জাতীয়

গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে সব সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত হবে

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে সব সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত হবে
গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে সব সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত হবে

দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে হলে গণতন্ত্রের নিয়মিত চর্চা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে।

দেশের মানুষও একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দুর্বল হলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে জন্মাষ্টমী, রথযাত্রাসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা এবং পুরোহিত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি এসব পদক্ষেপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সন্তুষ্টির বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

পরিষদের নেতৃবৃন্দ এসময় হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিকদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসময় প্রতিনিধিদল আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি সাদরে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক পরিচয় নয়, বরং যোগ্যতা, ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সমতার ভিত্তিতে সকল নাগরিকের জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

রাষ্ট্রপতি হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশের সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কেএইচ/এমকেআর

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সুইডেনে এগিয়ে মধ্য-বাম জোট, সরকার গঠন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা
সুইডেনে এগিয়ে মধ্য-বাম জোট, সরকার গঠন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা

নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সুইডেন সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে মধ্য-বাম বিরোধী জোট এখন তিন আসনের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। রোববারের নির্বাচনের অধিকাংশ ভোট গণনা শেষে দেশটির ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে জোটটি ১৭৬টি আসন পেতে পারে। বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পেতে পারে ১৭৩টি আসন। সুইডেনের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে, দেশটির ৬ হাজার ৩১২টি নির্বাচনি এলাকার মধ্যে ৬ হাজার ১৯৫টির ভোট গণনা হয়েছে। দুই জোটের ভোটের ব্যবধান সোমবার সকালে ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ। প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসন সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, এই ফল বহাল থাকলে সুইডেনে নতুন সরকার গঠিত হবে। তবে এখনো কোনো পক্ষই চূড়ান্তভাবে জয় বা পরাজয় দাবি করছে না। ৩৫৩টি নির্বাচনি এলাকার ফল এখনো বাকি রয়েছে। বিদেশে দেওয়া ভোটও বুধবারের আগে পুরোপুরি গণনা হওয়ার সম্ভাবনা কম। আরও পড়ুন সুইডেনে সংসদ নির্বাচন, এগিয়ে বিরোধী জোট ২০২২ সালের নির্বাচনেও প্রথম দিকে এক্সিট পোলে মধ্য-বাম জোটকে সামান্য এগিয়ে দেখা হয়েছিল। পরে চূড়ান্ত ফল বদলে যায় এবং উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এবারও বাকি ভোটে ব্যবধান বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দলগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এবারের নির্বাচনে সুইডেন ডেমোক্র্যাটস প্রায় ১১টি আসন হারাতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে। গত চার বছর ধরে দলটি ক্রিস্টেরসন সরকারের বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ডানপন্থি জোট ক্ষমতায় থাকলে এবার প্রথমবারের মতো সরকারে যোগ দেওয়ার প্রত্যাশা ছিল দলটির। মধ্য-বাম জোটের ব্যবধান শেষ পর্যন্ত বহাল থাকলে ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে সরকার গঠন সহজ নাও হতে পারে। সেন্টার পার্টি লেফট পার্টির সঙ্গে একই সরকারে যেতে রাজি নয়। অন্যদিকে লেফট পার্টি জানিয়েছে, যে কোনো জোট সরকারে তাদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। ফলে সরকার গঠনে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন হবে। সুইডেনের পার্লামেন্টের স্পিকার আন্দ্রেয়াস নোরলেন দেশটির টেলিভিশনকে বলেন, সরকার গঠনের প্রক্রিয়া বেশ জটিল হতে পারে। নির্বাচনের ফল সুইডেনের পশ্চিমাপন্থি ও ইউক্রেন-সমর্থক পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে না। তবে অভিবাসন ও অর্থনৈতিক নীতিতে এর প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ম্যাগদেলিনা অ্যান্ডারসন নির্বাচনি প্রচারে কল্যাণ খাতে ব্যয় বাড়ানো, আরও ন্যায্য করব্যবস্থা এবং সামাজিক সংহতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। গ্রিন পার্টি ও লেফট পার্টি ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর আদায়ের পক্ষে থাকলেও সেন্টার পার্টি বিলিয়নিয়ারদের ওপর কর আরোপের বিরোধিতা করছে। অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও কম। লেফট ও গ্রিন পার্টি তুলনামূলক নমনীয় নীতির পক্ষে থাকলেও অ্যান্ডারসন বলেছেন, সুইডেনকে অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখতে হবে। চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে বাকি নির্বাচনী এলাকার ফল এবং বিদেশ থেকে আসা ভোট গণনার ওপর। এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে আটক ৬৩ বিদেশি দুই দিনের রিমান্ডে

অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে আটক ৬৩ বিদেশি দুই দিনের রিমান্ডে

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে সন্তানদের স্কুল বদলালেন হ্যারি–মেগান

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে সন্তানদের স্কুল বদলালেন হ্যারি–মেগান

নটর ডেম কলেজে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

নটর ডেম কলেজে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

কেমন ছিল আশির দশকের ফ্যাশন
কেমন ছিল আশির দশকের ফ্যাশন

আশির দশক মানেই যেন অন্যরকম এক উচ্ছ্বাস। ক্যাসেট প্লেয়ারে বাজছে পপ গান, টেলিভিশনের পর্দায় ঝলমলে মিউজিক ভিডিও, আর ফ্যাশনে চলছে একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সত্তরের দশকের তুলনামূলক নরম ও ডিসকো-নির্ভর স্টাইল পেরিয়ে আশির দশকে পোশাক হয়ে উঠেছিল ব্যক্তিত্ব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। যতটা নজরকাড়া, ততটাই সাহসিতাই ছিল সেই সময়ের ফ্যাশনের ভাষা। বিশাল শোল্ডার প্যাড, অতিরঞ্জিত চুলের কাটছাঁট দিয়ে সাজানো আর নিয়ন রঙের উজ্জ্বলতা সেই আশির দশক আজও ফ্যাশন সচেতনদের নস্টালজিক করে তোলে।গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন অসংখ্য ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তারকারাও এই ট্রেন্ডে যোগ দিয়েছেন। ছবিগুলো রং ও আবহেও পুরোনো দিনের ছাপ। আশির দশকের পোশাক-আশাকের চল নিয়ে চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু বলছিলেন, এআই দিয়ে তৈরি ছবিগুলো সেই সময়কে শতভাগ তুলে ধরতে না পারলেও তখনকার ফ্যাশন ও বিভিন্ন অনুষঙ্গের একটি ধারণা দিতে পারছে। কেমন ছিল সেই সময়ের ফ্যাশন? চলুন চোখ রাখা যাক আশির দশকের সেই আইকনিক স্টাইল স্টেটমেন্টগুলোতে। ​চুলে যত ভলিউম, তত স্টাইল চুলের কাটিংয়ের ক্ষেত্রে আশির দশকের মূলমন্ত্র ছিল এটাই-যত বড়, তত ভালো'। পার্ম করা কোঁকড়ানো চুল, ভলিউম দেওয়া 'বিগ হেয়ার', কিংবা ব্যাককম্ব করে ফোলানো চুল ছিল সে সময়ের ক্রেজ। মেকআপেও ছিল একই রকম সাহসী প্রকাশ। চোখের পাতায় নীল, বেগুনি কিংবা নিয়ন শেডের আইশ্যাডো, গালে স্পষ্ট ব্লাশ এবং ঠোঁটে উজ্জ্বল লাল বা গোলাপি লিপস্টিক-সব মিলিয়ে সাজে থাকত চোখে পড়ার মতো রঙের উপস্থিতি। আজকের মিনিমাল মেকআপের বিপরীতে আশির দশকের সৌন্দর্যচর্চা ছিল অনেক বেশি নাটকীয় ও প্রাণবন্ত। চওড়া কাঁধ ও পাওয়ার ড্রেসিং আশির দশকে নারীরা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে জানান দিতে শুরু করেন। এই সামাজিক পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছিল পোশাকেও। অফিসের ব্লেজার, স্যুট কিংবা জ্যাকেটে চওড়া কাঁধ তৈরি করতে ব্যবহার করা হতো শোল্ডার প্যাড। এর ফলে শরীরের গড়নে তৈরি হতো শক্তিশালী একটি সিলুয়েট, যা আত্মবিশ্বাস ও কর্তৃত্বের ভাব প্রকাশ করত। এই প্রবণতা শুধু নারীদের পোশাকে সীমাবদ্ধ ছিল না। পুরুষদের স্যুট ও ব্লেজারেও চওড়া কাঁধের কাটিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এভাবেই পাওয়ার ড্রেসিং আশির দশকের অন্যতম পরিচিত ফ্যাশন পরিচয়ে পরিণত হয়। অ্যাসিড-ওয়াশ ডেনিম ও জিন্সের রাজত্ব ডেনিমের ইতিহাসে আশির দশক ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। বিশেষ করে অ্যাসিড-ওয়াশ জিন্স তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। হাঁটু ছাঁটা জিন্স, হাই-ওয়েস্টেড 'মম জিন্স', ঢিলেঢালা ডেনিম এবং ডেনিম জ্যাকেট তখনকার ক্যাজুয়াল ফ্যাশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। ওভারসাইজড ডেনিম জ্যাকেটকে আরও ব্যক্তিগত করে তুলতে অনেকে তাতে পিন, ব্যাজ বা প্যাচ লাগাতেন। ফলে একই পোশাকেও ফুটে উঠত ব্যক্তিত্বের আলাদা ছাপ। পপ তারকাদের অন্ধ অনুকরণ আশির দশকের ফ্যাশনকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে পপ সংস্কৃতির বিশাল ভূমিকা ছিল । তারকাদের মিউজিক ভিডিও, কনসার্ট ও স্টেজ পোশাক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ত তরুণদের মধ্যে। তৎকালীন পপ তারকাদের দ্বারা লেস গ্লাভস, ফিশনেট স্টকিংস, লেয়ারড জুয়েলারি আর ক্রস প্যান্ডেন্ট পরে বিশ্ব মাত করেছিলেন। মাইকেল জ্যাকসনের লাল লেদার জ্যাকেট, মেটালিক গ্লাভস ও সাদা মোজার সঙ্গে ছোট প্যান্টের স্টাইলের ট্রেন্ড চালু করেছিলেন। অন্যদিকে প্রিন্সের রাফল বা ভিক্টোরিয়ান ধাঁচের শার্ট, ঝলমলে স্যুট এবং সাহসী মঞ্চসজ্জা পুরুষদের ফ্যাশনে নতুন ধরনের পরীক্ষার পথ খুলে দেয়। দক্ষিণ এশিয়াতেও সময়টির আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের প্রভাব দেখা যায়। বেলবটমের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে কমে সরু কাটের প্যান্ট, ঢিলেঢালা রঙিন শার্ট এবং বড় ফ্রেমের সানগ্লাসের মতো স্টাইল জায়গা করে নেয়। ​স্প্যান্ডেক্স, লেগ ওয়ার্মার ও ফিটনেস ফিভার আশির দশকে অ্যারোবিক্স ও ফিটনেস সংস্কৃতি শুধু শরীরচর্চার অভ্যাস বদলায়নি, পোশাকের ধরনেও প্রভাব ফেলেছিল। সেখান থেকেই ফ্যাশনে স্থান করে নেয় স্প্যান্ডেক্স, ব্রাইট লেগিংস, আর পায়ে পরা রঙিন 'লেগ ওয়ার্মার'। জিম সেশনের বাইরেও লেগ ওয়ার্মার আর হেডব্যান্ড তখন স্ট্রিট ফ্যাশনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়। আরও পড়ুন ৮০-র দশকে সবার চুল কি কোকড়া ছিল? এআইয়ের ছবির রহস্য কী নস্টালজিয়ার ফিরে আসা ফ্যাশনের সবচেয়ে মজার বৈশিষ্ট্য হলো- একসময় যে ট্রেন্ড পুরোনো হয়ে যায়, কয়েক দশক পর সেটিই আবার নতুন রূপে ফিরে আসে। আশির দশকের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আজকের ক্রপ টপ, ওভারসাইজড ব্লেজার, হাই-ওয়েস্ট জিন্স, বোল্ড সানগ্লাস কিংবা স্টেটমেন্ট শোল্ডারের মধ্যে সেই সময়ের ফ্যাশনের ছাপ খুঁজে পাওয়া যায়। আরও পড়ুন ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা বর্তমানে আশির দশকের ফ্যাশন দেখে আমরা সহজে বুঝতে পারি কীভাবে কোনো দ্বিধা ছাড়াই নিজের ব্যক্তিত্বকে পোশাকের মাধ্যমে উজ্জ্বল করে তোলা যায়। এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সাক্ষাৎ

গাড়ি ব্যবহারে অনিয়মে জড়িত এই আমলারা, জানতে চাইলে জবাব, ‘আমি একা করি নাকি’

গাড়ি ব্যবহারে অনিয়মে জড়িত এই আমলারা, জানতে চাইলে জবাব, ‘আমি একা করি নাকি’

জিন্নাহর দুটো মৃত্যুই করুণ হলো

জিন্নাহর দুটো মৃত্যুই করুণ হলো

মন্দ ধারণার সুযোগ না দেওয়া: নবীজির জীবন থেকে একটি শিক্ষা
মন্দ ধারণার সুযোগ না দেওয়া: নবীজির জীবন থেকে একটি শিক্ষা

মানব মনস্তত্ত্বের এক অদ্ভুত প্রবণতা হলো অনুমাননির্ভরতা। অনেক সময় বাস্তব কোনো ভিত্তি বা স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই মানুষের মনে এমন কিছু অলীক ধারণা জন্ম নেয়, যা ধীরে ধীরে ব্যক্তির চিন্তাকে বিষাক্ত করে তোলে।এই অমূলক ধারণা যখন কথায় কিংবা আচরণে প্রকাশ পায়, তখন পারিবারিক বন্ধন থেকে শুরু করে বৃহত্তর সামাজিক সৌহার্দ্য পর্যন্ত ভেঙে পড়ে।ইসলাম তাই শুধু মানুষকে মন্দ ধারণা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি; বরং এমন সব পরিস্থিতি ও আচরণ সচেতনভাবে এড়িয়ে চলার শিক্ষা দিয়েছে, যা অন্যের মনে সামান্যতম সন্দেহের বীজ বপন করতে পারে।ইসলাম তাই শুধু মানুষকে মন্দ ধারণা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি; বরং এমন সব পরিস্থিতি ও আচরণ সচেতনভাবে এড়িয়ে চলার শিক্ষা দিয়েছে, যা অন্যের মনে সামান্যতম সন্দেহের বীজ বপন করতে পারে।অর্থাৎ নিজের দিক থেকে শতভাগ নিষ্পাপ থাকার পাশাপাশি অন্যের চোখেও যেন নিজের কর্ম বা অবস্থান নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি না জন্মে—সেই সামাজিক দূরদর্শিতা নিশ্চিত করাই হলো নবীজির জীবনাদর্শ।সব ধারণাই নিষিদ্ধ নয়; কিন্তু প্রমাণহীন নেতিবাচক ধারণা মানুষকে অন্যায়ের দিকে ধাবিত করে। তাই মুমিনের দায়িত্ব হলো কল্পনার ওপর ভর না করে প্রত্যক্ষ সত্যের ওপর আস্থা রাখাকোরআনের সতর্কবার্তা মানুষের মন সামান্য কোনো ইঙ্গিতকে অতিরঞ্জিত করে অবচেতনভাবেই পূর্ণাঙ্গ একটি কাল্পনিক দৃশ্যপট তৈরি করে ফেলে। অথচ ধর্ম ও ন্যায়ের বিচারে নিছক ধারণা কখনো অকাট্য সত্যের বিকল্প হতে পারে না।পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা মুমিনদের সতর্ক করে বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অধিকাংশ অনুমান থেকে দূরে থাকো; নিশ্চয়ই কিছু অনুমান সুস্পষ্ট পাপ। আর তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান কোরো না এবং পরস্পরের পেছনে গিবত বা পরনিন্দা কোরো না...।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২)এই আয়াতে মানুষের অন্তর্জগতের এক গভীর ব্যাধির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সব ধারণাই নিষিদ্ধ নয়; কিন্তু প্রমাণহীন নেতিবাচক ধারণা মানুষকে অন্যায়ের দিকে ধাবিত করে। তাই মুমিনের দায়িত্ব হলো কল্পনার ওপর ভর না করে প্রত্যক্ষ সত্যের ওপর আস্থা রাখা এবং অন্যের ব্যাপারে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করা।সংকটকালে নেতৃত্ব দিতে সুরা কাহাফের ৩ শিক্ষাসংশয়ের পথ বন্ধে নবীজির দৃষ্টান্ত অন্যের মন থেকে মন্দ ধারণার সামান্যতম সুযোগও কীভাবে প্রজ্ঞার সঙ্গে দূর করতে হয়, রাসুল (সা.)  নিজ আচরণের মাধ্যমে তার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।একবার রাসুল (সা.)  মসজিদে নববিতে ইতিকাফ অবস্থায় ছিলেন। এক রাতে সাফিয়া (রা.) নবীজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। কিছুক্ষণ আলাপের পর যখন তিনি ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য উঠলেন, তখন নবীজি  তাঁকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য সঙ্গে বের হলেন। তাঁর বাসস্থান ছিল ওসামা ইবনে জায়েদের বাড়ির কাছে।পথিমধ্যে আনসারদের দুজন সাহাবি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নবীজিকে এক নারীর সঙ্গে দেখে দ্রুত কদম ফেলে চলে যেতে লাগলেন। রাসুল (সা.)  নিজেই ডেকে তাঁদের বললেন, ‘তোমরা ধীরে চলো, থামো, ইনি আমার স্ত্রী সাফিয়া।’সাহাবিরা লজ্জিত হয়ে বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ, হে আল্লাহর রাসুল! (আমরা কি আপনার ব্যাপারে কোনো মন্দ চিন্তা করতে পারি?)’তখন নবীজি (সা.) মানবচরিত্রের এক চূড়ান্ত সত্য উন্মোচন করে বললেন, ‘নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের শিরা-উপশিরায় রক্তের মতো প্রবাহিত হয়। তাই আমি আশঙ্কা করলাম, সে হয়তো তোমাদের অন্তরে কোনো খারাপ ধারণা বা বিভ্রান্তি ঢুকিয়ে দিতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৮১)এখানে প্রণিধানযোগ্য বিষয় হলো, নবীজি (সা.) সাহাবিদের ইমান নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেননি; বরং মানুষের দুর্বল মনস্তত্ত্বে শয়তান যেন কোনো কুচিন্তা ঢোকানোর সুযোগ না পায়, সে জন্য তিনি নিজ থেকেই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিলেন। একটি ভুল ধারণা জন্ম নেওয়ার আগেই তার সম্ভাব্য উৎস নির্মূল করাই ছিল এই সুন্নাহর মূল শিক্ষা।সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৮১নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের শিরা-উপশিরায় রক্তের মতো প্রবাহিত হয়। তাই আমি আশঙ্কা করলাম, সে হয়তো তোমাদের অন্তরে কোনো খারাপ ধারণা বা বিভ্রান্তি ঢুকিয়ে দিতে পারে।বৈধ বিষয়েও স্বচ্ছতা বজায় রাখা নবীজির স্ত্রী হওয়ায় সাফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করা তাঁর জন্য স্বাভাবিক ছিল। তা সত্ত্বেও নবীজি (সা.) তাঁর পরিচয় সাহাবিদের সামনে পরিষ্কার করে দিয়েছেন।ইসলামি আইনশাস্ত্রে এই ঘটনা থেকে এক মৌলিক আদব প্রণীত হয়েছে। মুসলিম শরিফে এই হাদিসের ওপর একটি স্বতন্ত্র অনুচ্ছেদ রয়েছে যে ‘কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রী বা কোনো মাহরাম নারীর সঙ্গে নির্জন বা অস্পষ্ট স্থানে থাকলে এবং তা দেখে পথচারীদের মনে কোনো বিভ্রান্তি বা সন্দেহের অবকাশ থাকলে, তাৎক্ষণিক তার পরিচয় স্পষ্ট করে দেওয়া মোস্তাহাব।’ (শারহু সহিহ মুসলিম, নববি, ১৪/১৫৭)অর্থাৎ এমন ক্ষেত্রেড ‘আমি তো সৎ আছি, মানুষ যা ভাবে ভাবুক’—এই উদাসীনতা সুন্নতের কথা নয়; বরং আত্মমর্যাদা রক্ষা এবং সমাজকে পাপাচারী চিন্তা থেকে নিরাপদ রাখতে নিজের আচরণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও ইমানের দাবি।জীবন যাপনে ভারসাম্য: নবীজির জীবন থেকে ৭ শিক্ষামন্দ ধারণার সামাজিক ক্ষতি মানুষ বাহ্যিকভাবে যা দেখে, তার পেছনের সত্যটুকু তার অজানা থাকতে পারে। অথচ দৃশ্যমান খণ্ডিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে রায় দিয়ে দেওয়া বড় ধরনের নৈতিক অপরাধ।রাসুল (সা.)  কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন, ‘তোমরা ভিত্তিহীন অনুমান থেকে বেঁচে থাকো; কেননা কুধারণা হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা।’(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৬৪)কোরআনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সুরা হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতে তিনটি পাপকে ক্রমানুসারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে: মন্দ ধারণা, ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করা (তাজাসসুস) এবং গিবত।কারণ, মন্দ ধারণা থেকেই শুরু হয় অন্যের ব্যক্তিগত জীবনের খুঁত খোঁজার অপচেষ্টা, আর সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সমাজে শুরু হয় পরনিন্দা ও চরিত্রহনন। তাই মন্দ ধারণার পথ শুরুতেই রুদ্ধ করতে না পারলে তা একসময় গোটা সমাজব্যবস্থায় অনাস্থা ও বিভেদের দেয়াল তৈরি করে।কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর খণ্ডিত আচরণ, পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার ভুল–বোঝাবুঝি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও একটি স্ট্যাটাস বা ছবি দেখে অতিদ্রুত নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া আজ মহামারির রূপ নিয়েছে।এই সুন্নতের প্রয়োগ বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি ও দ্রুতগতির জীবনে এই সুন্নতের প্রয়োজনীয়তা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর খণ্ডিত আচরণ, পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার ভুল–বোঝাবুঝি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও একটি স্ট্যাটাস বা ছবি দেখে অতিদ্রুত নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া আজ মহামারির রূপ নিয়েছে।এই সংকট নিরসনে দুটি করণীয় রয়েছে:প্রথমত, অন্যের যেকোনো অস্পষ্ট আচরণকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা এবং নিশ্চিত না হয়ে কোনো মন্দ সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো।দ্বিতীয়ত, নিজের কোনো কাজ বা বক্তব্য যদি ভুল ব্যাখ্যা বা সন্দেহের অবকাশ তৈরি করে, তবে অহংকার না করে নিজ দায়িত্বে তা স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা।মুমিনের ব্যক্তিত্বে তাকওয়ার পাশাপাশি এমন মনস্তাত্ত্বিক দূরদর্শিতা থাকা অপরিহার্য। নিজেকে সৎ রাখার পাশাপাশি অন্যের মনের পবিত্রতা রক্ষা করার এই সচেতন দায়িত্ববোধই পারস্পরিক আস্থা ও ভালোবাসাপূর্ণ একটি আদর্শ সমাজ নিশ্চিত করতে পারে।নাহিদা সুলতানা: আলেমা ও প্রাবন্ধিকnahidasultana753375@gmail.comমহানবীর সাহসিকতা থেকে শিক্ষা

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
রাইস সলিউশন অ্যাপ, কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের উদ্যোগ

রাইস সলিউশন অ্যাপ, কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের উদ্যোগ

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল, এএসআই ক্লোজড

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল, এএসআই ক্লোজড

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

0 Comments