জাতীয়

জীবনের মূল্যায়ন যেভাবে করতে বলে ইসলাম

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
জীবনের মূল্যায়ন যেভাবে করতে বলে ইসলাম
জীবনের মূল্যায়ন যেভাবে করতে বলে ইসলাম

মানুষের সামগ্রিক জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ কী? বাহ্যিক দৃষ্টিতে অনেকেই হয়তো অর্থবিত্ত, প্রভাব-প্রতিপত্তি, পদমর্যাদা কিংবা পার্থিব খ্যাতিকে বড় মনে করতে পারেন; কিন্তু বাস্তবতার বিচারে মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ ও অপূরণীয় সম্পদ হলো তার জীবন এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত—তথা সময়।

হারানো ধনসম্পদ কঠোর পরিশ্রমে আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব, নষ্ট হওয়া স্বাস্থ্য চিকিৎসার মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা যায়; কিন্তু জীবন থেকে যে একটি মুহূর্ত একবার খসে পড়ে, পৃথিবীর সব ধনভান্ডার একত্র করলেও সেই মুহূর্তটিকে আর কখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

ইসলামের মৌলিক দর্শনে জীবন নিছক ভোগবিলাস কিংবা বল্গাহীন বিচরণের জন্য পাওয়া কোনো অবকাশ নয়; এটি মহান রবের পক্ষ থেকে বান্দাকে দেওয়া এক পবিত্র ও সীমিত আমানত।

আল্লাহ–তাআলা মানুষকে পৃথিবীতে যে জীবন দান করেছেন, পরকালে তার প্রতিটি সেকেন্ড ও মিনিট সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ জবাবদিহি করতে হবে। তাই জীবনের কদর করার প্রকৃত অর্থ কেবল দীর্ঘায়ু কামনা করা নয়; বরং প্রাপ্ত প্রতিটি নিশ্বাস ও মুহূর্তকে অর্থবহ ও কল্যাণকর করে গড়ে তোলা।

কোরআন আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে জীবনের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজের খেয়ালখুশি কিংবা সাময়িক আবেগ নয়; বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশকেই চূড়ান্ত অগ্রাধিকার দিতে হবে।

কোরআনি শিষ্টাচার

একজন মুমিনের সময় ও জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে নবীজির পবিত্র সুন্নাহর অনুসরণ অপরিহার্য। কোরআনুল কারিম আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে জীবনের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজের খেয়ালখুশি কিংবা সাময়িক আবেগ নয়; বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশকেই চূড়ান্ত অগ্রাধিকার দিতে হবে।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সামনে অগ্রবর্তী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। হে মুমিনগণ, তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু কোরো না এবং পরস্পরের সঙ্গে যেভাবে উচ্চ স্বরে কথা বলো, তাঁর সঙ্গে সেভাবে উচ্চ স্বরে কথা বোলো না; এতে তোমাদের সমস্ত আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে অথচ তোমরা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১-২)

নবীজির জীবদ্দশায় সাহাবিরা এই আদব ও শিষ্টাচার রক্ষায় কতটা সজাগ ছিলেন, তার অনন্য দৃষ্টান্ত হলেন দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)।

এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর নবীজির সামনে তিনি এত নিচু ও অনুচ্চ কণ্ঠে কথা বলতেন যে নবীজিকে অনেক সময় কথা বুঝতে না পেরে আবার জিজ্ঞেস করতে হতো: ‘ওমর, তুমি কী বললে?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮৪৫)

এই ঘটনা আধুনিক মুমিনকে এক গভীর শিক্ষা দেয়—আমাদের প্রাত্যহিক চিন্তা, অভ্যাস, রুচি ও জীবনপদ্ধতি যেন কোনোভাবেই নববি শিক্ষার চেয়ে বড় হয়ে না দাঁড়ায়; বরং সুন্নতের সামনে নিজেদের বিনম্র সমর্পণ করাই জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য।

অনর্থক কাজ থেকে মোহমুক্তি

আজকের আধুনিক যুগে মানুষের সময় চুরির সবচেয়ে বড় ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়ার মোহ। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নিজে কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয়; ক্ষতিকর হলো এর লক্ষ্যহীন ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার।

মানুষ একটি প্রয়োজনীয় তথ্য অনুসন্ধান করতে বসে অবচেতনভাবেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অ্যালগরিদমের ফাঁদে পড়ে অপ্রয়োজনীয় ভিডিও ও কনটেন্টের গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাচ্ছে।

একটি সংবাদ পড়তে গিয়ে স্ক্রল করতে করতে নষ্ট হচ্ছে সৃজনশীল চিন্তা; আর কোনো সাধারণ মন্তব্যের ঘরে জড়িয়ে পড়ছে অন্তহীন ও অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে। এতে শুধু বহুমূল্য সময়ই নষ্ট হচ্ছে না, বরং অন্তরের প্রশান্তি ও মানসিক সুস্থতাও ধ্বংস হচ্ছে।

এই আত্মিক ও সামাজিক অপচয় থেকে বাঁচার জন্য রাসুল (সা.)  এক চিরন্তন মূলনীতি দিয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির ইসলামের অনন্য সৌন্দর্য হলো—সে এমন সমস্ত বিষয় সম্পূর্ণ বর্জন করে চলে, যা তার কোনো উপকারে আসে না (অর্থহীন ও অনর্থক)।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৭)

এই একটি হাদিস আধুনিক সময়ের প্রতিটি মানুষের জন্য আত্মপর্যালোচনার এক অনন্য মানদণ্ড। কোনো কাজে হাত দেওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা প্রয়োজন—এই কাজের দ্বারা আমার ধর্ম, ইমান, স্বাস্থ্য, মানসিক বিকাশ, কর্মজীবন কিংবা সমাজের কোনো উপকার হচ্ছে কি না? উত্তর যদি ‘না’ হয়, তবে তাৎক্ষণিক সেখান থেকে সরে আসাই বুদ্ধিমত্তা ও ইমানের দাবি।

নেয়ামত হারানোর পূর্বসতর্কতা

সুস্থতা, নিরাপত্তা, অবসর, পিতা-মাতা, পরিবার-পরিজন—এ সবই মহান আল্লাহর দেওয়া অমূল্য নিয়ামত। মানবপ্রকৃতির একটি বড় দুর্বলতা হলো, কোনো নিয়ামত যতক্ষণ হাতের নাগালে থাকে, মানুষ ততক্ষণ তার প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করতে পারে না; বরং তা হারিয়ে যাওয়ার পরই কেবল তার গুরুত্ব হাড়ে হাড়ে টের পায়।

সুস্থতার মূল্য কেবল একজন শয্যাশায়ী অসুস্থ মানুষ বোঝে; নিরাপত্তার গুরুত্ব বোঝে যুদ্ধ ও সংঘাতগ্রস্ত জনপদের আতঙ্কিত মানুষ; আর অবসর সময়ের সদ্ব্যবহারের মূল্য কেবল কাজের চাপে পিষ্ট একজন মানুষই অনুধাবন করতে পারে।

রাসুল (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘দুটি এমন নেয়ামত রয়েছে, যার ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষই প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত—সুস্থতা এবং অবসর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪১২)

এ কারণেই রাসুল (সা.) সব সময় আল্লাহর নেয়ামতের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আপনার নেয়ামত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া থেকে, আপনার দেওয়া সুস্থতা ও নিরাপত্তার পরিবর্তন ঘটে যাওয়া থেকে, আপনার আকস্মিক আজাব ও শাস্তি থেকে এবং আপনার যাবতীয় অসন্তুষ্টি থেকে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৩৯)

সময় ব্যবস্থাপনার প্রায়োগিক রূপরেখা ও অগ্রাধিকার জীবনকে সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনশীল করার অন্যতম কার্যকর কৌশল হলো সময়ের অগ্রাধিকারভিত্তিক বণ্টন।

একটি সুস্পষ্ট দৈনিক পরিকল্পনা না থাকলে কাজ জমতে থাকে, জরুরি কাজ অবহেলিত হয় এবং মনস্তাত্ত্বিক অস্থিরতা জন্ম নেয়। অথচ সামান্য সচেতনতা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ মানুষের জীবনকে দারুণভাবে গুছিয়ে দিতে পারে।

প্রতিদিনের রুটিনে যেসব কাজ আবশ্যিক, সেগুলোকে সবার আগে সুনির্দিষ্ট সময়ে স্থান দিতে হবে। জামাতে নামাজ আদায়, নিয়মিত কোরআন পাঠ ও জিকির, জীবিকার জন্য পেশাগত দায়িত্ব পালন, পরিবারকে কোয়ালিটি সময় দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর আহার ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম—এসবের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা উচিত।

পর্যায়ক্রমিক দীর্ঘমেয়াদি কাজ

প্রতিদিনের রুটিনের পাশাপাশি সাপ্তাহিক, মাসিক বা বার্ষিক কাজগুলোকে আলাদাভাবে বিন্যস্ত করতে হবে। যেমন সপ্তাহে এক দিন নিকটাত্মীয়দের খোঁজ নেওয়া, অসুস্থদের সেবা করা, প্রতি মাসের পারিবারিক বাজেট ও আয়-ব্যয়ের হিসাব চূড়ান্ত করা, নিয়মিত সদকা করা এবং ব্যক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়নে সময় ব্যয় করা।

দায়িত্ব বণ্টন ও কার্যকর নেতৃত্ব সময় ব্যবস্থাপনার আরেকটি বড় মূলনীতি হলো—সব কাজ একা করার অসুস্থ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা। যে কাজ সহযোগীদের মাধ্যমে বা পরিবারের অন্য সদস্যদের দ্বারা সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব, সেখানে উপযুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রকৃত নেতৃত্ব হলো নিজে সবকিছু কুক্ষিগত করে রাখা নয়; বরং সঠিক কাজের জন্য সঠিক মানুষকে নির্বাচন করে সম্মিলিতভাবে একটি কাজ সুন্দর ও সুচারুভাবে সফল করা।

সব কাজ নিজের কাঁধে চাপিয়ে রাখলে সময় যেমন নষ্ট হয়, তেমনি কাজের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপরপক্ষে দায়িত্ব বণ্টন করলে অন্যের ভেতরে আস্থা, আত্মবিশ্বাস ও কাজের দক্ষতা তৈরি হয়।

প্রকৃত নেতৃত্ব হলো নিজে সবকিছু কুক্ষিগত করে রাখা নয়; বরং সঠিক কাজের জন্য সঠিক মানুষকে নির্বাচন করে সম্মিলিতভাবে একটি কাজ সুন্দর ও সুচারুভাবে সফল করা।

জীবন মূলত সময়েরই এক খণ্ডিত সমষ্টি। প্রতিটি দিনের সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত আমাদের জীবনপুঁজি থেকে একটি করে দিন চিরতরে মাইনাস করে নিয়ে যাচ্ছে। তাই গভীর চিত্তে ভাবা প্রয়োজন—আমরা প্রতিদিন আমাদের এই মহার্ঘ সময় ব্যয় করে কী রেখে যাচ্ছি? কেবল কিছু সাময়িক বিনোদন, অহেতুক তর্ক আর ক্ষণিকের স্মৃতি?

নাকি জ্ঞানচর্চা, একনিষ্ঠ ইবাদত, সৃষ্টির সেবা ও মানবিক সম্পর্কের এমন এক স্থায়ী উত্তরাধিকার, যা দুনিয়ায় মানুষের কল্যাণে আসবে এবং আখেরাতে চিরস্থায়ী মুক্তির উপায় হবে?

মানুষের নিশ্বাস একসময় থেমে যাবে; কিন্তু তার রেখে যাওয়া কল্যাণমুখী কর্ম প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে থাকে। তাই সময়কে নিছক বয়ে যেতে না দিয়ে সময়ের প্রতিটি কণাকে সঠিক অর্থে কাজে লাগানোই পরম প্রজ্ঞা। যে মানুষ সময়ের মূল্য বুঝতে শিখেছে, সে প্রকৃতপক্ষে নিজের অস্তিত্ব ও জীবনেরই যথার্থ মূল্যায়ন করতে শিখেছে।

  • আহমাদ সাব্বির : প্রাবন্ধিক ও গবেষক

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে মির্জা আব্বাস
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে মির্জা আব্বাস

​ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা কমিটির নবনিযুক্ত সভাপতি মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। মির্জা আব্বাস প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য। ​সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে সভাপতি হিসেবে তিনি প্রথমবারের মতো ঢামেক হাসপাতালে আসেন। ​ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ বিকেল ৪টার দিকে সভাপতি হিসেবে তিনি (মির্জা আব্বাস) প্রথম হাসপাতালে আসেন। সভাপতি হিসেবে একান্তই সৌজন্য ভিজিট ও হাসপাতাল প্রশাসন এবং চিকিৎসকদের কিছু দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। পরে প্রশাসনিক ব্লকে অবস্থান করে পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পরিদর্শন শেষে ফিরে যান। ​হাসপাতাল পরিচালক আরও জানান, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বিদেশ থেকে চিকিৎসা নিয়ে সম্প্রতি দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস। গত ৩০ জুলাই মির্জা আব্বাসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মনোনীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কেএজেডআইএ/বিএ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ

লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ

একাদশে ভর্তিতে প্রায় ১০ লাখ আবেদন, ফল ১৭ সেপ্টেম্বর

একাদশে ভর্তিতে প্রায় ১০ লাখ আবেদন, ফল ১৭ সেপ্টেম্বর

মেয়ে দেখতে গিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে অশ্লীলভাবে প্রচার, দেবর-ভাবি গ্রেফতার

মেয়ে দেখতে গিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে অশ্লীলভাবে প্রচার, দেবর-ভাবি গ্রেফতার

রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প
রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প

জ্বালানির দাম বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে পরিবহন খরচও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এর পেছনে ইরান যুদ্ধের চেয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবেই বেশি। এ কারণে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। তাকে রাশিয়ায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে।’ এ বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় হামলার জন্য আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। তবে, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করা উচিত নয়। তার মতে, এসব হামলার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আরও পড়ুন রাজপুত্রের হাতের হাড় দেখিয়ে সেনাদের মনোবল বাড়ানোর উদ্যোগ রাশিয়ার গত কয়েক মাসে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগারে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ায় জ্বালানি উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির বিভিন্ন এলাকায়। দেখা দিয়েছে পেট্রলের সংকট। অন্যদিকে, রাশিয়াও ইউক্রেনে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে প্রায়ই হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। তাই রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু বলে দাবি ইউক্রেনের। কারণ, এসব স্থাপনা থেকে পাওয়া অর্থ রাশিয়ার যুদ্ধ চালাতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে তেলশিল্প থেকে পাওয়া জ্বালানি সরাসরি রাশিয়ার সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে কিয়েভ। এদিকে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে জ্বালানির দাম নিয়ে চাপের মুখে পড়েছেন দেশটির মানুষ। গত শুক্রবার সেখানে ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আরও পড়ুন ইউক্রেনের ট্রেনে রুশ হামলা, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ইউরোপীয় নেতারা আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) হিসাবে, দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ০৬ ডলার, যা প্রতি লিটারে প্রায় ১ দশমিক ৬০ ডলার। এক বছর আগে এ দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৭১ ডলার বা প্রতি লিটারে প্রায় শূন্য দশমিক ৯৮ ডলার। ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচও বাড়ে। জাহাজ, ট্রেন ও ট্রাকে করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য পরিবহনে এ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে, পরিবহন খরচ বাড়লে পণ্যের দামও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচ ভোক্তাদেরই বহন করতে হয়। এদিকে, গত রোববার ট্রাম্প বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ার পেছনে মধ্যপ্রাচ্য দায়ী নয়। তার মতে, এর মূল কারণ রাশিয়া ও ইউক্রেনে যা ঘটছে। আরও পড়ুন যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন ইউক্রেনকে ‘ধ্বংস’ করে দেবে: জেলেনস্কি তবে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পেছনে ইরান যুদ্ধেরও বড় প্রভাব রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যুদ্ধ শুরু করার পর ওই অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহে ব্যাপকভাবে ব্যাঘাত ঘটে। একই সঙ্গে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহণও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়েই যায়। ফলে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এদিকে, গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো এর দাম ১০০ ডলারের ওপরে ওঠে। একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নির্ধারণের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১০৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।   সূত্র: আল-জাজিরা এমডিআরএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
অনলাইন ইন্টারভিউর ফাঁদ: ভুয়া লিংকের ক্লিকে ১৮ হাজার পাউন্ড খোয়ালেন চাকরিপ্রার্থী, বাঁচার উপায় কী

অনলাইন ইন্টারভিউর ফাঁদ: ভুয়া লিংকের ক্লিকে ১৮ হাজার পাউন্ড খোয়ালেন চাকরিপ্রার্থী, বাঁচার উপায় কী

ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আহত অর্ধশতাধিক

ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের মারামারি, আহত অর্ধশতাধিক

তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে, দল থেকে অব্যাহতি

তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে, দল থেকে অব্যাহতি

ঢাবি ক্যাম্পাসে স্বস্তি ফেরালো সড়কবাতি, এখন দাবি কার্যকর সিসি ক্যামেরা
ঢাবি ক্যাম্পাসে স্বস্তি ফেরালো সড়কবাতি, এখন দাবি কার্যকর সিসি ক্যামেরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে একসময় সন্ধ্যা নামলেই অনেক জায়গা গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে যেতো। কোথাও সড়কবাতি ছিল না, আবার কোথাও বাতি থাকলেও তা ছিল অচল। অন্ধকার সেসব জায়গা দিয়ে চলতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের থাকতে হতো অস্বস্তির মধ্যে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে এখন বদলেছে রাতের চিত্র। বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সন্ধ্যা থেকে জ্বলছে সড়কবাতি। ফলে রাতের বেলা ক্যাম্পাসের অনেকটা অংশ এখন আগের তুলনায় আলোকিত থাকছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের মধ্যে। তবে ছাত্রছাত্রীরা বলছেন, শুধু আলো বাড়লেই রাতের ক্যাম্পাস নিরাপদ হবে না। পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিয়মিত টহল, বহিরাগত ও ভবঘুরে নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো। কারণ, এখানে প্রায়ই নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি, ছিনতাই ও মাদক সেবনের ঘটনা ঘটছে। এমনকি চালকদের অচেতন করে রিকশা ছিনতাইও হয়েছে। সেই সঙ্গে আছে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল এবং ভবঘুরে ব্যক্তিদের অবস্থান। তাই, সড়কবাতি জ্বলার পর এখন শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও যেন জোরদার করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে/ছবি: জাগো নিউজ আলোর কারণে অপরাধ অনেকাংশে কমবে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সালমান মনে করেন, ক্যাম্পাসজুড়ে আলোর ব্যবস্থা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে আলোর কারণে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ অনেকাংশে কমবে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক পরিবর্তন। এর পাশাপাশি সিসিটিভি কার্যকর করা, ভবঘুরে নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত টহল নিশ্চিত করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও নিরাপদ করা সম্ভব হবে। সালমান জানান, আগে ক্যাম্পাসের কিছু জায়গায় পর্যাপ্ত আলো না থাকায় রাতে চলাচলের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় কাজ করতো। এখন আলোর পরিমাণ বাড়ায় রাতেও তুলনামূলক স্বস্তিতে চলাচল করা যাচ্ছে। আরও পড়ুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় / নিরাপদে সড়ক পারাপারের পদচারী সেতুই যখন আতঙ্কের কারণ ডাকসুর এক বছর: সাফল্যের দাবি, ব্যর্থতার অভিযোগ নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাবোধ বাড়াবে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী অহনা আহসানের মতে, রাতের সড়কবাতি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে স্বস্তিদায়ক। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে আলোর ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ বাড়াতে এটি প্রয়োজন ছিল, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য। অনেক সময় কোনো কারণে একজন নারী শিক্ষার্থীর হলে ফিরতে রাত হয়ে যায়। তখন অন্তত আলোকিত রাস্তা তাকে কিছুটা নিরাপত্তাবোধ দেবে। তবে এর পাশাপাশি প্রক্টরিয়াল টিমের তৎপরতা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন অহনা। তিনি বলেন, শুধু আলোর ব্যবস্থা করেই সব সমস্যা বন্ধ করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে। সিসিটিভির সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে হবে। প্রয়োজনে টহল ও নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যাও বাড়াতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে/ছবি: জাগো নিউজ সহজ হবে অপরাধী শনাক্ত সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নোভা জানান, রাতে পর্যাপ্ত আলো শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাবোধ বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধী শনাক্ত করতেও সহায়ক হতে পারে। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। অন্ধকার জায়গাগুলো আলোকিত থাকলে চোর, ছিনতাইকারী বা মাদকসেবীরা আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্যে অপরাধ করতে পারবে না। কোনো অপরাধ ঘটলেও অপরাধীকে শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ হবে। তবে এর সঙ্গে সিসিটিভির সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে অপরাধীর চেহারা বা গতিবিধি স্পষ্টভাবে বোঝা গেলে শনাক্তকরণও সহজ হবে। একই সঙ্গে নারী-পুরুষ উভয় শিক্ষার্থীই সন্ধ্যার পর তুলনামূলক নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন। ক্যাম্পাসে আলোর ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ বাড়াতে এটি প্রয়োজন ছিল, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য। অনেক সময় কোনো কারণে একজন নারী শিক্ষার্থীর হলে ফিরতে রাত হয়ে যায়। তখন অন্তত আলোকিত রাস্তা তাকে কিছুটা নিরাপত্তাবোধ দেবে।- শিক্ষার্থী অহনা আহসান স্বস্তিতে সাধারণ পথচারীও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতে আলো বাড়ায় তারা স্বস্তি পাচ্ছেন। তবে একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ভবঘুরে ও নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের অবস্থান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে তাদের। এক পথচারী বলেন, রাস্তার ধারে এত আলো থাকা ভালো দিক। অন্ধকার বা আড়াল পাওয়ার জায়গাগুলোতে অনেক সময় কয়েকজনকে একসঙ্গে বসে থাকতে ও নেশাদ্রব্য সেবন করতে দেখা যায়। এসব জায়গা আলোকিত হলে অন্তত তাদের আড়ালে থাকার সুযোগ কমবে। তবে তিনি জানান, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ভবঘুরে ব্যক্তিদের অবস্থানের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। কোথাও কোথাও রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা ও মলমূত্র পড়ে থাকছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে/ছবি: জাগো নিউজ প্রক্টরিয়াল টিমের টহল প্রয়োজন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী হিমেলের দৃষ্টিতেও রাতের বেলা ক্যাম্পাসে বাতি বাড়ানো ইতিবাচক। তবে শুধু এই আলো দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। হিমেল বলেন, ‘ক্যাম্পাসের যেসব জায়গায় অন্ধকারের কারণে ছিনতাই বা অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকি বেশি ছিল, সেখানে আলো থাকলে তা অবশ্যই কমবে। কিন্তু শুধু আলো থাকলেই যে দুর্ঘটনা বা অপরাধ ঘটবে না, এর নিশ্চয়তা কী?’ এজন্য রাতে প্রক্টরিয়াল টিমের নিয়মিত টহল আরও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে এই শিক্ষার্থী বলেন, রাতে প্রক্টরিয়াল টিমকে দায়িত্বের সঙ্গে পুরো ক্যাম্পাসে টহল দিতে হবে। তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি নিরাপদ, এমনটা বলা যাবে না। কারণ অপরাধ শুধু অন্ধকারেই ঘটে না, দিনের আলোতেও ঘটতে পারে। আরও পড়ুন ঢাবির ‘কালো দিবস’: ২০০৭ সালের সেই চার দিনে যা ঘটেছিল ঢাবির শিক্ষক মূল্যায়নে অশোভন লেখা, ঢেকে দেওয়া হলো ওয়েবসাইট নিরাপত্তার জন্য দরকার অন্যান্য ব্যবস্থাও এ নিয়ে কথা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা জানান, সড়কবাতি সক্রিয় করার ক্ষেত্রে ডাকসু নয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই তা করেছে। তবে শুধু এটি দিয়ে ক্যাম্পাসে অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ‘এতে ক্যাম্পাসে চুরি-ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ সম্পূর্ণভাবে রোধ করা সম্ভব নয়। যদি সম্ভব হতো, তাহলে সূর্যের আলো থাকা সত্ত্বেও দিনদুপুরে কেন অপরাধ ঘটে? নিরাপত্তার জন্য আলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর সঙ্গে অন্যান্য ব্যবস্থাও কার্যকর করতে হবে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জ্বলছে সড়কবাড়ি। ইনসেটে মাদক সেবন করছেন এক ভবঘুরে ব্যক্তি যা বলছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সড়কবাতি নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা চললেও একে নতুন কোনো প্রকল্প হিসেবে দেখছে না ঢাবি কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ক্যাম্পাসের রাস্তার পাশের লাইটগুলো প্রশাসনের কোনো নতুন উদ্যোগ নয়। এটা নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। নতুন করে কোনো লাইট লাগানো হয়নি। তিনি জানান, পর্যবেক্ষণে কয়েকটি বাতি অচল এবং কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলো সংস্কারের কাজ চলছে। আমরা ক্যাম্পাসে নতুন ডিজিটাল সিস্টেম ও এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য কাজ করছি। এ বিষয়ে উপাচার্য এবং বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।- ঢাবি প্রক্টর ইসরাফিল রতন আসছে এআইভিত্তিক সিসি ক্যামেরা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসে নতুন ডিজিটাল সিস্টেম ও এআইভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য কাজ করছি। এ বিষয়ে উপাচার্য এবং বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।’ প্রক্টরের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘এআই সিস্টেমের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কে প্রবেশ করছে এবং কে বের হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা যাবে। মানুষের চেহারা সিসিটিভিতে আরও স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব হবে। আগে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কারা ঘটিয়েছে, তাদের চেহারা সিসিটিভিতে ভালোভাবে দেখা যেতো না। ফলে অপরাধী শনাক্ত করা কঠিন হতো। এ কারণে উপাচার্যও ক্যাম্পাসে ডিজিটাল এআইভিত্তিক সিসিটিভি ব্যবস্থা স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।’ আরটি/একিউএফ/ এমএফএ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে

ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে

চাঁদা তোলা নিয়ে বিএনপিপন্থী দলিল লেখক বললেন, ‘নিউজ করলে ভালো থাকবেন না’

চাঁদা তোলা নিয়ে বিএনপিপন্থী দলিল লেখক বললেন, ‘নিউজ করলে ভালো থাকবেন না’

খালাস পাওয়া ১০ আসামির নথি কারাগারে, মুক্তি পেলেন দুজন

খালাস পাওয়া ১০ আসামির নথি কারাগারে, মুক্তি পেলেন দুজন

0 Comments