হায়ার ডাইমেনশন! কখনো কি ভেবেছেন, ডাইমেনশন শুধু তিনটাই কেন হতে হবে; চতুর্থ, পঞ্চম বা আরও উচ্চতর মাত্রা কি সম্ভব নয়? ব্যাপারটা নিয়ে আগ্রহ কলেজ থেকেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পর জিনিসটা নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবা শুরু করলাম। আজকে বিভিন্ন অতিপ্রাকৃতিক সত্তাকে নিয়ে ডাইমেনশনাল ফিজিকসের অ্যাঙ্গেল থেকে কিছু ভাবনা শেয়ার করব।
প্রথমে বুঝতে হবে মাত্রা কী। মাত্রা হলো মুক্তভাবে চলাচল করার সক্ষমতা। বিন্দুর মাত্রা শূন্য। এর মানে হচ্ছে, আপনি বিন্দু হলে আপনি এ মহাবিশ্বে কোনো দিকেই চলাচল করতে পারবেন না। রেখার একটামাত্র মাত্রা আছে, তা হলো দৈর্ঘ্য। ধরুন, আপনি একটা রেখা বরাবর চলমান আছেন; আপনার সামনে হুট করে একটা লোক এসে দাঁড়িয়ে গেল। আপনি কী করবেন তখন? পাশ কাটিয়ে যাবেন? কিন্তু রেখার তো পাশ নেই, আছে শুধু দৈর্ঘ্য। অর্থাৎ, আপনি যদি কোনো হাইপোথেটিক্যাল ওয়ান–ডাইমেনশনাল উইনিভার্সে হাঁটতে থাকেন, তাহলে আপনার সামনে আসা একটামাত্র বাঁধা আপনাকে আজীবনের জন্য বন্দী করে ফেলবে। অর্থাৎ, ওয়ান–ডাইমেনশনাল উইনিভার্সে আপনি কোনো সমাজ বানাতে পারবেন না। আপনি সেখানে একা, সম্পূর্ণ একা!
এখন আসুন আরও একটি মাত্রা যোগ করে হাইপোথেটিক্যাল ফ্লাটল্যান্ডে প্রবেশ করি। এখানে সব চ্যাপটা প্রাণী বসবাস করে, যাদের শরীরের কোনো পুরুত্ব নেই; এমনকি তাদের মস্তিষ্কে জন্ম থেকে উচ্চতা বা পুরুত্বের কোনো ধারণা নেই। এখানে সমাজ তৈরি করা সম্ভব। তবে ফ্লাটল্যান্ডের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, আপনি যদি সেখানকার কোনো প্রাণীকে একটা বৃত্তাকার বলয় দ্বারা আটকে দেন, তাহলে তার পক্ষে ওই বলয় ভাঙা ছাড়া সেখান থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়।
তবে আপনি কিন্তু খুব সহজেই বলয়টা ভাঙা ছাড়াই সেই চ্যাপটা প্রাণীকে বৃত্তাকার বলয় থেকে বের করে আনতে পারেন। কীভাবে বলুন তো? তাকে উচ্চতা বরাবর উঠিয়ে বলয় থেকে বের করে আনতে পারেন। কিন্তু যখন আপনি প্রাণীটাকে উচ্চতা বরাবর ওঠাবেন, তখন আর তার মস্তিষ্ক কাজ করবে না, সে বুঝতেও পারবে না যে তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আবার ধরুন, আপনি আপনার একটা আঙুলকে ফ্লাটল্যান্ড বরাবর ক্রমাগত ওপরে ওঠাচ্ছেন আর নিচে নামাচ্ছেন। ফ্লাটল্যান্ডে যেহেতু পুরুত্বের কোনো ধারণা নেই, তাই সেখানকার চ্যাপটা প্রাণীরা কখনোই আপনার পুরো আঙুল দেখতে পারবে না; বরং তারা দেখতে পাবে, একটা বৃত্তাকার প্রস্থচ্ছেদ বারবার দৃশ্যমান হচ্ছে, আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই শূন্যে মিলিয়ে যাচ্ছে।
এটুকু যদি ঠিকঠাক বুঝে থাকেন, তাহলে বাকিটা বুঝতে আশা করি খুব বেশি কষ্ট হবে না। জিন-ভূত নিয়ে শোনেননি, এমন লোক মনে হয় পৃথিবীতে পাওয়া যাবে না। এখন চিন্তা করে দেখুন, জিন যদি চার মাত্রার কোনো প্রাণী হয়, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হয়? সে চাইলেই কিন্তু হুট করে আমাদের সামনে দৃশ্যমান হতে পারবে। অর্থাৎ, তার চতুর্মাত্রিক শরীরের ত্রিমাত্রিক একটা ক্রস সেকশন বা ছায়া আমরা দেখতে পাব। আবার সে চাইলেই ওই হইপোথেটিক্যাল চতুর্থ মাত্রা বরাবর উঠে গিয়ে ভোজবাজির মতো গায়েব হয়ে যেতে পারবে।
আবার গ্রামে অনেক সময় শোনা যায়, অমুক ব্যক্তিকে জিন নিয়ে গেছে, আর খুঁজে পাওয়া যায়নি, অথবা অনেক বছর পর খুঁজে পাওয়া গেছে। অথচ ওই ব্যক্তি মনে করতে পারে, এতগুলো বছর সে কোথায় ছিল। ব্যাপারটা অনেকটা দ্বিমাত্রিক কোনো প্রাণীকে উচ্চতা বরাবর ওঠানো বা ত্রিমাত্রিক দুনিয়ায় নিয়ে আসার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আবার জিনরা সাধারণত দেয়াল বা দরজা ভেদ করে ঘরে প্রবেশ করতে পারে বলা হয়। ত্রিমাত্রিক কোনো প্রাণী যেমন চাইলেই উচ্চতা বরাবর উঠে কোনো দ্বিমাত্রিক বলয়কে ভাঙা ছাড়াই অতিক্রম করতে পারে, একইভাবে চতুর্মাত্রিক জিনরাও হয়তো সেই হইপোথেটিক্যাল চতুর্থ মাত্রা বরাবর উঠেই ত্রিমাত্রিক বাধা তথা দেয়াল বা দরজা অতিক্রম করতে পারে।
শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
* মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
প্রশ্ন: অপবিত্র ব্যক্তি তথা গোসল ফরজ থাকা ব্যক্তি যদি পবিত্র কোনো ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলায় বা তাকে স্পর্শ করে, তাহলে তার শরীর কি নাপাক হয়ে যাবে? উত্তর: ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে নাপাকি বা অপবিত্রতা মৌলিকভাবে দুই প্রকার: ১. নাজাসাতে হাকিকি (প্রকৃত নাপাকি): যেমন মলমূত্র, প্রবহমান রক্ত ইত্যাদি বাহ্যিক নাপাক বস্তু। এসব বস্তু কারো শরীরে বা কাপড়ে লাগলে ওই নির্দিষ্ট স্থান বা কাপড় নাপাক হয়ে যায়। এই নাপাকি থেকে পবিত্র হতে হলে নাপাক বস্তুটি দূর করে সংশ্লিষ্ট স্থান ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হয়। কারো হাতে বা শরীরের অন্য কোথাও নাজাসাতে হাকিকি লেগে থাকা অবস্থায় সে যদি অন্য কারো শরীর স্পর্শ করে, তার শরীরেও নাপাকি লেগে যায়, তাহলে তার শরীরও নাপাক হয়ে যাবে। আরও পড়ুন গোসল ফরজ অবস্থায় সালাম দেওয়া যাবে কি? ২. নাজাসাতে হুকমি (বিধানগত নাপাকি): যেমন সহবাস, স্বপ্নদোষ বা বীর্যপাতের কারণে বা হায়েজ-নেফাসের কারণে গোসল ফরজ হওয়া, মলমূত্র ত্যাগ করার কারণে অজু ফরজ হওয়া ইত্যাদি। এটি বাহ্যিক কোনো নাপাকি নয়, বরং একটি বিধানগত বিষয়। কেউ নাজাসাতে হুকমির অন্তর্ভুক্ত অবস্থায় অর্থাৎ তার ওপর অজু-গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় তাকে স্পর্শ করলে কিংবা তার সাথে চলাফেরা ও ওঠাবসা করলে অপর ব্যক্তি নাপাক হয় না। হাদিসে এসেছে, উম্মুল মুমিনীনগণ মাসিক হায়েজ চলাকালেও রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে সাধারণ ওঠাবসা ও স্পর্শ করতেন। কিন্তু এ কারণে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পৃথকভাবে গোসল বা ওজু করতেন না। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায় রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুল আঁচড়ে দিতাম। (সহিহ বুখারি: ২৯৫) আরেকটি হাদিসে হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, একবার আমার সঙ্গে রাসুলুল্লাহর (সা.) দেখা হলো। তখন আমি অপবিত্র ছিলাম। তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে নিয়েই চলতে লাগলেন। তিনি যখন বসে পড়লেন তখন আমি সঙ্কুচিতভাবে সরে পড়লাম এবং যথাস্থানে গিয়ে গোসল করলাম। তারপর আবার আমি তার কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি তখনও সেখানে বসে বসে ছিলেন। আমাকে দেখে বললেন, হে আবু হোরায়রা! তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? তখন আমি তাকে আমার ব্যাপারটি বললাম। তা শুনে তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! মুমিন ব্যক্তি কখনও অপবিত্র হয় না। (সহিহ বুখারি: ২৮৩) আরও পড়ুন রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করলে কি অজু ভেঙে যায়? সুতরাং হুকমিভাবে অপবিত্র তথা অজু-গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তির শারীরিক স্পর্শে অন্য কেউ অপবিত্র হবে না; তার শরীরের ওই জায়গা ধুয়ে ফেলতে হবে না বা তাকে অজু-গোসল করতে হবে না। ওএফএফ
শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফাইন্যান্স লিমিটেড ‘অফিসার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই বিবিএ অথবা বিএ ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে ন্যাশনাল ফাইন্যান্স লিমিটেডের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম ন্যাশনাল ফাইন্যান্স লিমিটেড বিভাগের নাম গ্রাফিক ডিজাইনার পদের নাম অফিসার পদসংখ্যা ১ জন চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবিএ অথবা বিএ অভিজ্ঞতা ২-৫ বছর। তবে ফ্রেশার প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা ২৫-৩৫ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন ন্যাশনাল ফাইন্যান্স লিমিটেড। আরও পড়ুনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবেনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদন৮৫ জনকে নিয়োগ দেবে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, আবেদন ফি ১০০ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ