২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে পুলিশ, র্যাব ও আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী হামলা চালায় বলে জবানবন্দি দিয়েছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মো. শাবাব হোসেন মেহের।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, হামলার সময় পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও শটগান থেকে গুলি চালায়। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে আশ্রয় নিলে পুলিশ গেটের ভেতর শটগান ঢুকিয়ে তাদের ওপর গুলি করে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্র পক্ষের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শাবাব হোসেন।
জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় তিনি এ জবানবন্দি দেন।
মামলার আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক এবং জুনাইদ আহমেদ পলক কারাগারে রয়েছেন।
জবানবন্দিতে ১৮ জুলাইয়ের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শাবাব বলেন, ‘ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ, র্যাব ও আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী হামলা চালায়। আমাদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও শটগান থেকে গুলি করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘তাদের হামলার ফলে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নিলে পুলিশ গেটের ভেতরে শটগান ঢুকিয়ে তাদের ওপর গুলি করে। তাদের হামলায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ২০০ থেকে ২৫০ জন এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০-এর বেশি শিক্ষার্থী আহত ও নিহত হন।’
শাবাব বলেন, ওই দিন ইম্পেরিয়াল কলেজের ছাত্র জিল্লুর শেখ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। সাড়ে ১২টার দিকে জিল্লুর শেখের লাশ আন্দোলনকারীরা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভেতরে নিয়ে আসে। আমি সেখানে ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহতদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। আন্দোলন শেষে সন্ধ্যায় তিনি বাসায় ফিরে যান।
জবানবন্দিতে শাবাব বলেন, ১৮ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়। ২৩ জুলাইয়ের পর সীমিত আকারে ইন্টারনেট সংযোগ চালু হলে তারা জানতে পারেন, সারা দেশে ব্লক রেইড হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের অনেকে আহত ও নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ওই বছরের আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কল রেকর্ড শুনতে পান। তার দাবি, ওই কল রেকর্ডে তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের কথোপকথন ছিল।
শাবাবের দাবি, ওই কথোপকথন থেকে তিনি জানতে পারেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের তত্ত্বাবধানে জুনাইদ আহমেদ পলক ইন্টারনেট বন্ধ করেছিলেন। সজীব ওয়াজেদ জয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।
আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়ী করেন শাবাব।
বিশেষ করে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনায় সজীব ওয়াজেদ জয়, জুনাইদ আহমেদ পলক ও সালমান এফ রহমানকে দায়ী করেন তিনি। একই সঙ্গে এসব হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের জন্য দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন সাক্ষী।
সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের অনুমোদনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন।
ওই স্ট্যাটাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ মার্চ ছাত্র-শিক্ষকদের গণহত্যা এবং আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ স্লোগান নিয়ে মন্তব্য করা হয়।
এরপর একই দিন রাত পৌনে ১টার দিকে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ব্যবহৃত ‘রাজাকার’ স্লোগানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ক্যাপশনসহ একটি ছবি পোস্ট করার অভিযোগ রয়েছে পলকের বিরুদ্ধে। রাত ১টা ১৫ মিনিটে তিনি আরও একটি ছবিসহ পোস্ট শেয়ার করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশ, অনুমোদন ও জ্ঞাতসারে জুনাইদ আহমেদ পলকের এসব ফেসবুক পোস্টের পর ১৪ ও ১৫ জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী হামলা শুরু করে।
এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হন এবং আহতদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের গুরুতর জখম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিরীহ ও নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত ছিল।
এতে আরও বলা হয়, ওই সময়ে সারা দেশে আবু সাঈদসহ এক হাজার ৪০০-এর বেশি আন্দোলনকারী নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা গুরুতর আহত হন। এসব অপরাধ আসামিদের নির্দেশ, জ্ঞাতসারে অথবা অপরাধ সংঘটনের সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এফএইচ/জেএইচ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
অভিনেতা ও গায়ক মুকুল জামিল আর নেই। রোববার রাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন তিনি। মুকুল জামিলের আকস্মিক মৃত্যুতে সংগীত ও অভিনয় অঙ্গনে শোক নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনয় ও সংগীতাঙ্গনের অনেকেই। মুকুল জামিলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, অভিনয়শিল্পী সংঘের সম্মানিত সদস্য মুকুল জামিল ইন্তেকাল করেছেন। তার বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। উনার প্রয়াণে আমরা গভীর শোকাহত।’ ছোটবেলা থেকে রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি ঝোঁক ছিল মুকুল জামিলের। বোনের হাত ধরেই গানে আসা। জীবনের ৩০ টির বেশি মিক্স অ্যালবামে কাজ করেছেন তিনি। একটি সলো অ্যালবাম রয়েছে, নাম ‘আমি তো এমনই’। তার বেশ কিছু গান শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘মন’, ‘আচ্ছা’, ‘বিলবোর্ড’, ‘ভালবাসার মানে’ ও ‘ফাগুনের হাওয়া’। এ ছাড়া তার ‘চায়ের চুমুকে’ গানটি এটিএন বাংলায় প্রচারিত হয়েছে। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও কাজ করেছেন মুকুল জামিল। ‘ওয়েডিং বেলস’ (২০১৯), ‘আমানুষ’ (২০২২) ও ‘ছাত্রী বউ’ (২০২৪)-এর মতো চলচ্চিত্রে যুক্ত ছিলেন তিনি। এমআই/এলআইএ
গাজীপুরের টঙ্গীতে কাভার্ডভ্যান চাপায় রাব্বি (৮) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টঙ্গী-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক শাখা সড়কের নতুন বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বি টঙ্গীর ব্যাংকের মাঠ বস্তির সালামত মিয়ার ছেলে। সে রেলওয়ে শিশু বিদ্যানিকেতনের দ্বিতীয় শ্রেণীতে লেখাপড়া করত। পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে স্কুল ছুটির পর বাসার ফিরছিলো শিশু রাব্বি। এসময় নতুন বাজার এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দিলে গুরুতর আহত হয় সে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আরও পড়ুন বিআরটিসি বাস পিষে দিলো স্কুলছাত্রকে ঘটনার পর কাভার্ডভ্যান ও চালক রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম। শিহাব খান/এনএইচআর
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুল কাটাতে বাড়ি ছেড়েছিল রায়হান। সাত মাস পর ফিরল ডান পা কাটা অবস্থায়। পরিবারের অভিযোগ, ভিক্ষায় নামাতে একটি চক্র তাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...