ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মার্কিন প্রতিনিধিরা কিয়েভ ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই এ হামলা চালানো হয়। দেখুন ভিডিও প্রতিবেদনে...
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পিএসজি ৫–১ স্লোভান ব্রাতিস্লাভাপিএসজির অনুশীলন মাঠের পাশে খালি গায়ে আয়েশি ভঙ্গিতে মোবাইল হাতে বসা ফেরান তোরেস। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সৌজন্যে এমন ব্যতিক্রমি ছবিই দেখেছিল ফুটবল বিশ্ব। একদিন পরে আজ সেই তোরেস পিএসজির জার্সিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিষেকেই হ্যাটট্রিক পেয়ে গেছেন। স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো একমাত্র গোলটি করা ফরোয়ার্ড ৩১ থেকে ৫৭, এই ২৬ মিনিটেই ৩ গোল পেয়ে যান। বড় জয় পেয়েছে তাঁর দলও। চ্যাম্পিয়নস লিগে হ্যাটট্রিক শিরোপার অভিযানে নামা পিএসজি স্লোভাকিয়ার স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে ৬–১ গোলে হারিয়ে শুরু করল ২০২৬–২৭ ইউরোপীয় মৌসুম। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বড় জয়ে জোড়া গোল করেছেন উসমান দেম্বেলে। দলটির শেষ গোলটি করেছেন ফাবিয়ান রুইজ। বিস্তারিত আসছে...
একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গত মঙ্গলবার এজলাস ছেড়ে প্রধান বিচারপতির চলে যাওয়ার ঘটনাটি সংসদের নজরে আনলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান। তিনি ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যায়িত করে বলেন, জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগে এ ধরনের ঘটনা জনগণকে কী বার্তা দিচ্ছে, তা ভাবতে হবে।বুধবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্য নাজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে প্রসঙ্গটি তোলেন। বিষয়টি বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার ঘটনার বার্তা দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখারও আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রীর কাছে বিবৃতি চান।জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ঘটেছে। এটি রাষ্ট্রের কোনো অর্গানের মধ্যে পড়ে না। তবে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কেউ ঘটাবেন না বলে তিনি মনে করেন।নাজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে বলেন, ‘আমাদের সম্মানিত সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। ওনার সাথে প্রধান বিচারপতির একটি বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে, যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের সব বিচারপতি তাঁদের এজলাস ত্যাগ করেন এবং গতকাল (মঙ্গলবার) তাঁরা আর কোর্টে ফিরে আসেননি।’ঘটনার সময় নিজে উপস্থিত ছিলেন উল্লেখ করে আইনজীবী নাজিবুর রহমান বলেন, ‘মূল ঘটনাটি যখন ঘটে, সে সময় আমি কোর্টে উপস্থিত ছিলাম। একজন আইনজীবী বারবার সত্যকে গোপন করে রিট করার কারণে পেনাল্টি হিসেবে জরিমানা করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।’বিরোধী দলের এই সদস্য বলেন, ‘ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন শুধু একজন আইনজীবী নন, তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি এই সংসদের একজন সম্মানিত সদস্য, সরকার দলের একজন প্রভাবশালী সদস্য। আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলি, জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগে এ ধরনের ঘটনা জনগণকে কী বার্তা দিচ্ছে, তা আমাদের চিন্তা করা উচিত।’‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়’ প্রবাদ উদ্ধৃত করে নাজিবুর রহমান বলেন, ‘অতীতে এক দুঃখজনক ঘটনা আমরা দেখেছি। ফ্যাসিবাদী আমলে প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে কিন্তু তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনা সে ধরনের বার্তা দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।’সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত বলে মন্তব্য করে নাজিবুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের যে তিনটি প্রধান অঙ্গ রয়েছে। এই তিনটির কোনোটিই সার্বভৌম নয়। এই তিনটা মিলে জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সেই ক্ষমতাকে আমাদের সেইভাবে ব্যবহার করতে হবে—একটা অঙ্গ আরেক অঙ্গের ওপরে কোনো প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করবে না, এটাই সকলের জন্য প্রযোজ্য হবে।’এ বিষয়ে নাজিব আইনমন্ত্রীর একটি বক্তব্য আশা প্রত্যাশা করেন, যাতে জনগণ এ ব্যাপারে আশ্বস্ত হতে পারেন।জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য যে প্রশ্নটা উত্থাপন করেছেন, নিশ্চিতভাবে প্রশ্নটা আলোচনার দাবি রাখে। কারণ, উনি যেটা বললেন, সেপারেশন অব পাওয়ারের যে থিওরি, তা এখানে অ্যাপ্লাই করে না। কারণ, ঘটনাটি ঘটেছে একজন আইনজীবীর সঙ্গে, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গে।’আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের তিনটা অর্গানের পার্ট নয়। একটি একটি ইনফরমাল বডি। এটি আইনজীবীদের সংগঠন, যারা সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করেন। সুতরাং তারা জনগণের অংশ। এটি বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ বা শাসন বিভাগকে প্রতিনিধিত্ব করেনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে আমি ওই ঘটনাটিতে বৈধতা দিচ্ছি।’আদালতে অতীতের একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আইনজীবী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিচারালয়ে এ ধরনের ঘটনা হয়ে থাকে। এটি বার ও বেঞ্চের সম্পর্কের বিষয়। অনেক সময় দেখা যায়, আমরা আইনজীবী হিসেবে কখনো প্রতিপক্ষ আইনজীবীর সঙ্গে, কখনো বেঞ্চের সঙ্গে ফাইট করছি। কিন্তু বাইরে গিয়ে আবার এক হয়ে যাই। এতে মক্কেল বাইরের থেকে দেখেন যে কী ব্যাপার, পয়সা দিলাম আমরা কথা বলার জন্য, বাইরে যেয়ে ওনারা এ রকম করছেন?’প্রধান বিচারপতির এজলাস থেকে উঠে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কালকে (মঙ্গলবার) মাননীয় প্রধান বিচারপতি যেভাবে কোর্ট থেকে উঠে গেলেন। আমাদের কাছে মনে হয়েছিল আজকে (গতকাল বুধবার) মাননীয় প্রধান বিচারপতি কোর্টে উঠে—উনি কনটেম্পট রুল ইস্যু করবেন। কিন্তু তিনি সকাল ৯টায় উঠেই যথারীতি কাজ শুরু করেছেন এবং ওই আইনজীবী (মাহাবুব উদ্দিন খোকন) সেই মাননীয় প্রধান বিচারপতির কোর্টেই গিয়ে স্বাভাবিকভাবে মামলা করেছেন বলে খবর পেয়েছি।’প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ, যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেলঘটনাটিকে সংসদের নজরে আনার কারণে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এ রকম একটি ইস্যু সামনে নিয়ে আসার কারণে আমরা আলোচনা করতে পারলাম। তবে এটা রাষ্ট্রের কোনো অর্গানের মধ্যেই যেহেতু পড়ছে না, এটা জনগণের একটা অংশ হিসেবে উনি নিয়ে এসেছেন। আর এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কেউ ঘটাবেন না বলে আমরা প্রত্যাশা রাখি।’পরে মাহবুব উদ্দিন খোকন এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে দাঁড়ান। তিনি ঘটনার বৃত্তান্ত বলার চেষ্টা করলে স্পিকার বলেন, ‘এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এতে সংসদ কনভিন্সড।’মাহবুব উদ্দিনের বক্তব্যের এক পর্যায়ে এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা
নিজেদের প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্র ইয়ংবিয়নে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে নতুন একটি স্থাপনা গড়ে তুলেছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ক্যাংসন পারমাণবিক কেন্দ্রের সম্প্রসারিত অংশেও কার্যক্রম শুরু করেছে দেশটি। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।ভিয়েনাভিত্তিক জাতিসংঘের এই পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ ও চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়া একাধিক স্থানে ধারাবাহিকভাবে তাদের পারমাণবিক অবকাঠামো বাড়িয়ে চলেছে। ২০০৯ সালের পর থেকে দেশটিতে আইএইএর কোনো পরিদর্শককে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না পিয়ংইয়ং। ফলে উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি এবং উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি বিশ্লেষণ করেই সংস্থাটি এই পর্যবেক্ষণ তৈরি করেছে।আইএইএর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের একটি পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শনের ছবি প্রকাশ করে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। সেই ছবির সঙ্গে স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি মিলিয়ে ইয়ংবিয়নে নতুন দোতলা ভবনটি শনাক্ত করা হয়েছে। এটি ওই কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা। ভবনটির ওপর ও নিচ—উভয় তলাতেই গ্যাস সেন্ট্রিফিউজ ক্যাসকেড বসানো হয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে অন্তত ২৮টি ক্যাসকেড বসানোর সুযোগ রয়েছে।প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইয়ংবিয়নের পাশাপাশি পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ক্যাংসনে অবস্থিত ইউরেনিয়াম কেন্দ্রেও কাজ চলছে। ২০২৪ সালে নির্মিত ওই কেন্দ্রের একটি সংযুক্ত ভবনে (অ্যানেক্স) চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করার স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে।সোমবার আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরসের সভায় সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইয়ংবিয়ন ও ক্যাংসন কেন্দ্রে পারমাণবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং অস্ত্র তৈরির উপযোগী উপাদানের উৎপাদন বাড়ানো অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের তৎপরতা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন।তবে পিয়ংইয়ং শুরু থেকেই আইএইএর এই পর্যবেক্ষণ ও কর্তৃত্বকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ভিয়েনায় উত্তর কোরিয়ার মিশন থেকে সাফ জানানো হয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অবস্থান এখন চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয়। পারমাণবিক বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) বাইরে থাকা কোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর কোনো আইনি অধিকার আইএইএর নেই।