জাতীয়

নারীর প্রতি বৈষম্য: শিক্ষা স্বাস্থ্যে ভালো অবস্থানে, পিছিয়েছে অর্থনীতি–রাজনীতিতে

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
নারীর প্রতি বৈষম্য: শিক্ষা স্বাস্থ্যে ভালো অবস্থানে, পিছিয়েছে অর্থনীতি–রাজনীতিতে
নারীর প্রতি বৈষম্য: শিক্ষা স্বাস্থ্যে ভালো অবস্থানে, পিছিয়েছে অর্থনীতি–রাজনীতিতে

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে নারী-পুরুষের সমতার চিত্র ইতিবাচক হলেও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীর প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক সূচকে পিছিয়েছে বাংলাদেশ। নারী-পুরুষ বৈষম্য কমানোর বৈশ্বিক সূচকে এক বছরে পিছিয়েছে ৫৫ ধাপ। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৪তম। এবার ১৪৫টি দেশের মধ্যে অবস্থান হয়েছে ৭৯তম। রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে বড় পতনের পরও দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০২৬’ বা ‘বৈশ্বিক লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য প্রতিবেদন ২০২৬’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের সব তথ্য একই বছরের নয়। সূচকভেদে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতি ও শিক্ষার তথ্য মূলত ২০২৩-২৫ সালের এবং স্বাস্থ্যের তথ্য ২০২১-২৪ সালের। সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্বের হিসাব ১ জুন ২০২৬ এবং মন্ত্রিসভার হিসাব ১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। নারী সরকারপ্রধানের হিসাব নেওয়া হয়েছে ১৫ জুন ১৯৭৬ থেকে ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। এ সময়ে বিভিন্ন সরকার দায়িত্বে ছিল। এর মধ্যে বর্তমান বিএনপি সরকারের বয়স প্রায় ৭ মাস।

ডব্লিউইএফ প্রতিবছর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন—এই চার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমতার ব্যবধান মাপা হয়। একটি দেশ এই ব্যবধান কতটা কমাতে পেরেছে, সূচকটি মূলত সেটিই দেখায়; নারীর সামগ্রিক জীবনমান নয়।

এবার বাংলাদেশের সামগ্রিক স্কোর ৭১ দশমিক ২ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এক বছরে স্কোর কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। প্রতিবেদনে এটিকে বিশ্বের অন্যতম বড় পতন বলা হয়েছে। তবে ২০০৬ সালের তুলনায় বাংলাদেশের স্কোর এখনো ৮ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবেদনে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবনতির চিত্র আছে। অন্যদিকে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ কিছুটা চোখে পড়লেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদে বা ব্যবস্থাপনায় নারী দেখাই যায় না। আছে কাঠামোগত সমস্যা। এসব কারণে বাংলাদেশের স্কোর কমেছে, পেছনে চলে গেছে। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো।

এবার বাংলাদেশের সামগ্রিক স্কোর ৭১ দশমিক ২ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এক বছরে স্কোর কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। প্রতিবেদনে এটিকে বিশ্বের অন্যতম বড় পতন বলা হয়েছে। তবে ২০০৬ সালের তুলনায় বাংলাদেশের স্কোর এখনো ৮ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

বড় পতন রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে

বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের স্কোরের বড় পতন। এ ক্ষেত্রে স্কোর ৭২ দশমিক ১ থেকে কমে ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। অবস্থান তৃতীয় থেকে নেমে হয়েছে ১২তম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর গঠিত নতুন সংসদে নারীরা মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ আসন পেয়েছেন। সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশের এযাবৎকালের সর্বনিম্ন সমতার স্কোর। এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯তম।

মন্ত্রিসভায় নারীর প্রতিনিধিত্ব ১৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। তবে দুই দশকে মন্ত্রিসভায় নারী-পুরুষ সমতার স্কোর ৯ দশমিক ১ থেকে বেড়ে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।

রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বড় পতনের পরও বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলক ভালো। এর কারণ নারী সরকারপ্রধান থাকার দীর্ঘ ইতিহাস। এ সূচকে বাংলাদেশ ২০১৯ সাল থেকে পূর্ণ সমতার স্কোর ধরে রেখেছে এবং যৌথভাবে প্রথম অবস্থানে রয়েছে।

নারীর আনুমানিক বার্ষিক আয় ৪ হাজার ৬৭০ ডলার। পুরুষের আয় ১২ হাজার ৪৪০ ডলার। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের মধ্যে নারী মাত্র ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ। পেশাজীবী ও কারিগরি কর্মীদের মধ্যে নারীর অংশ ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে প্রায় তলানিতে

বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্বল ক্ষেত্র অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ। এ ক্ষেত্রে স্কোর ৪৫ দশমিক ৭ থেকে কমে ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। ১৪৫ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪২তম। গত বছর ছিল ১৪১তম।

এক বছরে আনুমানিক আয়ের সমতার স্কোর ১৫ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের সমতার স্কোর কমেছে ৫ দশমিক ৭ এবং জ্যেষ্ঠ পদে প্রতিনিধিত্বের স্কোর কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট।

নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৩৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৭৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ২০০৬ সালে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের সমতার স্কোর ছিল ৬১ দশমিক ১ শতাংশ। এবার তা কমে ৪৮ শতাংশ হয়েছে।

নারীর আনুমানিক বার্ষিক আয় ৪ হাজার ৬৭০ ডলার। পুরুষের আয় ১২ হাজার ৪৪০ ডলার। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের মধ্যে নারী মাত্র ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ। পেশাজীবী ও কারিগরি কর্মীদের মধ্যে নারীর অংশ ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

নারীদের বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক ও খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত। নারী কর্মীদের ৯৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। পুরুষের ক্ষেত্রে এ হার ৭৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। কর্মজীবী নারীদের ৫৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ খণ্ডকালীন কাজ করেন; পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘অর্থনীতিতে নারীদের জন্য সুযোগ আগের মতোই আছে বা বেড়েছে, তবে তাঁদের অংশগ্রহণ কমেছে। তৈরি পোশাক খাতে মালিকেরা সব সময় নারী শ্রমিকদের বেশি অগ্রাধিকার দেন। কারণ, তাঁরা তুলনামূলক দায়িত্বশীল, কাজে বেশি মনোযোগী এবং কর্মপরিবেশে ঝামেলা কম করেন। তাই সুযোগের কোনো ঘাটতি রয়েছে বলে আমি মনে করি না।’

নারীদের এই অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার পেছনে কিছু কারণ অনুমান করেন ফজলুল হক। তিনি বলেন, দেশে কাজের প্রধান কেন্দ্রগুলো এখনো শহরকেন্দ্রিক। বর্তমানে শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় প্রচণ্ড বেড়েছে। আগে নারীরা যেভাবে দলবদ্ধ হয়ে মেস বা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতে পারতেন, এখন সেই ব্যয় বহন করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পরিবার ছেড়ে শহরে আসার ক্ষেত্রে বাড়তি সামাজিক ঝুঁকি, শারীরিক সুরক্ষা ও মানসিক চাপ নেওয়ার প্রবণতাও আগের চেয়ে কমেছে। আরেকটি চিত্রও আছে। এখন গ্রামে কৃষি বা অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক খাতে নারীদের সম্পৃক্ততা বেড়েছে। অনেকে ঘরে বসে ছোটখাটো অর্থনৈতিক কাজ করছেন। অনানুষ্ঠানিক খাতের এই নারীরা অনেক সময় আনুষ্ঠানিক হিসাবের মধ্যে সঠিকভাবে উঠে আসে না।

নারীদের বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক ও খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত। নারী কর্মীদের ৯৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। পুরুষের ক্ষেত্রে এ হার ৭৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। কর্মজীবী নারীদের ৫৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ খণ্ডকালীন কাজ করেন; পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

শিক্ষায় সর্বোচ্চ স্কোর

শিক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। এবার এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমতার স্কোর হয়েছে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ, যা বাংলাদেশের এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। ২০০৬ সালের তুলনায় স্কোর বেড়েছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় বাংলাদেশ পূর্ণ সমতা অর্জন করেছে। তবে উচ্চশিক্ষায় ব্যবধান রয়ে গেছে। উচ্চশিক্ষায় নারীর ভর্তির হার ২০ দশমিক ৭৯ এবং পুরুষের ২৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ। নারীর সাক্ষরতার হার ৭৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৮১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

স্বাস্থ্যসূচক প্রায় অপরিবর্তিত

স্বাস্থ্য ও টিকে থাকার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৯৬ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় স্কোর অপরিবর্তিত থাকলেও অবস্থান ১২৩তম থেকে ১২০তম হয়েছে।

জন্মের সময় নারী-পুরুষের অনুপাতের সূচকে বাংলাদেশ পূর্ণ সমতার মান অর্জন করেছে। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত আয়ুতে সমতা সামান্য কমেছে। নারীর সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত আয়ু ৬২ দশমিক ৯৮ বছর এবং পুরুষের ৬৩ দশমিক ১৪ বছর।

প্রতিবেদনের প্রাসঙ্গিক সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ নারীর বাল্যবিবাহ হয়। জীবদ্দশায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হন ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতিতে সন্তান প্রসবের হার ৫৯ শতাংশ। প্রতি ১ লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যু ১১৫। পরিবার পরিকল্পনার চাহিদা পূরণ হচ্ছে না ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ১০ শতাংশ নারীর।

নারীদের জন্য বেতনসহ অভিভাবকত্বকালীন ছুটি ১১২ দিন। পুরুষদের জন্য এমন ছুটি নেই। প্রতিবেদনে নারীর বিবাহবিচ্ছেদের অধিকারকে অসম এবং প্রজননস্বাধীনতাকে সীমিত বলা হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো প্রথম বাংলাদেশ

সামগ্রিক অবস্থানে বড় পতনের পরও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ প্রথম। মালদ্বীপ ১১৯তম, নেপাল ১২০তম, ভুটান ১২১তম, শ্রীলঙ্কা ১২৯তম, ভারত ১৩১তম এবং পাকিস্তান ১৪৩তম।

আটটি অঞ্চলের মধ্যে এর অবস্থান সপ্তম। বর্তমান গতিতে এ অঞ্চলের নারী-পুরুষ ব্যবধান পুরোপুরি দূর হতে আরও ১৪৯ বছর লাগবে বলে ডব্লিউইএফের পূর্বাভাস।

সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটি নারী-পুরুষের ব্যবধানের ৯৩ শতাংশ দূর করেছে। এরপর রয়েছে ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, নামিবিয়া ও যুক্তরাজ্য। তাদের স্কোর যথাক্রমে ৮৭ দশমিক ২, ৮৫ দশমিক ৭, ৮৪ দশমিক ৫ ও ৮৪ দশমিক ২ শতাংশ।

শীর্ষে আইসল্যান্ড, সবার নিচে চাদ

সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটি নারী-পুরুষের ব্যবধানের ৯৩ শতাংশ দূর করেছে। এরপর রয়েছে ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, নামিবিয়া ও যুক্তরাজ্য। তাদের স্কোর যথাক্রমে ৮৭ দশমিক ২, ৮৫ দশমিক ৭, ৮৪ দশমিক ৫ ও ৮৪ দশমিক ২ শতাংশ।

সবচেয়ে নিচে রয়েছে চাদ। দেশটি নারী-পুরুষের ব্যবধানের ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ দূর করতে পেরেছে। এর ঠিক ওপরে রয়েছে ইরান ও পাকিস্তান। তাদের স্কোর যথাক্রমে ৫৮ দশমিক ৫ ও ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

সবশেষে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে নারী-পুরুষের ব্যবধান এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম। এ ব্যবধানের ৬৯ দশমিক ২ শতাংশ দূর হয়েছে। তবে বর্তমান গতিতে পুরো সমতা অর্জন করতে আরও ১২০ বছর লাগবে। অর্থাৎ এখন বেঁচে থাকা নারীরা তাঁদের জীবদ্দশায় পূর্ণ নারী-পুরুষ সমতা দেখে যেতে পারবেন না। এমনকি তাঁদের নাতি-নাতনি বা পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
হাঁচির দোয়া পাঠে নবীজির শেখানো ৭ আদব
হাঁচির দোয়া পাঠে নবীজির শেখানো ৭ আদব

হাঁচি মানবদেহের একটি স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হাঁচির মাধ্যমে শ্বাসনালির ক্ষতিকর ধূলিকণা ও জীবাণু দ্রুত বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়, যা মানবদেহের জন্য এক বিরাট স্বস্তির বিষয়।হাঁচি অনিচ্ছাকৃতভাবে এলেও তার প্রকাশভঙ্গিকে শালীন ও নিয়ন্ত্রিত রাখা ইসলামের সুন্নত। হাঁচির সময় মুখ খোলা রাখলে জীবাণু ও লালার কণা অন্যের গায়ে ছিটকে পড়তে পারে এবং বিকট শব্দ আশপাশের মানুষের অস্বস্তির কারণ হতে পারে।নবীজি (সা.) যখন হাঁচি দিতেন, তখন তিনি নিজের হাত অথবা পরিধেয় কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে নিতেন এবং হাঁচির শব্দ নিচু ও সংযত রাখতেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৭৪৫)ইসলামে হাঁচিকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; বিপরীতে অলসতাপ্রসূত হাই তোলাকে শয়তানের প্রভাব বলে সতর্ক করা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২৩)হাঁচির পরে নবীজি দোয়া পাঠ করতেন এবং কেউ দোয়া বললে তার উত্তরেও তিনি বলতেন। সাহাবিদের এই দোয়া পড়ার কয়েকটি আদব তিনি শিখিয়েছেন। আলোচনা করা হলো।১. আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশহাঁচি আসার প্রক্রিয়াটি মানুষের ইচ্ছাধীন নয়, কিন্তু হাঁচির পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা সম্পূর্ণ মানুষের ইচ্ছাধীন আমল।রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয়, সে যেন বলে, আলহামদুলিল্লাহ (সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২৪)হাঁচি দেওয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র যে ক্ষতিকর চাপমুক্ত হয় এবং ফুসফুস স্বস্তি পায়, মুমিন সেই পার্থিব নিয়ামতের তাৎক্ষণিক শুকরিয়াস্বরূপ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ উচ্চারণ করে নিজের এই অজান্তিক ক্রিয়াটিকেও এক অনন্য ইবাদতে রূপান্তর করে।২. উপস্থিত জবাব বলাহাঁচিদাতা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে তা শুনে উপস্থিত ভাই বা সঙ্গীর ওপর তার জবাব দেওয়া ওয়াজিব বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তার ভাই বা সঙ্গী যেন তার জবাবে বলে, ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২৪)ইসলামে এই জবাবকে কোনো সাধারণ সামাজিক সৌজন্য হিসেবে রাখা হয়নি; বরং একে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে।রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট হক বা অধিকার রয়েছে; তার মধ্যে একটি হলো, হাঁচির জবাব দেওয়া (তাশমিতুল আতিস)।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২৪০)নবীজি (সা.) একজনের হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললেন, কিন্তু অপরজনের কোনো জবাব দিলেন না। বাদ পড়া ব্যক্তি জানতে চাইলেন, কেন তার হাঁচির জবাব দিলেন না।দোয়া কি ভাগ্য পরিবর্তন করে৩. উত্তরে কল্যাণের দোয়া করাইসলামি শিষ্টাচারের সৌন্দর্য হলো, দোয়ার জবাবেও আবার কল্যাণের প্রত্যুত্তর দিতে হয়। শ্রোতা যখন হাঁচিদাতাকে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলে রহমতের দোয়া করবে, তখন হাঁচিদাতা এর জবাবে বলবে, ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম’। (অর্থ: ‘আল্লাহ তোমাদের হেদায়েত দান করুন এবং তোমাদের সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দিন।’ সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২৪)এভাবে হাঁচি থেকে শুরু হওয়া একটি জৈবিক প্রক্রিয়া পারস্পরিক তিনটি দোয়ার এক অনন্য শৃঙ্খলে রূপ নেয়—প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা (হামদ), এরপর রহমতের দোয়া এবং শেষে হেদায়েত ও সংশোধন কামনার দোয়া।৪. শুধু শুধু জবাব না দেওয়াহাঁচি শুনলেই অন্ধভাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা শ্রোতার দায়িত্ব নয়; বরং হাঁচিদাতা যদি মুখে আল্লাহর প্রশংসা উচ্চারণ করে, তবেই শুধু তার জবাব দিতে হবে।একবার রাসুলের মজলিসে উপস্থিত দুজনের একজন হাঁচি দিলেন, অতঃপর অপরজনও হাঁচি দিলেন। নবীজি (সা.) একজনের হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললেন, কিন্তু অপরজনের কোনো জবাব দিলেন না।বাদ পড়া ব্যক্তি জানতে চাইলেন, কেন তার হাঁচির জবাব দিলেন না। তখন নবীজি বললেন, ‘এই ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলেছে, কিন্তু তুমি বলোনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২১)অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজেই আল্লাহর দেওয়া স্বস্তির শুকরিয়া আদায় করতে গাফেল থাকে, সে অন্যের রহমতের দোয়ারও হকদার হয় না।৫. ক্রমাগত হাঁচি হলেকারও যদি ঠান্ডা বা অ্যালার্জির কারণে উপর্যুপরি হাঁচি আসতে থাকে, তবে প্রতিবারই কি জবাব দেওয়া আবশ্যক? হাদিস শরিফে এ বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সীমারেখা দেওয়া হয়েছে।নবীজি বললেন, ‘হাঁচিদাতাকে তিনবার পর্যন্ত জবাব দেওয়া হবে। যদি সে এর চেয়ে বেশি হাঁচি দেয়, তবে তা সাধারণ সর্দি; সুতরাং এরপর তুমি চাইলে জবাব দিতে পারো, চাইলে বিরতও থাকতে পারো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৭৪৪)তিনবারের পর নিয়মিত জবাব দেওয়া আবশ্যক নয়; বরং তাকে অসুস্থ বিবেচনা করে তার আরোগ্যের দোয়া করা যেতে পারে।আল্লাহর সঙ্গে ১০ আদব: মুমিনের সুন্দর ইবাদতের রহস্যঅর্থাৎ তিনবারের পর নিয়মিত জবাব দেওয়া আবশ্যক নয়; বরং তাকে অসুস্থ বিবেচনা করে তার আরোগ্যের দোয়া করা যেতে পারে।৬. অমুসলিম ব্যক্তি হাঁচি দিলেইসলাম অমুসলিমদের সঙ্গে মানবিক সদাচরণ ও তাদের হেদায়েত কামনার এক অনুপম শিক্ষা দেয়। মদিনার ইহুদিরা নবীজির সামনে এসে ইচ্ছা করে হাঁচি দিত, যেন তিনি তাদের জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলেন। কিন্তু নবীজি তাদের জবাবে বলতেন, ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম’ (আল্লাহ তোমাদের সুপথ দেখান এবং তোমাদের অন্তরের অবস্থা শুধরে দিন)। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৩৮)এই হাদিস প্রমাণ করে যে অমুসলিমদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ নয়; বরং তাদের আন্তরিকভাবে হেদায়েতের পথে ডাকার দোয়াই হলো ইসলামের শিক্ষা।৭. নামাজ অবস্থায় হাঁচি দিলেনামাজের বাইরের আদব এবং নামাজের ভেতরের বিধান সম্পূর্ণ ভিন্ন। নামাজ হলো রবের সঙ্গে একান্তে কথোপকথন। তাই নামাজরত অবস্থায় কোনো মুসল্লি অন্য কোনো হাঁচিদাতার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলতে পারবে না।হাদিসে এসেছে, সাহাবি মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস–সুলামি (রা.) একবার নামাজের মধ্যে এক ব্যক্তির হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলে ফেলেছিলেন। নামাজ শেষে নবীজি অত্যন্ত স্নেহশীল ভাষায় তাঁকে বুঝিয়ে বললেন, ‘এই নামাজে মানুষের স্বাভাবিক কোনো কথাবার্তা বলা বৈধ নয়; নামাজ তো শুধু তাসবিহ, তাকবির এবং কোরআন পাঠ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৩৭)ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, নামাজের ভেতর কোনো মুসল্লির হাঁচির জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বললে নামাজ ভেঙে যাবে। (ইবনে আবিদিন শামি, রদ্দুল মুহতার আলাদ–দুররিল মুখতার, ২/৩৭৮, দারু আলামিল কুতুব, রিয়াদ, ১৪২৩ হি.)তবে নামাজরত অবস্থায় নিজের হাঁচি এলে স্বাভাবিকভাবে হাত বা কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে নেবে। মুখ দিয়ে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দ বের হয়েও যায়, তবে শুধু এর কারণে নামাজ নষ্ট হবে না।নাহিদা সুলতানা: আলেমা ও প্রাবন্ধিকnahidasultana753375@gmail.comখাওয়ার আদব ও দোয়া

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
চুপিসারে জীববিদ্যার গবেষণাগার চালু করল অ্যানথ্রপিক

চুপিসারে জীববিদ্যার গবেষণাগার চালু করল অ্যানথ্রপিক

প্রেক্ষাগৃহে ৭৫ দিন পার, আজ থেকে ঘরে বসেই দেখা যাবে জয়ার সিনেমা ///‘এমন একটি কাজ করতে পেরেছি, যেটা মানুষের দৈনন্দিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে’

প্রেক্ষাগৃহে ৭৫ দিন পার, আজ থেকে ঘরে বসেই দেখা যাবে জয়ার সিনেমা ///‘এমন একটি কাজ করতে পেরেছি, যেটা মানুষের দৈনন্দিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে’

দিনু বিল্লাহকে স্মরণ: আলোচনায় গণসংগীতের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ

দিনু বিল্লাহকে স্মরণ: আলোচনায় গণসংগীতের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ

সার্ককে সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ
সার্ককে সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আবার সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।শুক্রবার ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতিকালে এ অঞ্চল ও এর জনগণের যৌথ কল্যাণে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে দেশটির সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিকালে বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।এ সময় মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।সংক্ষিপ্ত আলাপকালে বাংলাদেশের মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী ভুটানের ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ (জিএমসি) উন্নয়নে বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধা দক্ষ জনশক্তি জোগান দিয়ে অবদান রাখার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে গড়ে ওঠা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তাঁরা।বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে জার্মানির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
সৌদি-হুতি সংঘাত বাড়ছে, জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি

সৌদি-হুতি সংঘাত বাড়ছে, জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি

রাতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার কথা জানিয়েছিলেন মাকে, সকালে খাটের নিচে মিলল লাশ

রাতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার কথা জানিয়েছিলেন মাকে, সকালে খাটের নিচে মিলল লাশ

সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব, নতুন গন্তব্য সেমিকন্ডাক্টর শিল্প
সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব, নতুন গন্তব্য সেমিকন্ডাক্টর শিল্প

এআইয়ের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বদলে যাচ্ছে সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের চাকরির বাজারও। যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের চাকরির অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ–শিল্পের উপযোগী করে গড়ে তুলতে নতুন শিক্ষাক্রম ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করছে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে চিপ উৎপাদনের জন্য একের পর এক নতুন কারখানা তৈরি হলেও প্রয়োজনীয় দক্ষ প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চিপ–শিল্পে নতুন ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিতে এ উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট মাইকেল ক্রো বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ইন্টেলের জন্য সবচেয়ে বেশি বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক তৈরি করি আমরা। এখন টিএসএমসির জন্যও একই অবস্থানে যেতে চাই।’ তবে দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে বেতন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেমিফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে চিপ–শিল্পের কর্মীদের বার্ষিক বেতন সাধারণত ১ লাখ ২৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৮৭ হাজার ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। উচ্চ পদে বেতন ২ লাখ ৩৮ হাজার ডলারের বেশি হয়। দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেশি থাকায় দক্ষিণ কোরিয়ায় চিপ–শিল্পের কর্মীদের বেতন ও বোনাসও বেড়েছে। সেখানে মাইক্রন, স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের কর্মীদের ধর্মঘটের হুমকির মধ্যে বোনাসের পরিমাণ ৫ লাখ ডলারের বেশি হয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দিনে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়।ম্যাককিনসি ও সেমিফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ১ লাখ ২৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার কর্মীর ঘাটতি হতে পারে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় চিপের চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। ফলে নতুন কারখানার পাশাপাশি এসব কারখানা পরিচালনার জন্য দক্ষ কর্মী তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টেক্সাসের অস্টিনে স্যামসাংয়ের সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জন টেলর বলেন, ‘আমি উদ্বিগ্ন। কারণ, আমাদের কর্মী তৈরির পাইপলাইনে পর্যাপ্ত কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন মানুষ নেই।’কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন ব্যবস্থা পরিচালনায় উন্নত মেমোরি ও লজিক চিপের প্রয়োজন হয়। সেই চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়াতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) ও ইন্টেল এরই মধ্যে অ্যারিজোনায় নতুন কারখানায় উন্নত প্রযুক্তির লজিক চিপ উৎপাদন করছে। স্যামসাংও যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত লজিক চিপ উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। টেক্সাসের টেলরে নির্মাণাধীন দুটি কারখানার প্রথমটিতে চলতি বছরের শেষ দিকে উৎপাদন শুরুর কথা রয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন গুরুতর অসুস্থ

শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন গুরুতর অসুস্থ

মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, বিকল্প পরিবহন উপেক্ষিত: আইপিডি

মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, বিকল্প পরিবহন উপেক্ষিত: আইপিডি

বলিভিয়ার জঙ্গলে নতুন প্রজাতির বন্য বিড়াল, জীবিত সদস্য একটিই

বলিভিয়ার জঙ্গলে নতুন প্রজাতির বন্য বিড়াল, জীবিত সদস্য একটিই

0 Comments