মুঠোফোনে ইউটিউব খুলে একটি ভিডিওতে চাপ দিলেন। কয়েক মুহূর্তের ফোনের পর্দায় ভেসে উঠলো একটি ভিডিও। ভিডিওটি হয়তো কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের কোনো ডাটা সেন্টারে রাখা, আবার হতে পারে এর একটি কপি আছে আপনার শহরের কাছাকাছি কোনো সার্ভারে। যেখানেই থাকুক, এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কোনো আভাসই আপনি পেলেন না।
ফোনে তার নেই বলে অনেকেরই ধারণা, ইন্টারনেট বুঝি স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি বাতাসে ভেসে আসে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন, ফোন থেকে কাছের মোবাইল টাওয়ার পর্যন্ত সংযোগটুকু তারবিহীন হতে পারে, কিন্তু এরপরের প্রায় পুরো যাত্রাই চলে তারের বিশাল জালের ভেতর দিয়ে। মাটির নিচের অপটিক্যাল ফাইবার, সমুদ্রের তলদেশের সাবমেরিন কেবল, রাউটার, ডাটা সেন্টার ও ক্যাশ সার্ভার,সব মিলিয়েই আমাদের পরিচিত ইন্টারনেট।
সহজ ভাষায় বললে, ইন্টারনেট হলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য নেটওয়ার্কের একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থা। একটি বাসা বা অফিসের কয়েকটি কম্পিউটার নিজেদের মধ্যে যুক্ত হলে ছোট একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। এমন লাখ লাখ ছোট-বড় নেটওয়ার্ক যখন নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত নিয়ম মেনে তথ্য বিনিময় করে, তখনই গড়ে ওঠে ইন্টারনেট। এ কারণেই একে বলা হয় ‘নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক’।
এর কোনো কেন্দ্রীয় সুইচ নেই, যা বন্ধ করলেই গোটা বিশ্বের ইন্টারনেট থেমে যাবে। দেশ, প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি সংস্থা, মোবাইল অপারেটর ও ইন্টারনেট সেবাদাতার নিজস্ব নেটওয়ার্কগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত বলেই পুরো ব্যবস্থা সচল থাকে।
আপনি ব্রাউজারে কোনো ওয়েবসাইটের নাম লিখলে ফোন বা কম্পিউটার প্রথমে রাউটার কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবাদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর ওয়েবসাইটটির ঠিকানা খুঁজে বের করতে হয়। মানুষ ডোমেইনের নাম মনে রাখে, কিন্তু নেটওয়ার্কের যন্ত্রগুলো যোগাযোগ করে আইপি ঠিকানা ব্যবহার করে।
ডোমেইনের নামের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইপি ঠিকানা মিলিয়ে দেয় ডোমেইন নেম সিস্টেম বা ডিএনএস। বিষয়টি অনেকটা মুঠোফোনের যোগাযোগ তালিকার মতো,আপনি নাম বাছাই করেন, ফোন ভেতর থেকে নম্বরটি খুঁজে নেয়। ঠিকানা পাওয়ার পর ব্রাউজার সংশ্লিষ্ট সার্ভারের কাছে তথ্য চায়। সার্ভার তখন প্রয়োজনীয় লেখা, ছবি বা ভিডিও পাঠাতে শুরু করে।
বড় একটি ভিডিও বা ফাইল একবারে আসে না। সেটি ছোট ছোট ডাটা প্যাকেটে ভাগ হয়ে রাউটার থেকে রাউটারে এগোয়। সব প্যাকেট যে একই পথ ধরে আসে, তা নয়। নেটওয়ার্কের অবস্থা অনুযায়ী পথ বদলাতে পারে। কোনো অংশ হারিয়ে গেলে সেটি আবার পাঠানো হয়। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ফোন বা কম্পিউটার প্যাকেটগুলো সাজিয়ে পূর্ণাঙ্গ ভিডিও, ছবি বা ওয়েবপেজ দেখায়। পুরো ঘটনাটি ঘটে চোখের পলকে।
ইউটিউবে জনপ্রিয় কোনো ভিডিও চালালেই সেটি যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দূরদেশ থেকে আসবে,এমন নয়। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বহুল ব্যবহৃত কনটেন্টের কপি বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের কাছাকাছি সার্ভারে রেখে দেয়। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক বা সিডিএন।
স্থানীয় ক্যাশ সার্ভারে ভিডিও থাকলে সেটি দ্রুত ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যায়। এতে আন্তর্জাতিক সংযোগের ওপর চাপ কমে, ভিডিও আটকে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক সংযোগে সমস্যা হলেও অনেক সময় স্থানীয় ওয়েবসাইট বা কাছাকাছি সার্ভারে রাখা কনটেন্ট স্বাভাবিকভাবে চলে। কিন্তু যে সেবার তথ্য বিদেশ থেকে আনতেই হবে, সেটি ধীর হয়ে যেতে পারে।
বিদেশের কোনো সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে তথ্যকে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে যেতে হয়। সেই যাত্রার প্রধান পথ সাবমেরিন কেবল। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৯৯ শতাংশের বেশি আন্তর্জাতিক ডাটা সমুদ্রের নিচের টেলিযোগাযোগ কেবলের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। অর্থাৎ স্যাটেলাইট নয়, মহাদেশগুলোর মধ্যে ইন্টারনেট যোগাযোগের বড় ভরসা এই কেবল।
সাবমেরিন কেবলের ভেতরে থাকে অপটিক্যাল ফাইবার ও একাধিক সুরক্ষা স্তর। ফাইবারে তথ্য বৈদ্যুতিক স্রোত হিসেবে নয়, আলোর সংকেত হয়ে ছুটে চলে। সমুদ্রতীরের ল্যান্ডিং স্টেশনে কেবলটি দেশের স্থলভাগের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর দেশীয় ফাইবার নেটওয়ার্ক ধরে তথ্য পৌঁছে যায় বিভিন্ন এলাকায়।
জাহাজের নোঙর, মাছ ধরার সরঞ্জাম, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কারিগরি ত্রুটিতে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তখন বিকল্প পথে পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকলে ইন্টারনেটের গতি কমে যায়। তাই নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের জন্য একাধিক কেবল ও বিকল্প পথ গুরুত্বপূর্ণ।
মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ফোনটি প্রথমে রেডিও তরঙ্গে কাছের বেস স্টেশন বা মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেখান থেকে তথ্য যায় অপারেটরের মূল নেটওয়ার্কে। টাওয়ারকে মূল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রাখার এই ব্যবস্থাকে বলা হয় ব্যাকহল।
ব্যাকহলে সাধারণত অপটিক্যাল ফাইবার বা মাইক্রোওয়েভ সংযোগ ব্যবহার করা হয়। অনেক টাওয়ারে মাটির নিচ দিয়ে ফাইবার পৌঁছেছে। আবার দুর্গম এলাকায় এক টাওয়ার থেকে অন্য টাওয়ারে মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গে তথ্য পাঠানো হয়। টাওয়ারের ওপরে থাকা গোলাকার ডিশগুলো প্রায়ই এই কাজ করে। অর্থাৎ মোবাইল ইন্টারনেটের শেষ অংশটি তারবিহীন হলেও পেছনের অবকাঠামো মোটেও পুরোপুরি তারবিহীন নয়।
চলন্ত বাস বা ট্রেনেও সংযোগ টিকে থাকে একই নেটওয়ার্ক কাঠামোর কারণে। প্রতিটি টাওয়ার একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা ‘সেল’ সামলায়। ব্যবহারকারী এক সেল থেকে অন্য সেলে গেলে ফোনের সংযোগও দ্রুত নতুন টাওয়ারে চলে যায়। নেটওয়ার্ক ভালো থাকলে এই পরিবর্তন টের পাওয়া যায় না; দুর্বল সংকেত বা অতিরিক্ত চাপ থাকলে কল কেটে যেতে পারে কিংবা ভিডিও থেমে যায়।
স্যাটেলাইট কোথায় দরকার
পাহাড়, গভীর সমুদ্র কিংবা জনবসতি কম এমন এলাকায় ফাইবার বসানো বা মোবাইল টাওয়ার নির্মাণ সব সময় সম্ভব নয়। সেখানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যকর বিকল্প। স্টারলিংকের মতো নতুন ব্যবস্থা পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে থাকা অসংখ্য ছোট স্যাটেলাইট ব্যবহার করে, ফলে আগের অনেক স্যাটেলাইট সেবার তুলনায় যোগাযোগের বিলম্ব কম হয়।
তবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের গতি আবহাওয়া, ব্যবহারকারীর অবস্থান, আকাশের দৃশ্যমানতা ও নেটওয়ার্কের চাপের ওপর নির্ভর করে। তাই এটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হলেও সব জায়গায় ভালো ফাইবার সংযোগের সমান অভিজ্ঞতা দেবে,এমন নিশ্চয়তা নেই।
ইন্টারনেটের একক কোনো মালিক নেই; তবে এর প্রতিটি অংশের মালিক আছে। কোনো প্রতিষ্ঠান সাবমেরিন কেবলে বিনিয়োগ করেছে, কেউ স্থলভাগে ফাইবার বসিয়েছে, কেউ মোবাইল টাওয়ার বা ডাটা সেন্টার চালায়। গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানেরও নিজস্ব সার্ভার, ডাটা সেন্টার ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠান চুক্তি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে একে অন্যের নেটওয়ার্কে তথ্য পাঠায়। কোনো নেটওয়ার্ক অন্যটির কাছ থেকে ট্রানজিট সেবা কেনে, আবার দুটি নেটওয়ার্ক সরাসরি ট্রাফিক বিনিময়ও করে। দেশের ভেতরের নেটওয়ার্কগুলো স্থানীয় ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জে সরাসরি যুক্ত হলে তথ্যকে অপ্রয়োজনে বিদেশ ঘুরে আসতে হয় না। এতে সময় ও খরচ,দুটিই কমে।
বাসার ব্রডব্যান্ড বিল প্রথমে পায় স্থানীয় ইন্টারনেট সেবাদাতা বা আইএসপি। মোবাইল ডাটার টাকা যায় সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছে। কিন্তু গ্রাহকের দেওয়া পুরো অর্থই তাদের লাভ নয়। গ্রাহকের ঘর বা ফোন পর্যন্ত সংযোগ পৌঁছে দিতে কেবল, রাউটার, সুইচ, টাওয়ার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি লাগে। নেটওয়ার্ক সচল রাখতে বিদ্যুৎ, কর্মী, গ্রাহকসেবা, মেরামত ও নিরাপত্তার খরচ আছে। এর সঙ্গে দেশীয় ফাইবার অবকাঠামো, ডাটা পরিবহন, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ, ইন্টারনেট ট্রানজিট, ডাটা সেন্টার, কর, ভ্যাট ও নিয়ন্ত্রক ফিও যুক্ত হয়।
তবে আপনি ইউটিউবে একটি ভিডিও দেখলেই বিলের নির্দিষ্ট অংশ সরাসরি ইউটিউব বা সাবমেরিন কেবলের মালিকের কাছে চলে যায় না। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট পরিমাণ নেটওয়ার্ক সক্ষমতা, সংযোগ বা অবকাঠামো ব্যবহারের জন্য চুক্তি অনুযায়ী অর্থ দেয়। স্থানীয় ক্যাশ সার্ভার কিংবা দুটি নেটওয়ার্কের সরাসরি ট্রাফিক বিনিময় আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের খরচ কমাতে পারে। তাই গ্রাহকের বিল ভাগ হওয়ার কোনো একক সূত্র নেই; প্রতিষ্ঠান, এলাকা, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক চুক্তি অনুযায়ী হিসাব বদলায়। গ্রাহক আসলে ইন্টারনেটের কোনো অংশের মালিকানা কেনেন না। তিনি কেনেন নিজের ডিভাইসকে বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কে যুক্ত রাখা এবং নির্ধারিত গতিতে তথ্য আদান-প্রদানের সেবা।
ফোনের পর্দায় একটি ভিডিও চালু করা আমাদের কাছে নিছক এক ক্লিকের ব্যাপার। অথচ সেই ক্লিকের উত্তর পৌঁছে দিতে একসঙ্গে কাজ করে সমুদ্রের তলদেশের কেবল, রাস্তার নিচের ফাইবার, মোবাইল টাওয়ার, রাউটার, সার্ভার, ডাটা সেন্টার এবং অসংখ্য মানুষ ও প্রতিষ্ঠান। ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় শক্তি এখানেই,এটি কোনো একক দরজা বা মালিকের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। হাজার হাজার আলাদা নেটওয়ার্ক একই নিয়মে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। একটি পথ বন্ধ হলে অনেক ক্ষেত্রে অন্য পথে তথ্য পৌঁছাতে পারে। তাই ইন্টারনেটকে যতটা ‘বাতাসের প্রযুক্তি’ মনে হয়, বাস্তবে এটি তার, আলো, যন্ত্র আর পারস্পরিক সহযোগিতায় গড়ে ওঠা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যোগাযোগব্যবস্থাগুলোর একটি।
কেএসকে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ব্যবসায়িক ঋণ ও পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেছিলেন অটোমেটিক রাইস মিল ব্যবসায়ী মো. ওসমান গনি। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন আদালত। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের কাছে তার প্রায় ২৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা দায় রয়েছে বলে আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দেউলিয়া বিষয়ক আদালতের বিচারক মো. শহীদুল ইসলাম এ রায় দেন। মামলায় ৭২ জন বিবাদীর পক্ষে আইনজীবী মো. রুহুল আমিন জাগো নিউজকে রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ওসমান গনি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগের জন্য অর্থ নিয়েছিলেন। পরে ব্যবসায়িক লোকসানের কারণে সেই অর্থ পরিশোধ করতে না পেরে আদালতে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেন। তবে, আইনজীবী রুহুল আমিনের অভিযোগ, আদালত কোনো তদন্ত না করেই দেউলিয়া ঘোষণার রায় দিয়েছেন। কোনো তদন্ত সংস্থাকেও বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য, এ রায়ের কারণে বিবাদী ও পাওনাদাররা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রায় হয়ে যাওয়ায় পাওনাদারদের অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। রুহুল আমিন বলেন, যেহেতু আদালত তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন, তাই পাওনাদারদের এখন আর কিছু করার নেই। কিছু ব্যবসায়ী আইনের এই সুযোগ নিচ্ছেন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও জানান তিনি। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দেউলিয়া বিষয়ক আইনের ১০ ধারায় ঢাকার দেউলিয়া বিষয়ক আদালতে মামলাটি করেন ওসমান গনি। মামলায় মোট ২৬৭ জনকে বিবাদী করা হয়। বিচার চলাকালে তিনজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মামলার আরজিতে ওসমান গনি বলেন, পাওনাদারদের সঙ্গে আর্থিক দাবি-দাওয়া মেটানোর জন্য সমঝোতা কিংবা অন্য কোনো কার্যকর সমাধানের পথ খুঁজেও তিনি সফল হননি। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেন। মামলার প্রথম থেকে সপ্তম বিবাদী বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা নিয়েছেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৮ থেকে ২৬৭ নম্বর বিবাদীর মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রোপ্রাইটরশিপ প্রতিষ্ঠানের মালিক। তাদের সঙ্গে ওসমান গনির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে ওসমান গনি শুরুতে তিনটি অটোমেটিক রাইস মিল পরিচালনা করেন। ব্যবসার শুরুর দিকে নিয়মিত ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করতেন বলেও আরজিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে, পরে ওই এলাকায় একাধিক নতুন অটোমেটিক রাইস মিল গড়ে ওঠে। এতে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি চালকলের ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ওসমান গনির দাবি, একপর্যায়ে চাল উৎপাদনে যে ব্যয় হচ্ছিল, তা চাল বিক্রি করে পাওয়া অর্থের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। এতে অটোমেটিক রাইস মিল শিল্পে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয় এবং চালকল মালিকরা লোকসানের মুখে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাওনা পরিশোধ করতে পারেননি বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ওসমান গনির কাছে পাওনা টাকা পরিশোধের দাবিতে ২০২৪ সালে নওগাঁয় মানববন্ধনও করেছিলেন কয়েকজন পাওনাদার। সেখানে তারা তাদের পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। এমডিএএ/এএমএ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণীকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় করা ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুই দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা তাকে ঢাকার আদালতে হাজির করেন। একইসঙ্গে তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান তিনি। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক হরিদাসকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) এম আই হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত ১০ সেপ্টেম্বর আদালত হরিদাস চন্দ্র তরণীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া এবং পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগে গত ২৪ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, ওবাইদুল ইসলাম তার কলেজজীবনের বন্ধু। তারা দুজনই রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর এলাকায় বসবাস করেন। ওবাইদুল নিজেকে অনয় ডেভেলপার কোম্পানির মালিক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় তার প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে বলে মাহবুবকে জানান। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এ পরিচয়ের সূত্র ধরে নিকুঞ্জ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার বিষয়ে ওবাইদুলের সঙ্গে মাহবুবের কথা হয়। এক পর্যায়ে তিনি প্রথম দফায় ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেন। পরে ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে আরও ১৫ লাখ টাকা চাওয়া হলে মাহবুব সেই টাকাও পরিশোধ করেন। কিন্তু, টাকা নেওয়ার পর ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে ওবাইদুল নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন মাহবুব। পরে টাকা ফেরত চাইলেও তা দেওয়া হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মাহবুব নিকুঞ্জে ওবাইদুলের অফিসে গেলে তাকে জানানো হয়, তার ব্যবসায়িক অংশীদার হরিদাস চন্দ্র তরণী সেখানে আসবেন। পরে হরিদাস ওই অফিসে এসে মাহবুবকে জানান, তার কাছে নগদ টাকা নেই; তবে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তিনি সেটি মাহবুবকে দিতে পারবেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, হরিদাসের ওই আশ্বাসে বিশ্বাস করে মাহবুব আরও ৪৫ লাখ টাকা দেন। সব মিলিয়ে ওবাইদুল ও হরিদাস মিলে তার কাছ থেকে ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এরপরও তাকে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলায় দাবি করেন মাহবুব। এর আগে, ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে গত ১২ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। মামলাটি করেন ইউনিটটির এসআই সাইফুল ইসলাম। মামলার পরদিন হরিদাসকে আদালতে হাজির করা হলে ওই মামলায় তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে, ১২ জুলাই রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ হরিদাস চন্দ্র তরণীকে গ্রেফতার করে। এমডিএএ/এএমএ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও তাঁদের কেউ পদদলিত হয়ে মারা গেছেন—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তাঁদের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে পরিবার নিশ্চিত করেছে। অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অনেকে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে আহত হন। এরপর পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।হাসপাতাল পরিদর্শন করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির ও ময়মনসিংহ–৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘পদদলিত হয়ে ছয়জন মারা গেছেন—এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। আমরা ফায়ার সার্ভিস, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের রেজিস্টারও যাচাই করেছি। পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’পাঁচজনের মৃত্যুর একটি তালিকার বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, এর মধ্যে একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি চারজনের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন। অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ চিকিৎসকেরা এখনো স্পষ্টভাবে জানাতে পারেননি। এ বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।কমিশনার আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় কোনো মৃত্যু হয়েছে—এমন তথ্য-প্রমাণ আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে রোগী মারা যেতে পারেন। তবে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর তথ্যটি অসত্য।’ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। সোমবার রাত ১১টার দিকেতবে আগুনের পর হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হওয়ার কথা জানান বিভাগীয় কমিশনার। তাঁদের কারও হাত-পা কেটে যাওয়া বা মাথায় আঘাত লাগার মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান তিনি। ধোঁয়ায় কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।হাসপাতালের দুটি সিঁড়ির একটি বন্ধ থাকার কারণে রোগী ও স্বজনেরা একটি সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়েন—এমন অভিযোগের বিষয়ে কমিশনার বলেন, বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন। নিরাপত্তার কারণে হাসপাতালের কিছু সিঁড়ি বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হাসপাতালের কোনো অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, মৃত ব্যক্তিদের তালিকায় এমন একজনের নাম রয়েছে, যিনি এখনো জীবিত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সাংবাদিকদের ওই রোগীকে দেখে তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।সংসদ সদস্য বলেন, ‘জাহানারা নামে যে রোগীর নাম মৃতের তালিকায় দেওয়া হয়েছে, তিনি জীবিত। তিনি এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন। তালিকার সঙ্গে বাস্তবতা মিলিয়ে দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’এদিকে হাসপাতালে আগুন লাগার পর আতঙ্কে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে দৌড়াদৌড়ির সময় সিঁড়িতে পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন দুজনের স্বজন। তাঁরা হলেন তারাকান্দার বালিখা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী কুলসুম আক্তার (৩৫) এবং ফুলপুরের রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের শাহাজাহান মনির (৪৫)।সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তারাকান্দার কুলসুম আক্তারের ননদ নাজমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, কুলসুম ১২ দিন ধরে তাঁর জন্ডিসে আক্রান্ত ১২ বছর বয়সী ছেলে স্বাধীনকে নিয়ে হাসপাতালের ৩১ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ছিলেন। কুলসুমের সঙ্গে তাঁর ১৮ বছর বয়সী মেয়ে মিমও ছিলেন।ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাজমা বলেন, আগুন লাগার পর হাসপাতালের ভেতরে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করলে কুলসুম তাঁর ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। মিম আগে বের হয়ে যান। পরে তিনি ফিরে এসে দেখেন, লোকজন তাঁর ভাই স্বাধীনকে টেনে বের করছেন; কিন্তু মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।নাজমার ভাষ্য, পরে কুলসুমকে উদ্ধার করে অক্সিজেন দেওয়া হয়। তখনো তাঁর শ্বাস ছিল। খবর পেয়ে নাজমা হাসপাতালে আসার পথে ছিলেন। এর মধ্যেই কুলসুমের মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযোগ আছে।’ হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তাঁরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছেন বলেও জানান তিনি।অন্যদিকে শাহাজাহান মনির প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ধরে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাঁর ছেলে পলাশ মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, আগুন লাগার সময় তাঁর বাবা, মা হারিসা আক্তার ও খালা জাহানারা আক্তার একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন। এ সময় পেছন থেকে লোকজনের ধাক্কায় তাঁরা পড়ে যান। পরে তাঁর মা ও খালাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুজনই বর্তমানে হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর যে তথ্য প্রচার হচ্ছে, তা যাচাই করছি: বিভাগীয় কমিশনারপলাশ বলেন, তিনি তখন হাসপাতালে ছিলেন না। পরে এসে মায়ের কাছে যান। তাঁর বাবার মরদেহ স্বজনেরা বাড়িতে নিয়ে গেছেন। মুঠোফোনে বাবার মরদেহের ছবি দেখেছেন তিনি।ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পান। ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। ১০টি ইউনিট একসঙ্গে ঘটনাস্থলে আসে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমের কন্ট্রোলার মেশিনের সঙ্গে থাকা বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর যে তথ্য প্রচার হচ্ছে, তা যাচাই করছি: বিভাগীয় কমিশনার