ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। এর মধ্যেই আলোচনায় এসেছে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। গত ৭ আগস্ট মক্কায় তারা এই চুক্তিতে সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা বলে বিবেচনা করা হবে।
তবে চুক্তি সইয়ের এক মাস না পেরোতেই সৌদি আরব ও হুথিদের সংঘাত সেটির বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্য হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে বিমান হামলা বাড়িয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হুথি হামলায় সৌদি আরবে ৭৩ জন আহত হন। এরপর সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে হামলা আরও জোরদার করে।
এই সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলো লোহিত সাগর। হুথিরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে। মোখা বন্দর দখলের পর তারা কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির আরও কাছে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। চুক্তির মূল কথা হলো সমষ্টিগত প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা। কোনো একটি সদস্যরাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। এটি প্রতিরক্ষামূলক এবং এর লক্ষ্য সদস্যদেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষা করা।
চুক্তির বাস্তব কাঠামোও ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে। গত ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে তিন দেশের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। সেখানে যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সৌদি আরবে হুথিদের হামলা বাড়ার পর পাকিস্তান কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। ইসলামাবাদ ইরানকে হুথিদের হামলা নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর হামলা চলতে থাকলে মক্কা চুক্তির বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
তিনি বলেন, ইয়েমেনের সংঘাত যদি সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়ে কিংবা কোনো ধরনের উসকানিবিহীন হামলা হয়, তাহলে চুক্তির পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—পাকিস্তান কি এবার সরাসরি ইয়েমেনের যুদ্ধে জড়াবে?
এখানেই রয়েছে মক্কা চুক্তির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
চুক্তিতে ‘একজনের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা’ বলা হলেও এর অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইয়েমেনে পাকিস্তানি সেনা পাঠানো—এমনটি স্পষ্ট নয়। বরং পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিষয়টি আরও সতর্কভাবে দেখা হচ্ছে।
১০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, হুথিদের হামলার পর মক্কা চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়নি।
তিনি বলেছেন, পাকিস্তান সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনায় নেই।
অর্থাৎ রাজনৈতিক বার্তা কঠোর হলেও সামরিক পদক্ষেপের প্রশ্নে ইসলামাবাদ এখনো সংযত।
মক্কা চুক্তির ভাষা এবং বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে এখানেই বড় একটি জায়গা তৈরি হয়েছে।
প্রথমত, চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক।
দ্বিতীয়ত, কোন পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘সশস্ত্র হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তার বাস্তব প্রয়োগের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তৃতীয়ত, সৌদি ভূখণ্ডে হামলার জবাব দিতে গিয়ে ইয়েমেনের ভেতরে পাকিস্তান বা তুরস্ক সরাসরি সামরিক অভিযান চালাবে কি না, সেটিও আলাদা প্রশ্ন।
চতুর্থত, পাকিস্তান একই সময়ে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মক্কা চুক্তির কার্যকর কাঠামো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। চুক্তির লক্ষ্য হিসেবে তারা শান্তি, স্থিতিশীলতা, প্রতিরোধ ও সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথাও বলছে।
মক্কা চুক্তির তৃতীয় অংশীদার তুরস্ক।
চুক্তি সইয়ের পর তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, এটি কোনো দেশকে সাধারণ শত্রু বা প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করছে না। চুক্তির লক্ষ্য তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং যৌথ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো।
ফলে সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালে তুরস্ক কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটিও ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে ইয়েমেনের ভেতরে অভিযান এবং সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষার মধ্যে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
হুথিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ালে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে। হুথিদের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিসেবে দেখা হয়। ফলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় মিত্র বাহিনীর সেনা বা বিমান ইয়েমেনে অভিযান চালালে সেটি শুধু হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ থাকবে না, তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাবের বিরুদ্ধেও অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর, কারণ ইরান তার সরাসরি প্রতিবেশী। সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কও ধরে রাখতে চায়। ফলে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামলে সীমান্তনিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
তবে পাকিস্তান যদি সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষায় সীমিত সহায়তা দেয় এবং ইয়েমেনে সরাসরি হামলা এড়িয়ে চলে, তাহলে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ মক্কা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সামনে একটি সূক্ষ্ম পথ রয়েছে—সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষা করা, কিন্তু সেই প্রক্রিয়াকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে রূপ না দেওয়া। এ কারণেই হুথি সংকট শুধু মক্কা চুক্তির নয়, পাকিস্তান-ইরান সম্পর্কেরও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
মক্কা চুক্তির বয়স মাত্র এক মাসের কিছু বেশি। এর মধ্যেই এমন একটি সংকট সামনে এসেছে, যা চুক্তির বাস্তব সক্ষমতার পরীক্ষা নিচ্ছে।
চুক্তির কাঠামো পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক হওয়ার আগেই যদি সৌদি আরব বড় ধরনের আক্রমণের মুখে পড়ে, তখন তিন দেশকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা বলতে তারা ঠিক কী বোঝে।
শুধু গোয়েন্দা তথ্য, অস্ত্র ও প্রযুক্তি সহায়তা? নাকি সৌদি আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সরাসরি সামরিক উপস্থিতি? নাকি প্রয়োজনে ইয়েমেনের ভেতরেও অভিযান?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়।
চুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে সৌদি-হুথি সংঘাত কতটা বিস্তৃত হয় তার ওপর। সংঘাত যদি সৌদি ভূখণ্ডে সীমিত হামলার পর্যায়ে থাকে, তাহলে মক্কা চুক্তি সম্ভবত প্রতিরোধমূলক রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়ের কাঠামো হিসেবেই এগোবে।
কিন্তু হামলা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা বন্দরগুলো নিয়মিত আক্রান্ত হয়, তখন চুক্তির ওপর সামরিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ বাড়বে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাব আল-মান্দাব। এই প্রণালির নিরাপত্তা নষ্ট হলে বিষয়টি আর শুধু সৌদি-হুথি সংঘাতের মধ্যে থাকবে না। আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ফলে, মক্কা চুক্তি শেষ পর্যন্ত একটি কার্যকর যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো হবে, নাকি মূলত রাজনৈতিক প্রতিরোধের জোট হিসেবে থাকবে—তার উত্তর হয়তো ইয়েমেনের যুদ্ধই প্রথম দেবে।
সূত্র: রয়টার্স ১ ও ২, সিএনএন, পাকিস্তান সরকার
কেএএ/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ওপর ভিত্তি করে সিঙ্গাপুর আজ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বরিশাল অঞ্চলেও এ ধরনের শিল্পের বিকাশের সুযোগ রয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ), ঢাকা আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ হুইপ বলেন, সাগর, নদী, মাছ, গ্যাস, খনিজ সম্পদসহ প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ একটি অঞ্চল বরিশাল। বলতে গেলে আমরা ডায়মন্ড খনির ওপর বসে আছি।অর্থনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। দেশকে এগিয়ে নিতে বরিশাল অঞ্চলের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর অংশগ্রহণ করেন। আরও পড়ুন চিফ হুইপ / বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সম্পত্তি হস্তান্তর বিল পাস চিফ হুইপ বলেন, বরিশাল অঞ্চলের মানুষ সবসময় প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। অথচ এ অঞ্চলে সাগর, নদী ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার রয়েছে। বরিশালে পর্যাপ্ত শিল্পাঞ্চল বা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠেনি। পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এখানে জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ ভাঙা ও জাহাজ মেরামত শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ওপর ভিত্তি করে সিঙ্গাপুর আজ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বরিশাল অঞ্চলেও এ ধরনের শিল্পের বিকাশের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এখানে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনাও রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বরিশালকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বরিশালসহ উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু বিচ্ছিন্ন প্রকল্প গ্রহণ না করে যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্প, বন্দর, পর্যটন, মৎস্য ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এ অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বরিশাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান/ছবি: জাগো নিউজ সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই হবে না; দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনীতিবিদদের অবস্থান এতটাই নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ভালো মানুষ এখন আর রাজনীতিতে আসতে চান না। এমনকি রাজনীতিবিদদের ছেলে-মেয়েরাও রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী হচ্ছে না। আন্দালিভ রহমান বলেন, কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্টের জন্য ভালো মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি। তা না হলে এ দেশে এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো গুণী ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতিবিদ তৈরি হবে না। আরও পড়ুন নূরুল ইসলাম / ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে রাস্তার পাশে শত শত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছি সেমিনারে বরিশাল অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শিল্পায়ন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন বিকাশ, নদী ও সমুদ্রসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, বন্দর উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিডিজেএ’ র সভাপতি মাহবুব সৈকতের সভাপতিত্বে ও যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি কাজী জেবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিডিজেএ’র সাধারণ সম্পাদক সানবীর রূপল, সদস্য সচিব নাজিয়া আফরিনসহ বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এমওএস/এমএমকে
বদরউদ্দীর উমর তাঁর লেখায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উদ্ভব, এর শাসকশ্রেণির চরিত্রের বিশ্লেষণ করে গেছেন। বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমানকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের যে বয়ান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে যে বয়ান—সেই বয়ানের ওপর নির্ভর করে যে চরম ফ্যাসিবাদী শাসন এবং জনগণের ওপরে গুম, ক্রসফায়ার, বিনা বিচারে আটক, মিথ্যা মামলা চেপে বসেছিল, তিনি এসবের বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন।আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশের বিপ্লবী আন্দোলন ও কমরেড বদরুদ্দীন উমর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথাগুলো বলেন আলোচকেরা। বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম।ফয়জুল হাকিম বলেন, ‘বদরুদ্দীন উমর কেবল ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বিপ্লবী কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ, এ দেশের সর্বশ্রেণির একজন প্রতিনিধি। তিনি যে অসমাপ্ত কাজ করে গিয়েছেন, যে বিপ্লবের জন্য, যে সর্বহারা বিপ্লবের জন্য তিনি কাজ করে গেছেন, সেই কাজের পূর্ণতা দিতে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।’জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের এই নেতা বলেন, বদরুদ্দীন উমর তাঁর ‘যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ’ গ্রন্থে দেখিয়েছিলেন, কীভাবে দেশে লুণ্ঠনজীবী পুঁজি গড়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শ্রেণিচরিত্র বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছিলেন, এই শ্রেণি শিল্প, উৎপাদন, কৃষি কোনোটির সঙ্গেই যুক্ত ছিল না। ঘুষ, দুর্নীতি, চোরাচালান, লুটপাটের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এক ব্যবসায়ী শ্রেণি দেশের শাসনক্ষমতা দখল করেছিল।বদরুদ্দীন উমরের ওই লেখার কথা উল্লেখ করে ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ যেভাবে গঠিত হয়েছে এবং যে সরকার ও বিরোধী দল ক্ষমতায় এসেছে, তারা মূলত এই লুণ্ঠনজীবী শাসকশ্রেণিরই প্রতিনিধি। তাঁর ভাষায়, এদের পক্ষে জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তারা ‘মহামান্য’ আর ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দিতে পারে, কিন্তু এর বাইরে তাদের আর খুব বেশি কিছু করার নেই।মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সরকার ধর্মকে ব্যবহার করছে বলেও সভায় অভিযোগ করেছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম। তিনি বলেছেন, গাজায় যখন ফিলিস্তিনিদের মেরে ফেলল, কোথায় ছিল সৌদি আরব, তুরস্ক আর পাকিস্তান? দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার যে চেষ্টা শাসকশ্রেণি করছে, এই চেষ্টা তারা করতে পারে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী কোনো যুদ্ধজোটে বাংলাদেশ যাবে না। এটা পরিষ্কার কথা।আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন লেখক শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পাভেল চৌধুরী, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (এমএল) সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সদস্য মিনহাজ আহমেদ প্রমুখ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, জনগণের অধিকার রক্ষা ও সার্বিক অগ্রগতি অর্জনে এখন ইসলামি শাসনব্যবস্থার বিকল্প নেই। একমাত্র ইসলামিক সমাজব্যবস্থাই দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত তৃণমূল প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই প্রতিনিধি সমাবেশের আয়োজন করে। স্বাধীনতা অর্জনের ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জিত হয়নি মন্তব্য করে চরমোনাই পীর বলেন, উন্নয়নের বদলে উল্টো একাধিকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। মুফতি রেজাউল করীম বলেন, দেশের জনগণ অতীতের বিভিন্ন সময়ে প্রচলিত প্রায় সব রাজনৈতিক দলের শাসন প্রত্যক্ষ করেছে। দেশ পরিচালনায় তারা সবাই চরমভাবে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছেন। জনগণের অধিকার রক্ষা ও সার্বিক অগ্রগতি অর্জনে এখন ইসলামি শাসনব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র ইসলামিক সমাজব্যবস্থাই দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম। এতে জেলা ও উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। মহসীন ইসলাম শাওন/এসআর