জাতীয়

মক্কায় মুসলমানদের প্রথম প্রকাশ্য নামাজ, ইতিহাসের বাঁক বদলের সেই দিন

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
মক্কায় মুসলমানদের প্রথম প্রকাশ্য নামাজ, ইতিহাসের বাঁক বদলের সেই দিন
মক্কায় মুসলমানদের প্রথম প্রকাশ্য নামাজ, ইতিহাসের বাঁক বদলের সেই দিন

মক্কা তখন অন্ধকারে ঢাকা। কাবাঘরকে ঘিরে অসংখ্য মূর্তি। লাত, উজ্জা, মানাতসহ নানা দেব-দেবীর নামে মানুষ সিজদা করছে। কাবার আঙিনা মুখরিত। সেই কোলাহলের ভেতর হারিয়ে গেছে ইবরাহিম (আ.) এর তাওহিদের সেই নির্মল আহ্বান।

সেই সময় মক্কার এক কোণে জন্ম নিল আরেকটি নীরব বিপ্লব।

কয়েকজন মানুষ বিশ্বাস করল যে, উপাসনার যোগ্য একমাত্র আল্লাহ। মুহাম্মদ (সা.) তাঁর রাসুল। মানুষের তৈরি কোনো মূর্তি নয়, কোনো দেবতা নয়, কোনো ক্ষমতাবান নেতা নয়; মাথা নত করতে হবে শুধু আল্লাহর সামনে।

কিন্তু সত্যের এই ঘোষণা মক্কার নেতারা সহজভাবে মেনে নিল না।

নতুন মুসলমানদের ওপর শুরু হলো নির্যাতন। কাউকে বালুর ওপর শুইয়ে রাখা হচ্ছে। কাউকে উত্তপ্ত পাথরের নিচে চাপা দেওয়া হচ্ছে। কারও ওপর সামাজিক বয়কট, কারও ওপর পারিবারিক নির্যাতন। মুসলমানদের সংখ্যা অল্প। তাদের কোনো রাষ্ট্র নেই, কোনো সেনাবাহিনী নেই, কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই।

এমনকি তাদের নামাজও পড়তে হতো গোপনে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবিরা এমন জায়গা খুঁজে নিতেন, যেখানে মুশরিকদের চোখ এড়িয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো যায়।

কাবাঘর, যে ঘরটি ইবরাহিম (আ.) এক আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্মাণ করেছিলেন, সেখানেই মুসলমানরা প্রকাশ্যে নামাজ পড়তে পারছিলেন না!

আরও পড়ুন

ইসলাম-পূর্ব যুগে কেমন ছিলেন ওমর (রা.)?

ওমরের (রা.) ইসলাম গ্রহণ

ওমর (রা.) তখনও মুসলমান হননি। বরং তিনি ছিলেন ইসলামের অন্যতম কঠোর বিরোধী। তার শক্তি, সাহস, ব্যক্তিত্ব সবকিছুই কুরাইশের কাছে পরিচিত। মুসলমানদের ওপর তার কঠোরতার কথাও মক্কার মানুষ জানত।

কিন্তু মানুষের পরিকল্পনার ওপরে আল্লাহর পরিকল্পনা থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! এই দুই ব্যক্তির মধ্যে যে তোমার কাছে অধিক প্রিয়, তার মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করো—আবু জাহল অথবা ওমর ইবনুল খাত্তাব।’ (জামে তিরমিজি, কিতাবুল মানাকিব, হাদিস: ৩৬৮১)

আল্লাহ ওমর (রা.) এর জন্য হিদায়াত নির্ধারণ করেছিলেন।

একদিন তিনি বের হলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে। হাতে তরবারি। মনে প্রচণ্ড ক্ষোভ। কিন্তু পথেই জানতে পারলেন, তার নিজের বোন ফাতিমা (রা.) ও ভগ্নিপতি সাঈদ ইবন যায়দ (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

ক্রোধের আগুন আরও জ্বলে উঠল।

তিনি বোনের বাড়িতে পৌঁছালেন। সেখানে কোরআনের আয়াত পাঠ করা হচ্ছিল। ওমর (রা.) তা শুনলেন। প্রথমে ক্রোধ, তারপর বিস্ময়, এরপর সেই আয়াতের শব্দ তার হৃদয়ের দরজায় আঘাত করতে লাগল।

তিনি পড়লেন সূরা ত্ব-হার শুরু অংশ।

‘ত্বা-হা। আমি তোমার ওপর কুরআন নাজিল করিনি, যাতে তুমি দুর্ভোগে পড়ো…’ (সুরা ত্ব-হা: ১–৮)

যে হৃদয় কিছুক্ষণ আগেও মুহাম্মদ (সা.) কে হত্যা করার জন্য উত্তপ্ত ছিল, সেই হৃদয়েই এবার অন্য এক আলো প্রবেশ করল।

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘মুহাম্মদ কোথায়?’

তাকে বলা হলো, দারুল আরকামে।

ওমর (রা.) সেখানে গেলেন।

দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন ওমর। তার হাতে তরবারি। ভেতরের সাহাবিরা আতঙ্কিত হয়ে গেলেন। কিন্তু হামজা (রা.) বললেন, ওমর এসেছে তো কী হয়েছে? ভালো উদ্দেশ্যে এলে ভালোভাবে গ্রহণ করা হবে; আর খারাপ উদ্দেশ্যে এলে তার নিজের তরবারিই তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে। (ইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নববিয়্যাহ)

অবশেষে ওমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সামনে দাঁড়ালেন।

তিনি কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করলেন।

আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে দারুল আরকাম মুখর হয়ে উঠল।

একজন ভয়ংকর বিরোধী মুহূর্তেই হয়ে গেলেন ইসলামের সৈনিক।

‘আমরা কি সত্যের ওপর নই?’

ইসলাম গ্রহণের পর ওমর (রা.) রাসুলুল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি সত্যের ওপর নই?’

রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘অবশ্যই।’

ওমর (রা.) আবার বললেন, ‘তাহলে আমরা আমাদের দ্বীন গোপন করব কেন?’

ওমরের (রা.) ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানদের আত্মবিশ্বাস অনেকে বেড়ে গিয়েছিল। অন্য সাহাবিরাও ভাবছিলেন, আমরা আর লুকিয়ে থাকবো কেন? মুশরিকরা প্রকাশ্যে দেব-দেবীদের পূজা করে, আমরা কেন প্রকাশ্যে আল্লাহর ইবাদত করতে পারবো না?

মুসলমানদের প্রকাশ্যে নামাজ আদায়

একদিন মুসলমানরা বেরিয়ে পড়লেন। তারা এগিয়ে গেলেন কাবার দিকে। মুসলমানরা দুই কাতারে বিভক্ত হয়ে চলছিলেন। এক কাতারের সামনে ছিলেন হজরত হামজা (রা.), অন্য কাতারের সামনে ছিলেন হজরত ওমর (রা.)। মাঝখানে ছিলেন আল্লাহর রাসুল (সা.)।

যে মুসলমানরা এতদিন নিজেদের ইমানও গোপন করতেন, তারাই আজ প্রকাশ্যে আল্লাহর ঘরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

মুশরিকরা তাকিয়ে আছে। তাদের চোখে বিস্ময়। যে মানুষগুলোকে তারা এতদিন দুর্বল ভেবেছিল, আজ তারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই সারির সামনে ওমর। অন্য পাশে হামজা। দুই পাশে দুই পাহাড়ের মতো সাহাবি।

মুসলমানরা মসজিদুল হারামে প্রবেশ করলেন। তারপর কাবার সামনে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করলেন। এই নামাজের মধ্যে ছিল এক গভীর বার্তা: আমরা আল্লাহ ছাড়া কারও সামনে মাথা নত করব না।

এটি ছিল ভয়কে অতিক্রম করার নামাজ। এটি ছিল তাওহিদের প্রকাশ্য ঘোষণা। এটি ছিল মক্কার মূর্তিপূজার সংস্কৃতির সামনে ইসলামের প্রথম দৃশ্যমান আত্মপ্রকাশের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

মুশরিক নেতারা এই দৃশ্য দেখে স্তব্ধ হয়ে গেল।

যে মুসলমানদের তারা এতদিন নির্যাতন করে এসেছে, আজ তারা তাদের চোখের সামনে কাবার সামনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছে।

মুসলমানদের মধ্যে ওমরের (রা.) এর উপস্থিতি তাদের জন্য আরও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠেছিল।

কেন ওমর এত গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন?

ওমর শুধু একজন নতুন মুসলমান ছিলেন না। তিনি ছিলেন কুরাইশের পরিচিত একজন শক্তিশালী মানুষ। তার ইসলাম গ্রহণের অর্থ ছিল, মুহাম্মাদের (সা.) অনুসারীরা আর শুধু নির্যাতিত কয়েকজন দুর্বল মানুষের দল নয়। তাদের মধ্যে এখন ওমর আছে। আছে হামজা। আছে আবু বকর। আছে ওসমান। আছে আরও অনেক সাহাবি; যারা সত্যের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।

ওমরের (রা.) এর ইসলাম গ্রহণ তাই মুসলমানদের মানসিক শক্তিতে বড় পরিবর্তন এনেছিল।

ইবন মাসউদ (রা.) এর ভাষায়, ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে মুসলমানরা শক্তি ও মর্যাদা অনুভব করেছিলেন।

এই কারণেই পরবর্তী সময়ে ওমর (রা.) কে আল-ফারুক বলা হয়; যিনি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করেন। (তারিখুল খুলাফা: পৃ. ৯১–৯২)

আরও পড়ুন

খলিফা ওমরের (রা.) জনমুখী শাসনের গল্প

এই ঘটনার শিক্ষা কী?

মক্কার সেই ঘটনার দিকে তাকালে আমরা দেখি ইমানের শক্তি। ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণের আগে ছিলেন ইসলামের বিরুদ্ধে। কিন্তু ইসলাম যখন তার হৃদয়ে প্রবেশ করল, তখন তিনি সত্যের জন্য নিজের সব শক্তি নিয়োজিত করলেন।

তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কোনো মানুষের বর্তমান অবস্থাকে দেখে তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায় না। যে মানুষটি একদিন ইসলামের বিরুদ্ধে তরবারি হাতে বেরিয়েছিলেন, তিনিই একদিন ইসলামের জন্য তরবারি হাতে দাঁড়ালেন। যে মানুষটি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর বিরোধিতা করতে চেয়েছিলেন, তিনিই পরে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সাহাবিদের একজন হয়ে উঠলেন। যে মানুষটি মুসলমানদের ভয় দেখাতেন, তিনিই মুসলমানদের সাহস ও আত্মবিশ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়ালেন।

মক্কার সেই দিনের নামাজ ইসলামের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। কাবার সামনে দাঁড়িয়ে অল্পসংখ্যক মুসলমান যেন সেদিন ঘোষণা করেছিলেন, সংখ্যা কম হতে পারে, শক্তি কম হতে পারে; কিন্তু সত্যের শক্তি কম নয়।

আর সেই কাতারের সামনে ছিলেন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)।

ওএফএফ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সরকারি নিয়োগে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে বেরোবিতে বিক্ষোভ
সরকারি নিয়োগে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে বেরোবিতে বিক্ষোভ

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত অংশে নম্বর কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয়করণ, ঘুস-বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরির অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মূল ফটকে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় বক্তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভায় বেশি নম্বর রাখলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হবে। নিয়োগে দলীয়করণ বাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, ‌‘সরকারি চাকরির ভাইভা পরীক্ষায় প্রায় ৪০০ শতাংশ নম্বর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর পেছনে একটাই কারণ রয়েছে—সরকার দলীয় ক্যাডারদেরই চাকরি দিতে চায়। তারা মেধাবীদের বঞ্চিত করে নিজেদের দলীয় ক্যাডারদের চাকরি দিতে চায়। তবে কোনোভাবেই এ ধরনের প্রহসন মেনে নেওয়া হবে না।’ আজিজুর রহমান/এসআর      

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
মেসি এবার স্পেনের আরেকটি ক্লাব কিনছেন

মেসি এবার স্পেনের আরেকটি ক্লাব কিনছেন

ইরানের সরকার পতনের খুব কাছাকাছি: নেতানিয়াহু

ইরানের সরকার পতনের খুব কাছাকাছি: নেতানিয়াহু

যাত্রাবাড়ীতে ব্যবসায়ী সাগর হত্যা মামলায় তিনজনের রিমান্ড

যাত্রাবাড়ীতে ব্যবসায়ী সাগর হত্যা মামলায় তিনজনের রিমান্ড

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন রুমিন ফারহানা। এসময় তিনি বলেন, সব সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না— এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না। যারা গরিব কৃষক আছেন, তারা সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না— সেটাও হতে পারে না। রুমিন ফারহানা আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি হওয়া— ইত্যাদি ইত্যাদি। তার এ বক্তব্যে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা হৈ-চৈ শুরু করেন। এসময় রুমিন ফারহানা বলেন, এত অসহিষ্ণু সংসদ! মনে হয় যেন একেবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করতো। এখন একই ধরনের আচরণ করছে, আরও খারাপ আচরণ বরং বলি। এরপর ব্যাংক রেজুলেশন বিলে যুক্ত করা নতুন ধারার প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, যাই হোক, এই আইনটিতে ১৮-এর ক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছিল ১৮-ক রাখা হবে না। কেন রাখা হচ্ছে— এর কারণ হচ্ছে এই সংসদ, বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত। আরও পড়ুন সংসদে রুমিন ফারহানা / বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা— এগুলো আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহুত দেখেছি। ইলেকশনের আগে তাড়াতাড়ি রিট, খেলাপি থেকে বাদ দেয়। আর ইলেকশনটা যেই শেষ হয়, ওকে এই...। এ পর্যায়ে সংসদে আবারও হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ধন্যবাদ মাননীয় সদস্য, বসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডেপুটি স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, সবাই শান্ত হন। মাননীয় সদস্য, আপনি বসেন। হৈ-চৈ অব্যাহত থাকলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, মাননীয় চিফ হুইপ, মাননীয় সদস্য আপনি বসেন। সংসদের সব সদস্য, অনুগ্রহ করে শান্ত হন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরও বলেন, মাননীয় চিফ হুইপ, একজন মাননীয় সদস্য বক্তব্য রাখছেন। তার কথা বলার স্বাধীনতা আছে। কিন্তু অন্যান্য সংসদ সদস্যরা তার বক্তব্য প্রদানে বাধা দিচ্ছেন— সেটা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে। তিনি আরও বলেন, আমি আপনাকে অনুরোধ করবো, অনারেবল মেম্বারস অব দ্য পার্লামেন্ট, যারা আছেন প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে। তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের টার্ন যখন আসে, আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান করা কোনো অবস্থাতেই কাম্য না। আরও পড়ুন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড / এসএসসিতে মাত্র এক বিষয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর জিপিএ ৪.৯৪, তদন্তে কমিটি এরপর ডেপুটি স্পিকার পরবর্তী বক্তা হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। পরবর্তী সময়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্যকে আপনি সুযোগ দিয়েছেন, হতে পারে তার কথাগুলো সবগুলো সঙ্গত নয়। আবার হতে পারে যে কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ, আমরা তো কিছুই শুনতে পারলাম না। তার কথাগুলো শোনার যেমন দায়িত্ব আমাদের আছে, বলারও অধিকার তার আছে। তিনি যদি অসংসদীয় কোনো কথা বলে থাকেন সেটা আপনার জায়গা থেকে রুলিং আসতে পারে। আবার এসব কথার জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী যখন দাঁড়াবেন, তিনি যদি প্রয়োজন মনে করেন তিনি দিতেই পারেন। এরপর বক্তব্য দিতে রুমিন ফারহানা কয়েকবার দাঁড়ালেও তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি বলেন, আমরা চাই সংসদে সব সমস্যার সমাধান হোক। কিন্তু সংসদে সমস্যার সমাধানের চেয়ে যদি আমরা সমস্যা তৈরি করি নিজেরা, সেটা একটা প্রবলেম। আমরা চাই এখানে গঠনমূলক আলোচনা হোক। আমরা সংসদে এমন আলোচনা যদি করি যে আলোচনা একজনকে আহত করে অথবা একজনকে ক্ষতি করে, সে আলোচনা আমরা করতে চাই না। এসময় চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আপনার মূল দায়িত্ব হাউজে শৃঙ্খলা রাখা। আমরা প্রত্যাশা করবো যার যার স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিকভাবে পরিষ্কারভাবে বক্তব্য রাখবেন। এমওএস/কেএসআর

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
বদলি আদেশের পরও থানা ছাড়ছেন না ওসি

বদলি আদেশের পরও থানা ছাড়ছেন না ওসি

হংকংয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও পরিবারের সম্পদ জব্দের নির্দেশ

হংকংয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও পরিবারের সম্পদ জব্দের নির্দেশ

ঢাবিতে ছাত্রদলের উদ্যোগে ৫০তম বিসিএস প্রার্থীদের মক ভাইভা

ঢাবিতে ছাত্রদলের উদ্যোগে ৫০তম বিসিএস প্রার্থীদের মক ভাইভা

ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টা: অস্ত্র-গুলি সরবরাহের অভিযোগে দুই নারী কারাগারে
ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টা: অস্ত্র-গুলি সরবরাহের অভিযোগে দুই নারী কারাগারে

  রাজধানীর কদমতলী থানাধীন শনিরআখড়ায় ব্যবসায়ী আসলাম খানকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় অস্ত্র ও গুলি সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার দুই নারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তারা হলেন- আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক আব্দুস ছবুর জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক মিঠু মন্ডল দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসলাম খানের সঙ্গে আসামি জলিল মন্ডলের জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধের জেরে আসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আসলাম তার দোকান মেসার্স লাকী ক্রোকারিজে ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিতে তার ডান চোয়াল ও বাম বাহুতে গুরুতর জখম হয়। মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে আবেদনে বলা হয়, রুনিয়া ও সোনিয়া ঘটনার আগে কামাল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করেন। পরে তারা কদমতলীর জুরাইন বউবাজার এলাকার একটি বাসায় মঞ্জুরুল ইসলাম ও জসিমের সঙ্গে অবস্থান করেন। সেখান থেকে ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা আগে শনিরআখড়া ফ্লাইওভারের নিচে অস্ত্র ও গুলি মঞ্জুরুল ও জসিমের কাছে পৌঁছে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অস্ত্র ব্যবহার করেই মঞ্জুরুল মোটরসাইকেল থেকে নেমে আসলামের দোকানে ঢুকে গুলি চালান। এসময় আসলাম আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। জসিমও অস্ত্র হাতে দোকানে ঢোকার চেষ্টা করেন। গুলির শব্দ ও স্থানীয়দের চিৎকার শুনে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে মঞ্জুরুল ও জসিম গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ মঞ্জুরুলকে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার ও ৯ রাউন্ড গুলিসহ আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে আরও তিনটি গুলির খোসা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে অন্যরা পালিয়ে যান। এরপর মঙ্গলবার বিকেলে কাচকুড়ার বগবাড়ির মোড় এলাকা থেকে রুনিয়া এবং উত্তরখান এলাকা থেকে সোনিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় আসলাম খানের শ্বশুর বাদল মিয়া ৬ সেপ্টেম্বর কদমতলী থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। এর আগে এ মামলায় মঞ্জুরুল ইসলাম ও ইকবাল কালুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, গুলি চালানোর ঘটনায় কদমতলী থানার এসআই অশোক কুমার সরকার বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করেন। ওই মামলায় মঞ্জুরুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরে তার দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এমডিএএ/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান মেয়ের

রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান মেয়ের

মাউথ টেপিং: ঘুমের সময় মুখে টেপ লাগানোর এই অদ্ভুত ট্রেন্ড কি উপকারী নাকি ঝুঁকিপূর্ণ?

মাউথ টেপিং: ঘুমের সময় মুখে টেপ লাগানোর এই অদ্ভুত ট্রেন্ড কি উপকারী নাকি ঝুঁকিপূর্ণ?

বৃষ্টিতে ভেসে গেলো ফাইনাল, শিরোপা জিতলো অনূর্ধ্ব-১৯ দল

বৃষ্টিতে ভেসে গেলো ফাইনাল, শিরোপা জিতলো অনূর্ধ্ব-১৯ দল

0 Comments