জাতীয়

ফুটবলের দেশ ব্রাজিলের নির্বাচনে ফিলিস্তিন কেন ইস্যু হলো

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
ফুটবলের দেশ ব্রাজিলের নির্বাচনে ফিলিস্তিন কেন ইস্যু হলো
ফুটবলের দেশ ব্রাজিলের নির্বাচনে ফিলিস্তিন কেন ইস্যু হলো

লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিল সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম উত্তপ্ত ও মেরুকৃত এক রাজনৈতিক লড়াই প্রত্যক্ষ করছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যকার নির্বাচনী প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।

যদিও অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও ঘরোয়া নানা সংকট ব্রাজিলীয় ভোটারদের মূল চিন্তার বিষয়, তবুও ব্রাসিলিয়া থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক ইস্যু আচমকাই এই নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। ইস্যুটি হলো ফিলিস্তিন।

সর্বশেষ ডেটাফোলহা জরিপ অনুযায়ী, ব্রাজিলজুড়ে এখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম দফায় ওয়ার্কার্স পার্টির (পিটি) প্রার্থী লুলার ঝুলিতে ৩৯ শতাংশ ভোট যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে লিবারেল পার্টির (পিএল) প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো ৩৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে খুব বেশি পিছিয়ে নেই।

লুলা ও ফ্লাভিও বলসোনারোর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন পুরো লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক মানচিত্র এক আমূল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা থেকে শুরু করে চিলি কিংবা কলম্বিয়া—সমগ্র অঞ্চলে ডানপন্থার এক শক্তিশালী পুনরুত্থান ঘটেছে।

জাভিয়ের মিলেইয়ের আর্জেন্টিনা, হোসে অ্যান্টোনিও কাস্টের চিলি এবং কলম্বিয়ায় ডানপন্থী সরকারের উত্থানের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মিত্র নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভেনেজুয়েলাও এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

অঞ্চলের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্রাজিলের এই সাধারণ নির্বাচন কেবল দেশের সর্বোচ্চ পদে কে বসবেন, সেই প্রশ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং ব্যালট বাক্স থেকে ব্রাজিলের কোন রূপটি বেরিয়ে আসবে এবং অঞ্চলটির এই গভীর পরিবর্তনশীল ভারসাম্যে ব্রাজিল বিশ্বমঞ্চে নিজেকে কীভাবে অবস্থান করাবে—এ নির্বাচন তা-ও নির্ধারণ করবে।

আর এই বহুমাত্রিক রাজনৈতিক লড়াইয়ে ফিলিস্তিন, বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন ও রক্ষার প্রশ্নটি—দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে এক সুস্পষ্ট বিভাজনরেখা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ডানপন্থী ফ্লাভিও বলসোনারো তাঁর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট করেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রাজিলের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বহুগুণ শক্তিশালী করবেন এবং ২০২৭ সাল থেকেই তেল আবিব থেকে ব্রাজিলের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরিত করবেন। এর মাধ্যমে তিনি ব্রাসিলিয়াকে পুরোপুরি ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ব্রাজিলের এই পরবর্তী নির্বাচন শুধু একজন প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করবে না; এটি এটাও ঠিক করে দেবে যে গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের অন্যতম প্রভাবশালী এই দেশ ফিলিস্তিন, ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কীভাবে কথা বলবে।

অন্যদিকে লুলা দা সিলভা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ব্রাজিলীয় নীতি ধরে রেখেছেন। দ্বি–রাষ্ট্র সমাধানের সমর্থনে অবস্থান নিয়ে তিনি গাজায় পরিচালিত ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন।

উল্লেখ্য, ব্রাজিল ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় এবং আজও ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুসরণে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্রাজিলের এই ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক অবস্থান বহাল রয়েছে।

তাই ফিলিস্তিন ইস্যুটি ব্রাজিলের নির্বাচনে এখন আর কেবল কোনো দূরবর্তী পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয়; ব্রাজিল আন্তর্জাতিক মঞ্চে কেমন ভূমিকা পালন করতে চায়, সেই বৃহৎ বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে এটি। এক দিকে রয়েছে স্বাধীনতা, বহুপক্ষীয়বাদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক কূটনৈতিক ঐতিহ্য।

অন্য দিকে রয়েছে উগ্র ডানপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি, যা ব্রাজিলকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অক্ষের কাছাকাছি নিয়ে যাবে এবং কয়েক দশক ধরে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রককে পরিচালিত করা মৌলিক নীতিগুলোকে পুনর্গঠন করবে।

আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় দিক থেকেই লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সীমান্ত ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিলের এই পরবর্তী নির্বাচন শুধু একজন প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করবে না; এটি এটাও ঠিক করে দেবে যে গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের অন্যতম প্রভাবশালী এই দেশ ফিলিস্তিন, ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কীভাবে কথা বলবে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো

এই দুই অবস্থানের মধ্যকার ব্যবধানটা বেশ স্পষ্ট। লুলা জয়ী হলে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র ও বহুপক্ষীয় কূটনীতির নীতিতে ব্রাজিল অবিচল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে; আর ফ্লাভিও বলসোনারোর জয় ব্রাজিলকে সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের স্বার্থের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে।

মিডল ইস্ট মনিটরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো রেজেক বলেন, ব্রাজিলীয় রাজনৈতিক ডান ও বামপন্থীদের মধ্যকার আদর্শিক দ্বন্দ্বে ফিলিস্তিন প্রশ্নটি এখন ‘সবচেয়ে নাটকীয় ও সংবেদনশীল বিষয়ে’ পরিণত হয়েছে।

তাঁর মতে, এই বিরোধের মূলে রয়েছে ব্রাজিলের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতির ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ভবিষ্যৎ।

রেজেকের মতে, ব্রাজিলের বামপন্থী এবং মূলধারার মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলো এখনো এমন একটি কূটনৈতিক ঐতিহ্য বহন করছে যা ‘স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও অনানুগত্যের’ পাশাপাশি ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পরম শ্রদ্ধার’ ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই নীতিগুলো নৈতিকতা ও মানবিকতার সংমিশ্রণে ব্রাজিলের রাজতন্ত্রের যুগ থেকেই দেশটির পররাষ্ট্রনীতিকে পরিচালিত করে আসছে।

রেজেক উল্লেখ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোও তাঁর চার বছরের মেয়াদে এই ঐতিহ্যকে পুরোপুরি ছিন্ন করতে পারেননি। এর্নেস্তো আরাউজো যখন ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময়টিকে ‘একটি চরম লজ্জাজনক অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করে রেজেক বলেন, শেষ পর্যন্ত বলসোনারো আরাউজোকে সরিয়ে কার্লোস ফ্রাঙ্কাকে আনেন, যিনি ব্রাজিলের ঐতিহাসিক কূটনীতি ও প্রথার প্রতি অনুগত একজন পেশাদার কূটনীতিক ছিলেন।

রেজেকের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল, যখন ওয়াশিংটন পুরো লাতিন আমেরিকায় তাদের প্রভাব পুনর্দখল করতে চাইছে এবং আর্জেন্টিনার জাভিয়ের মিলেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ব্রাজিলে ফ্লাভিও বলসোনারো তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় এমন একটি পররাষ্ট্রনীতির ওপর জোর দিচ্ছেন যা ব্রাসিলিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়েরই অতি ঘনিষ্ঠ করবে, যা লুলার গ্লোবাল সাউথমুখী ও বহুপক্ষীয় নীতির ঠিক বিপরীত।

রেজেকের মতে, এই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিবর্তন ব্রাজিলের নির্বাচনী বিতর্কে ফিলিস্তিনকে এত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই ইস্যু এখন একটি পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে—ব্রাজিল কি তার ঐতিহ্যগত কূটনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখবে, নাকি আমেরিকান ও ইসরায়েলি অক্ষের দিকে পুরোপুরি হেলে পড়বে?

ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থীদের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করে রেজেক বলেন, এই রাজনৈতিক গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক দৃশ্যপটে সবচেয়ে বিতর্কিত ও ঘৃণিত শক্তিগুলোর সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছে। রেজেক ট্রাম্প ও মিলেইয়ের মতো নেতাদের বিরুদ্ধে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন যে তাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডকে মদদ দিয়ে যাচ্ছেন।

রেজেক ফ্লাভিও বলসোনারোর সেই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন, যেখানে তিনি জয়ী হলে ব্রাজিলিয়ান ইসরায়েলি কনফেডারেশনের প্রধানকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রেজেক এটিকে ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের চেয়ে সংগঠিত জায়নবাদী লবিকে শ্রদ্ধা জানানোর একটি প্রয়াস’ বলে মন্তব্য করেন।

ব্রাজিলের বামপন্থী এবং মূলধারার মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলো এখনো এমন একটি কূটনৈতিক ঐতিহ্য বহন করছে যা ‘স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও অনানুগত্যের’ পাশাপাশি ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পরম শ্রদ্ধার’ ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই নীতিগুলো নৈতিকতা ও মানবিকতার সংমিশ্রণে ব্রাজিলের রাজতন্ত্রের যুগ থেকেই দেশটির পররাষ্ট্রনীতিকে পরিচালিত করে আসছে।

রেজেকের দৃষ্টিতে, গাজা সংঘাত ব্রাজিলীয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকে সবচেয়ে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। গাজায় যা ঘটছে, তাকে তিনি মানবজাতির ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ঘৃণ্য গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে পশ্চিমারা নিষ্ক্রিয় হয়ে এই সহিংসতা প্রত্যক্ষ করছে, যা এখন লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

রেজেকের এই বক্তব্য পরিষ্কার করে যে ফিলিস্তিন কেন ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কেবল একটি পররাষ্ট্রনীতির বিষয় হয়ে থাকেনি; এটি এখন বিশ্বের বুকে ব্রাজিলের অবস্থান নির্ধারণের মূল উপাদানে পরিণত হয়েছে।

প্রশ্ন একটাই—ব্রাজিল কি আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয়র দিকে দাঁড়াবে, নাকি উগ্র ডানপন্থীদের মতো ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের স্বার্থ রক্ষায় শামিল হবে?

তবে রেজেক আশা প্রকাশ করেন, ব্রাজিলের শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পররাষ্ট্রনীতিতে এত বড় ধরনের বিপর্যয় রোধ করতে সক্ষম হতে পারে। গভীর রাজনৈতিক বিভাজন থাকা সত্ত্বেও তিনি বিশ্বাস করেন যে ভবিষ্যতে একটি ডানপন্থী সরকার ক্ষমতায় এলেও ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক নীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

রেজেক  বলেন, ‘এমনকি সরকার ও কংগ্রেস—উভয় স্থানেই যদি এক চরম ডানপন্থী শক্তি জয়ী হওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে, তবুও আমাদের পররাষ্ট্রনীতি তার ঐতিহ্যগত মর্যাদা ও সংযম ধরে রাখতে পারবে।’

  • ইমান আবুসিদু, মিডল ইস্ট মনিটরের ব্রাজিল প্রতিনিধি।

    মিডল ইস্ট মনিটর থেকে সংক্ষেপে অনূদিত

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ৫ বছর পর টাকা তুলে নেওয়া যাবে
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ৫ বছর পর টাকা তুলে নেওয়া যাবে

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে আকর্ষণীয় করতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। এগুলো হচ্ছে—জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে কর্মসূচি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর নমিনি হিসেবে স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়া, বিদ্যমান ৬০ বছর বয়সের বদলে ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন–ব্যবস্থা চালু করা ইত্যাদি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হবে। এটি পেনশন কর্তৃপক্ষের চতুর্থ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক। এতে উপস্থাপনের জন্য পেনশন কর্তৃপক্ষ ১১টি আলোচ্যসূচি রেখেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। যেসব প্রস্তাব পর্ষদ থেকে অনুমোদন পাবে, সেগুলো পরে বাস্তবায়নের দিকে যাবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।বর্তমানে চারটি সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু আছে। এগুলো হচ্ছে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস। এগুলোর মাধ্যমে কর্মজীবী, অনিয়মিত আয়ের মানুষ ও প্রবাসীরা পেনশন সুবিধার আওতায় আসার সুযোগ পাচ্ছেন। দেশের ৪ শ্রেণির প্রায় ১০ কোটি মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট চালু করা হয় সর্বজনীন পেনশন-ব্যবস্থা।জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চালুর তিন বছর পার হয়ে গেছে। সর্বজনীন পেনশনের চারটি কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন গ্রাহক। তাঁদের জমা করা মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।সমতা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন এবং তাঁদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ কোটি টাকা। প্রবাসীদের জন্য নির্ধারিত প্রবাস কর্মসূচিতে সাড়া সবচেয়ে কম। এতে এ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে নারী আছেন ৯৭ জন। তাঁদের মোট জমা করা আমানতের পরিমাণ ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।গ্রাহকেরা বলছেন, সর্বজনীন পেনশন–ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ কম হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ব্যাংকের আমানতের তুলনায় রিটার্ন কম হওয়া এবং পেনশনের আগে গ্রাহকের জন্য তাৎক্ষণিক সুবিধা কম থাকা এর অন্যতম কারণ।পাঁচ বছর পরই টাকা তোলার সুযোগবিদ্যমান পেনশন–ব্যবস্থায় একবার কোনো কর্মসূচিতে ঢুকলে আর বের হওয়ার সুযোগ নেই। কেউ চালিয়ে নিতে না পারলে জমা টাকা ‘মার’ যেত। এ নিয়ম বদল করার দাবি ছিল গ্রাহকদের দিক থেকে। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে নিয়ম বদলের প্রস্তাব রয়েছে। বলা হয়েছে, পাঁচ বছর অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে পেনশনগ্রহীতাকে বিশেষ বিবেচনায় অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে।মনোনীত ব্যক্তির জন্য আজীবন পেনশনকোনো পেনশনভোগী মারা গেলে তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রী আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন, এমন প্রস্তাব করা রয়েছে।বর্তমানে নিয়ম রয়েছে চাঁদাদাতা পেনশন পাবেন আজীবন, অর্থাৎ মৃত্যুর আগপর্যন্ত। তিনি মারা গেলে পরিবারের কেউ আর পেনশন পাবেন না। ৭৫ বছর বয়সের আগে চাঁদাদাতা মারা গেলে তাঁর নমিনি পেনশন পাবেন ৭৫ বছর হওয়া পর্যন্ত যে সময়টুকু বাকি থাকবে, শুধু সে সময়ের জন্য।পেনশন পাওয়া যাবে ৫৫ বছর বয়স থেকেইপেনশন শুরু হওয়ার বয়স ৫৫ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান নিয়মে ৬০ বছর বয়স হলেই পেনশন পাওয়া যাবে, তার আগে নয়।গত বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় পর্ষদ বৈঠকে পেনশন স্কিমে থাকা চাঁদাদাতাদের ৬০ বছর বয়স হলেই জমা করা অর্থের ৩০ শতাংশ টাকা এককালীন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে এককালীন টাকা তোলার কোনো সুযোগ ছিল না।ইসলামি পেনশন–ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগসর্বজনীন পেনশন স্কিমে ইসলামিক ভার্সন চালুর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে আগামীকাল। অনেকেই সুদভিত্তিক ব্যবস্থার মধ্যে থাকতে চান না। তাঁদের কথা চিন্তা করেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য বিমা চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা হচ্ছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ টাকার মতো মাসিক প্রিমিয়াম নিয়ে বিমা সুবিধা দেওয়া।আর্থিক সেবাদাতাদের কমিশন বৃদ্ধিপেনশন স্কিমে নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এ কমিশন নির্ধারিত ১৫ টাকা, তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হচ্ছে। এ কমিশন পাবে ব্যাংক, ডাক বিভাগ, মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসহ (এমএফএস) অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে গ্রাহক নিবন্ধন করা হয়।মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় তহবিল গঠনদীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি ও মুনাফার হার পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় রিজার্ভ বা কনটিনজেন্সি তহবিল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে আলোচ্যসূচিতে। পেনশন কর্তৃপক্ষ বলছে, পেনশন তহবিলের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য এ ধরনের তহবিল গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রস্তাবগুলো পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদ যেসব প্রস্তাব অনুমোদন করবে, সে অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কার্যক্রম চালু করে দেব।’কীভাবে নিবন্ধন করবেনসর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হতে গেলে ইউপেনশন ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনপ্রক্রিয়ায় প্রথমেই একটি প্রত্যয়ন পাতা আসবে, যেখানে লেখা থাকবে, ‘এই মর্মে প্রত্যয়ন করছি যে আমি সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নই। সর্বজনীন পেনশন স্কিম–বহির্ভূত কোনো ধরনের সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে সুবিধা গ্রহণ করি না। আমি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কোনো ধরনের ভাতা গ্রহণ করি না।’এ পাতার নিচে ‘আমি সম্মত আছি’ অংশে ক্লিক করলে দ্বিতীয় পাতায় গিয়ে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। এখানে আবেদনকারীকে প্রবাস, সমতা, সুরক্ষা বা প্রগতি—এই চার স্কিমের মধ্যে একটিকে বাছাই করতে হবে। একই সঙ্গে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল আইডি লিখে দিতে হবে। এরপর পাতার নিচের দিকে থাকা ক্যাপচা লিখে পরের পাতায় যেতে হবে। ক্যাপচা দেওয়ার পরে আবেদনকারীর মুঠোফোন নম্বর ও ই-মেইলে একটি ওটিপি বা একবার ব্যবহারযোগ্য গোপন নম্বর আসবে, যা ফরমে দিয়ে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাব

অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধের প্রস্তাব

শিক্ষার্থীদের মনে বৃক্ষপ্রেমের বীজ বুনে দিতে উদ্যোগ

শিক্ষার্থীদের মনে বৃক্ষপ্রেমের বীজ বুনে দিতে উদ্যোগ

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এবারও ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু কেন

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এবারও ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু কেন

পরিবেশবান্ধব গাড়িতে রেকর্ড অর্থায়ন
পরিবেশবান্ধব গাড়িতে রেকর্ড অর্থায়ন

আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার। তবে একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও বায়ুদূষণের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রথাগত তেলের গাড়ির বদলে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক (ইভি) ও হাইব্রিড যানবাহনের দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা। জ্বালানি সাশ্রয় ও কম পরিচালন ব্যয়ের কারণে গড়ে ওঠা এই টেকসই অর্থনৈতিক রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে সহজ অর্থায়নের বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে সিটি ব্যাংক।অটো লোন খাতে সূচনালগ্ন থেকে সিটি ব্যাংক ১৫ হাজারের বেশি গ্রাহককে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণসুবিধা দিয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ নীতিমালার আলোকে ইভি ও হাইব্রিড গাড়ি ক্রয়ে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা বা গাড়ির মূল্যের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অটো লোন দিচ্ছে সিটি ব্যাংক। অন্যদিকে সাধারণ তেলের গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৬০ লাখ টাকা বা গাড়ির দামের ৬০ শতাংশ।সবুজ অর্থায়নে বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে সিটি ব্যাংক। গত দেড় বছরে ব্যাংকটি প্রায় ৪ হাজার ৫০০টি ইভি ও হাইব্রিড গাড়ির বিপরীতে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার অটো লোন বিতরণ করেছে, যা এই সময়ে ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত অটো লোনের ৭০ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে গ্রাহকের পরিশোধ সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬ বছর মেয়াদে এই ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। ঋণগ্রহীতা চাইলে যেকোনো সময় তা আংশিক বা সম্পূর্ণ অগ্রিম পরিশোধ করতে পারেন। সুদের হার ও প্রসেসিং ফি নির্ধারণে সময়োপযোগী বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়। দেশজুড়ে শাখা, উপশাখা, প্রাইওরিটি ও এসএমই সেন্টারসহ ৮০০টিরও বেশি টাচ পয়েন্টের সুবিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং শক্তিশালী ডেডিকেটেড সেলস টিমের মাধ্যমে কাগজপত্র পাওয়া সাপেক্ষে মাত্র ১ দিনের মধ্যেই ঋণ অনুমোদন করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের ৯ শতাধিক গাড়ি পরিবেশকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সিটি ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই রেটিংয়ে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি সিটি ব্যাংক আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির ‘ইউএনইপি ফাইন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’-এর দায়িত্বশীল ব্যাংকিং কাঠামোর একমাত্র বাংলাদেশি সদস্য। ব্যাংকের মতে, ইভি ও হাইব্রিড গাড়িতে অর্থায়ন কেবল গাড়ি কেনার সুযোগ নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য এক বাসযোগ্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার বড় বিনিয়োগ।লেখক: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, হেড অব প্রোডাক্টস, অ্যাকুইজিশন্স অ্যান্ড চিফ ব্যাংকাসুরেন্স অফিসার সিটি ব্যাংক।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
বন্ধুদের আড্ডায় পরিকল্পনা, এবার যুক্তরাষ্ট্রে মর্টার তৈরির প্রতিযোগিতায় চুয়েটের চার শিক্ষার্থী

বন্ধুদের আড্ডায় পরিকল্পনা, এবার যুক্তরাষ্ট্রে মর্টার তৈরির প্রতিযোগিতায় চুয়েটের চার শিক্ষার্থী

মক্কার দিকে হুতিদের ড্রোন, পাশে পাকিস্তান, কী বলছে তুরস্ক?

মক্কার দিকে হুতিদের ড্রোন, পাশে পাকিস্তান, কী বলছে তুরস্ক?

যোগসাজশমূলক গাড়িবিলাস বন্ধ করতে হবে

যোগসাজশমূলক গাড়িবিলাস বন্ধ করতে হবে

মায়ামিতে মেসির শততম গোল, জিতলেন শিরোপা
মায়ামিতে মেসির শততম গোল, জিতলেন শিরোপা

লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে যোগ হলো নতুন আরেকটি মাইলফলক। ইন্টার মায়ামির জার্সিতে আজ মেসি পেয়েছেন তাঁর শততম গোল। ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে এই গোলটি বাঁ পায়ের চেনা জাদুতে নয়, এসেছে হেডে। একটি গোল করার পর কাসিমেরোকে দিয়ে আরেকটি করিয়েছেনও মেসি। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে ক্যাম্পিওনেস কাপও ঘরে তুলেছে দলটি। মেজর লিগ সকারের চ্যাম্পিয়ন ও মেক্সিকোর লিগা এমএক্সের চ্যাম্পিয়নের মধ্যকার বার্ষিক লড়াইয়ের এই শিরোপা এবারই প্রথম জিতল মায়ামি। চলতি বছরে এটাই মেসির প্রথম শিরোপা। এই ম্যাচ দিয়ে মায়ামির নতুন কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছেন কোচ ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গনসালেস। শুরুটা তাঁর ভালোই হলো!মেসির মাইলফলক ছোঁয়ার গোলটি এসেছে ম্যাচের ২৪ মিনিটে। ডান দিক থেকে লুইস সুয়ারেজের নিখুঁত ক্রস ছুটে আসে মেসির দিকে। নিজের মার্কারকে টপকে উঁচুতে উঠে হেড করেন মেসি। এরপর ম্যাচের ৮১ মিনিটে মেসির নেওয়ার কর্নার থেকে গোল করেন কাসিমেরো। তাতেই মেসির আরেকটি শিরোপা জয় নিশ্চিত হয়।গোলের পর মেসির মুখে হাসি, এটি মায়ামির হয়ে তাঁর শততম গোলইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র ১১৫ ম্যাচেই ১০০ গোলের কীর্তি গড়েছেন মেসি। এটাই কোনো ক্লাব বা জাতীয় দলের হয়ে মেসির দ্রুততম ১০০ গোল। বার্সেলোনার হয়ে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তাঁর লেগেছিল ১৮৮ ম্যাচ। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১০০ গোল করতে খেলেছেন ১৭৪ ম্যাচ। সেখানে মায়ামির হয়ে সময় লেগেছে মাত্র ১১৫ ম্যাচ।মেসি মায়ামিতে যোগ দেন ২০২৩ সালে। দলটির হয়ে তাঁর প্রথম গোলও এসেছিল ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে। মায়ামির হয়ে মেজর লিগ সকারে মেসি করেছেন ৭৬ গোল। লিগস কাপে ১৪টি। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে আটটি। আর ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে একটি। এমবাপ্পে, ইয়ামাল বা কেইন নন, সিমিওনের চোখে ব্যালন ডি’অর প্রাপ্য মেসিরমায়ামির হয়ে মেসি প্রথম শিরোপা জিতেছেন ২০২৩ সালে, লিগস কাপ। পরের বছর মায়ামি জেতে সাপোর্টার্স শিল্ড। সেই মৌসুমে এমএলএসে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে সর্বোচ্চ পয়েন্টের রেকর্ডও গড়ে দলটি। এরপর ২০২৫ সালের এমএলএস কাপ জয়েও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন মেসি।ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন মেসিক্লাব ও দেশের হয়ে মেসির মোট গোল এখন ৯২৯টি। এর মধ্যেই চলতি এমএলএস মৌসুমে ২২ ম্যাচে ১৯ গোল করেছেন, যা লিগের সর্বোচ্চ। তবে এমএলএস শিরোপা ধরে রাখার মিশনে অনেকটাই পিছিয়ে মেসিরা। ইস্টার্ন কনফারেন্সে ন্যাশভিলের সঙ্গে তাদের পয়েন্টের পার্থক্য ৯। ২৫ ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট ন্যাশভিলের, মায়ামির ৪৫।মেসির জন্য বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন করছে আর্জেন্টিনা, খেলবেন শেষবারের মতো

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
নতুন দায়িত্বের শুরুতেই ক্ল্যাসিক হলিউড আমেজে নজর কাড়লেন নুসরাত ফারিয়া

নতুন দায়িত্বের শুরুতেই ক্ল্যাসিক হলিউড আমেজে নজর কাড়লেন নুসরাত ফারিয়া

আমিয়াখুম ভ্রমণের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

আমিয়াখুম ভ্রমণের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

১৩২ বছর পর গ্রন্থাগারে ফিরল সাময়িকী

১৩২ বছর পর গ্রন্থাগারে ফিরল সাময়িকী

0 Comments