও কঠোর হতে পারে।
বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন মাওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফি রতন, গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ বিশ্বাস, ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি সায়েদুল হক, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায় ও নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার।
বক্তারা বলেন, প্রশ্নটি ‘দেশি না বিদেশি’ নয়; প্রশ্ন হলো কোন শর্তে, কত বছরের জন্য, কতটা স্বচ্ছতায় এবং শেষ বিচারে লাভবান হবে কে? একটি ভুল দরপত্র বাতিল করা যায়, একটি ভুল বিনিয়োগ পুনর্গঠন করা যায়; কিন্তু ৩০ বছরের একটি আন্তর্জাতিক কনসেশন (পরিচালনা-স্বত্ব) চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সালিসি আদালতে বছরের পর বছর লড়তে হয়। তাই তাড়াহুড়ো নয়, প্রশ্নগুলোর উত্তর আগে, স্বাক্ষর পরে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মাগুরায় নবগঙ্গা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো জমজমাট নৌকাবাইচ। এসময় বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বেরইল পলিতা ইউনিয়নে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। হারিয়ে যেতে বসা এ গ্রামীণ ঐতিহ্য উপভোগ করতে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসতে থাকেন। বাঁধভাঙা ভিড় জমে নদীর ওপর নির্মিত সেতুতেও, যা একপর্যায়ে পরিণত হয় গ্যালারিতে। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন উপজেলা থেকে ছয়টি রঙিন নৌকা অংশ নেয়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বৈঠার তালে তালে মাঝিদের এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য পুরো পরিবেশকে উত্তাল করে তোলে। এক নৌকা আরেক নৌকাকে পেছনে ফেলার মুহূর্তে দুই পাড়ে থাকা দর্শকরা উল্লাস ও করতালিতে মেতে ওঠেন। নৌকাবাইচ দেখতে পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়/ছবি: জাগো নিউজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মেহেরুনন্নাহার। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মুন্সি নাসির আহমেদ, সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শওকত মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য মুন্সি জসিম উদ্দিন। আয়োজক শওকত মিয়া বলেন, ‘মূলত আমাদের শিকড় ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এবং তাদের মাদক ও সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদন দিতেই আমরা নবগঙ্গায় এই নৌকাবাইচের আয়োজন করেছি। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উচ্ছ্বাস অভিভূত করেছে। স্থানীয় দশ গ্রামের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি বছর বড় পরিসরে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন বজায় রাখার চেষ্টা করবো।’ ইউএনও মোছা. মেহেরুনন্নাহার বলেন, নৌকাবাইচ বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির গভীর অংশ। ঐতিহ্য রক্ষায় ও যুবসমাজকে দেশীয় সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতি বছর এমন আয়োজন বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/একিউএফ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মেহেদি অনুষ্ঠানের আলোকসজ্জার তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুর আয়েশা (৬০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের পূর্ব শাহনগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুর আয়েশা ওই এলাকার মোহাম্মদ শফির স্ত্রী। আরও পড়ুন বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ছেলে, পথে প্রাণ গেলো ট্রাকচাপায় পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাশের বাড়িতে বিয়ে উপলক্ষে মেহেদি অনুষ্ঠান চলছিল। এজন্য বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা করা হয়। সন্ধ্যায় ওই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নুর আয়েশা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এমআরএএইচ/একিউএফ
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ডব্লিউএইচও ও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের তদন্তের মধ্যে তিনি বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগ করেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে জানিয়েছে। পরিচালক হিসেবে ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব নেন পুতুল। তবে তাকে ডব্লিউএইচও গত বছরের শেষ দিকে বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করলে জুলাইয়ে প্রথম তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়। গত ৩ জুলাই ডব্লিউএইচওকে দেওয়া পুতুলের আইনজীবীদের পৃথক এক চিঠি অনুযায়ী, সংস্থাটি পুতুলকে চীন সফরকালে আর্থিক জালিয়াতি এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে। তবে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। আরও পড়ুন শেখ হাসিনাসহ দণ্ডিতদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত নিয়ে যা জানালেন চিফ প্রসিকিউটর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসকে দেওয়া পুতুলের পদত্যাগপত্র অনুযায়ী, সংস্থাটি আরও অভিযোগ করেছে যে তিনি বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে নিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি জানিয়েছেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি জমিটি পান এবং তা বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় পেয়েছেন। মহাপরিচালক টেড্রোসকে উদ্দেশ করে পুতুল তার পদত্যাগপত্রে বলেন, ‘আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্যই আমাকে আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত করা হয়েছিল এবং আমি আন্তরিকভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেছি। আপনি যেহেতু আমাকে কার্যকরভাবে আমার দায়িত্ব পালন করতে বাধা দিয়ে চলেছেন, তাই ডব্লিউএইচওতে আপনার নেতৃত্বের ওপর আমার সব আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি। তাছাড়া, আমাকে বেতনবিহীন ছুটিতে রাখার আপনার সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আমার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এ বিষয়ে পুতুল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকেও মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্স একিউএফ/