জাতীয়

মানসিক সুস্থতা ও সুন্দর জীবনযাপনের সময়োপযোগী ও কার্যকর কিছু পরামর্শ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
মানসিক সুস্থতা ও সুন্দর জীবনযাপনের সময়োপযোগী ও কার্যকর কিছু পরামর্শ
মানসিক সুস্থতা ও সুন্দর জীবনযাপনের সময়োপযোগী ও কার্যকর কিছু পরামর্শ

প্রথম আলো ট্রাস্ট ও ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালসের সহযোগিতায় প্রথম আলো বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্যদ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করে। ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এডাস্ট) এ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। কর্মশালায় পরামর্শ দেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ফারজানা রহমান ও মেডিকেল কলেজ ফর উইমেনের সহযোগী অধ্যাপক চিরঞ্জীব বিশ্বাস। উক্ত কর্মশালা থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

সভায় ডা. ফারজানা রহমান মানসিক সুস্থতা এবং একটি সুন্দর জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর কিছু পরামর্শ দেন। যেমন-

  • মনের যত্ন ও ইতিবাচকতা: ভালো কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখা মনকে প্রফুল্ল রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

  • শখ ও সৃজনশীলতা: বই পড়া, গান শোনা কিংবা খেলাধুলার মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো কেবল মনকেই ভালো রাখে না, বরং শরীরকেও চাঙ্গা রাখে।

  • আসক্তি মুক্তি: মাদক বা অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের মতো ধ্বংসাত্মক আসক্তি থেকে দূরে থাকার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো মনকে গঠনমূলক ও সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখা।

  • সুস্থ জীবনের আনন্দ: মনের যত্ন এবং সঠিক জীবনযাপনের মধ্য দিয়েই মূলত জীবনের আসল আনন্দ ও সুফল উপভোগ করা সম্ভব।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদ বরখাস্ত
ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদ বরখাস্ত

সাবেক পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. আপেল মাহমুদকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। তিনি সর্বশেষ কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট পুলিশের রিজিয়নে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি গতকাল মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত হয়। আরও পড়ুন সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১২ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী মো. আপেল মাহমুদকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন বলে বিবেচিত হয়েছে। এ কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন আপেল মাহমুদ রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকবেন। এ সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। টিটি/এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ন্যাটো অঞ্চলে রুশ ড্রোন ভূপাতিত, বাড়ছে ইউক্রেন যুদ্ধের সীমানা?

ন্যাটো অঞ্চলে রুশ ড্রোন ভূপাতিত, বাড়ছে ইউক্রেন যুদ্ধের সীমানা?

সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১২

সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১২

দুইয়ে থেকেই অবসরের ঘোষণা রদ্রিগেজের

দুইয়ে থেকেই অবসরের ঘোষণা রদ্রিগেজের

সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য: রাষ্ট্রের সেবায় সবাই, সুবিধার বেলায় কেন শুধু সরকারি কর্মচারী
সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য: রাষ্ট্রের সেবায় সবাই, সুবিধার বেলায় কেন শুধু সরকারি কর্মচারী

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় সরকারি ও বেসরকারি চাকরির মধ্যে বৈষম্য নতুন কোনো বিষয় নয়। আমাদের সমাজব্যবস্থায় সরকারি চাকরি যেন শুধু একটি পেশা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাড়তি সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতা, প্রভাব এবং একধরনের আলাদা শ্রেণিগত অবস্থান। বিপরীতে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী, তিনি যত বড় প্রতিষ্ঠানেই চাকরি করুন, যত উচ্চশিক্ষিতই হোন কিংবা যত আকর্ষণীয় বেতনই পান না কেন, সামাজিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অনেক সময় তাঁকে সরকারি চাকরিজীবীর সমপর্যায়ে বিবেচনা করা হয় না।কেন এ বৈষম্যসরকারি চাকরিতে একজন কর্মচারীর পদ, গ্রেড, বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক অবস্থান একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সংজ্ঞায়িত। একজন কর্মকর্তা কোন গ্রেডে আছেন, তাঁর পদমর্যাদা কী, তিনি কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা—এসব বিষয় রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। ফলে সমাজেও তাঁর একটি নির্দিষ্ট মর্যাদা তৈরি হয়। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে একই ধরনের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সামাজিক অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করে তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, কত বেতন পাচ্ছেন কিংবা সমাজের চোখে তাঁর প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু—এর ওপর। ফলে একটি বহুজাতিক কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কিংবা একটি বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজারও অনেক ক্ষেত্রে সরকারি একজন মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তার মতো সামাজিক মর্যাদা পান না।এটি নিছক সামাজিক মানসিকতার বিষয় নয়; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও নীতিগত বাস্তবতা।নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: ns@prothomalo.comরাষ্ট্র কি শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের দিয়েই পরিচালিত হয়সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আপত্তি থাকার কথা নয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপযুক্ত বেতন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অবদান রাখা অন্য কোটি কোটি মানুষের কথা কি একইভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে?একটি দেশের অর্থনীতি শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর নির্ভর করে না; বরং বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, শ্রমিক, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পেশাজীবীসহ সমাজের প্রায় প্রতিটি শ্রেণির মানুষের শ্রম, আয় ও করের ওপর রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে।সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, প্রশাসনিক ব্যয়, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিচালন ব্যয়ের অর্থের বড় একটি অংশ আসে জনগণের কাছ থেকে সংগৃহীত কর ও অন্যান্য রাজস্ব থেকে। সেই জনগণের একটি বড় অংশই বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।তাহলে রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতি এতটা বৈষম্য কেন?একই দেশে দুই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থাশুধু চাকরির ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষাব্যবস্থাতেও আমাদের দেশে এক ধরনের দ্বৈত বাস্তবতা চোখে পড়ে। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামো, শিক্ষকতার মান, ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার পরিবেশে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, যাঁরা রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করেন, তাঁদের একটি বড় অংশ নিজেদের সন্তানদের জন্য বেসরকারি স্কুল, কলেজ কিংবা ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বেশি পছন্দ করেন। অবশ্য প্রত্যেকের নিজের সন্তানের জন্য পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু এখানেই একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—যদি সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা সত্যিই যথেষ্ট মানসম্পন্ন ও আকর্ষণীয় হয়, তাহলে সে ব্যবস্থার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত অনেক পরিবার কেন নিজেদের সন্তানদের জন্য বিকল্প খুঁজে নেয়?একই প্রশ্ন স্বাস্থ্য খাতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সামর্থ্যবান মানুষদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের দিকে ঝুঁকছেন। কেউ কেউ উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরেও যাচ্ছেন। সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যেও এমন প্রবণতা দেখা যায়।তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন পর্যায়ে উন্নীত করা হচ্ছে না কেন, যাতে সরকারি-বেসরকারিনির্বিশেষে সবাই আস্থার সঙ্গে সেই সেবা গ্রহণ করতে পারেন?বেসরকারি চাকরিজীবীরা কি রাষ্ট্রের বাইরের কেউসবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখানেই।একজন বেসরকারি চাকরিজীবীও এই দেশের নাগরিক। তিনি ভোট দেন, কর দেন, পরিবার পরিচালনা করেন, সন্তানদের শিক্ষিত করেন, অর্থনীতিতে অবদান রাখেন এবং দেশের উৎপাদন ও সেবা খাত সচল রাখেন। একজন ব্যবসায়ী বিনিয়োগ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন এবং কর প্রদান করেন। একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষও তাঁর শ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন।তাহলে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা কিংবা নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে কম কেন?সরকার পরিবর্তন হয় জনগণের ভোটে। আর সেই জনগণের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী যেমন আছেন, তেমনি বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা এবং সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন।কিন্তু বাস্তবে মনে হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, গ্রেড, পেনশন, চাকরির নিরাপত্তা, বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা কিংবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, বেসরকারি খাতে কর্মরত কোটি মানুষের কর্মপরিবেশ, চাকরির নিরাপত্তা, অবসর-পরবর্তী সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে ততটা আলোচনা হয় না।বেসরকারি চাকরিজীবীর জীবনে অনিশ্চয়তা বেশিসরকারি চাকরির অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো চাকরির নিরাপত্তা। নির্দিষ্ট নিয়ম ও কাঠামোর মধ্যে একজন সরকারি কর্মচারী দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। অবসর-পরবর্তী নানা সুবিধাও থাকে।বেসরকারি খাতে বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে, চাকরি চলে যেতে পারে, ব্যবসায়িক পরিস্থিতির কারণে কর্মী ছাঁটাই হতে পারে কিংবা বয়স ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কারণে একজন দক্ষ কর্মীকেও চাকরি হারাতে হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন চাকরি করার পরও একজন বেসরকারি কর্মীর অবসর-পরবর্তী জীবন নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা থাকে না।একজন মানুষ জীবনের সবচেয়ে উৎপাদনশীল সময়টি একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যয় করেন। কিন্তু চাকরি শেষে তাঁর ভবিষ্যৎ কী—এ প্রশ্নের উত্তর অনেক ক্ষেত্রেই অনিশ্চিত।এ জায়গাতেই রাষ্ট্রের আরও বেশি মনোযোগ প্রয়োজন।বৈষম্য নয়, প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামোসরকারি চাকরিজীবীদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে বেসরকারি চাকরিজীবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা কোনো সমাধান নয়; বরং প্রয়োজন এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের কর্মজীবী মানুষের অবদানকে রাষ্ট্র সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গ্রেড থাকবে, বেতনকাঠামো থাকবে, চাকরির নিরাপত্তা থাকবে—এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্যও ন্যায্য মজুরি, চাকরির নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, অবসরকালীন সুরক্ষা এবং শ্রমিক-কর্মচারীর অধিকার নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে।একজন বেসরকারি কর্মকর্তা যদি একই দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন, নিয়মিত কর প্রদান করেন এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখেন, তাহলে তাঁর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নও যথাযথ হওয়া উচিত।শেষ কথাএকটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকার অর্থে কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত হয়, যখন রাষ্ট্রের নীতি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা পেশাজীবী গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে তৈরি না হয়ে সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণকে সামনে রেখে প্রণীত হয়।সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু তারাই রাষ্ট্র নন। একইভাবে বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা সাধারণ মানুষও রাষ্ট্রের বাইরে নন।রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকই রাষ্ট্রের অংশীদার। তাই প্রশ্নটা সরকারি চাকরিজীবীদের সুবিধা কমানো বা বেসরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে তাঁদের প্রতিযোগিতা তৈরি করার নয়। প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র কি তার সব নাগরিকের জন্য সমান মর্যাদা, সুযোগ এবং নিরাপত্তার একটি ন্যায়সংগত কাঠামো তৈরি করতে পারছে?যে বেসরকারি চাকরিজীবীর করের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়, যে ব্যবসায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন, যে শ্রমিক নিজের ঘাম ঝরিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন, রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সুবিধার অংশীদারত্বে তাঁদেরও সমান অধিকার থাকা উচিত।কারণ, দেশ শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের নয়; দেশ সবার। আর রাষ্ট্রের সুবিধাও হওয়া উচিত সবার জন্য—যোগ্যতা, অবদান ও নাগরিক অধিকারের ভিত্তিতে; পেশার পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।মো. কাওছার আলম চৌধুরী, কবি ও লেখক

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সিডনিতে কৃষিবিদ অস্ট্রেলিয়ার নতুন কমিটি গঠন

সিডনিতে কৃষিবিদ অস্ট্রেলিয়ার নতুন কমিটি গঠন

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে নিয়োগ, আবেদন ফি ১০০০ টাকা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে নিয়োগ, আবেদন ফি ১০০০ টাকা

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে রাবিতে চাকরি পেলেন দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী শাকিল

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে রাবিতে চাকরি পেলেন দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী শাকিল

পৈতৃক ভিটায় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে ৩ পরিবারকে অবরুদ্ধ
পৈতৃক ভিটায় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে ৩ পরিবারকে অবরুদ্ধ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে চলাচলের রাস্তায় বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এর ফলে গত পাঁচদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। পৌর শহরের চন্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকায় সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন- মাহমুদুল হাসান রনি (৩১), তাহের আলী (৫০), শফিক মিয়া (৪০), নুর মিয়া (৪০), আব্দুর রহিম (৫৫) ও মিজান মিয়া (৩০)। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে এই ছয়জনের নাম উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির মাঝখানের চলাচলের উঠান বা রাস্তাটি টিন ও বাঁশ দিয়ে শক্তভাবে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। বংশপরম্পরায় এ রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছিলেন তিনটি পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু হঠাৎ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা ঘরবন্দি হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। বাধ্য হয়ে তাদের অন্য বাড়ির রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী মিন্নাত আলী বলেন, ‘আমাদের পৈতৃক সম্পত্তিতে আমরা ছয় ভাই ও আমাদের সন্তানরা বসবাস করছি। আমাদের ভাইদের মধ্যে এখনো কোনো বাটোয়ারা বা বণ্টননামা দলিল হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান রনিসহ একটি ভূমিদস্যু চক্র আমাদের পরিবারের দুই ভাই তাহের আলী মিয়া ও আরমান মিয়ার কাছ থেকে লিখিত পাওয়ার নিয়ে তারা আমাদের বাড়ি, স্থাপনা, টয়লেট ভেঙে বসত বাড়ি দখল করে নেয়। তারপর তারা আমার তিন ভাইয়ের ঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। যার কারণে আমাদের চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাকী ভাইদের বাড়ির অংশ বিক্রি না করায় ঘরের সামনেই টিনের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দুর্ভোগে ফেলেছে। আমরা আমাদের নিজ পৈতৃক ভিটায় স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছি না। এর সঠিক বিচার চাই।’ আরেক ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান বলেন, ‘শফিকুল রহমানসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গত পাঁচদিন ধরে এই বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তাদের কিছু বলতে গেলেই তারা ক্ষমতা দেখায় এবং বলে-আমাদের বিচার করার কেউ নেই। যারা জমি কিনেছেন বলে দাবি করছেন, দলিলে তাদের নামও নেই।’ অভিযুক্তদের একজন মাহমুদুল হাসান রনি বলেন, ‘আমরা একজন ওয়ারিশ বাদে বাকি সবার কাছ থেকেই জমি কিনেছি। আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমিতেই বেড়া দিয়েছি এবং ভুক্তভোগীদের চলাচলের জন্য বিকল্প জায়গা করে দিয়েছি।’ এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ইদানীং ভৈরবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। চলাচলের রাস্তা একটি মৌলিক অধিকার। মালিকানাসংক্রান্ত জটিলতা যাই থাকুক না কেন, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। এটি অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’ রাজীবুল হাসান/কেজে/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
পোশাকশিল্পের সংকটে চাপে গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত

পোশাকশিল্পের সংকটে চাপে গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত

চর জাগে-বসতি গড়ে, ভোগান্তিতে কাটে না ৩০ হাজার মানুষের

চর জাগে-বসতি গড়ে, ভোগান্তিতে কাটে না ৩০ হাজার মানুষের

সিটিটিসির সাবেক প্রধানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সিটিটিসির সাবেক প্রধানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

0 Comments