পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ বিদেশে পলাতক কোনো আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার শৈথিল্য দেখাবে না। এ বিষয়ে সরকারকে দোষী না করে সহযোগিতা করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকারি দল।
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের আনা একটি প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আজ মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের সত্যিকার চেষ্টা কতটুকু, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল। তারা বেনজীরসহ বিদেশে পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রস্তাবের ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। সাধারণত বিরোধী দলের আনা প্রস্তাব গৃহীত হয় না। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেল।
সংসদে প্রস্তাবটি এনেছিলেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিনকাসেম। ভোটে গৃহীত প্রস্তাবটি হলো, ‘সংসদের অভিমত এই যে ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ কীভাবে দুবাইতে জামিন পেলেন—এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথাশিগগির জাতীয় সংসদকে অবহিত করবেন। এই ঘৃণ্য অপরাধীকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? সে সম্পর্কে মীর আহমাদ বিন কাসেমকে এবং সংসদের প্রতিটি সদস্যকে যথাসময়ে যথাশিগগির অবহিত করবেন।’
প্রস্তাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চারটি বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়। সেগুলো হলো ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ অনুরোধসহ নেওয়া পদক্ষেপের পূর্ণ বিবরণ; নথিতে কোনো আইনি বা পদ্ধতিগত ত্রুটি ছিল কি না এবং দায়ীদের শনাক্তকরণ; সরকারি চাকরিতে থাকাকালে ছয়টি দেশের পাসপোর্ট নেওয়ার তদন্তের অগ্রগতি; বেনজীরকে সেন্ট লুসিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দেশে-বিদেশে তাঁর অবৈধ সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বেনজিরসহ বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাবে না। তিনি জানান, বেনজীরের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা, প্রত্যর্পণপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগ যাচাই এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ শনাক্ত ও জব্দে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
নিজের বক্তব্যে ২০০৯ সাল থেকে গুম-খুন-নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বেনজীর আহমদকে ‘সিরিয়াল কিলার’ আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই নির্যাতনের হাতিয়ার এবং যে দুষ্কৃতকারীরা ছিল, তার মধ্যে শেখ হাসিনার পর বেনজীরকে ‘নাম্বার ওয়ান’ বলা যায়।
বেনজিরকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দায়ী না করে আপনারা সহযোগিতা করবেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ছেড়ে সেন্ট লুসিয়ায় গেছেন—এমন খবরের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।
কাউকে ধরে ফাঁসি দেওয়া যায় না—মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুডিশিয়াল প্রসেসটা একটু লম্বা হয়। আইনের হাত যেমন লম্বা, জুডিশিয়াল প্রসেসটাও অনেক লম্বা। সুতরাং আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং জুডিশিয়াল প্রসেসের ওপর আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ জুন এনসিবি, আবুধাবি বাংলাদেশকে জানায়, বেনজীর সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ইউএইর আইনে ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানোর কথা থাকলেও বাংলাদেশ মাত্র চার দিনের মধ্যে, ১৬ জুন কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠায়।
উল্লেখ্য, ইন্টারপোলের সঙ্গে প্রতিটি সদস্যদেশের কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ও সমন্বয়কারী সংস্থা হলো ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তাই দেশটির অভ্যন্তরীণ আইন ও পারস্পরিক সহযোগিতার নীতির ভিত্তিতে প্রক্রিয়াটি চলছে। ইউএইর চাহিদা অনুযায়ী, অতিরিক্ত নথিপত্র ৪ আগস্ট পাঠানো হয়েছে। পরে আরও আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হলে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। এ জন্য ইউএইতে একটি ল ফার্মও নিয়োগ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, নোটিশে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী বেনজীর সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছেন। তিনি বলেন, সম্ভবত গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে কুখ্যাত আইজিপি বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাত ছেড়ে গেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা সম্পর্কে তাঁরা অবগত নন। এর অর্থ হলো, বেনজীর এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতেই রয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিটি মামলা আলাদাভাবে বিবেচনার সুযোগ আছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করবে। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
গুমের মতো ঘটনা নতুন প্রজন্মের কাছে বেনজীর আহমেদরাই পরিচিত করেছেন বলেন মন্তব্য করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, বেনজীরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু ফলাফল পাওয়া যায়নি।
একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রস্তাব করে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, বেনজীরসহ অন্য পলাতক ফ্যাসিস্টদের ইস্যু সমাধান করার কাজ করবে এই সেল।
বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ইতিমধ্যে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দেশে ঢুকে পড়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়েও আওয়ামী লীগের পরিচিতরা মিটিং–মিছিল করছে। তারা সংগঠিত হচ্ছে। অনেক সময় তাদের চিহ্নিত করে পুলিশে তথ্য দিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে পুলিশ মোটেও তৎপর নয়।
বেনজীরকে গ্রেপ্তারের পর কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে কি না, কখন লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এসব জানতে চান বিরোধীদলীয় উপনেতা। বেনজীরসহ সব সন্ত্রাসীকে এ দেশের সম্পত্তি সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারদের মধ্যে বিতরণ করার প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা।
বেনজীরকে দেশে ফেরাতে সরকার সত্যিকার অর্থে চেষ্টা করছে কি না—এমন প্রশ্ন রেখে জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুবাইয়ে ছুটে গেলে বুঝতে পারতাম সরকার সত্যিকার চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে দুবাই সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে নিজের কাউকে পাঠালে কিংবা নিজে ছুটে গেলে বুঝতাম সরকার চেষ্টা করেছে।’
এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবর জানিয়ে তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা শুনে আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে, এই সংসদে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে টেবিল চাপড়িয়ে ধন্যবাদ জানালাম, সেই ধন্যবাদ উবে গেছে?’ শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের আরও যারা শীর্ষ অপরাধী আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ তাঁরা জানতে চান।
অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, মারজিয়া বেগম ও তাসমিয়া প্রধান আলোচনায় অংশ নেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মাগুরায় নবগঙ্গা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো জমজমাট নৌকাবাইচ। এসময় বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বেরইল পলিতা ইউনিয়নে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। হারিয়ে যেতে বসা এ গ্রামীণ ঐতিহ্য উপভোগ করতে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসতে থাকেন। বাঁধভাঙা ভিড় জমে নদীর ওপর নির্মিত সেতুতেও, যা একপর্যায়ে পরিণত হয় গ্যালারিতে। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন উপজেলা থেকে ছয়টি রঙিন নৌকা অংশ নেয়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বৈঠার তালে তালে মাঝিদের এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য পুরো পরিবেশকে উত্তাল করে তোলে। এক নৌকা আরেক নৌকাকে পেছনে ফেলার মুহূর্তে দুই পাড়ে থাকা দর্শকরা উল্লাস ও করতালিতে মেতে ওঠেন। নৌকাবাইচ দেখতে পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়/ছবি: জাগো নিউজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মেহেরুনন্নাহার। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মুন্সি নাসির আহমেদ, সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শওকত মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য মুন্সি জসিম উদ্দিন। আয়োজক শওকত মিয়া বলেন, ‘মূলত আমাদের শিকড় ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এবং তাদের মাদক ও সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদন দিতেই আমরা নবগঙ্গায় এই নৌকাবাইচের আয়োজন করেছি। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উচ্ছ্বাস অভিভূত করেছে। স্থানীয় দশ গ্রামের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি বছর বড় পরিসরে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন বজায় রাখার চেষ্টা করবো।’ ইউএনও মোছা. মেহেরুনন্নাহার বলেন, নৌকাবাইচ বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির গভীর অংশ। ঐতিহ্য রক্ষায় ও যুবসমাজকে দেশীয় সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতি বছর এমন আয়োজন বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/একিউএফ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মেহেদি অনুষ্ঠানের আলোকসজ্জার তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুর আয়েশা (৬০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের পূর্ব শাহনগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নুর আয়েশা ওই এলাকার মোহাম্মদ শফির স্ত্রী। আরও পড়ুন বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ছেলে, পথে প্রাণ গেলো ট্রাকচাপায় পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাশের বাড়িতে বিয়ে উপলক্ষে মেহেদি অনুষ্ঠান চলছিল। এজন্য বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা করা হয়। সন্ধ্যায় ওই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নুর আয়েশা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এমআরএএইচ/একিউএফ
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ডব্লিউএইচও ও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের তদন্তের মধ্যে তিনি বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগ করেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে জানিয়েছে। পরিচালক হিসেবে ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব নেন পুতুল। তবে তাকে ডব্লিউএইচও গত বছরের শেষ দিকে বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করলে জুলাইয়ে প্রথম তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়। গত ৩ জুলাই ডব্লিউএইচওকে দেওয়া পুতুলের আইনজীবীদের পৃথক এক চিঠি অনুযায়ী, সংস্থাটি পুতুলকে চীন সফরকালে আর্থিক জালিয়াতি এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে। তবে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। আরও পড়ুন শেখ হাসিনাসহ দণ্ডিতদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত নিয়ে যা জানালেন চিফ প্রসিকিউটর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসকে দেওয়া পুতুলের পদত্যাগপত্র অনুযায়ী, সংস্থাটি আরও অভিযোগ করেছে যে তিনি বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে নিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি জানিয়েছেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি জমিটি পান এবং তা বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় পেয়েছেন। মহাপরিচালক টেড্রোসকে উদ্দেশ করে পুতুল তার পদত্যাগপত্রে বলেন, ‘আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্যই আমাকে আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত করা হয়েছিল এবং আমি আন্তরিকভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেছি। আপনি যেহেতু আমাকে কার্যকরভাবে আমার দায়িত্ব পালন করতে বাধা দিয়ে চলেছেন, তাই ডব্লিউএইচওতে আপনার নেতৃত্বের ওপর আমার সব আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি। তাছাড়া, আমাকে বেতনবিহীন ছুটিতে রাখার আপনার সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আমার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এ বিষয়ে পুতুল কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকেও মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: রয়টার্স একিউএফ/