খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু তাৎক্ষণিক কোনো ত্রাণ বিতরণ বা ব্যক্তিপর্যায়ের দান-খয়রাতের বিষয় নয়; বরং এটি পরিবেশগত প্রাচুর্য, রাষ্ট্রীয় দূরদর্শিতা এবং সুশাসনের এক সমন্বিত কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। আধুনিক বিশ্বে যখন খাদ্য সংকট, মূল্যস্ফীতি ও অপুষ্টি প্রকট আকার ধারণ করছে, তখন ইসলামি জীবনদর্শন ক্ষুধা দূরীকরণে এক সুদূরপ্রসারী ও বহুমাত্রিক রূপরেখা উপস্থাপন করে।
ইসলাম কৃষিকাজ ও বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়ার মর্যাদা দিয়েছে, শাসকদের নির্দেশ দিয়েছে জনগণের অভাব ও ক্ষুধার সরাসরি অংশীদার হতে এবং দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছে।
মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও নবীজির পারিবারিক জীবন ছিল চরম সংযমী ও কৃচ্ছ্রতাপূর্ণ। তিনি এবং তাঁর পরিবারবর্গ প্রায়ই রাতের পর রাত অভুক্ত অবস্থায় কাটাতেন।
খাদ্য সুরক্ষার প্রাথমিক শর্ত হলো ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার ও কৃষিশস্যের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করা। ইসলাম কৃষিকাজ ও গাছ লাগানোকে নিছক পার্থিব পেশা নয়; বরং মহিমান্বিত ইবাদত ও সদকা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যদি একটি বৃক্ষ রোপণ করে কিংবা কোনো শস্যবীজ বপন করে, অতঃপর তা থেকে কোনো মানুষ, পাখি কিংবা কোনো চতুষ্পদ জন্তু আহার করে—তবে তা রোপণকারীর জন্য একটি সদকা হিসেবে গণ্য হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩২০)
পরিবেশ ও খাদ্য সুরক্ষার প্রশ্নে ইসলাম কতটা আপসহীন, তা নবীজির একটি ঐতিহাসিক বাণীতে ফুটে উঠেছে, ‘যদি কেয়ামত সমাগত হয়ে যায় এবং তোমাদের কারও হাতে একটি খেজুরগাছের চারা থাকে, তবে সে যেন কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই তা জমিনে রোপণ করে দেয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৯০২)
জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উৎপাদনশীল থাকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খাদ্য ও বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়ার এমন দর্শন মানব ইতিহাসে বিরল।
জনগণ যখন খাদ্যাভাবে কষ্ট পায়, তখন শাসক বা নীতিনির্ধারকরা যদি রাজকীয় বিলাসবহনে গা ভাসিয়ে দেন, তবে সেই রাষ্ট্র কখনোই খাদ্য সংকটের টেকসই সমাধান করতে পারে না। ইসলাম নির্দেশ দেয়—শাসককে জনগণের দুঃখ-কষ্টের সহমর্মী হতে হবে।
মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও নবীজির পারিবারিক জীবন ছিল চরম সংযমী ও কৃচ্ছ্রতাপূর্ণ। তিনি এবং তাঁর পরিবারবর্গ প্রায়ই রাতের পর রাত অভুক্ত অবস্থায় কাটাতেন; তাঁদের ঘরে রাতের কোনো খাবার থাকত না। আর তাঁদের অধিকাংশ আহারই ছিল সাধারণ যবের তৈরি রুটি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৬০)
১৮ হিজরির ঐতিহাসিক ‘আমুর রামাদাহ’ বা চরম দুর্ভিক্ষের সময়ে দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ঘোষণা দিয়েছিলেন, যতদিন সাধারণ জনগণের খাদ্যাভাব দূর না হবে, ততদিন তিনি ঘি, দুধ বা গোশত স্পর্শ করবেন না। শাসকের এই নৈতিক দায়বদ্ধতাই রাষ্ট্রের যাবতীয় সম্পদকে সাধারণ মানুষের ক্ষুধা নিবারণে নিয়োজিত করার প্রেরণা জোগায়।
প্রশাসনিক কর্মকর্তার মৌলিক চাহিদা অপূরণীয় থাকলে খাদ্য বণ্টনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। যে কর্মী নিজের পরিবারের অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের দুশ্চিন্তায় জর্জরিত থাকে, তার কাছ থেকে দুর্নীতিমুক্ত সেবা পাওয়া সম্ভব নয়।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সম্ভাব্য সংকট ও বৈরী আবহাওয়া অনুধাবন করে রাষ্ট্রকে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। কোরআনের সুরা ইউসুফে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় কৌশলগত সংরক্ষণ ও সুষম বণ্টনের এক নিখুঁত বৈজ্ঞানিক রূপরেখা রয়েছে।
মিসরে আসন্ন সাত বছরের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের পূর্বাভাস পেয়ে তৎকালীন শাসককে নবী ইউসুফ (আ.) যে বাস্তবমুখী নীতি দিয়েছিলেন, কোরআনে তা এভাবে বিবৃত হয়েছে:
‘[ইউসুফ] বললেন, তোমরা একটানা সাত বছর চাষাবাদ করবে; অতঃপর তোমরা যা কাটবে, তার মধ্য থেকে অল্প যা তোমরা আহার করবে তা ছাড়া বাকি সমস্ত ফসল তার শিষ বা শিষের খোসাসহই রেখে দেবে। এরপর আসবে চরম দুর্ভিক্ষের কঠিন সাত বছর, যা তোমাদের পূর্বসঞ্চিত প্রায় সমস্ত ফসল খেয়ে ফেলবে—তবে অল্প কিছু যা তোমরা বীজের জন্য সংরক্ষণ করবে তা ছাড়া। এরপর আসবে এমন একটি বছর, যাতে মানুষ প্রচুর বৃষ্টি লাভ করবে এবং তাতে তারা রস ও তেল নিংড়াবে।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৪৭-৪৯)
শস্যকে পোকা ও আর্দ্রতার হাত থেকে বাঁচাতে শিষসহ সংরক্ষণ করার এই কোরআনি নির্দেশনা আধুনিক কৃষিবিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান নীতি। অর্থাৎ, কৃষিতে উদ্বৃত্ত উৎপাদন, বিজ্ঞানসম্মত গুদামজাতকরণ এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের দায়িত্বে সৎ ও দক্ষ জনবল নিয়োগ করা খাদ্য নিরাপত্তার অপরিহার্য শর্ত।
প্রশাসনিক কর্মকর্তার মৌলিক চাহিদা অপূরণীয় থাকলে খাদ্য বণ্টনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। যে কর্মী নিজের পরিবারের অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের দুশ্চিন্তায় জর্জরিত থাকে, তার কাছ থেকে দুর্নীতিমুক্ত সেবা পাওয়া সম্ভব নয়।
রাসুল (সা.) রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্তদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের রাষ্ট্রীয় কোনো কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত হলো, অথচ তার বাসস্থান নেই—সে যেন একটি বাসস্থান গ্রহণ করে; যার স্ত্রী নেই, সে যেন বিবাহ করে; যার সেবক নেই, সে যেন একজন সেবকের সংস্থান করে; এবং যার বাহন নেই, সে যেন একটি বাহন গ্রহণ করে। এর অতিরিক্ত কিছু যদি কেউ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে, তবে তা হবে খেয়ানত বা আত্মসাৎ।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৯৪৫)
কর্মচারীদের সম্মানজনক জীবনযাত্রার সংস্থান করে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব, যেন তারা অবৈধ উপার্জনের পথে পা না বাড়ায়।
রাষ্ট্রীয় ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা যখন কালোবাজারি ও দুর্নীতির শিকার হয়, তখন দরিদ্র মানুষ অনাহারে মারা যায়। ইসলাম দুর্নীতির সব পথ কঠোরভাবে বন্ধ করেছে।
দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাই হলো জাতীয় সম্পদ ধ্বংস এবং মানবসৃষ্ট খাদ্য সংকটের মূল কারণ। রাষ্ট্রীয় ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা যখন কালোবাজারি ও দুর্নীতির শিকার হয়, তখন দরিদ্র মানুষ অনাহারে মারা যায়। ইসলাম দুর্নীতির সব পথ কঠোরভাবে বন্ধ করেছে।
রাসুল (সা.) ‘ইবনুল লুতবিয়্যাহ’ নামক এক ব্যক্তিকে জাকাত আদায়ের দায়িত্বে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ফিরে এসে কিছু মাল জমা দিয়ে বললেন, ‘এটি সরকারি তহবিল, আর এটি আমাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে!’
নবীজি (সা.) ক্ষোভ প্রকাশ করে মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন, ‘আমি কাউকে কোনো দায়িত্বে পাঠালে সে কেন এমন কথা বলে যে—এটি আপনাদের সম্পদ আর এটি আমার উপহার? সে তার মা-বাবার ঘরে বসে রইল না কেন, তখন দেখত তাকে কেউ উপহার পাঠায় কি না! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ—তোমাদের কেউ যদি অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রের সামান্যতম সম্পদও আত্মসাৎ করে, তবে কেয়ামতের দিন সে তা নিজের ঘাড়ে বহন করে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে...।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫৯৭)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ যদি রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে একটি সুঁই কিংবা তার চেয়েও তুচ্ছ বস্তু গোপনে রেখে দেয়, তবে তা-ও মারাত্মক আত্মসাৎ (গুলুল) হিসেবে গণ্য হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৩৩)
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
প্রথম টেস্টে ইনিংস পরাজয়, পরের টেস্টে বড় ব্যবধানে হার। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) খেলোয়াড়দের ওপর এতটাই খেপে গিয়েছিল, সিরিজের মাঝপথে কোচ এবং একসঙ্গে ৭ ক্রিকেটারকে ছাঁটাই করে। এজবাস্টনে তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাপক রদবদল নিয়ে মাঠে নামে পাকিস্তান। এবার অবশ্য লড়াই করেছে। তবে ফলাফল বদলায়নি। হারতেই হয়েছে পাকিস্তানকে। পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের শিকার হলো। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট জয়ের অপেক্ষাও আরও দীর্ঘ হলো পাকিস্তানের। তৃতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন সকালে পাকিস্তান যখন বড় ব্যবধানে হারের মুখে, তখনই নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে ৪৪৯ রান করে পাকিস্তান। ফলে ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩০ রান। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুটা স্বস্তিদায়ক ছিল না ইংল্যান্ডের। দ্রুতই বেন ডাকেট ও এমিলিও গে আউট হয়ে গেলে পাকিস্তানের সামনে ম্যাচে ফেরার ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে অভিজ্ঞ জো রুট ও জর্ডান কক্স সেই সম্ভাবনা আর বাস্তবে রূপ নিতে দেননি। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১৩১ রানে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। ফলে ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের। এর আগে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানকে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে দেয় ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ। জশ টং ৪২ রানে ৪ উইকেট নেন। ওলি রবিনসন ও জোফরা আর্চার শিকার করেন তিনটি করে উইকেট। জবাবে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস থামে ৪৫৩ রানে। হ্যারি ব্রুক ৭৫, জেমি স্মিথ ৬৯, ড্যান লরেন্স ৬৫, এমিলিও গে ৬০ এবং ওলি রবিনসন ৫০ রান করেন। এতে পাকিস্তান ইনিংস ব্যবধানে হারের প্রবল শঙ্কায় পড়ে। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের ব্যাটাররা সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা দেখান। শান মাসুদ ৯৫ রান করে মাত্র পাঁচ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন। বাবর আজম করেন ৭৬ এবং আজান আওয়াইসের ব্যাট থেকে আসে ৫৯ রান। তবে পাকিস্তানের লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা ২১ বছর বয়সী রাজাউল্লাহ। নয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল নয়টি ছক্কা। এর আগে বল হাতেও নজর কাড়েন এই তরুণ, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ জো রুটের উইকেটও তুলে নেন। রাজাউল্লাহর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান বড় ধাক্কা সামলে ম্যাচকে চতুর্থ দিন পর্যন্ত টেনে নেয়। মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে তার ১২১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি পাকিস্তানকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেয়। আব্বাস করেন ক্যারিয়ারসেরা ৪২ রান। রাজাউল্লাহর নয়টি ছক্কা ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনো টেস্ট ইনিংসে এক ব্যাটারের যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। সিরিজের প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ড জিতেছিল ইনিংস ও ১০৩ রানে, দ্বিতীয় টেস্টে জয় এসেছিল ১৯৪ রানে। তৃতীয় টেস্টে ৮ উইকেটের জয় দিয়ে সিরিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করলো স্বাগতিকরা। এমএমআর
ডেঙ্গু পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারা দেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিস্তারিত ভিডিওতে....