কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে ১ হাজার ৯৪৪ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এক হাজার ৬০৮ জনের। এরমধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২০৭ জন, ফেল থেকে পাস করেছে ৩৩৬ জন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
শিক্ষাবোর্ড সূত্র মতে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন বিষয়ের ৩৫ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী মোট ৯১ হাজার ৪৯৪টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করে। এরপর পুনর্নিরীক্ষণে এক হাজার ৯৪৪ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ বলেন, পুনর্নিরীক্ষণের নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন করা উত্তরপত্রগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই শেষে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
জাহিদ পাটোয়ারী/এনএইচআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট জেতার অন্যতম কারিগর ছিলেন হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬টিসহ ম্যাচে মোট ৯ উইকেট নিয়ে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন। এবার ডারউইনের পারফরম্যান্সের জন্য আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের মনোনয়ন পেয়েছেন হাসান। তাঁর সঙ্গে আগস্ট মাসের সেরা হওয়ার দৌড়ে আছেন শ্রীলঙ্কার সোনাল দিনুশা ও ইংল্যান্ডের ওলি রবিনসন।গত ১৩ আগস্ট শুরু ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নেন হাসান। তাঁর এমন আগুন ঝরানো বোলিংয়ের ওপর ভর করেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটের বড় জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়ে পরের টেস্টে এক ইনিংস বোলিং করে অবশ্য উইকেট পাননি হাসান। তবে দুই টেস্টের সিরিজ শেষ করেছেন ১৯.৭৭ গড়ে মোট ৯ উইকেট নিয়ে।আগস্টে দুর্দান্ত খেলেছেন শ্রীলঙ্কার দিনুশাও। গলে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০০ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৮৪ রান। কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্টে ছিলেন আরও দুর্দান্ত। প্রথম ইনিংসে ১০৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৩ রানে অপরাজিত থেকে শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচ ড্র করতে সাহায্য করেন।ওদিকে ইংল্যান্ডের ওলি রবিনসন ছিলেন ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জেতানোর নায়ক। হেডিংলি ও লর্ডস দুই টেস্টেই নেন ৮টি করে মোট ১৬ উইকেট। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভর করে তিন ম্যাচ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। সব মিলিয়ে আগস্টে মাত্র ৭.১৮ গড়ে ১৬টি উইকেট নেন রবিনসন।অ্যামিস থেকে হারমান, ওয়ানডে অভিষেকের ২০ সেঞ্চুরিয়ান
‘বোন, এখানে কয়েক দিন ধরে ভয়ংকর গোলাগুলি হচ্ছে। থেমে থেমে গুলি চলে। আতঙ্কে আছি। থাকব না এখানে। দেশে চলে যাব।’মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে ছোট বোন মঞ্জুরা বেগমকে মুঠোফোনে কথাগুলো বলেছিলেন পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিহত বাংলাদেশি রমজান আলী (৫২)। দেশে ফেরার প্রক্রিয়াও শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু জীবিত অবস্থায় আর দেশে ফেরা হলো না তাঁর। পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হওয়ার পর রমজানের লাশ এখন কোয়েটার একটি হাসপাতালে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।রমজান আলীর বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে বসবাস করছিলেন তিনি। বেলুচিস্তানের পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রস এলাকায় কাস্টম হাউসে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট রাতে পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রসে কাস্টম হাউসে সন্ত্রাসীরা সমন্বিত হামলা চালায়। হামলায় ছয়জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন নিরাপত্তাকর্মী ও একজন কাস্টমস কর্মকর্তা ছিলেন। পাল্টা অভিযানে ১০ হামলাকারী নিহত হয়। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনও এ তথ্য জানিয়েছে।পরিবারের দাবি, নিহত ছয়জনের একজন রমজান আলী। তাঁর লাশ কোয়েটার একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।দেশে ফেরার চেষ্টা চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রমজান তৃতীয়। ১৯৮৯ সালে ১৮ বছর বয়সে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই তিনি পাকিস্তানে যান বলে জানান তাঁর স্বজনেরা। সেখানে বিয়ে করেননি। একাই থাকতেন।রমজানের বোন মঞ্জুরা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, মা-বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় রমজানের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল। তিনি তাঁদের জন্য টাকা পাঠাতেন। তবে গত সাত-আট বছর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল না। প্রায় ছয় মাস আগে আবার যোগাযোগ শুরু হয়।মঞ্জুরা বলেন, পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে একের পর এক হামলার ঘটনায় আতঙ্কিত ছিলেন তাঁর ভাই। দেশে ফেরার জন্য পাঁচ-ছয় মাস আগে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হলে রমজান টাকা পাঠান। পরে তাঁর জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে পরিবার।রমজানের ভগ্নিপতি কাইয়ুম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএসবি) একজন উপপরিদর্শক তাঁদের ঠিকানা ও পরিবারের তথ্য যাচাই করেছিলেন। এরপর প্রতিবেদন পাঠানোর কথা ছিল। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই রমজানের দেশে ফেরার কথা ছিল।মঞ্জুরা বলেন, মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে ফোন করে রমজান দেশে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। তখন তাঁকে খুব আতঙ্কিত মনে হচ্ছিল।দেশে ফিরে ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন মঞ্জুরা বেগম বলেন, তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কোয়েটায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশি থাকেন। তাঁদের একজন কক্সবাজারের বাসিন্দা ফোন করে রমজানের নিহত হওয়ার খবর দেন। এর পর থেকেই তাঁরা তাঁর লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেন।মঞ্জুরা বলেন, দেশে ফিরে ব্যবসা করার পরিকল্পনা ছিল রমজানের। এ জন্য প্রায় চার লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। বাড়ির লোকজনও তাঁর জন্য একটি দোকান ভাড়া করে রেখেছিলেন।জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) এসআই হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) থেকে রমজান আলীর ঠিকানা ও পরিবারের সদস্যদের তথ্য চাওয়া হয়েছিল। যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এরপর কী হয়েছে, তা তাঁদের জানা নেই।সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কেউ সহযোগিতা চাননি। বিষয়টি তাঁদের জানা নেই।সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তানে সীতাকুণ্ডের কোনো বাসিন্দা সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হওয়ার বিষয়ে তাঁকে কেউ জানায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি জানানো হয়নি।লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, রমজান আলী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে বসবাস করছিলেন। কিছুদিন আগে বাংলাদেশে ফেরার জন্য তিনি হাইকমিশনে আবেদন করেন। এরপর তাঁকে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন ছিল। এর মধ্যেই তিনি মারা যান।ওই কর্মকর্তা বলেন, রমজানের লাশ বেলুচিস্তানের একটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। লাশ দেশে পাঠানোর জন্য পাকিস্তান সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার পর পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে লাশ দেশে পাঠানো হবে।রমজানের ভগ্নিপতি কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, লাশ দেশে আনার জন্য তাঁরা পাকিস্তানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ দেশে পাঠানো হবে বলে তাঁদের জানানো হয়েছে।চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রমজান তৃতীয়। ১৯৮৯ সালে ১৮ বছর বয়সে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই তিনি পাকিস্তানে যান বলে জানান তাঁর স্বজনেরা। সেখানে বিয়ে করেননি। একাই থাকতেন।
‘অসম্ভব’ কখনো থেমে যাওয়ার কারণ হতে পারে না। প্রকৃত পরিবর্তনের শুরু হয় মানুষের কথা শোনা থেকে, সম্মান ও সহমর্মিতার সঙ্গে। সেই বোঝাপড়াকে কাজে রূপ দিতে হয়। জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এভাবে নিজের কাজ ও দর্শন তুলে ধরেছেন ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিশেষ সংবাদদাতা ইব্রাহীম হুসাইন অভি। সামাজিক উদ্যোক্তা ও ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এশিয়ার ‘নোবেল পুরস্কার’ হিসেবে পরিচিত এ পুরস্কারটি তার দীর্ঘদিনের মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, যা দুর্গম ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবিকা উন্নয়নে কাজ করে। ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল অনুপ্রেরণা কী ছিল? বাংলাদেশের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষের জন্য কাজ করতে আপনাকে কোন বিষয়টি তাড়িত করেছিল? আমি প্রথমবার যখন চরাঞ্চলে যাই, তখন এমন গভীর দারিদ্র্য দেখেছিলাম, যা আগে কখনো উপলব্ধি করিনি। মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা কিংবা অর্থনৈতিক সুযোগ- কোনোটিরই প্রায় কোনো প্রবেশাধিকার ছিল না। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় ছিল, অনেক মানুষ ভিন্ন কোনো আগামী দিনের আশা করার সম্ভাবনাটুকুও হারিয়ে ফেলেছিলেন। আরও পড়ুন র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান আমার দুঃখ ধীরে ধীরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হয়, আর সেই ক্ষোভ থেকেই তৈরি হয় দায়িত্ববোধ। আমি উপলব্ধি করি, কোনো কিছু সত্যিকারভাবে প্রত্যক্ষ করার পর আপনি আর সহজে সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন না। ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠার সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল? কীভাবে তা মোকাবিলা করেছিলেন? প্রথম চ্যালেঞ্জটি ছিল খুবই সহজ- কেউ বিশ্বাস করতো না যে এটি সম্ভব। মানুষ প্রশ্ন করতো, কীভাবে একটি জাহাজে অপারেশন থিয়েটার পরিচালনা করব, চিকিৎসক পাবো, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলমান চরাঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছাবো কিংবা এমন একটি উদ্যোগের অর্থায়ন করব, যা আগে এভাবে কখনো করা হয়নি। র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত রুনা খান আমি মডেলটিকে সহজ, বাস্তবসম্মত ও নির্ভরযোগ্য করার চেষ্টা করেছি। এরপর ফলাফলকেই কথা বলতে দিয়েছি। কাজ শুরুর আগে আস্থা আসেনি, বরং কাজের মাধ্যমেই আস্থা তৈরি হয়েছে। আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি যাদের জীবনে স্পর্শ করছি, তাদের জীবন যেন আমাদের কাছে আসার চেয়ে ভালো অবস্থায় রেখে যেতে পারি। তখন অনেকেই হয়তো আপনার উদ্যোগকে ‘অসম্ভব’ মনে করেছিলেন। সেই প্রতিরোধ কীভাবে অতিক্রম করেছিলেন? শুরুতেই শিখেছিলাম, কোনো কিছু সম্ভব- এটি মানুষকে বোঝাতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। সারাজীবন আমি যেভাবে কোনো কাজ করা উচিত বলে মনে করেছি, সেভাবে করতে চেয়েছি। আর আমাকে প্রায়ই বলা হয়েছে, সেটি অসম্ভব। তাই ‘অসম্ভব’ শব্দটির সঙ্গে আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি এবং এখন আর এটি আমাকে বিরক্ত করে না। আমার বিশ্বাস, ‘অসম্ভব’ অনেক সময় আমাদের নিজেদের তৈরি একটি সীমাবদ্ধতা। সাহস মানে সমস্যার অনুপস্থিতি নয়, বরং সিদ্ধান্ত নেওয়া যে সমস্যাটি আপনার হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না আপনি যাদের সাহায্য করতে চান, তাদের কথা যদি সম্মান ও সহমর্মিতার সঙ্গে শোনেন, তাহলে পরিবর্তন আসবেই- এটি আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি। আমি মানুষের কথা শুনি, কাজ করি, কোন পদ্ধতি কার্যকর হচ্ছে তা দেখাই, ব্যর্থতা থেকে শিখি এবং পরেরবার আরও ভালোভাবে করার চেষ্টা করি। আরও পড়ুন ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট আমার বিশ্বাস, ‘অসম্ভব’ অনেক সময় আমাদের নিজেদের তৈরি একটি সীমাবদ্ধতা। সাহস মানে সমস্যার অনুপস্থিতি নয়, বরং সিদ্ধান্ত নেওয়া যে সমস্যাটি আপনার হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না। ফ্রেন্ডশিপের দর্শন কীভাবে বিকশিত হয়েছে? স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবিকা, কৃষি, সৌরবিদ্যুৎ, জলবায়ু অভিযোজন ও আইনি সহায়তায় কাজের অভিজ্ঞতা কীভাবে এই সমন্বিত মডেল গড়ে তুলেছে? আমরা স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে শুরু করেছিলাম। কারণ একজন মানুষ যখন অসুস্থতায় ভুগছেন, তখন তিনি শিক্ষা, আয় কিংবা ক্ষমতায়নের কথা ভাবতে পারেন না। কিন্তু খুব দ্রুত বুঝতে পারি, দারিদ্র্য বহুমাত্রিক। একজন মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে আবার তাকে ক্ষুধা, অন্যায়, জলবায়ু ঝুঁকি ও হতাশার মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। সামাজিক কাজে মাঠপর্যায়ে রুনা খান তাই ফ্রেন্ডশিপ কোনো নির্দিষ্ট খাত বা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নয়, বরং মাঠপর্যায়ে মানুষের যে প্রয়োজনগুলো আমরা দেখেছি, সেগুলো কেন্দ্র করেই ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই- মানুষকে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেওয়া, যার ওপর দাঁড়িয়ে তারা নিজেদের জীবন সুযোগ, মর্যাদা ও আশার সঙ্গে গড়ে তুলতে পারে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে ফ্রেন্ডশিপ যে পরিবর্তন আনে, তা কতটা টেকসই? দীর্ঘমেয়াদে আপনারা যে সক্ষমতা তৈরি করছেন, তা কীভাবে ধরে রাখা হয়? একটি সম্প্রদায় যখন আপনার ওপর নির্ভরশীল থাকে না, তখনই প্রকৃত টেকসই পরিবর্তন তৈরি হয়। আমরা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে থেকেই শিক্ষক, কমিউনিটি মেডিক, প্যারালিগ্যাল, দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক, প্রযুক্তিবিদ ও উদ্যোক্তা তৈরি করি। একই সঙ্গে তাদের সরকারি ব্যবস্থা ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করি। একটি দ্বীপ নদীগর্ভে হারিয়ে গেলেও একজন মানুষের সঙ্গে থাকা জ্ঞান হারিয়ে যায় না। টেকসই পরিবর্তনের প্রকৃত মাপকাঠি হলো- মানুষ যেন আমাদের অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা অর্জন করে। গত ২৪ বছরের কোন অর্জনটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি গর্বিত করে? এমন কোনো মানুষ বা পরিবার কি আছে, যার পরিবর্তন আপনাকে মনে করিয়েছে- ‘এ কারণেই কাজটি শুরু করেছিলাম’? আমি প্রতিদিনই এমন বিষয় দেখি। যখন এমন কোনো শিশুকে দেখি, যে আগে হাঁটতে পারতো না, কিন্তু আমাদের করা একটি অস্ত্রোপচারের পর আজ হাঁটতে পারে, তখন মনে হয় এটাই কাজটির কারণ। এমন শিশুকেও দেখেছি, যে দেখতে পারতো না, কিন্তু চিকিৎসার পর দেখতে পারছে। আরও পড়ুন শেখ হাসিনায় নীরব ভারত, তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা এমন গ্রাম দেখেছি, যেখানে একজন মানুষও ঠিকমতো পড়তে বা লিখতে পারতো না। পরে সেই গ্রামের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষ পড়তে ও লিখতে সক্ষম হয়েছে। এমন মেয়েদেরও দেখেছি, যাদের ১০ বা ১২ বছর বয়সেই বিয়ে দেওয়া হতো, তারা আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে পড়াশোনা করছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন, তারা এটিকে শুধু চাকরি হিসেবে দেখেন না; বরং একটি পরিবারের মতো মনে করেন। হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ যাত্রায় এগিয়ে যেতে হলে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক যত্নের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমরা আমাদের কাজকে আইকাসের (ইন্টিগ্রেটেড ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন সিস্টেম) মাধ্যমে একটি ব্যবস্থায় রূপ দিতে পেরেছি, এটিও আমার জন্য গর্বের বিষয়। সঠিক সময়ে, সঠিক উপায়ে ও প্রয়োজন অনুযায়ী মানুষের প্রয়োজনীয় ঘাটতিগুলো পূরণ করাই এর লক্ষ্য। এই ব্যবস্থা বিভিন্ন অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীতে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। সব সমস্যার একক সমাধান নেই, তবে এর বিভিন্ন অংশ প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যায়। যখন মানুষের প্রয়োজনীয় ঘাটতিগুলো পূরণ হয়, তখন তারা একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ানোর সুযোগ পায়, চোরাবালির ওপর নয়। সামাজিক কাজে মাঠপর্যায়ে রুনা খান আরেকটি বিষয় আমাকে খুব গর্বিত করে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন, তারা এটিকে শুধু চাকরি হিসেবে দেখেন না; বরং একটি পরিবারের মতো মনে করেন। হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ যাত্রায় এগিয়ে যেতে হলে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক যত্নের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি আপনি র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার পেয়েছেন। এটিকে কি আপনি ব্যক্তিগত স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন, নাকি ফ্রেন্ডশিপের সঙ্গে যুক্ত হাজারো মানুষের স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন? আমি কোনোভাবেই এটিকে ব্যক্তিগত পুরস্কার হিসেবে দেখতে পারি না। ফ্রেন্ডশিপ টিকে আছে হাজারো সহকর্মী, অংশীদার ও কমিউনিটির মানুষের কারণে। তারা বিশ্বাস করেছেন, কাজ করেছেন, সংগ্রাম করেছেন এবং কাজ যখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে, তখনও নিজেদের প্রতিশ্রুতিতে অটল থেকেছেন। শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও অনেক মানুষ এই যাত্রার অংশ হয়েছেন। আমি ২০০৪ সালে ফ্রেন্ডশিপ ইন্টারন্যাশনাল শুরু করি এবং ২০০৬ সালে এটি নিবন্ধিত হয়। এর মাধ্যমে এমন একটি আন্তর্জাতিক পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছি, যাদের চিন্তা, ধারণা ও মূল্যবোধ বাংলাদেশের ফ্রেন্ডশিপের সঙ্গে এতটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ যে তারা প্রতিষ্ঠানটিরই একটি সম্প্রসারণ হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পুরস্কার বাংলাদেশের মানুষের। তাদের সাহস ও দৃঢ়তা আমাদের শিখিয়েছে কী সম্ভব। পুরস্কারে আমার নাম থাকতে পারে, কিন্তু এই অর্জন কখনোই একার নয়। আপনার জীবনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা কে? আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষক ছিলেন আমার বাবা আলীমুর রহমান খানের আধ্যাত্মিক, দার্শনিক ও নৈতিক গুণাবলি এবং আমার মা বানু পান্নির মমতা ও বিনয়। তাদের জীবনযাপন আমাকে আজকের আমি হয়ে উঠতে শিখিয়েছে। আমার বাবা একটি খুব বাস্তব ধারণার বীজও বপন করেছিলেন। তিনিই পরামর্শ দিয়েছিলেন, জাহাজটিকে একটি ক্লিনিকে পরিণত করা যেতে পারে। তবে অনুপ্রেরণা কখনো একজন মানুষের কাছ থেকে আসে না। আমি সবার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি। কারণ প্রজ্ঞার সঙ্গে সামাজিক মর্যাদার খুব বেশি সম্পর্ক নেই গত ২৫ বছর ধরে যারা আমাদের তাদের জীবনের সঙ্গে পথচলার সুযোগ দিয়েছেন, যাদের অনেক সময় সমাজ খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বা ক্ষমতাবান বলে মনে করে না, তাদের কাছ থেকেও আমি অনেক শিখেছি। আমি দেখেছি, নারীরা ঘর, জমি ও জীবিকা হারিয়েও কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, সন্তানদের রক্ষা করেছেন এবং প্রতিবেশীদের সহায়তা করেছেন। আরও পড়ুন জানালেন শাহে আলম / আওয়ামী লীগ নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে এলে বিএনপির অবস্থান কী হবে আমার বাবা একটি খুব বাস্তব ধারণার বীজও বপন করেছিলেন। তিনিই পরামর্শ দিয়েছিলেন, জাহাজটিকে একটি ক্লিনিকে পরিণত করা যেতে পারে। তবে অনুপ্রেরণা কখনো একজন মানুষের কাছ থেকে আসে না। আমি সবার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি। কারণ প্রজ্ঞার সঙ্গে সামাজিক মর্যাদার খুব বেশি সম্পর্ক নেই। জলবায়ু পরিবর্তন, বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য ও রোহিঙ্গা সংকট ক্রমেই জটিল হচ্ছে। আগামী ১০ বছরে ফ্রেন্ডশিপের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার কী হবে? আমাদের অগ্রাধিকার হতে হবে বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আমাদের মতো জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যারা কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে আমাদের শেখা ও ব্যর্থতার অভিজ্ঞতাগুলো আরও শক্তিশালীভাবে ভাগ করে নেওয়া। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, জ্ঞান, নৈতিকতা ও অভিজ্ঞতা যেন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেষ হয়ে না যায়। আমার কাছে সফট স্কিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত সাফল্যের পেছনে যে সফট স্কিল কাজ করে, সেগুলোকেও উদ্ভাবন, সিস্টেম ও প্রযুক্তির মতো হার্ড স্কিলের সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে আমার কাছে সফট স্কিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত সাফল্যের পেছনে যে সফট স্কিল কাজ করে, সেগুলোকেও উদ্ভাবন, সিস্টেম ও প্রযুক্তির মতো হার্ড স্কিলের সমান গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। এ কারণেই ফ্রেন্ডশিপ একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ। মাঠপর্যায়ে যা শেখা হয়েছে, তা জ্ঞানে পরিণত করতে হবে, যাতে অন্যরাও সেটিকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার ও অভিযোজিত করতে পারে। আমরা দীর্ঘ একটি শৃঙ্খলের কেবল একটি অংশ। বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে চান এমন মানুষদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ কী? মানুষকে ‘উদ্ধার’ করতে যাবেন না। প্রথমে তাদের কথা শুনতে যান, তাদের বোঝার চেষ্টা করুন—তারা কী বলছেন এবং কী বলতে পারছেন না, সেটিও বুঝুন। সামাজিক কাজে মাঠপর্যায়ে রুনা খান কখনো ধরে নেবেন না যে আপনার বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত অবস্থান আপনাকে সেই কমিউনিটির মানুষের চেয়ে বেশি জ্ঞানী করে তুলেছে। মনে রাখবেন, দরিদ্র মানুষ নিম্নমানের সমাধান গ্রহণ করার সামর্থ্য রাখেন না। তাই মানসম্মত সেবা, মর্যাদা ও সততা কোনো বিলাসিতা নয়। মানুষকে সুযোগ ও একটি শক্ত ভিত্তি দিন। তারা আপনার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি কিছু তৈরি করতে পারবে। ২৪ বছর আগে প্রান্তিক মানুষের জীবন প্রথম দেখার সেই সময়ে ফিরে যেতে পারলে, সেই তরুণ রুনা খানকে আজ কী বলতেন? আমি তাকে বলতাম- কাজটি করো, এটি সব সময়ই সম্ভব। মানুষ যখন বলবে এটি অসম্ভব, তখন ভয় পেও না। তুমি যে কষ্ট দেখছো, সেটিকে দায়িত্বে পরিণত করো। আর বিশ্বাস ও অন্তর্দৃষ্টির মূল্য কখনো অবমূল্যায়ন কোরো না। বিনয়কে সব সময় তোমার শক্তি হিসেবে ধরে রেখো। এর সঙ্গে রাখো কঠোর পরিশ্রম, সাহস ও নিজের জন্য নির্ধারণ করা গভীর মূল্যবোধ। তোমার দৃষ্টি অবশ্যই তারার দিকে থাকতে হবে। তা না হলে চাঁদে পৌঁছাবে কীভাবে? তবে তোমার পা সব সময় মাটিতে গভীরভাবে গেঁথে রাখবে। কারণ সেটিই তোমাকে বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত রাখবে। আইএইচও/এএসএ