সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নতুন মৌসুমের যাত্রা শুরু করল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে স্কোরলাইন যতটা স্বস্তির, ম্যাচটা ঠিক ততটা স্বস্তিদায়ক ছিল না রিয়াল মাদ্রিদের জন্য।
অন্তত প্রথম ২০ মিনিট দেখে মনে হয়নি এই ম্যাচটা রিয়ালের হতে পারে। তৃতীয় মিনিটেই মার্কোস থুরামের হাফ ভলি দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। এরপর হাকান চালহানোলুর ফ্রি কিকও একই পরিণতি পায়। ইন্টার তখন বার্নাব্যুর বাতাসে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। কিন্তু ফুটবলে কখনো কখনো সুযোগ তৈরি করার চেয়ে প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষা করাটাই বেশি কার্যকর।

১৪ মিনিটে সেই ভুলটাই করল ইন্টার। ইয়ান বিসেকের নিয়ন্ত্রণ হারানো বল ব্রাহিম দিয়াজের সামনে পড়তেই তিনি এক মুহূর্তও নষ্ট করেননি। বলটা তুলে দিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে। ফরাসি তারকা ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠালেন। ১-০। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের হয়ে এমবাপ্পের আরেকটি রাত, আর ইউরোপিয়ান কাপে গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৭১, যেখানে তাঁর পাশে এখন রাউল গঞ্জালেস।
নয় মিনিট পর আবারও ইন্টারের উপহার। বেনজামিন পাভারের ব্যাকপাস পেয়ে গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেজ বল নিয়ে অযথা সময় নিলেন। ফেদেরিকো ভালভার্দে ছুটে এসে বল কেড়ে নিলেন। এরপর সেটি গড়িয়ে গেল ইন্টারের জালে। ২-০। রিয়াল তখন পর্যন্ত লক্ষ্যে শটই নিয়েছিল মাত্র একটি!

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ইন্টার ভেঙে পড়েনি। কার্টিস জোন্সের শট ক্রসবারে লাগে। বিরতির ঠিক আগে এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম ও ব্রাহিম দিয়াজ মিলে তৃতীয় গোলের যে সুযোগ তৈরি করেছিলেন, সেটিও অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে যায় ইন্টার।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন অন্য এক ম্যাচ। ইন্টার একের পর এক আক্রমণ করেছে। জোন্সের শট ঠেকিয়েছেন কোর্তোয়া, মার্কো আর্তুরোর বদলে সুযোগ পাওয়া কার্লোস অগুস্তোর ক্রস থেকে থুরাম গোল করতে পারেননি। লাউতারো মার্তিনেজও সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে জোসেপ মার্তিনেজও প্রথমার্ধের ভুল ভুলিয়ে দিতে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করেছেন।
৫৮ মিনিটে বেলিংহামের মাথা থেকে আসা বলও তিনি ঠেকান। ৬৬ মিনিটে এমবাপ্পের শট আটকে দেন পা দিয়ে। কয়েক মিনিট পর ব্রাহিম দিয়াজের বাঁকানো শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। রিয়াল যেন গোল করার সুযোগ পেয়েই যাচ্ছিল, কিন্তু ম্যাচ শেষ করার গোলটি আর আসছিল না।

শেষ পর্যন্ত ৭৭ মিনিটে ইন্টার ফিরল। লাউতারো মার্তিনেজের নিখুঁত পাস থেকে কার্লোস অগুস্তো গোল করে ব্যবধান কমালেন। এরপর শেষ ১৩ মিনিটে চাপ বাড়ে রিয়ালের ওপর। ৮৯ মিনিটে মিখিতারিয়ানের শট দিক বদলে যাওয়ার পরও অসাধারণ সেভ করেন কোর্তোয়া।
শেষ বাঁশি বাজে ২-১ ব্যবধানেই, স্বস্তির নিশ্বাস পড়ে রিয়ালের।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জাপানি সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় নতুন নয়। তবে অ্যানিমে, মাঙ্গা, কসপ্লে, জাপানি গেম ও পপ-কালচারের হাত ধরে সাম্প্রতিক সময়ে সেই আগ্রহ যেন পেয়েছে নতুন মাত্রা। রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আজ থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী জাপানি সাংস্কৃতিক উৎসব ‘নিহন যাই’। আগামীকাল ১২ সেপ্টেম্বর শেষ হবে এই আয়োজন।অ্যানিমের পর্দার প্রিয় চরিত্রগুলো যদি বাস্তবের শহরে নেমে আসে, দৃশ্যটা কেমন হবে? বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ঢুঁ মারলে মিলবে এর উত্তর। ভেতরে ঢুকতেই মন ভালো হয়ে যাওয়ার মতোই এক আবহ। জেন-জি, জেন-আলফা থেকে শুরু করে মিলেনিয়াল—জাপানি সংস্কৃতির অনুরাগী নানা বয়সের মানুষ এসেছেন এই আয়োজনে। কারও সাজে ফুটে উঠেছে প্রিয় চরিত্রের ছাপ, কেউ আবার পুরোপুরি কসপ্লে করে হাজির। কারও হাতে অ্যানিমে চরিত্রের অ্যাকশন ফিগার, কেউ গেম খেলায় ব্যস্ত, আবার কোনো স্টল থেকে ভেসে আসছে জাপানি খাবারের ঘ্রাণ।সব মিলিয়ে তরুণদের পদচারণায় মুখর এই আয়োজনজুড়ে যেন ফুটে উঠেছে জাপানি সংস্কৃতির এক টুকরো জগৎ। জাপান ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি জাপানি সংস্কৃতি, বিনোদন ও সৃজনশীলতার নানা দিক তুলে ধরাই ‘নিহন যাই ’-এর উদ্দেশ্য।প্রিয় চরিত্র হয়ে ওঠার আনন্দভেন্যুতে ঢুকতেই মনে হলো, অ্যানিমের পর্দার চরিত্রগুলো যেন একে একে বাস্তবে চলে এসেছে আর সামনে হেঁটে বেড়াচ্ছে। একেকজনের লুক আরেকজন থেকে ভিন্ন। কারও পোশাক, মেকআপ আর চুলের সাজে প্রিয় চরিত্রটির সঙ্গে হুবহু মিল; কারও সঙ্গে থাকা অনুষঙ্গেও প্রকাশ পেয়েছে সেই চরিত্রের ছাপ। প্রতিটি লুক দেখেই বোঝা যাচ্ছে, প্রিয় চরিত্র হয়ে ওঠার পেছনে ছিল যথেষ্ট প্রস্তুতি।তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে প্রাণবন্ত অংশগুলোর একটি কসপ্লে। পছন্দের অ্যানিমে, মাঙ্গা কিংবা গেমের চরিত্রকে নিজের মধ্যে ধারণ করে হাজির হয়েছেন অনেকে। ফ্রিরেন, ‘ঘোস্ট অব সুশিমা’, ডার্থ ভেডার, ‘দ্য প্রমিসড নেভারল্যান্ড’-এর এমা, ‘দ্য কিং অব ফাইটার্স’ গেমের জনপ্রিয় চরিত্র লিওনা হেইডার্ন, ‘ওয়ান পিস’-এর লুফি, গ্যাবান, গাচিয়াকুতার জানকা নিজিকু, ড্রাগন বল জি-এর গোকু, ‘ডেমন স্লেয়ার’-এর ইনোসুকেসহ জনপ্রিয় নানা চরিত্রের সাজে দেখা গেছে তাঁদের। কারও সাজ ছিল চরিত্রের একেবারে নিখুঁত অনুকরণ, আবার কেউ নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে চরিত্রটিকে তুলে ধরেছেন নিজের মতো করে।শুধু কসপ্লেতে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীরাই নন, অনেক দর্শনার্থীও প্রিয় চরিত্র হয়ে ওঠার আনন্দেই বেছে নিয়েছেন এই সাজ। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে পোজ দেওয়া থেকে শুরু করে চরিত্রের অঙ্গভঙ্গি ও আচরণ ফুটিয়ে তোলা—সব মিলিয়ে কসপ্লে এখানে শুধু পোশাক পরার বিষয় নয়, বরং পছন্দের একটি চরিত্রকে কিছু সময়ের জন্য নিজের করে নেওয়ার আনন্দ।একক ও দলীয় কসপ্লের পাশাপাশি রয়েছে মাঙ্গা, ইলাস্ট্রেশন ও কারাওকে প্রতিযোগিতা। একক কসপ্লে প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের পপ-কালচার অঙ্গনের পরিচিত মুখেরা। প্রতিযোগিতায় তাই শুধু পোশাক কতটা নিখুঁত, সেটিই নয়; চরিত্রটি কতটা সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে, সৃজনশীলতা, পরিবেশন এবং পুরো সাজের পেছনে অংশগ্রহণকারীর শ্রম, সবকিছুকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।এক ছাদের নিচে অ্যানিমে-মাঙ্গার জগৎদুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে বসেছে অনেকগুলো স্টল। জাপানি সংস্কৃতি ও পপ-কালচারের নানা অনুষঙ্গে সাজানো হয়েছে এখানে সবকিছু। কোথাও অ্যাকশন ফিগার, কাতানা, কিরিংস, পোস্টার ও বই, আবার কোনো স্টল সাজানো হয়েছে নানা ধরনের পোশাকে। জাপানি কিমোনোর পাশাপাশি রয়েছে অ্যানিমে চরিত্রের প্রিন্ট করা টি-শার্টও। অ্যানিমে ও মাঙ্গার অনুরাগীদের জন্য এসব স্টল যেন পছন্দের জগতের একটি ছোট্ট অংশ আরও কাছে থেকে দেখার সুযোগ।ওয়ান স্টপ মার্চেন্ডাইজ, কিয়ান’স কালেকটিবলস, অতিবেগুনী, পুরিনস হেভেনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়ে এসেছে নানা ধরনের সংগ্রহ। বইপ্রেমী ও মাঙ্গা অনুরাগীদের জন্য আছে জাপানিজ চেইন বুকস্টোক কিনোকুনিয়া বাংলাদেশের বিশেষ স্টল। পছন্দের চরিত্রের স্মারক খোঁজা, প্রিয় মাঙ্গা কেনা কিংবা সংগ্রহে নতুন কোনো অ্যাকশন ফিগার যোগ করা—স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে এমন নানা সুযোগ। ফলে কেনাকাটার পাশাপাশি জাপানি পপ-কালচারের নানা অনুষঙ্গও কাছ থেকে দেখার সুযোগ মিলছে এখানে।গেমিং ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীজাপানি সংস্কৃতির সঙ্গে গেমিংয়ের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ারও সুযোগ আছে আয়োজনে। পোকেমন গো কিংবা বেব্লেড ব্যাটলে অংশ নিচ্ছেন অনেকেই। কেউ নিজের দক্ষতা যাচাই করছেন, আবার কেউ দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন অন্যের খেলা। শোগেন ক্ল্যাশ ও জেমস পিটের মতো গেমেও দেখা গেছে দর্শনার্থীদের আগ্রহ। কনসোল গেমিংয়ের আয়োজনেও জমেছে ভিড়। চলছে ‘স্ট্রিট ফাইটার সিক্স’-এর মতো জনপ্রিয় গেম।জাপান দূতাবাসের আয়োজনে এই আয়োজনে রয়েছে বিশেষভাবে নির্বাচিত জাপানি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীও।মাঙ্গার গল্প, অরিগামির ভাঁজশুধু দেখা বা কেনাকাটা নয়, জাপানি সংস্কৃতিকে হাতে-কলমে জানার সুযোগও রয়েছে এই উৎসবে। জাপানের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে। মাঙ্গা, ইকেবানা ও অরিগামি নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ কর্মশালা। মাঙ্গা কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জানতে পারবেন বিভিন্ন কৌশল ও গল্প বলার প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, ইকেবানা কর্মশালায় জাপানের ঐতিহ্যবাহী ফুল সাজানোর শিল্পের নান্দনিকতা ও এর দর্শনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে। অরিগামি কর্মশালায় সাধারণ কাগজ ভাঁজ করে কীভাবে নানা আকৃতির শিল্পকর্ম তৈরি করা যায়, তা শেখাবেন বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের জনসংযোগ ও সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞ কাজী বুশরা আহমেদ তিথি। কর্মশালাগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য আলাদা কোনো ফি নেই। তবে প্রয়োজন উৎসবের বৈধ টিকিট ও আগে থেকে নিবন্ধন।এক প্লেটে জাপানের স্বাদজাপানকে জানার আরেকটি সহজ পথ খাবার। ‘নিহন জাই’-এর খাবারের স্টলগুলোতেও তাই দেখা গেছে বেশ ভিড়। চকোলেট মোচি, মাচা মোচি, সুশি, বিভিন্ন স্বাদের রামেন ও নিগিরির মতো নানা জাপানি খাবার রয়েছে সেখানে। যাঁরা আগে থেকেই জাপানি খাবারের সঙ্গে পরিচিত, তাঁদের পাশাপাশি নতুন স্বাদ চেখে দেখতে আগ্রহী অনেককেও দেখা গেছে। অ্যানিমে কিংবা কসপ্লের প্রতি আগ্রহ না থাকলেও খাবারের টানেই কেউ কেউ ঘুরে দেখছেন এই অংশ। সব মিলিয়ে উৎসবের এই অংশে খাবারের স্বাদে জাপানকে একটু অন্যভাবে চেনার সুযোগ মিলছে।কেন এত আগ্রহ?বাংলাদেশে জাপানি সংস্কৃতির জনপ্রিয়তার পেছনে অ্যানিমে ও মাঙ্গার বড় ভূমিকা রয়েছে। গত কয়েক বছরে জাপানি অ্যানিমেশন, চরিত্র ও গল্প তরুণদের বিনোদনের জগতে আরও বেশি জায়গা করে নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে সেই আগ্রহও ছড়িয়ে পড়ছে সহজে। কেউ অ্যানিমের গল্প ও চরিত্রে মুগ্ধ, কেউ মাঙ্গার পাতায় খুঁজে পান নিজের পছন্দের জগৎ। কেউ আবার প্রিয় চরিত্রের পোশাক তৈরি করে কসপ্লেতে অংশ নেন। জাপানি খাবার, গেমিং নিয়েও তৈরি হচ্ছে আগ্রহ।এই আগ্রহ অবশ্য শুধু জাপানি সংস্কৃতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। কোরিয়ান কে-পপ, কোরিয়ান ড্রামা কিংবা বিশ্বের নানা দেশের পপ-কালচারের প্রতিও বাংলাদেশের তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে সংস্কৃতির প্রভাব এখন শুধু বই, সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ নেই; পোশাক, সাজ, খাবার, গেমিং ও সৃজনশীলতার নানা ক্ষেত্রেও তার ছাপ দেখা যাচ্ছে। একসময় নির্দিষ্ট কিছু মানুষের শখ হিসেবে পরিচিত অ্যানিমে, মাঙ্গা বা কসপ্লে এখন অনেকের আগ্রহের অংশ। ‘নিহন যাই’-এর মতো আয়োজন সেই আগ্রহকে নিয়ে আসছে বাস্তবের পরিসরে। এখানে প্রিয় চরিত্রের মতো সাজা, মাঙ্গা নিয়ে কথা বলা, গেম খেলা কিংবা জাপানি খাবারের স্বাদ নেওয়ার মধ্য দিয়ে একই আগ্রহের মানুষদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।এই আয়োজনে জাপানি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ক্যালিগ্রাফি, অরিগামি ও ইকেবানা কর্মশালা, একক ও দলীয় কসপ্লে, কারাওকে প্রতিযোগিতা এবং মাঙ্গা কর্মশালা—সবই রয়েছে। পাশাপাশি থাকছে বিজয়ীদের পুরস্কার ঘোষণা। জাপানি সংস্কৃতি, অ্যানিমে, মাঙ্গা ও কসপ্লেপ্রেমীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও মিলছে এই আয়োজনে। তাই দেরি না করে শেষ দিনেও ঢুঁ মেরে আসতে পারেন । অনলাইনে কিংবা সরাসরি নিবন্ধন করে উপভোগ করা যাবে জাপানি সংস্কৃতির এই আয়োজন। চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।ছবি: হাল ফ্যাশন
রংপুরে চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর শোবার ঘর পরিদর্শন করতে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়া ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার সাহার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের ১৬ জন আইনজীবী নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যান। পরে তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শনের বিষয়ে আগে থেকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, কোতোয়ালি থানা পুলিশকে চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছিল। সেসময় পুলিশ কমিশনার গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শনের অনুমতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ি পরিদর্শনে এসে থানা পুলিশ জানায়, আইনজীবীদের শুধুমাত্র গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ও নিচতলায় পরিদর্শনের অনুমতি আছে। গণপতি চক্রবর্তীর শোবার ঘর পরিদর্শনের অনুমতি নেই। এ নিয়ে একাধিকবার মোবাইলফোনে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও আইনজীবীরা কথা বলতে পারেননি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইনজীবীরা। আইনজীবী অনুপ কুমার সাহা বলেন, ‘আমরা চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উচ্চ আদালতে রিট ফাইল করেছি। এই মামলার সঙ্গে আমরা সংশ্লিষ্ট রয়েছি। যদি আমরা ঘরের ভেতরটা দেখতে পেতাম, তাহলে আদালতে আমরা তা উপস্থাপন করতে পারতাম। কিন্তু পুলিশ কমিশনার আমার ফোন ধরেননি। নম্বর ব্লক করে রেখে দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার জনগণের রক্ষক। নিরাপত্তার স্বার্থে, সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে আমাদের ঘরটি দেখার অনুমতি দিলে তদন্তে কোনো ব্যতয় ঘটতো না। এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হবে, এটি আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি না। এরপরও বিশ্বাস হারাতে চাই না। সারাদেশের আইনজীবী সচেতন মানুষ বিশ্বাস রাখতে চায়, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত হোক ও হত্যাকারীদের বিচার হোক। এজন্য যা সহযোগিতা প্রয়োজন আমরা বাংলাদেশে আইনজীবী ঐক্য পরিষদ করব।’ এসময় উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতা অপূর্ব ভট্টাচার্য, জহরলাল দাসসহ অন্যরা। জিতু কবীর/এসআর
একটি দিন, একটি মুক্তি। আর সেই মুক্তি ঘিরে অগণিত মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। ১১ সেপ্টেম্বর—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী মানুষের কাছে দিনটি তাই শুধু ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়। দিনটি মনে করিয়ে দেয় ৩৭২ দিনের বন্দিদশা, উৎকণ্ঠা, অপেক্ষা আর শেষ পর্যন্ত প্রিয় নেত্রীর মুক্তির সেই আবেগঘন মুহূর্তের কথা। আরও পড়ুন দেশকে বাঁচাতে খালেদা জিয়া দুই সন্তান নিয়ে দেশত্যাগ করেননি: চিফ হুইপ ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আটক থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পান। সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। তার আগে কেটে গেছে দীর্ঘ ৩৭২ দিন। যে দিন শুরু হয়েছিল অপেক্ষা ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাসভবন থেকে আটক করা হয় বেগম খালেদা জিয়াকে। আটকের পর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিন নামঞ্জুর করে সংসদ ভবন এলাকার একটি ভবনে বন্দি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সেই ভবনই পরিণত হয় বিশেষ কারাগারে। এরপর শুরু হয় অপেক্ষার দীর্ঘ অধ্যায়। দিন গড়িয়ে মাস, মাস গড়িয়ে বছর কারাগারের বাইরে প্রতিদিন অপেক্ষা করতে থাকেন দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও আত্মীয়স্বজন। উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে কেটে যেতে থাকে একেকটি দিন। প্রিয় নেত্রী কবে মুক্তি পাবেন—এই অপেক্ষাই যেন হয়ে ওঠে তাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ১১ সেপ্টেম্বরের সকাল, বদলে গেল দৃশ্যপট অবশেষে আসে সেই দিন—২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। ৩৭২ দিনের বন্দিদশার অবসান ঘটে। বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান বেগম খালেদা জিয়া। মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। মুহূর্তের মধ্যে রাজপথে নেমে আসে মানুষের ঢল। কারও হাতে ফুল। কারও চোখে আনন্দাশ্রু। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয় নেত্রীকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। যে অপেক্ষার প্রতিটি দিন ছিল উদ্বেগে ভরা, সেই অপেক্ষার শেষ মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আনন্দ ও আবেগের। একদিকে ৩৭২ দিনের বন্দিদশার অবসান, অন্যদিকে প্রিয় নেত্রীকে ফিরে পাওয়ার উচ্ছ্বাস—দুই অনুভূতি মিলেমিশে ১১ সেপ্টেম্বরকে করে তোলে স্মরণীয় এক দিন। সময় পেরিয়েছে, স্মৃতি পেরোয়নি এরপর কেটে গেছে বহু বছর। রাজনীতির মাঠে বদল এসেছে, বদলেছে সময়ের বাস্তবতা। কিন্তু ১১ সেপ্টেম্বরের স্মৃতি মুছে যায়নি। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী মানুষের কাছে দিনটি এখনো ফিরে আসে সেই মুক্তির দিনের স্মৃতি নিয়ে। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পথচলাও ছিল নানা উত্থান-পতন, সংগ্রাম, দুর্ভোগ ও প্রতিকূলতায় ভরা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাকে নানা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আরও পড়ুন ফ্যাসিবাদী সময়ে বিরোধী মতের আশ্রয় ছিল ডিআরইউ: রিজভী তার অনুসারীদের কাছে তিনি ছিলেন আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের প্রতীক। আর সেই দীর্ঘ পথচলার একটি বিশেষ অধ্যায় হয়ে আছে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর—যেদিন ৩৭২ দিনের বন্দিদশার পর তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন। শেষ অধ্যায়ও ছিল মানুষের ভালোবাসায় ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যু বরণ করেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুর পর তাকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটে, তা ছিল নজিরবিহীন। জীবনের শেষ অধ্যায়েও মানুষের ভালোবাসায় ঘেরা ছিলেন তিনি। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও ১৯৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে। একসময় যে নেত্রীর মুক্তির অপেক্ষায় রাজপথে মানুষ দাঁড়িয়েছিল, শেষ বিদায়েও তাকে ঘিরে মানুষের ঢল নেমেছিল। তাই ১১ সেপ্টেম্বর শুধু একটি তারিখ নয় ১১ সেপ্টেম্বরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অপেক্ষার গল্প। জড়িয়ে আছে উদ্বেগের দিনগুলো। জড়িয়ে আছে বন্দিদশার স্মৃতি। আবার জড়িয়ে আছে মুক্তির আনন্দ, ফুল হাতে অপেক্ষা করা মানুষ আর চোখের আনন্দাশ্রু। ৩৭২ দিনের অপেক্ষার পর যে দিনটি এসেছিল মুক্তির বার্তা নিয়ে, বহু বছর পরও সেই দিনটি স্মৃতির পাতায় অমলিন। বেগম খালেদা জিয়া আজ নেই। কিন্তু তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতির সঙ্গে ১১ সেপ্টেম্বরও থেকে গেছে একটি আবেগঘন অধ্যায় হয়ে। একটি তারিখ—যে তারিখ একসময় বলেছিল, দীর্ঘ অপেক্ষারও একদিন শেষ হয়। কেএইচ/এমআইএইচএস