জাইনীন চৌধুরী করিম। নামটির সঙ্গে ঢালিউডের পরিচয় হয়েছে কয়েক মাস হলো। এই মুহূর্তে ইতালির ভেনিস থেকে কানাডার টরন্টো হয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন—প্রথম সারির আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোয় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। এই সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনীন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বললেন জিনাত শারমিন–এর সঙ্গে। জানালেন ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমায় যুক্ত হওয়া, দীর্ঘদিন প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা, ভেনিসের অভিজ্ঞতাসহ নানান কিছু।
আপনার সম্পর্কে তো আমরা প্রায় কিছুই জানি না। এদিকে ভেনিসে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজন্তি’ বিভাগে অংশ নিয়ে ও ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডস বাগিয়ে ইতিহাস গড়ে ফেললেন। প্রথমে আপনার সম্পর্কে বলুন।
আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। আমার মা জাতিসংঘে কূটনীতিবিদ হিসেবে কাজ করেন। ২০০৮ সালে মায়ের চাকরিসূত্রে আমরা মিয়ানমারে চলে যাই। তারপর আবার ২০১৩ সালে ফিলিপাইনে।
এরপর আমি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসি। ম্যাসাচুসেটসে স্মিথ কলেজে ভর্তি হই। সেখানে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রির জন্য আমার মেজর ছিল ইংরেজি সাহিত্য আর মাইনর ছিল ফিল্ম স্টাডিজ।
আমি বরাবরই সিনেমা খুব ভালোবাসি। সিনেমা নিয়ে পড়তাম, লিখতাম। লেখালিখির সুবাদে আমি স্মিথ কলেজ থেকে অনেক পুরস্কার পেয়েছি।
আমাদের স্মিথ কলেজের ফিল্ম ডিপার্টমেন্টের যিনি চেয়ারপারসন, জেন মালকোভস্কি, উনি আমাকে খুবই স্নেহ করেন। উনিই আমাকে রুবাইয়াত হোসেনের কনটাক্ট দেন (রুবাইয়াত হোসেনও স্মিথ কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন)।
আমার মা এখন দিল্লিতে কাজ করেন। ফলে আমি এখন ঢাকা-দিল্লি-নিউইয়র্ক করছি আরকি!
আপনি ঢাকায় এলেন কবে? কী কাজে এলেন?

আমি তো আসলে ঢাকারই মেয়ে। পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন, সবকিছু শেষে ঢাকা আমার ফিরে আসার জায়গা। সেভাবেই ২০২৩ সালে পড়াশোনা শেষে ফিরলাম।
আমি বাংলাদেশের আর্ট, সিনেমা বুঝতে; এগুলো নিয়ে কাজ করতে খুবই আগ্রহী। এটাই তো আমার দেশ, আমার ঘরবাড়ি, আমার সবকিছু।
যখন দেশ ছাড়ি, তখন বয়স ছিল ১০ বছর। ভাবলাম, কয়েক বছর থাকব। কিছু কাজ করব। সেই সময় রুবাইয়াত আপুর সঙ্গে পরিচয় হলো। বাংলাদেশি সিনেমায় ‘মেল গেজ’ (পুরুষ দৃষ্টি) নিয়ে একটা পেপার লেখার কাজ নিয়ে আলাপ হলো শুরুতে।
ব্রিটিশ নারীবাদী সিনেমা তাত্ত্বিক লরা মালভি হলিউডের বা পশ্চিমা সিনেমার আলোকে মেল গেজকে ব্যাখ্যা করেছেন। আমরা সেটাকে বাংলাদেশি সিনেমার আলোকে ব্যাখ্যা করতে চাইছিলাম।
আমরা লেখা শুরু করলাম। তখন রুবাইয়াত আপু বলছিলেন, তাঁর পরবর্তী প্রজেক্টে মেল গেজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তখন আমি নানান কিছু নিয়ে কাজ করছিলাম। কারণ, ঠিক কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
সিনেমা নিয়ে পড়াশোনার জন্য নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির টিশ স্কুল অব দ্য আর্টসে আবেদন করছিলাম। ক্লাস শুরু হলো। কিছুকাল ব্লাস্টের (বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট) সঙ্গে কাজ করলাম। তখন আমি আবার মানবাধিকার আইন নিয়েও কাজ করতে চাইছিলাম।
ভাবছিলাম, এক বছর কাজ করে আবার আইন নিয়ে পড়তে চলে যাব। তখন রুবাইয়াত আপু জানতে চাইলেন, আমি তাঁর প্রজেক্টে সহকারী হিসেবে কাজ করতে চাই কি না। হাতে সময় ছিল। আগে থেকেই লেখালিখির চর্চা ছিল। আমি চিত্রনাট্যের দলে যুক্ত হয়ে গেলাম। আগে কখনো কোনো সিনেমার সেট দেখিনি। তাই খুবই রোমাঞ্চিত ছিলাম।
প্রোডাকশনের নতুন কেউ এলে আমিই মূলত স্ক্রিপ্ট পড়ে শোনাতাম। এরপর রুবাইয়াত আপু একদিন আমাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি লিড কাস্টের জন্য অডিশন দিতে চাই কি না।
আমার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘নাআআ!’ নিজেকে সামলে নিয়ে দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘আচ্ছা, একটু ভেবে জানাই।’ ঘণ্টা তিনেক পর জানালাম, অডিশন দিতে চাই।
এর মধ্যে আমার মা, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা বলি। তাঁরা আমাকে বোঝায়, এটা আমার জন্য বড় সুযোগ।

রুবাইয়াত হোসেনের মাথায় তো এই চরিত্রের জন্য শুরুতে অন্য কেউ ছিলেন?
হ্যাঁ, হ্যাঁ। খুবই শক্তিশালী গুণী অভিনেত্রী। তিনিও দেশের বাইরে সেটলড।
বাংলাদেশি?
হ্যাঁ, অবশ্যই। এটা তো একেবারেই ঢাকার গল্প, বাংলাদেশের গল্প।

আপনার অডিশনের প্রক্রিয়া কেমন ছিল?
খুবই দীর্ঘ আর জটিল প্রক্রিয়া। আরও অনেকেই কিন্তু এই চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছেন। মূল অডিশনের পরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দৃশ্যের ভিডিও করে পাঠাতে হতো।
এরপর মাসের পর মাস চুপচাপ বসে ছিলাম। কোনো আপডেট নেই। ভাবলাম, বোধ হয় আমি চরিত্রটা আর পাব না। অন্য কিছুতে মন দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। একদিন পরিচালক ফোন করে জানালেন, আমি নির্বাচিত হয়েছি!

আপনি তো এই সিনেমার তিনটি অংশে কাজ করেছেন। প্রি-প্রোডাকশনে চিত্রনাট্যে কাজ করেছেন। চরিত্রটা গড়ে তুলেছেন। তারপর মূল চরিত্র হিসেবে অভিনয় করেছেন। এরপর ভেনিসে দর্শকসারিতে বসে সিনেমাটি দেখলেন। এই তিনটি ‘পয়েন্ট অব ভিউ’ থেকে সিনেমাটিকে কীভাবে দেখলেন?
যখন চিত্রনাট্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তখন কাজটা আমার জন্য অনেক সহজ ছিল। আমি মূলত একাডেমিক জায়গা থেকে চিত্রনাট্যকে তৈরি করার ক্ষেত্রে ইনপুট দিচ্ছিলাম।
আমরা মহড়া যখন শুরু করলাম, তখন বুঝতে পারলাম, অভিনয় ব্যাপারটা কত সূক্ষ্ম, কত জটিল। যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই, ক্যামেরা সবকিছু বুঝে যায়, ধরে ফেলে; সূক্ষাতিসূক্ষ্ম ব্যাপারস্যাপারও।
ফলে ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে গেলেই ধরা! ঠিক ঠিক ওই চরিত্রটাই হয়ে উঠতে হবে। ব্যাপারটা আসলে এর চেয়েও জটিল।
ধরুন, একটা দৃশ্য, মেয়েটা একা একা বেডরুমে একটা কিছু করছে; কিন্তু রুমে তো আসলে আরও ৫–৭ জন আছে। আলো পড়ে আছে ঠিক মুখের ওপর। পরিচালক আমার ওপর ভরসা করেছেন। ভীষণ ঝুঁকি নিয়ে বাজি ধরেছেন। আমি তাই আমার শরীর, মন ও মননে ওই চরিত্রটা হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি।
আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। বিশেষ করে আমার সহশিল্পী শিমু…রিকিতা নিন্দিনী শিমু, আমরা প্রথম দিন থেকেই একসঙ্গে মহড়া করেছি। তিনি ব্রিলিয়ান্ট ব্রিলিয়ান্ট অভিনয়শিল্পী।
আর তৃতীয়ত, যখন দর্শক হিসেবে দেখেছি, সেটা আমার জন্য খুবই আবেগের ছিল। নিজের শরীর থেকে বের হয়ে নিজেকে দেখার (আউট অব বডি এক্সপেরিয়েন্স) মতো একটা ব্যাপার। এত বড় পর্দায় নিজেকে দেখছি, নিজের চিত্রনাট্যটা দেখছি, একটা একটা অন্য রকম অভিজ্ঞতা।
কেবল যে নিজেকে দেখছি তা-ই নয়, আমাদের সিনেমাটোগ্রাফার যে কী ভালো কাজ করেছেন; সাউন্ড, লাইট, এডিটিং, সহশিল্পীদের কাজ…সব মিলিয়ে সিনেমা যখন শেষ হলো, আমার চোখে পানি। নিজেকে সামলে নিয়ে স্টেজে উঠলাম, প্রশ্নোত্তর পর্বে কথা বললাম। আর সবাই কী যে সুন্দর করে সিনেমাটাকে গ্রহণ করেছেন!
প্রিমিয়ার শেষে যেখানেই গেছি, অন্য যেকোনো স্ক্রিনিংয়ে বা লবিতে অথবা কার্পেটে বা বাইরে…সবাই আমাকে চিনেছে। অন্তত তিনজন আমাকে জানিয়েছে এই বিভাগে আমাদের সিনেমাটাই তার কাছে সবচেয়ে সেরা বলে মনে হয়েছে।

আপনার কাছে সৌন্দর্যের কী মানে?
একটা মানুষের অকৃত্রিমতা। মানে আমি যেমন, নিজেকে সেভাবেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ক্যারি করাই আমার কাছে সৌন্দর্য।
নিজের দুর্বলতা ও নিজের শক্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা আর সেটাকে সুন্দর করে বয়ে নিয়ে বেড়ানো। এর সঙ্গে কারও চেহারা, গায়ের রং, জাতীয়তা বা অন্য কোনো কিছুর সম্পর্ক নেই।
আপনার কাছে নারীবাদের সংজ্ঞা কী?
জাতি, ধর্ম, সংস্কৃতি, দেশ, লিঙ্গ বা অন্য যেকোনো কিছু–নির্বিশেষে নিজের জীবনের ওপর নিজের অধিকার থাকা, এটাই মৌলিক ব্যাপার।

টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে (টিফ) যাচ্ছেন?
না। খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আমার ফিল্ম স্কুল শুরু হয়ে গেছে। আমি তখন ইতালির ভিসা নিচ্ছিলাম, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিলাম। এসব তো অনেক পেপারওয়ার্ক। সময়মতো কানাডার ভিসার কাজও করতে পারিনি। সময় পাইনি আসলে। আমাদের দল থেকে সম্ভবত রুবাইয়াত আপু আর শিমু যাচ্ছেন।

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমাটি একটি বাক্যে কী বলতে চায়?
কেবল ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ই নয়, রুবাইয়াত হোসেনের কোনো সিনেমা সম্পর্কেই এক বা দুই লাইনে বলা যায় না। কারণ, সিনেমাগুলো এত সোজাসাপটা নয়। একটা সিনেমার অনেক স্তর থাকে। সেসব আবার একটার সঙ্গে আরেকটা জড়িয়ে-পেঁচিয়ে থাকে।
খুব সহজে অল্প কথায় বলতে গেলে, এই সিনেমা সৌন্দর্যের প্রচলিত সংজ্ঞাকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে গড়তে চায়। মানে সিনড্রেলার সেই রূপকথার গল্পটাকেই ভেঙে নতুন ভাষায় বলে। যেখানে সমাজের লেন্স দিয়ে বা বাইরের চোখে যেটা ‘ফেইরি টেল’, সেটাই মূল চরিত্রের ভেতরে ‘গোস্ট স্টোরি’ হয়ে চলতে থাকে।
বাইরে থেকে দেখলে, মেয়েটার ‘সো কলড খুব ভালো’ বিয়ে হচ্ছে। সবাই বাহবা দিচ্ছে; কিন্তু এদিকে মেয়েটার ভেতরে ভেতরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। মানে সমাজের মাপকাঠিতে তাঁর জীবন একদম ‘পারফেক্ট’; কিন্তু তাঁর নিজের জন্য সেটা একটা হরর ব্যাপার।

আপনার ভেনিসের ওয়ার্ডরোব নিয়ে কথা বলি। প্রিমিয়ারে তো আপনারা সবাই জামদানি পরেছেন। আপনার কলাপাতারঙা শাড়ির সঙ্গে টপে গোলাপির ওই শেডটা একটা আরেকটাকে এত কমপ্লিমেন্ট করেছে! সঙ্গে আবার স্নিকার্স…
হ্যাঁ। আমরা সবাই আগে থেকেই ঠিক করেছিলাম, জামদানি পরব। আমাদের সবার জামদানি তৈরি করেছে দেশি ফ্যাশন হাউস ‘নব’।
আমরা সবাই বাংলাদেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ডকে তুলে ধরতে চেয়েছি। এটা নিজেদের সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে, ছড়িয়ে দিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের সিনেমার বিয়ের শাড়িটিও ‘নব’ তৈরি করেছে। ওরা অসম্ভব সুন্দর নকশার হালকা কিন্তু জমকালো জামদানি তৈরি করে। আমি কিন্তু শাড়ির টপের সঙ্গে বো-টাই পরেছিলাম। আর স্নিকার্সও পরেছিলাম। কারণ, ফ্যাশনের ভেতর দিয়ে তো আমি নিজেকেও প্রকাশ করছি।
আমার স্টাইলিংয়ের আলাদা দল ছিল, আমরা সবাই মিলেই শাড়ি আর টপের ওই কম্বিনেশনটা বাছাই করেছিলাম। আমি খুবই রঙিন মানুষ। রং আমার খুব পছন্দ।
ব্যাকড্রপে সমুদ্র থাকলে, লালগালিচা থাকলে—এসব বিবেচনায় রেখে কেমন লাগবে, এসব ভেবেই পোশাক ও রং বাছাই করা।

প্রাডার ককটেল পার্টিতে পরেছেন বারগেন্ডি রঙের স্লিট প্লিটেড স্কার্ট আর করসেট টপ। র্যাপ স্কার্টের ভাঁজগুলো আর ফিনিশিংও এত নিঁখুত। এটা কার করা?
হ্যাঁ। কী সুন্দর, না? এই ডিজাইনারের নাম মৌরিন জহির। উনার ফ্যাশন হাউসের নাম ‘মায়া ঢাকা’।
আমি মৌরিনকে বলেছিলাম, আমার জন্য এমন একটা কিছু বানাতে, যেটাতে বাংলাদেশ আর পশ্চিমার একটা মেলবন্ধন থাকে। আমি যেমনটা। তো টপটায় ডালিম আর কৃষ্ণচূড়া ফুলের মোটিফে এম্ব্রয়ডারি করা।
আর করসেট টপটার সাইডগুলায় নকশি সেলাই। প্রাডা ফাউন্ডেশন এ বছর থেকেই সিনেমায় অনুদান দেওয়া শুরু করেছে।
আমাদের সিনেমাটাই প্রথম সিনেমা হিসেবে পোস্ট-প্রোডাকশনে সেই ফান্ড পায়। প্রাডা আমাদের সিনেমাটাকে (অন্যতম প্রযোজক হিসেবে প্রাডারও সিনেমা) উদযাপন করার জন্য প্রিমিয়ার শেষে সুন্দর একটা ককটেল পার্টির আয়োজন করে।
এই স্কার্ট-টপের সঙ্গে জুতা নিয়ে আমার স্টাইলিং টিমের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে। শেষে আমি যে রংচঙা জুতাটা পরতে চেয়েছি, সেটাই পরেছি।

আলাপের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিওতে আপনাকে বড় বড় ফুল-ফুল থ্রিডি মোটিফে নকশি সেলাইয়ের কালো জাম্পস্যুটে দেখলাম। ওটা তো দেখেই মনে হচ্ছে পরে খুব আরাম…
একদম। ওটা ভেনিসে আমার ফাইনাল লুক ছিল। বানিয়েছেন ‘সিজ বাই এসএস’–এর সামাহা সুবাহ।

এরপর? সামনে কী করতে চলেছেন?
আমি অভিনয়টা তো করতেই চাই; কিন্তু যে ধরনের সিনেমায় অভিনয় করতে চাই, যেমন নারীবাদী, আর্ট হাউসের সিনেমা—এই ধরনের কাজ তো খুবই কম হয়। তাই ভাবলাম, যদি এই ধরনের সিনেমায় কাজ করতে চাই, তাহলে নিজেকেই বানাতে হবে।
তাই এখন সিনেমা পরিচালনা নিয়ে পড়াশোনা করছি। ভবিষ্যতে সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা, পরিচালনা ও অভিনয়ের ইচ্ছা আছে।

ধন্যবাদ, এত ব্যস্ততার মধ্যেও অনেকটা সময় দেওয়ার জন্য।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। আমি এই সাক্ষাৎকারে ভেতর দিয়ে কেবল আরেকটা কথা বলতে চাই। সেটা হলো, এখনো আমি সাক্ষাৎকারে অনেকটুকু ইংরেজিতে কথা বলি। বাংলাটা ভালোভাবে শেখার চেষ্টা করছি। বাংলা সাহিত্য পড়ছি। গান, পডকাস্ট শুনছি।
বাংলা তো খুবই মিষ্টি, সুন্দর একটা ভাষা। আমার মাতৃভাষা। আশা করছি, যখন সিনেমা মুক্তির সময় বাংলাদেশে যাব, তখন আরও সুন্দর করে বাংলায় কথা বলব। এখনকার মতো ক্ষমাপ্রার্থী।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাশিয়া ও ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে নিজেদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিজের অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ট্রাম্প এ তথ্য জানান। খবর দ্য টেলিগ্রাফের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ যুদ্ধে রাশিয়া নিয়মিতই ইউক্রেনের শহরগুলোতে ও বিভিন্ন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সফলভাবেই আঘাত করছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালাতে ইউক্রেন সম্মত হয়েছে। রাশিয়াও একই সম্মতি দিয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের দাম বেশি প্রভাবিত হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে, ইরানের কারণে নয়। এর আগে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। তাকে রাশিয়ায় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে। আরও পড়ুন রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প এ বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ায় হামলার জন্য আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। তবে, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করা উচিত নয়। তার মতে, এসব হামলার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এএমএ
রাজধানীর পল্লবীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত সজীব হোসাইন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার ভোরে কাইল্লার বস্তি এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জুয়েল ও জয় নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত সজীব পেশায় গেঞ্জি বিক্রেতা ছিলেন। তিনি মিরপুরের ওয়াপদা বিল্ডিং বেনারসিপল্লি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বাবার নাম মৃত সেলিম হোসাইন। দুই ভাইয়ের মধ্যে সজীব ছিলেন বড়। সজীবের এক ছেলে রয়েছে।পল্লবী থানার উপপরিদর্শক রাশেদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে সজীব আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।সজীবের মামাতো বোন শারমিন বলেন, ছিনতাইকারীরা সজীবের পিঠের ডান পাশে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে যায়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় সিরিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি প্রধান মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।সিরিয়া সরকার রোববার ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং পেট্রলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। সরকারের দাবি, বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহের খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।দাম বাড়ানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বানিয়াস শোধনাগার সংস্কারের কথাও উল্লেখ করেছে সিরিয়া সরকার। তারা জানিয়েছে, এর ফলে শোধনাগারটির উৎপাদনক্ষমতা প্রতিদিন ৮০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল হবে।জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিরিয়ার হামা, খান শেইখুন ও মারাত আল-নুমান শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। আল–জাজিরার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষ টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির বলেন, দেশটিতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০০০ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে; কিন্তু দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল। এই ঘাটতি পূরণের জন্য তারা আমদানির ওপর নির্ভর করছেন।রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সির (সানা) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা দাম সমন্বয়ের কাজ চালিয়ে যাবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে তেল শোধন ও মজুত করার ক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করবে তারা।দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধের পর সিরিয়া এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য জ্বালানির সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।