ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ছিল সেদিন সকালে। ঢাকার কারওয়ান বাজারও তখন ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল। সেই ব্যস্ততার মধ্যেই প্রথম আলো কার্যালয়ে একে একে জড়ো হচ্ছিলেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা তরুণ লেখকেরা। কারও হাতে নোটবুক, কারও চোখে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ। সামনে দিনভর লেখালেখি নিয়ে কথা হবে। কীভাবে একটি গল্প জন্ম নেয়? কবিতার শব্দ কীভাবে পাঠকের অনুভূতি হয়ে ওঠে? কিংবা একটি পাণ্ডুলিপি কীভাবে বইয়ের মলাটে পৌঁছায়?
গত ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রথম আলো বন্ধুসভার ‘লেখক বন্ধু উৎসব ২০২৬’ ছিল দুই মাসের লেখালেখি কর্মশালার শেষ আয়োজন। কর্মশালার শুরু হয়েছিল অনলাইনে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৩০০ জন এতে অংশ নেন। মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের মধ্য থেকে ৬০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। তাঁদের মধ্য থেকে সেরা পাঁচজন পান বিশেষ স্বীকৃতি।
সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর একে একে খুলতে থাকে লেখালেখির নানা দরজা। দিনভর সাতটি সেশনে কবিতা, ফ্ল্যাশফিকশন, মাইক্রোফিকশন, অনুবাদ, ভ্রমণসাহিত্য, ফিচার, ফিকশন, নন-ফিকশন, প্রকাশনা ও সম্পাদনা নিয়ে কথা বলেন দেশসেরা লেখক, কবি, সাংবাদিক, অনুবাদক ও প্রকাশকেরা।
কবি ও প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফের আলোচনায় ব্যক্তিগত অনুভূতি কীভাবে কবিতার ভাষা পায়, সেই প্রশ্ন সামনে আসে। মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতি তখনই কবিতার শক্তি অর্জন করে, যখন তা ভাষার মাধ্যমে অন্যের অনুভূতিকেও স্পর্শ করতে পারে। কবিতা শুধু কবির নিজের কথা নয়, তার ভেতর দিয়ে পাঠকও যেন নিজের কোনো অনুভূতির মুখোমুখি হন। লেখার এই ক্ষমতাই তাকে আলাদা করে। একটি কবিতা, গল্প কিংবা সিনেমা কখনো কখনো পরিচিত পৃথিবীর বাইরে অন্য একটি পৃথিবীর দরজা খুলে দেয়। সেই দরজা দিয়ে পাঠক নতুন মানুষ, নতুন জীবন, নতুন অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত হন। লেখকের কাজ তাই শুধু নিজের কথা বলা নয়, পাঠকের দেখার জগৎটিকেও একটু বড় করে দেওয়া।
অনুবাদক ও কথাসাহিত্যিক ফারুক মঈনউদ্দীন মনে করিয়ে দেন, অনুবাদ মানে শুধু এক ভাষার শব্দকে অন্য ভাষায় প্রতিস্থাপন করা নয়। একটি ভাষার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি সমাজ, সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাপন ও মনোজগৎ। অনুবাদককে তাই শব্দের পাশাপাশি ধরতে হয় সেই জীবনের স্বরও। এই অর্থে প্রত্যেক মানুষই অনুবাদক। ফারুক মঈনউদ্দীন বলেন, ভ্রমণসাহিত্যের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। একটি জায়গার সৌন্দর্য দেখে ফিরে এসে তার বর্ণনা করলেই ভ্রমণসাহিত্য হয়ে ওঠে না। সেই জায়গার মানুষের জীবন, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন বাস্তবতাকে দেখতে হয়। পর্যবেক্ষণের সেই চোখই একটি ভ্রমণকে পাঠকের নিজের অভিজ্ঞতায় পরিণত করতে পারে।
তারপর আসে গল্প। তবে বড় গল্প নয়, অল্পকথায় বলা গল্প। কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল কথা বলেন ফ্ল্যাশফিকশন ও মাইক্রোফিকশন নিয়ে। অল্প পরিসরে গল্পের আবহ, চরিত্র ও অনুভূতি তৈরি করা সহজ নয়। সেখানে একটি শব্দও কখনো কখনো গল্পের ভার বহন করে। তাই সংক্ষিপ্ত লেখায় প্রয়োজন আরও বেশি সংযম, মনোযোগ ও নির্মাণকৌশল। তবে কৌশলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখার সঙ্গে থাকা। নিয়মিত চর্চা ছাড়া লেখার দক্ষতা তৈরি হয় না। লেখার টেবিলে ফিরে আসতে হয় বারবার। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ফ্ল্যাশফিকশন ও মাইক্রোফিকশন লেখার আহ্বান জানান।

কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইনের আলোচনায়ও ফিরে আসে সেই চর্চার কথা, তবে অন্য একটি পথ ধরে—পাঠ ও পর্যবেক্ষণের পথ। একজন লেখকের বড় প্রস্তুতি হলো পড়া। কিন্তু শুধু বইয়ের পৃষ্ঠা পড়লেই হয় না, পড়তে হয় মানুষকেও। দেখতে হয় চারপাশের জীবন। মানুষের আনন্দ, কষ্ট, দ্বিধা, সম্পর্ক, নীরবতা—সবকিছুর প্রতি তৈরি করতে হয় সংবেদনশীলতা। পৃথিবীকে অনুভব করতে না পারলে সেটা নিয়ে গভীরভাবে লেখা কঠিন। এই জায়গাতেই লেখালেখি কেবল একটি দক্ষতা হয়ে থাকে না, হয়ে ওঠে জীবনকে দেখার একটি পদ্ধতি।
কিন্তু লেখালেখির পৃথিবী কি সত্যিই এত সুন্দর? এই প্রশ্নের উত্তর যেন আরও কঠিনভাবে সামনে নিয়ে আসেন কথাসাহিত্যিক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক। তিনি কথা বলেন লেখালেখির বাস্তবতা নিয়ে। লেখা থেকে উপার্জন, লেখকজীবনের অনিশ্চয়তা এবং শিল্পের পথে ব্যর্থতার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। আনিসুল হক নীরদ শ্রী চৌধুরীকে উদ্ধৃতি করে বলেন, ‘লেখক দুই প্রকার—ছাগল লেখক ও পাগল লেখক।’
কথাগুলো শুনতে শুনতে অন্য একটি ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাইরে থেকে লেখালেখির পথকে অনেক সময় সৌন্দর্য ও খ্যাতির পথ মনে হয়। এখানেও ভেতরে থাকতে পারে দীর্ঘ অপেক্ষা, প্রত্যাখ্যান, নিঃসঙ্গতা ও অনিশ্চয়তা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তলস্তয়, দস্তয়েভস্কিসহ নানা লেখকের প্রসঙ্গও আসে লেখকজীবনের সংগ্রাম নিয়ে আলোচনায়। তাঁদের জীবন দেখায়, লেখালেখির সঙ্গে প্রতিভার পাশাপাশি জড়িয়ে থাকে দীর্ঘ সাধনা ও একাকিত্ব। শুধু প্রশংসা কিংবা খ্যাতির জন্য নয়, লিখতে হবে মানুষের উপকারে, সৌন্দর্য সৃষ্টিতে এবং নিজের সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাবে। মূলত এসবই লেখার উদ্দেশ্য হতে পারে।
এতক্ষণে লেখার জন্ম থেকে তার যাত্রাপথের অনেকটাই জানা হয়েছে। কিন্তু একটি লেখা শেষ হওয়ার পর তার গন্তব্য কোথায়?
সময় প্রকাশনের প্রকাশক ফরিদ আহমেদ এবং বাতিঘরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক জাফর আহমদ রাশেদ কথা বলেন পাণ্ডুলিপি থেকে বই হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া নিয়ে। পাণ্ডুলিপি কীভাবে প্রস্তুত করতে হয়, বইয়ের সারসংক্ষেপে কী থাকতে পারে, লেখক পরিচিতি কীভাবে তৈরি করা যায় এবং একটি বই কেন প্রকাশযোগ্য—এসব বিষয় উঠে আসে আলোচনায়। ভালো লেখা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই লেখাকে গোছানোভাবে উপস্থাপন করাও লেখকের দায়িত্ব। একটি পরিচ্ছন্ন ও সুসংগঠিত পাণ্ডুলিপি লেখকের পেশাদারত্বের পরিচয় বহন করে।
ফিচার ও সংবাদ লেখার কৌশল নিয়ে কথা বলেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন। ‘ফাইভ ডব্লিউএইচ’ নীতি, পাঠকের মানসিকতা, শিরোনাম ও ইন্ট্রোর গুরুত্বের পাশাপাশি সঠিক তথ্যকে আকর্ষণীয় ও পাঠযোগ্য করে উপস্থাপনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। দিন যত এগোয়, লেখালেখির একটি বিষয় ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে—ভালো লেখা আসলে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রতিভার ফল নয়। পাঠ, পর্যবেক্ষণ, অনুভব, চর্চা, ব্যর্থতা এবং আবার শুরু করার সাহস থেকেই লেখকপ্রতিভা সমৃদ্ধ করে।
‘লেখক বন্ধু উৎসব ২০২৬’–এর সাতটি সেশন তাই লেখালেখির সাতটি আলাদা পাঠের মতো। কোথাও কবিতার ভাষা, কোথাও অনুবাদের দায়, কোথাও অল্প কথায় গল্প বলার কৌশল, কোথাও মানুষের জীবনকে দেখার চোখ। আবার কোথাও লেখকজীবনের কঠিন বাস্তবতা, কোথাও পাণ্ডুলিপি থেকে বই হয়ে ওঠার প্রস্তুতি।
দিন শেষে হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদ। শেষ হয় আয়োজন। কিন্তু লেখালেখির ক্ষেত্রে কোনো সমাপ্তি হয়তো আসলে সমাপ্তি নয়। কারণ, একটি লেখা শেষ হওয়ার পরও থেকে যায় আরেকটি লেখা। একটি গল্পের পর আরেকটি গল্প। একটি বইয়ের পর আরেকটি বই। আর প্রতিটি লেখার সঙ্গে লেখককে নিজের কাছে, নিজের দেখা পৃথিবীর কাছে, মানুষের কাছে আবার ফিরে যেতে হয়। লেখালেখি তাই শুধু শব্দ সাজানোর কাজ নয়। এটি নিজেকে খুঁজে ফেরারও এক দীর্ঘ যাত্রা। সেই যাত্রায় লেখককে হতে হয় পাঠক, পর্যবেক্ষক ও সংবেদনশীল মানুষ। চারপাশের পৃথিবীকে গভীরভাবে অনুভব করে তাকে ভাষায় রূপ দেওয়াই হয়তো লেখকের সবচেয়ে বড় সাধনা।
২৮ আগস্টের আয়োজন শেষ হয়েছে। কিন্তু যে প্রশ্নগুলো সেদিন উঠেছিল—একটি ভালো লেখা কীভাবে জন্ম নেয়, কেন মানুষ লেখে, লেখার দায়িত্ব কতটা, আর শব্দ কীভাবে অন্যের জীবনে আলো ফেলতে পারে, সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পথ এখনো বাকি...।
অংশগ্রহণকারী, লেখক বন্ধু উৎসব ২০২৬
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ইয়াছমিন আক্তার (৩৯) নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেপারীপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইয়াছমিন আক্তার রাউজান উপজেলার পূর্ব রাউজান কাজীপাড়া এলাকার কবির আহম্মদের মেয়ে। তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকার প্রবাসী চিসতিয়াকের স্ত্রী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইয়াছমিন চিকনদণ্ডীর বেপারীপাড়া এলাকায় একটি ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য ও ঝগড়া-বিবাদ হতো। এসব কারণে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হাটহাজারী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রিয়াজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ইয়াছমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ থানায় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণে এসে হার্ডিং ব্রিজের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাকিবুজ্জামান রকি নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ১০ মিনিটে হার্ডিং ব্রিজের পিলারের সঙ্গে ১২৩ জন যাত্রী বহনকারী বাল্কহেডের ধাক্কায় প্রথমে ৩ জন নিখোঁজ হন। পরে দুইজনকে উদ্ধার করা হলেও রাত ১টা পর্যন্ত রকি নিখোঁজ ছিলেন। নৌকা ভ্রমণে আসা যাত্রীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা কাতলা গাড়ি ঘাট থেকে ব্যবসায়িক গ্রুপের ১২৩ জন ভ্রমণকারী নিয়ে তারা ভেড়ামারা উপজেলার সোলাইমান শাহ মাজারে বেড়াতে আসেন। এছাড়াও ওই নৌকাতে মাঝিসহ আরও বেশ কয়েকজন লোক ছিলেন। মাজার বেড়ানো শেষে রাত ৯টা ১০ মিনিটে তারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে পৌঁছায়। এসময় স্রোতের প্রচণ্ড ধাক্কায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের চার নম্বর পিলারের সঙ্গে বাল্কহেডের পেছনের অংশের ধাক্কা লাগে। এসময় রকি, লিটন ও ওহাব নদীতে পড়ে যান। লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রকি নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনাস্থলে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস, ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। রকির বন্ধু আনিসুজ্জামান বলেন, সে যখন নৌকা থেকে পড়ে গেল, আমি তাকে ধরতে গিয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। সে যথেষ্ট শক্ত সামর্থবান ছেলে। সাঁতারে যথেষ্ট দক্ষতা আছে, আশা করছি ফিরে আসবে। ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, রকিকে উদ্ধারের জন্য নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বেশ কিছু ইউনিট কাজ করছে। বিষয়টি আমরা নজর রাখছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিরুল আরাফাত বলেন, এটি শৈলকুপার কবিরপুর এলাকার একটি ব্যবসায়িক দলের পিকনিকের নৌকা। তারা ভেড়ামারার সোলেমান শাহ’র মাজারে এসেছিলেন। এরই মধ্যে নিখোঁজ দুজন লিটন ও ওহাবকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রকিকে এখনো উদ্ধার করা যায়নি। রাত হওয়ায় উদ্ধার কাজ কঠিন হচ্ছে। রকিকে উদ্ধারের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিভিন্ন ইউনিট। আমরা প্রশাসনের সব ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছি। কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোলিং অফিসার ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় রাতেই নিখোঁজদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নৌকাটিতে প্রায় ১২৩ বা তার চেয়ে কয়েকজন বেশি যাত্রী ছিলেন। রাতে উদ্ধার অভিযান সম্ভব না হলে খুলনা থেকে বিভাগীয় ডুবুরি দল এনে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আল-মামুন সাগর/এমআইএইচএস
রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর ব্যবসায়ী শেখ ওয়াসিম ওরফে রনীর (৪৭) মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় তাঁর বন্ধু মাসুম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।শুক্রবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বেলায়েত হোসাইন আসামি মাসুমকে আদালতে হাজির করেন। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করা হয়।আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেলায়েত হোসাইন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসামিকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে। ভুক্তভোগী ও আসামি দুজন একই এলাকায় বড় হয়েছেন। তাঁরা বন্ধু ছিলেন, একই স্কুলে পড়েছেন। তাঁরা পৃথক ব্যবসা করতেন। ওয়াসিম জমি বেচাকেনায় মধ্যস্থতা করতেন। আর মাসুম ইমিটেশন গয়নার ব্যবসা করতেন।যেভাবে লাশ উদ্ধারশুক্রবার ভোরে পুরান ঢাকার লালবাগের বি সি দাস স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনের পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে ওয়াসিমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকালে তাঁর হাত-পা বাঁধা এবং মুখে পলিথিন মোড়ানো ছিল। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।এর আগে মাসুমকে সঙ্গে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই ভবনে তাঁর ইমিটেশন তৈরির কারখানায় অভিযান চালায় পুলিশ।লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামিল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী ওয়াসিম রনী তাঁর বন্ধু মাসুমের কাছে ধার দেওয়া পাওনা তিন লাখ টাকার চেক আনতে যান। কিন্তু আসামি মাসুম ওয়াসিমকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে ওপরে বালি ও সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে গুম করার চেষ্টা করেন।’পাওনা টাকার বিরোধে হত্যাপুলিশ জানায়, ওয়াসিমের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গত মঙ্গলবার লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর ভাই শেখ আবদুল করিম। জিডির সময় মাসুমও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তদন্তে নেমে মুঠোফোনের সূত্র ধরে মাসুমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম স্বীকার করেন, ওয়াসিম তাঁর কাছে তিন লাখ টাকা পেতেন এবং সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। মঙ্গলবার টাকা দেওয়ার কথা বলে ওয়াসিমকে কারখানায় ডেকে নেন মাসুম। সেখানে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মাসুম প্রথমে মাথায় আঘাত করে ওয়াসিমকে ফেলে দেন এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে হাত-পা বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ-পলিথিন পেঁচিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখেন।নিহত ওয়াসিম লালবাগের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজধানীর শনির আখড়ায় থাকতেন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী নুসরাত জাহান শুক্রবার লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।নিহত ওয়াসিম রনীর মেয়ে সুমাইয়া আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রায় পাঁচ মাস আগে বাবার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন ওই লোক (মাসুম)। বাবা বলতেন মাসুম তাঁর বন্ধু। গত দু–তিন মাস যাবৎ টাকা চাইলেও দিচ্ছিলেন না ওই লোক। সেদিন বাবা চেক আনতে গিয়েছিলেন। মাকে বলে গিয়েছিলেন। আমি বিচার চাই।’