জাতীয়

এমবাপেকে সেরা মানলেও ব্যালন ডি’অর নিজেরই প্রাপ্য মনে করেন ইয়ামাল

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
এমবাপেকে সেরা মানলেও ব্যালন ডি’অর নিজেরই প্রাপ্য মনে করেন ইয়ামাল
এমবাপেকে সেরা মানলেও ব্যালন ডি’অর নিজেরই প্রাপ্য মনে করেন ইয়ামাল

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এ বছর বেশ জোরেশোরেই নিজের দাবি তুলে ধরলেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তার মতে, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় তিনি ও কিলিয়ান এমবাপেই এগিয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরটা তারই পাওয়া উচিত বলে মনে করেন স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ড।

রোববার লেভান্তের বিপক্ষে বার্সেলোনার ৪-২ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেন ইয়ামাল। তাতে চলতি মৌসুমে মাত্র ছয় ম্যাচেই তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে। দুর্দান্ত এই ফর্মের পাশাপাশি গত মৌসুমের সাফল্যও ব্যালন ডি’অরের দাবিকে শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

গত মৌসুমে ইয়ামালের পারফরম্যান্সে লা লিগা জিতেছিল বার্সেলোনা। এরপর স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপও জয় করেন তিনি। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্পেনের আটটি ম্যাচেই খেলেছেন ইয়ামাল। যদিও তার গোল ছিল মাত্র একটি।

চলতি বছরের ব্যালন ডি’অর দেওয়া হবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। এবারের লড়াইকে বেশ উন্মুক্ত মনে করা হচ্ছে। ইয়ামাল ও এমবাপের সঙ্গে তালিকায় আছেন হ্যারি কেইন, উসমান দেম্বেলের মতো তারকারাও।

মুভিস্টারের সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ইয়ামাল। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কেই এটি দেব। কাকে দেওয়া হবে? সেটি নিয়ে অনেক দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় সম্ভবত আমরা দুজন।’

এরপর নিজের দাবিটা আরও পরিষ্কার করে দেন বার্সেলোনার এই তারকা। ইয়ামালের ভাষায়, ‘আমি মনে করি, এ বছর আমারই এটি প্রাপ্য- আমি যা যা জিতেছি, তার কারণে। আমার কাছে এমবাপে এবং আমি বিশ্বের সেরা। এটা আমার কাছে পরিষ্কার। যারা ম্যাচ দেখে, তারা সবাই সেটা জানে।’

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইয়ামালের এমন আত্মবিশ্বাস অবশ্য তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন মৌসুমে বার্সেলোনা লা লিগার প্রথম পাঁচ ম্যাচেই জয় পেয়েছে। এর সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেয়েনুর্দের বিপক্ষে জয় দিয়ে ইউরোপীয় অভিযানও শুরু করেছে তারা। ছয় ম্যাচে ইয়ামালের সাত গোল তার ধারাবাহিকতারই প্রমাণ।

তবে বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে এতটা সন্তুষ্ট নন ইয়ামাল। স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতলেও ব্যক্তিগতভাবে আরও ভালো করতে পারতেন বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্বকাপের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘বিশ্বকাপ জেতার পরও আমি খুশি ছিলাম না। অবশ্যই চোট নিয়ে টুর্নামেন্টে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেটার সঙ্গে বিষয়টির কোনো সম্পর্ক নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘চোট না থাকলেও আমি একইভাবে পারফর্ম করতে পারতাম। তবে এমন অনেক কিছু আমি করেছি, যা মানুষ দেখেনি। উদাহরণ হিসেবে বলব, একজন কোচের জন্য এমন একজন খেলোয়াড় থাকা অবিশ্বাস্য, যে একই সঙ্গে তিনজন প্রতিপক্ষকে নিজের সঙ্গে টেনে নিতে পারে।’

তারপরও নিজের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট ইয়ামাল। তার মতে, অন্য কোনো খেলোয়াড় তার মতো পারফর্ম করলে সেটিকে দুর্দান্ত বিশ্বকাপ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু নিজের ক্ষেত্রে প্রত্যাশাটা আরও বেশি।

‘নিজের পারফরম্যান্সে আমি খুশি ছিলাম না। আমি জানি, আমার পর্যায়ের আরেকজন খেলোয়াড় এমন পারফরম্যান্স করলে সবাই বলত সে দারুণ বিশ্বকাপ কাটিয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, আমি আরও বেশি কিছু করতে পারতাম। আমি দলকে সাহায্য করেছি, তবে পরের বিশ্বকাপের জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না,’ বলেন তিনি।

ইয়ামালের সাম্প্রতিক মন্তব্য অবশ্য গত সপ্তাহের বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। তখন এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ব্যালন ডি’অর জেতার জন্য কারও কাছে ‘ভিক্ষা’ করবেন না। অর্থাৎ ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সকেই নিজের পক্ষে কথা বলাতে চেয়েছিলেন তিনি।

এদিকে ব্যালন ডি’অরের লড়াই জমিয়ে তুলেছেন এমবাপ্পেও। রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা সম্প্রতি নিজের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। ফলে ২৬ অক্টোবরের পুরস্কার ঘোষণার আগে ইয়ামাল ও এমবাপ্পের লড়াই নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হচ্ছে।

আইএইচএস/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নকল ও নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েলে বিকল হচ্ছে যন্ত্র, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি
নকল ও নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েলে বিকল হচ্ছে যন্ত্র, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি

দেশে শিল্পকারখানা, গণপরিবহন, নৌপথ, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে যান্ত্রিক আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত হলেও তার সুরক্ষায় মূল চালিকা শক্তি ‘ইঞ্জিন অয়েল’ বা লুব্রিকেন্ট খাতে থাবা বসিয়েছে অনিয়ন্ত্রিত ও নিম্নমানের পণ্য।বাংলাদেশের অর্থনীতি ও যান্ত্রিকীকরণে বর্তমানে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। শিল্পকারখানার প্রসার, কৃষি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার, আকাশ ও নৌপথে যাতায়াত এবং সড়ক পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ফলে পুরো দেশ এখন যন্ত্রনির্ভর। কিন্তু এই বিপুল যান্ত্রিক অগ্রযাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জীবনীশক্তি বা লুব্রিকেন্টের (ইঞ্জিন অয়েল) বাজারে এক ভয়াবহ নৈরাজ্য চলছে। কোনো ধরনের মানদণ্ড না মেনে ব্র্যান্ডের পণ্যের আদলে তৈরি করা নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েল নীরবে ধ্বংস করে দিচ্ছে দেশের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। এতে শুধু যে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে তা নয়, বরং সরকারের বিপুল রাজস্ব ঘাটতির পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেমে আসছে বিপর্যয়।দেশে এখন ব্যাপক যন্ত্র সচল রয়েছে। আর তার বিপরীতে নকল লুব্রিকেন্টের বাজারও বিস্তৃত হচ্ছে। এর একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় পরিসংখ্যানগুলোর দিকে তাকালে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক গত জুলাই মাসে প্রকাশিত ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’ জাতীয় প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৪৯টিই হলো শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদনের চাকা সচল রাখতে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ভারী যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের ব্যবহার হচ্ছে। শুমারির তথ্য বলছে, দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের সবচেয়ে বড় অংশ হচ্ছে সেবা খাত। এখানেও যন্ত্রের বেশ ব্যবহার আছে। এই সেবা খাতের মধ্যে এককভাবে সবচেয়ে বেশি যন্ত্রের ব্যবহার পরিবহন খাতে। পরিবহন খাতের এই বিশাল যান্ত্রিক বহরের চিত্র আরও সুস্পষ্ট হয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যে। গত জুন মাসে জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে নিবন্ধিত বৈধ মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি। বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত দেশে মোটরসাইকেলসহ সড়কপথে মোট নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ লাখ ২৪ হাজার। অন্যদিকে নৌপথ ও কৃষি খাতেও যন্ত্রের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’–এর লিস্টিং অপারেশন বা নৌযান তালিকাভুক্তি কার্যক্রমের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ইঞ্জিনচালিত নৌযান রয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬০টি। এর বাইরে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের কৃষি খাতে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি তেলনির্ভর ২১ লাখ ৩০ হাজার কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার হচ্ছে।এ ছাড়া জেনারেটর এবং অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতির প্রায় অধিকাংশই জ্বালানি তেল দিয়ে চলে, যেখানে লুব্রিকেন্ট বা ইঞ্জিন অয়েলের ব্যবহার অপরিহার্য।নকল তেল ব্যবহারের কারণে একটি ইঞ্জিনের গড় আয়ু প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যাচ্ছে এবং জ্বালানি অপচয় বাড়ছে অন্তত ১৫ শতাংশ। এই বিশাল যান্ত্রিক খাতের সুরক্ষার জন্য যে ইঞ্জিন অয়েল বা লুব্রিকেন্ট প্রয়োজন, তার বাজার এখন অনেকটাই অবৈধ ব্যবসায়ী চক্রের দখলে। প্রথম আলো ও মবিলের (এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি)র যৌথ উদ্যোগে ‘নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েলের প্রভাব, ঝুঁকিতে ইঞ্জিন অর্থনীতি পরিবেশ’ শীর্ষক বিশেষ সংলাপে নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ীদের আলোচনা থেকেও লুব্রিকেন্ট বাজারের ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। দেশে বর্তমানে লুব্রিকেন্ট অয়েলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন। এর মধ্যে বৈধ ও মানসম্মত কোম্পানিগুলো জোগান দিতে পারছে ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টন, যা মোট চাহিদার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ বাজারের বাকি ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বা বিপুল পরিমাণ চাহিদার জোগান দিচ্ছে অনুমোদনহীন, নকল ও নিম্নমানের ভেজাল লুব্রিকেন্ট।এমজেএল বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মুকুল হোসেন বলেছেন, দেশে এখন আধুনিক ইঞ্জিন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। অথচ এই ইঞ্জিনে আশির দশকের পুরোনো মানের লুব্রিকেন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। পরিসংখ্যান তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে মোট ব্যবহৃত তেলের ৫২ থেকে ৬০ শতাংশই এই পুরোনো মানদণ্ডের। আধুনিক ইঞ্জিনে মানহীন ও ভেজাল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ ঘর্ষণ বহুগুণ বেড়ে যায়। এতে ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে।  বিশেষজ্ঞ ও খাত সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, নকল তেল ব্যবহারের কারণে একটি ইঞ্জিনের গড় আয়ু প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায় এবং জ্বালানি অপচয় বাড়ে অন্তত ১৫ শতাংশ। একটি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে যেখানে ১৫-২০ বছর বাহনটি সচল থাকার কথা, সেখানে ভেজাল তেলের কারণে মাত্র ৭-৮ বছরেই তার ইঞ্জিন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেশে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে চরম আর্থিক দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।এই সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য (পেট্রোলিয়াম) ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া বলেন, মানহীন লুব্রিকেন্টের কারণে দামি যন্ত্রপাতির অকালমৃত্যু ঘটছে এবং জ্বালানি অপচয় বাড়ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করছে। সংকট সমাধানে তিনি সংশ্লিষ্ট সব রেগুলেটরি সংস্থার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ওপর জোর দেন।অবৈধ বাজারের এই দৌরাত্ম্য ও বাড়তি মুনাফার বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আসল তেলের চেয়ে নকল তেলে কেন ২০০ টাকা বেশি লাভ থাকে, তা খতিয়ে দেখে আমদানি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, শুধু খুচরা দোকান নয়, অবৈধ উৎপাদনের মূল উৎসে অন্যান্য সংস্থাকে নিয়ে দ্রুত যৌথ অভিযান চালানো হবে।মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক জানান, পুরোনো মান বাতিল করে ইতিমধ্যে আধুনিক ‘বিডিএস ২০২৯’ মানদণ্ড প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকার আটটি স্পটে অভিযান চালিয়ে সব কটিতেই নকল তেলের প্রমাণ মিলেছে। অসাধু চক্রকে রুখতে মোবাইল কোর্ট আইন সংশোধন করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি এই নিম্নমানের লুব্রিকেন্ট পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য যে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। যানবাহনের ক্ষতিকর ধোঁয়ার কারণে বায়ুদূষণ বেড়ে দেশে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বায়ুদূষণের অন্তত ৩০ শতাংশই আসে যানবাহনের বিষাক্ত নির্গমন থেকে। ভেজাল ও নিম্নমানের তেল ইঞ্জিনে সঠিকভাবে পুড়তে পারে না, ফলে বাতাসে অত্যন্ত ক্ষতিকর নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার অক্সাইড এবং শ্বাসতন্ত্র ধ্বংসকারী অতিসূক্ষ্ম পিএম ২.৫ কণা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। শুধু বাতাস নয়, গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ বা কৃষিযন্ত্র থেকে অপরিশোধিত পোড়া তেল যত্রতত্র মাটি ও ড্রেনে ফেলার কারণে মাটি ও পানির প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
মা–বাবা জেলে, অপহরণের শিকার একমাত্র সন্তান উদ্ধার এক মাস পর

মা–বাবা জেলে, অপহরণের শিকার একমাত্র সন্তান উদ্ধার এক মাস পর

কতিপয় সুবিধাবাদীর অপকর্মের দায় দল নেবে না: আইনমন্ত্রী

কতিপয় সুবিধাবাদীর অপকর্মের দায় দল নেবে না: আইনমন্ত্রী

৩৯ জনকে নিয়োগ দেবে ঢাকা কর অঞ্চল-১৬

৩৯ জনকে নিয়োগ দেবে ঢাকা কর অঞ্চল-১৬

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সরকারের ৩ কমিটি গঠন, ৫২ বিশিষ্টজনের উদ্বেগ
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সরকারের ৩ কমিটি গঠন, ৫২ বিশিষ্টজনের উদ্বেগ

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক তিনটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশের ৫২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁরা পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান এবং গোয়েন্দা সংস্থার নিয়ন্ত্রণমুক্তভাবে কমিটিগুলো পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন। আজ সোমবার দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৯ বছর পরও এর মৌলিক ধারাগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে পাহাড়িরা অন্তত দুবার রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়েছে। এতে অন্তত সাত আদিবাসী নিহত হন। অথচ পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব স্থানীয় প্রতিনিধির হাতে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।১০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্রসচিবকে সভাপতি করে নির্বাহী কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়।পরামর্শক কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাহী কমিটি তিন মাসের মধ্যে জাতীয় কর্মকৌশলের খসড়া করবে। জাতীয় কমিটি তা চূড়ান্ত করবে। নির্বাহী কমিটিকে প্রচলিত আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংস্কার এবং নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশও করতে বলা হয়েছে।বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেন, এসব উদ্যোগ আশাজনক মনে হলেও এতে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।তাঁরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বৈধ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা, কমিটিগুলো গোয়েন্দা নিয়ন্ত্রণমুক্তভাবে পুনর্গঠন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সুলতানা কামাল, আনু মুহাম্মদ, খুশী কবির, শিরীন পারভিন হক, ইফতেখারুজ্জামান, জেড আই খান পান্না, শহিদুল আলম, শামসুল হুদা, সুমাইয়া খায়ের, সামিনা লুৎফা, জোবাইদা নাসরীন, তাসনিম সিরাজ মাহবুব, খাইরুল চৌধুরী, মাহমুদুল সুমন, ফারহা তানজীম তিতিল, রেহনুমা আহমেদ, সুব্রত চৌধুরী, তবারক হোসেন, আবু সাঈদ খান, সাঈদ আহমেদ, মো. নুর খান, আবু আহমেদ ফয়জুল কবির, পাভেল পার্থ, ঈশিতা দস্তিদার, সায়দিয়া গুলরুখ, ইমতিয়াজ মাহমুদ, মনিন্দ্র কুমার নাথ, রোজিনা বেগম, জাকির হোসেন, সাইদুর রহমান, মো. আলমগীর কবির, সালেহ আহমেদ, হিরণ মিত্র চাকমা, শাহেদ কায়েস, মিঠুন রাকসাম, প্রকাশ বিশ্বাস, দীপায়ন খীসা, হানা শামস আহমেদ, মুক্তাশ্রী চাকমা, বিজয় কেতন চাকমা, প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, শিশির চাকমা, ইন্দু লাল চাকমা, নব কুমার চাকমা, প্রজ্ঞা জ্যোতি চাকমা, সিদ্ধেশ্বর চাকমা, প্রবৃত্তি কুমার চাকমা, উক্রাচিং মারমা, মংউষা থোয়াই, মংথুইপ্রু বাবুল, তনয়া ম্রো ও প্রসন্ন কুমার চাকমা।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
নগ্ন হয়ে বিজ্ঞাপন করে তুমুল বিতর্ক, রহস্যময় ছবি দিয়ে কী বোঝাতে চাইলেন সিডনি

নগ্ন হয়ে বিজ্ঞাপন করে তুমুল বিতর্ক, রহস্যময় ছবি দিয়ে কী বোঝাতে চাইলেন সিডনি

মাদক মামলার আসামি ধরতে গিয়ে ধস্তাধস্তি, ৪ পুলিশ সদস্য আহত

মাদক মামলার আসামি ধরতে গিয়ে ধস্তাধস্তি, ৪ পুলিশ সদস্য আহত

চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীতে ডাকাতি করতে গিয়ে গ্রেফতার ৬

চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীতে ডাকাতি করতে গিয়ে গ্রেফতার ৬

বিদেশে ১ পয়সা বিনিয়োগের প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো
বিদেশে ১ পয়সা বিনিয়োগের প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো

দেশের বাইরে বিনিয়োগ, ব্যাংকে অর্থ রাখা, ভিলা-জমি কেনার প্রমাণ দিতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। তিনি লিখেছেন, ‘দেশের বাইরে কোথাও যদি আমার ১ পয়সা বিনিয়োগ/ব্যাংকে রাখা, ভিলা, জমি তো দূরের কথা একটা ধূলিকণারও প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আর যা শাস্তি হবে মাথা পেতে নেবো।’ আরও পড়ুন ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ নিয়ে ফেসবুক লাইভে আসবেন আসিফ মাহমুদ তিনি বলেন, ‘দেশের বাইরে পলিটিশিয়ান, ব্যবসায়ীদের সম্পত্তি অনেক অনুসন্ধানী সাংবাদিক-সরকার এর আগে বের করেছে। সরকারের এই ক্যাপাসিটি আছে, এইটা কোনো রকেট সায়েন্স না। রাজনৈতিকভাবে কতটা দেউলিয়া হইলে আপনারা এআই দিয়ে বানানো ভুঁইফোঁড় আজকের কণ্ঠের ৭ মাস আগের ফেসবুক পোস্ট কপি-পেস্ট করে অনুসন্ধান করতে পারেন?’ আরও পড়ুন চোরের মায়ের বড় গলা, আসিফের অবস্থাও সে রকম: রাশেদ খাঁন আসিফ আরও বলেন, ‘৬ মাসেই বিরোধীদলকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে, দেশ পরিচালনায় চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে, আপনাদের সন্তানদের প্রকাশ্য দুর্নীতি থেকে চোখ সরাতে নাটক শুরু করেছেন?’ তিনি বলেন, ‘আপনাদের বিরোধীদলকে দমন-পীড়নের পদ্ধতির সঙ্গে লীগের দমন-পীড়নের পার্থক্য কোথায়?’ ইএ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শাবিপ্রবি ছাত্রদলের মশক নিধন কর্মসূচি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শাবিপ্রবি ছাত্রদলের মশক নিধন কর্মসূচি

রামেক হাসপাতালে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম হাঁটু প্রতিস্থাপন

রামেক হাসপাতালে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম হাঁটু প্রতিস্থাপন

যে ৪ কারণে ফ্যান ফুল স্পিডে চলেও বাতাস কম হয়

যে ৪ কারণে ফ্যান ফুল স্পিডে চলেও বাতাস কম হয়

0 Comments