মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। তিনি বলেছেন, এই চুক্তিতে তেহরানের অংশগ্রহণ হবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় স্টেট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন লাভরভ। এর আগে গত ৭ আগস্ট মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেবে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থান তুলে ধরেন লাভরভ। তিনি বলেন, দুই দশকের বেশি সময় আগে রাশিয়া একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, ইরানসহ উপসাগরীয় ও আরব দেশগুলো বৈঠকে বসে আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে একটি কাঠামো তৈরির বিষয় বিবেচনা করতে পারে।
লাভরভ বলেন, ‘আমরা জানতাম তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক জটিল। তাই আমরা মনে করেছিলাম, আমরা তাদের বৈঠকে বসতে, পারস্পরিক অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতে এবং আস্থা তৈরির কিছু পদক্ষেপে একমত হতে সহায়তা করব। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর পর আঞ্চলিক পরিস্থিতি বদলে গেছে।’
মক্কা চুক্তি নিয়ে লাভরভ বলেন, চুক্তির সমর্থকেরা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর জন্যও এর সদস্যপদ উন্মুক্ত রাখা যেতে পারে। এই ধরনের নিরাপত্তাকাঠামোয় ইরানকে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে একমত হওয়াটা মস্কোর প্রস্তাবিত নিরাপত্তা কাঠামো বাস্তবায়নের দিকে ‘সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ’ হতে পারে।
‘উন্নত’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে আবার ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ হুমকি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে গতকাল দেশটি দাবি করেছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজায়ি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
রেজাই সম্ভবত ‘কাসেম বাসির’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথা বলেছেন। ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির কাছে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়িয়ে গেছে।
কাসেম বাসিরকে একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে তুলে ধরেছে ইরান। তেহরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র আগের তুলনায় সহজে দিক পরিবর্তন করতে পারে এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারে। ইরানের ফারস নিউজ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রথমবার যুদ্ধক্ষেত্রে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জাতীয় সংসদে হট্টগোলের কারণে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বক্তব্যে কী বলেছেন তার কিছুই বুঝতে পারেননি বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সেই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, যে কোনো সংসদ সদস্যের কথা শোনার দায়িত্ব এবং তার বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। সংসদে কোনো সদস্যের বক্তব্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা বাধা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা অসংসদীয় বক্তব্য এলে স্পিকারের আসন থেকে রুলিং আসতে পারে কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জবাব দিতে পারেন, কিন্তু বক্তব্য পুরোপুরি ঢেকে দেওয়া বা থামিয়ে দেওয়া সংসদীয় রীতির পরিপন্থি। সংসদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে স্পিকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও প্রতিকারের দাবিও জানান তিনি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সময় ব্যাপক হট্টগোলের পর দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। আরও পড়ুন ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাস, বিতর্কিত মালিকদের ফেরার ধারাটি বাদ শফিকুর রহমান বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য দাঁড়িয়েছেন তার কথা বলতে। আপনার জায়গা থেকে আপনি তাকে সুযোগ দিয়েছেন। হতে পারে তার কথাগুলো সবগুলা সঙ্গত নয়, আবার হতে পারে যে কথাগুলো তার গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তো কিছুই শুনতে পারলাম না, কী উনি বললেন, সব তো হারায়ে গেলো। এখন তার কথাগুলো শোনার যেমন দায়িত্ব আমাদের আছে, বলারও অধিকার তার আছে। হ্যাঁ, তিনি যদি অসংসদীয় কোনো কথা বলে থাকেন, সেটা আপনার জায়গা থেকে রুলিং আসতে পারে। আবার এসব কথার জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী যখন দাঁড়াবেন, তিনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, তিনি দিতেই পারেন।’ বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘গত দিনও এরকম একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি আমরা হয়েছিলাম। তখন কিন্তু এই চেয়ার বড় কঠিন চেয়ার ছিল আমাদের জন্য। আজকে উনি কী বললেন, আমরা তো একেবারেই বুঝতে পারলাম না। উনি কি গালি দিলেন না দোয়া দিলেন, কিছুই বুঝলাম না। এখন আসলেই কি তিনি বক্তব্য রাখতে পারলেন? তার সংসদ সদস্য হিসেবে যে অধিকার ছিল, সেটা কি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? এটা মূলত আমি আপনার কাছেই জানতে চাচ্ছি এবং এর প্রতিকারটা কী হবে? রেকর্ড হবে কীভাবে? আমরাই তো শুনি নাই, আমাদের রেকর্ডই তো হয় নাই। এজন্য এ বিষয়টা স্পষ্ট করা জরুরি বলে আমি মনে করি।’ এমওএস/একিউএফ
পরিবেশ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশের পরিবেশ সুন্দর ও সবুজ রাখতে সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদেরও অংশ নেওয়া উচিত।বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে রাজধানীর ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল সানিডেলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানিয়েছেন।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, নিজেদের বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আত্মীয়স্বজনের বাড়ির আশপাশে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। জন্মদিনসহ বিভিন্ন বিশেষ দিনে একে অন্যকে গাছের চারা উপহার দেওয়ার সংস্কৃতিও গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে নাগরিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের পরিবেশও দেশের মানুষকেই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কেউ যত্রতত্র ময়লা ফেললে তাকে বাধা দিতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে।লন্ডনে বসবাসের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানকার নাগরিকেরাই নিজেদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখেন। নিজেদের ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে পরিবর্তনের শুরু করতে হবে। নিজের ঘর থেকেই পরিবর্তন শুরু হলে পুরো দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।ডেঙ্গু প্রতিরোধেও শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী তিন মাস ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। বাড়ি ও আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে ছোট ছোট ভালো কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজ ও দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে—এমন ছোট ছোট কাজ সবাইকে করতে হবে। শিক্ষার্থীদেরও এসব কাজে অংশ নিয়ে সুন্দর দেশ গঠনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা, জনস্বাস্থ্য ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় তাদের করণীয় নিয়েও কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা।সানিডেলের ১২৪ জন শিক্ষার্থী বুধবার জাতীয় সংসদে যায়। তাদের সঙ্গে ছিলেন ১৪ জন শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং সংসদ অধিবেশন সরাসরি দেখার সুযোগ দেওয়ার অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।সংসদ অধিবেশন চলাকালে আসরের নামাজের বিরতির সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। এসময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তেজগাঁও বিভাগের বরাত দিয়ে আকতার হোসেন বলেন, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকার অপরাধপ্রবণ এলাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আরও পড়ুন মিরপুরের অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ১৩৯ গ্রেফতারদের মধ্যে তেজগাঁও থানা ৩১ জন, শেরেবাংলা নগর থানা ছয়জন, মোহাম্মদপুর থানা ৪৫ জন, আদাবর থানা ২০ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা তিনজন ও হাতিরঝিল থানা পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। কেআর/একিউএফ