কিছু খাদ্যপণ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কতামূলক লেবেল ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। এ নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একই ব্র্যান্ডের তুলনামূলক পুষ্টিকর সংস্করণ বিশ্বের অন্য বাজারে বিক্রি হলেও ভারত কীভাবে সস্তা প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতে পারিবারিক আয় বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক কম। ফলে নেসলে মালিকানাধীন ম্যাগি ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং কোকাকোলা কোম্পানির থামস আপের মতো সস্তা খাবারের বড় ভোক্তা ভারতীয়রা। এর ফলে বড় খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিশাল একটি বাজার পেয়েছে। একই সঙ্গে অন্য অনেক দেশে তারা যেসব খাদ্যমান অনুসরণ করে, ভারতে সেগুলো প্রয়োগের চাপও তুলনামূলক কম ছিল। তবে পরিস্থিতি এখন বদলাতে শুরু করেছে।
ভারতের খাদ্যনিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, কোনো খাদ্যপণ্যে সরকারের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি যোগ করা চিনি, লবণ বা সম্পৃক্ত চর্বি থাকলে প্যাকেটে আরও কঠোর লাল সতর্কতামূলক লেবেল চালু করা হতে পারে। এর আগে ধাপে ধাপে এই লেবেল চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা প্রশ্ন তোলার পর এফএসএসএআই এই অবস্থান জানিয়েছে।
ভারতে অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। তার কারণ বিশ্বে মোট ডায়াবেটিস রোগীর প্রায় এক-চতুর্থাংশই ভারতে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এর জন্য প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহারকেও আংশিকভাবে দায়ী করেছেন। ডেনমার্কের ওষুধ কোম্পানি নোভো নরডিস্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ১০ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আর প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১৩ কোটি ৬০ লাখ।
দ্রুত বাড়ছে বাজার
ভারতে প্যাকেটজাত খাবারের বাজার দ্রুত বড় হচ্ছে। গত বছর দেশটিতে প্যাকেটজাত খাবারের বাজার ছিল ১২৯ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। চলতি বছর সেটি বেড়ে ১৩৭ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইএমএআরসি গ্রুপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৪ সালে এই বাজার ২৩৮ দশমিক ৮৩ বিলয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ভারতের পরিবারগুলো ও রাস্তার ধারের দোকানগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ৬০০ কোটি বার ম্যাগির দুই মিনিটে তৈরি করা যায় এমন মসলাযুক্ত নুডলস খাওয়া হয়। সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য প্রতিষ্ঠান নেসলে এই নুডলস তৈরি করে।
ভারতে প্রথম ইনস্ট্যান্ট নুডলসের ব্র্যান্ড হিসেবে ম্যাগি বাজারে আসে ১৯৮৩ সালে। তখন সদ্য কর্মজীবনে প্রবেশ করা মা ও শিশুদের লক্ষ্য করে পণ্যটির প্রচার চালানো হয়। বিজ্ঞাপনে স্কুল বা খেলাধুলা শেষে শিশুরা ম্যাগি নুডলস খাচ্ছে—এমন চিত্র তুলে ধরা হতো। বিজ্ঞাপনের বার্তা ছিল, ‘মা, আমার ক্ষুধা লেগেছে।’

ম্যাগির সাফল্য ভারতে নেসলের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। বর্তমানে ভারত নেসলের সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা অঞ্চল। ভারতে ম্যাগির সব ধরনের নুডলসেই পাম তেল ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে বিক্রি হওয়া ম্যাগির অনেক সংস্করণে তুলনামূলক বেশি দামের সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করা হয়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হওয়া কিটক্যাটের তুলনায় ভারতের কিটক্যাটে কোকোর পরিমাণ কম।
ইউনিলিভারের ভারতের সাবেক বিপণন কর্মকর্তা শশাঙ্ক মেহতা বলেন, ‘এটি জাতীয় গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—কেন ভারতকে কম দেওয়া হবে? প্রতিষ্ঠানগুলো কেন আমার হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে যে আমি ভালো উপাদান কিনতে পারব না?’
উন্নত মানের উপাদান ব্যবহার করলে খরচও বাড়ে। এতে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে, যা দাম নিয়ে সচেতন বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে—নেসলের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কথা বলেন।
নেসলে এক বিবৃতিতে বলেছে, ভোক্তাদের প্রত্যাশা, স্থানীয় স্বাদের পছন্দ, খাদ্যসংস্কৃতি, উপাদানের প্রাপ্যতা ও আবহাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের পণ্যের উপাদান ও রেসিপি নির্ধারণ করা হয়।
নেসলে বলেছে, রেসিপিতে ভিন্নতা থাকলেও পণ্যের মানে তার প্রভাব পড়ে না। বিশ্বজুড়ে কিটক্যাটের ১০টির বেশি আঞ্চলিক রেসিপি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, তারা ভারতের সব খাদ্যনিরাপত্তা আইন মেনে চলে এবং প্যাকেটে উপাদানগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে
চিনি, লবণ ও চর্বির মাত্রা বেশি হলে তা বোঝাতে খাবারের প্যাকেটের সামনের অংশে সতর্কতামূলক লেবেল দেওয়ার বিষয়টি ভারতে কয়েক বছর ধরেই আলোচিত হচ্ছে। চিলি ও মেক্সিকোর মতো দেশে এমন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরোধিতার কারণে ভারতে বিষয়টি এগোয়নি। বিশেষ করে অনেক প্রচলিত ভারতীয় খাবারে চিনি বা চর্বির পরিমাণ বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
চিলিতে ২০১৬ সালে খাদ্যপণ্যের লেবেল দেওয়ার আইন চালু হয়। এতে কোনো পণ্যে নির্দিষ্ট উপাদানের মাত্রা বেশি হলে প্যাকেটের সামনে আলাদা কালো অষ্টভুজ চিহ্ন দেওয়া হয়। গবেষকদের মতে, এই আইন চালুর পর দেশটিতে চিনিযুক্ত পানীয়ের বিক্রি ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে যায়।
অল ইন্ডিয়া ফুড প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, প্রস্তাবিত লেবেল ব্যবস্থা চালু হলে ভারতে প্যাকেটজাত খাবারের ৮০ শতাংশেই অতিরিক্ত চর্বি, চিনি বা লবণ রয়েছে বলে সতর্কতামূলক চিহ্ন দিতে হতে পারে। যদিও স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাম্প্রতিক প্রচারের কারণে ভারতে আরও কঠোর লেবেল ব্যবস্থার দাবি জোরালো হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই প্রস্তাব এসেছে। এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খাদ্য ও পানীয়ের প্যাকেটের সামনে সতর্কতামূলক লেবেল দেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল কোকাকোলা এবং নেসলে ও পেপসিকোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন সংগঠন। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর তদবিরের মুখে মার্চে ভারত সরকার এ বিষয়ে পিছিয়ে যায় বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।
ব্র্যান্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি
ভারতে পশ্চিমা প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে প্রায় এক শতাব্দী আগে। ১৯১২ সালে নেসলে তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশ ভারতে চিনিযুক্ত ঘন দুধ বিক্রি শুরু করে। তখন দেশটির স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বড় অংশই ছিল অত্যন্ত দরিদ্র।
ইউনিলিভার ১৯৩৭ সালে ভারতে ‘ডালডা’ বিক্রি শুরু করে। এটি ছিল হাইড্রোজেনেটেড উদ্ভিজ্জ তেলের তৈরি একটি পণ্য। দামি ঐতিহ্যবাহী ঘির সস্তা বিকল্প হিসেবে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। নিম্ন আয়ের পরিবারের রান্নাঘর, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানেও এটির ব্যবহার শুরু হয়। দাম কম রাখতে বিদেশি কোম্পানিগুলো দ্রুত স্থানীয়ভাবে পণ্য উৎপাদনে যায়।
মন্ডেলেজের ভারতীয় ইউনিটের সাবেক কর্মকর্তা পারুল শর্মা বলেন, ‘ভারতে অনেক পণ্যের রেসিপি কয়েক দশক আগে এমন ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল, যাঁরা দাম নিয়ে খুবই সচেতন। সেই রেসিপিগুলোই পরবর্তী সময়ে চালু রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় ভোক্তারা এসব ব্র্যান্ড নিয়ে প্রশ্নই তোলেননি।’
কোকাকোলা কোম্পানির থামস আপও স্থানীয় স্বাদের সঙ্গে মানিয়ে কয়েক দশকে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ভারতে থামস আপের বার্ষিক বিক্রি ১০০ কোটি ডলারের বেশি। ভারতীয় প্রবাসীদের জন্য বিদেশেও এটি রপ্তানি করা হয়।
থামস আপ দেখতে পেপসি ও কোকাকোলার মতো হলেও এর স্বাদ আলাদা। ১৯৯৩ সালে প্রায় ৬ কোটি ডলারে কোকাকোলা ব্র্যান্ডটি কিনে নেয়। তখন ধীরে ধীরে থামস আপ বন্ধ করে নিজেদের প্রধান কোমল পানীয় বাজারজাত করার পরিকল্পনা ছিল কোকাকোলার। তবে ভারতীয় ক্রেতারা থামস আপের স্বাদের প্রতি এতটাই অনুগত ছিলেন যে কোকাকোলা শেষ পর্যন্ত ব্র্যান্ডটি চালু রাখে। কোকাকোলার নিজস্ব কোমল পানীয়ও ভারতে সাংস্কৃতিকভাবে জনপ্রিয়। রাস্তার পাশের দোকানে মসলা দিয়ে ‘মসালা কোক’ হিসেবেও এটি বিক্রি হয়।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কোকাকোলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।
ইউনিলিভারের এক মুখপাত্র বলেন, গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিভিন্ন পণ্যে চিনি ও লবণের পরিমাণ কমাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের প্রতি সমর্থনের অংশ হিসেবেই এটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কঠোর বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে আমাদের পুষ্টি উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার রয়েছে।’
মন্ডেলেজের সাবেক কর্মকর্তা পারুল শর্মার মতে, স্বাদের সঙ্গে ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের অভ্যস্ততা বড় কোম্পানিগুলোর পণ্যের রেসিপি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা। তিনি বলেন, ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের আনুগত্য হারানোর ঝুঁকি না নিয়ে এক রাতের মধ্যে কোনো পণ্যের রেসিপি বদলে ফেলা যায় না।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ব্রিকস নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’ শীর্ষক ৪৫ পৃষ্ঠার যৌথ ঘোষণাপত্র গ্রহণ করেছেন। সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘোষণাপত্র অনুমোদনের কথা জানান।ঘোষণাপত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘কাঠামোগত পরিবর্তন’সহ বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি একপক্ষীয়ভাবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নাবিক ও বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।ব্রিকসের সদস্য ও নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘ এবং নিরাপত্তা পরিষদে ব্রাজিল ও ভারতের আরও বড় ভূমিকা পালনের আকাঙ্ক্ষার প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিশেষভাবে আফ্রিকা, এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৃহত্তর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যকার বাণিজ্য মার্কিন ডলারের বদলে নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনা করা উচিত।প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘এটি স্পষ্ট যে পরিবর্তিত বিশ্বকে পুরোনো আমলের প্রতিষ্ঠান দিয়ে চালানো সম্ভব নয়; প্রতিনিধিত্ব, সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং নীতিনির্ধারণে সংস্কার এখন অপরিহার্য। আমরা এই বিষয়েও জোর দিয়েছি যে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি এবং তা পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়নে বৈশ্বিক দক্ষিণের (গ্লোবাল সাউথ) সমঅংশগ্রহণ থাকতে হবে।’মোদি বলেন, ‘গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণা আমাদের যৌথ অঙ্গীকারকে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এখন এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তব ফলাফলে রূপান্তর করা আমাদের দায়িত্ব।’যৌথ ঘোষণাপত্রে একমত ব্রিকসঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘আমরা লক্ষ করছি যে বহুপক্ষীয় বাণিজ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে এক সংকটপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঢালাওভাবে শুল্ক ও শুল্কবহির্ভূত বাধা বাড়ানো কিংবা পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে সংরক্ষণবাদের মতো ডব্লিউটিওর নিয়মের পরিপন্থী বাণিজ্য-প্রতিবন্ধকতার প্রসার ঘটছে।’ আরও বলা হয়, এগুলো বৈশ্বিক বাণিজ্য আরও হ্রাস করার, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি করার ঝুঁকি বাড়ায়; যা বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আরও তীব্র করতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে সরকারের চলমান ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর ধারাবাহিকতায় এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সচেতনতামূলক বিলবোর্ড স্থাপন ও লিফলেট বিতরণ করা হবে। এছাড়া ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শাখাগুলোর উদ্যোগে স্ব-স্ব হল প্রশাসনের সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। পাশাপাশি হলগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মলিক ওয়াসি উদ্দিন তামীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। আরটি/এমআইএইচএস
পশ্চিমঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে শুরু করে আগামী ৭ অক্টোবর তাঁর কর্মজীবনের ২৫ বছর পূর্তি পর্যন্ত মোট ২০ দিনজুড়ে এই ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি পালন করা হবে। অতীতে এ ধরনের অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গে হয়নি।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৫তম জন্মদিন আর প্রশাসক হিসেবে তাঁর ২৫ বছরের কর্মজীবন উদ্যাপনে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে নানা আয়োজনের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষস্থানীয় কর্তা, মন্ত্রী ও বিধায়কদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বহুমুখী আয়োজনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। মোট ২০ দিনজুড়ে চলবে এ আয়োজন।তবে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এতে শামিল করার সমালোচনা হচ্ছে। আর পূজার সময় এ আয়োজন করায় খুচরো দোকানের বিক্রি কমবে বলে মনে করছেন দোকানিরা।রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে শুরু করে আগামী ৭ অক্টোবর তাঁর কর্মজীবনের ২৫ বছর পূর্তি পর্যন্ত মোট ২০ দিনজুড়ে এই ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি পালন করা হবে। অতীতে এ ধরনের অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গে হয়নি।রাজ্য সচিবালয় নবান্ন থেকে জারি করা সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর সূর্যাস্তের পর রাজ্যজুড়ে ‘আশীর্বাদো কি দিয়া’ বা আশীর্বাদের প্রদীপ জ্বালানোর মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা হবে। পরিকল্পনার আওতায় থাকা পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই আলো জ্বালানোর বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিধানসভায় কমপক্ষে ২৫ হাজার প্রদীপ জ্বালানো হবে। অর্থাৎ রাজ্যজুড়ে ওই সন্ধ্যায় ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের উদ্যোগে ৭০ লাখের বেশি প্রদীপ জ্বলে উঠবে। নবান্ন, রাজ্য সচিবালয়, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ও কালীঘাট মন্দিরের মতো ঐতিহ্যপূর্ণ স্থানগুলো প্রদীপের আলোয় সাজিয়ে তোলা হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে।স্কুলশিক্ষার্থীদের অংশ নিতে হবে অনুষ্ঠানেপ্রধান অনুষ্ঠানটি গঙ্গার তীরে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞে রাজ্যের ৮০ হাজারের বেশি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে যুক্ত করা হয়েছে। বিধানসভাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তা সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের কাছে হস্তান্তরের জন্য জেলা স্কুল পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী পড়ুয়াদের মাথাপিছু একটি প্রদীপ দেওয়া হবে। ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ঠিক সাতটায় নিজের বাড়িতে সপরিবার সেই প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তারা ধন্যবাদ জানাবে এবং ২০৪৭ সালে বিকশিত ভারতের জন্য সংকল্প গ্রহণ করবে। প্রদীপ কেনার জন্য মাথাপিছু দুই টাকা বরাদ্দ করেছে প্রশাসন। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, যেসব অভিভাবক সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদেরও এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞে রাজ্যের ৮০ হাজারের বেশি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে যুক্ত করা হয়েছে। বিধানসভাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তা সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের কাছে হস্তান্তরের জন্য জেলা স্কুল পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রশাসনিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে পশ্চিমবঙ্গের প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমায় রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিবিধ সামাজিক ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতা আয়োজিত হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য ‘স্বপ্নের ভারত’ ভাবনার ভিত্তিতে অঙ্কন, কুইজ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ‘নমো সেবা নাটক’ মঞ্চস্থ করার নির্দেশও দিয়েছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। জানা গেছে, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা’ কর্মসূচির অধীন পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২৫ প্রতিনিধিকে উত্তর প্রদেশে পাঠানো হবে এবং উত্তর প্রদেশের সমসংখ্যক শিক্ষার্থী এ রাজ্যে এসে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কনটেন্ট সৃষ্টি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরন্তর প্রচার করবে।দিল্লিতে মোদির আপ্যায়নে পুতিন-সি, তবে ব্রিকসে বড় হয়ে উঠবে ট্রাম্পের ছায়াআরও নানা পরিকল্পনা সরকারেরক্রীড়া দপ্তরের অধীন ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, ‘সেবা সেতু অভিযান’, ‘আলপনা প্রতিযোগিতা’ এবং আইআইটি খড়গপুর বা আইআইএম কলকাতার মতো বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ‘রাষ্ট্রীয় ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। গোটা প্রকল্পে যুবসমাজকে যুক্ত করতে মোটরবাইক ও সাইকেল মিছিল, স্বাস্থ্য শিবিরের আওতায় সাফাই অভিযান ও রক্তদান কর্মসূচি রূপায়ণ করা হবে। উৎসবের উৎকর্ষ বাড়াতে প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে ১০৮ মিটারজুড়ে বিশাল ‘ভারত মণ্ডল’ রঙ্গোলি বা রঙিন আলপনা আঁকার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।স্বপন মণ্ডল, বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদকপ্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদ্যাপনে সাধারণ স্কুলপড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকদের এক রাজনৈতিক বা সামাজিক সমীক্ষায় শামিল করা হচ্ছে। সরকারি সুবিধার উপভোক্তাদের এভাবে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করা অনুচিত।এই সুবিশাল কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাপনের যে ব্যাপক হারে মানোন্নয়ন হয়েছে, সেই বার্তা প্রচার করা। সেই উদ্দেশ্যে কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি যেমন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, জল জীবন মিশন অথবা পিএম কিষান সম্মাননিধির মতো প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবারগুলোকে ‘নমো সেবা গাথা’ (মোদি সেবা কাব্য) এবং ‘কাহানি বদলাও কি’ (পরিবর্তনের কাহিনি) শিরোনামে বিশেষ প্রচার করা হবে।এর ফলে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবাদে তৃণমূল স্তরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের চিত্র প্রকাশ করা সম্ভব হবে। এই সমগ্র আয়োজনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মোট ১৩টি বিশেষ উদ্যোগ বা প্রকল্প, যার অন্যতম ‘জনসেবা মহাকুম্ভ’। শুধু তা–ই নয়, প্রতিটি কর্মসূচির আলোকচিত্র এবং ভিডিও তৈরি করে নির্দিষ্ট প্রতিবেদন জমা দেওয়াও আবশ্যক করা হয়েছে। সমগ্র প্রকল্পটি সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর।গোটা প্রকল্পে যুবসমাজকে যুক্ত করতে মোটরবাইক ও সাইকেল মিছিল, স্বাস্থ্য শিবিরের আওতায় সাফাই অভিযান ও রক্তদান কর্মসূচি রূপায়ণ করা হবে। উৎসবের উৎকর্ষ বাড়াতে প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে ১০৮ মিটারজুড়ে বিশাল ‘ভারত মণ্ডল’ রঙ্গোলি বা রঙিন আলপনা আঁকার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ৭ অক্টোবর এই মহা-আয়োজনের অন্তিম দিনে রাজ্যের প্রতিটি জেলা সদরে বড় মাপের সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে এবং সব জেলার সাধারণ মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, যা ইন্টারনেট মাধ্যমের সাহায্যে প্রচারিত হবে। এর পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে একটি কেন্দ্রীয় সমাপ্তি অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা থাকছে।তবে নন্দীগ্রাম বা রেজিনগরের মতো বিধানসভা এলাকা যেখানে উপনির্বাচন হতে চলেছে, সেখানে নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধি মেনে কোনো সরকারি কর্মসূচি হবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, উল্লিখিত অঞ্চলের জনসাধারণ চাইলে ব্যক্তিগত বা সামাজিক স্তরে এই মহা-উদ্যাপনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।বিক্ষিপ্ত সমালোচনাও হচ্ছেরাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই বিশাল উদ্যোগকে ঘিরে ইতিবাচক উদ্দীপনার পাশাপাশি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর একাংশের তরফে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ও কর্মজীবনের রজতজয়ন্তী উদ্যাপনের মাধ্যমে সাধারণ স্কুলপড়ুয়া ও অভিভাবকদের এক রাজনৈতিক বা সামাজিক সমীক্ষায় শামিল করা হচ্ছে। সরকারি সুবিধার উপভোক্তাদের এভাবে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করাকে অনুচিত বলে দাবি করে তিনি এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন।রাজ্যজুড়ে ওই সন্ধ্যায় ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের উদ্যোগে ৭০ লাখের বেশি প্রদীপ জ্বলে উঠবে। নবান্ন, রাজ্য সচিবালয়, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং কালীঘাট মন্দিরের মতো ঐতিহ্যপূর্ণ স্থানগুলো প্রদীপের আলোয় সাজিয়ে তোলা হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে।পাশাপাশি পুজোর মুখে এর ফলে খুচরো দোকানের বিক্রি কমবে বলে মনে করছেন দোকানিরা। ‘ইতিমধ্যেই মানুষ কেনাকাটা অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। এর প্রধান কারণ নানা স্তরে বাজারের ওপর আঘাত এসেছে। বেআইনি দোকান বলে একাধিক রেস্তোরাঁ, হোটেল ইত্যাদি বন্ধ করা হয়েছে, হকার তুলে দিয়েছে এবং পাশাপাশি বড় বাড়ি, (মূলত ফ্ল্যাট বাড়ি) বানানোর অনুমতি দিচ্ছে না সরকার। এর ফলে মানুষের হাতে যে বাড়তি অর্থ টাকা থাকে, তা পুজোর আগে নেই। তার ওপর সরকার এখন ঝাঁপিয়ে পড়ল প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনে। এতে আপত্তির কিছু নেই, কিন্তু তার পরিবর্তে বাজারে আরেকটু অর্থ ঢোকাতে পারলে ভালো হতো বলে মনে হয়’, মন্তব্য দক্ষিণ কলকাতার সর্ববৃহৎ গরিয়াহাট বাজার সমিতির এক নেতার। তবে নিজের নাম প্রকাশ করতে চাইলেন না তিনি।অনেকেই বলছেন, আগের সরকার ধারাবাহিকভাবে নানা ধরনের উৎসব ও মেলার আয়োজন করত, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেটাকেই একটু পাল্টে নানা ধরনের ধর্মীয় গুরু শহরে এনে ‘ইভেন্ট’ করছে অথবা প্রধানমন্ত্রী জন্মদিন পালন করছে। এভাবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নতি সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সরকারের ক্ষমতায় আসার চার মাসের মাথায়।কঠোর ভাবমূর্তি ছেড়ে কেন হঠাৎ সামাজিক মাধ্যমে জেন–জির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন মোদিমোদির ৫ লাখ কোটি ডলার অর্থনীতির প্রতিশ্রুতি সফল হবে, নাকি গালভরা বুলিই থেকে যাবেবিজেপির ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কেন এত আগ্রহ, কংগ্রেস কী কারণে শুধু প্রথম দুই স্তবক গাইবেপশ্চিমবঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার দপ্তরে হামলা হিন্দুত্ববাদীদের