জাতীয়

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, আর কী যুক্ত হলো, কী বাদ গেল

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, আর কী যুক্ত হলো, কী বাদ গেল
ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, আর কী যুক্ত হলো, কী বাদ গেল

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন হওয়ার আগে সংগ্রহশালায় বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের আলোকচিত্র ও নিদর্শনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গৌরবোজ্জ্বল ছবি ছিল। গতকাল রোববার সংগ্রহশালা উন্মুক্ত করার পর সেই ছবিগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের একক ছবি বাদ দেওয়ার পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি।

সংগ্রহশালায় সাঁটানো মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি আজ সোমবার ভাঙচুর ও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করার প্রতিবাদে জামায়াতের সাবেক আমির, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত (পরে প্রয়াত) গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি সংগ্রহশালায় টাঙিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা।

বর্তমানে সংগ্রহশালায় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছেষট্টি সালের ছয় দফা, আটষট্টির আগরতলা মামলা, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের কোনো ছবিতেই শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো একক ছবি নেই। তবে ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত অংশে ১৯৭৪ সালের বঙ্গবন্ধুর দুই ছেলের বিয়ের ছবি ও কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একটি সংবাদ রাখা হয়েছে।

ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর এই ছবি রাখা হয়েছিল, যা ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক জানিয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

সংগ্রহশালায় রাখা (দুপুর পর্যন্ত) মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবির একটি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের সময়ের ছবি। ওই বক্তব্যে তিনি উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার কথা বলেছিলেন। আরেকটি ১৯৪০ সালের লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সম্মেলনের দলগত ছবি। তৃতীয়টি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের কাটিং।

আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার

এ ছাড়া সংগ্রহশালায় এ কে ফজলুল হক, আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, এম এ জি ওসমানী, নবাব সলিমুল্লাহ, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ছবি রাখা হয়েছে।

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করার প্রতিবাদে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি সাঁটিয়ে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা–কর্মীরা

কেন বাদ বঙ্গবন্ধুর ছবি

সংগ্রহশালায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে তাঁর কোনো ছবি রাখা হয়নি। তবে ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের দুই ছেলের বিয়ের ছবি এবং বঙ্গবন্ধুর ছবিসংবলিত তিনটি পেপার কাটিং বাঁধাই করে রাখা হয়েছে। ‘বাংলাদেশে কোনো বিরোধী দল নেই’ শীর্ষক সংবাদের পেপার কাটিং এবং চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের দুটি ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ছবি না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সংগ্রহশালার সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর “ফ্যাসিবাদের সব আইকনের” ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমি সরিয়েছি এমন নয়।’

১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের দুই ছেলের বিয়ের ছবি এবং বঙ্গবন্ধুর ছবিসংবলিত তিনটি পেপার কাটিং বাঁধাই করে রাখা হয়েছে ডাকসু সংগ্রহশালায়

নতুন করে সংগ্রহশালা সাজানোর সময় বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন করে ৭ মার্চের বিষয়টি যুক্ত করেছি, ছয় দফা আন্দোলনের বিষয়টি যুক্ত করেছি এবং সেক্টর কমান্ডারদের ছবিও যুক্ত করেছি। ১৯৭১-পরবর্তী মুজিবের ছবিও আছে, ১৯৭১-পূর্ববর্তী মুজিবের ছবিও আছে।’ বঙ্গবন্ধুর একক ছবি না রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, একক ছবি রাখা হয়নি—এটা ঠিক নয়। ছয় দফা আন্দোলনের একক ছবি আছে। ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে একটি কাঠের আর্টওয়ার্কও রাখা হয়েছে।

তবে পুরো সংগ্রহশালা ঘুরে ছয় দফা আন্দোলনের শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো একক ছবি দেখা যায়নি।

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখার বিষয়ে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, জিন্নাহর ছবির সঙ্গে একটি ক্যাপশন রয়েছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর দেওয়া একটি বক্তব্যের সূত্রে ছবিটি রাখা হয়েছে। জিন্নাহকে গৌরবান্বিত করা বা তাঁর পক্ষে কোনো কিছু দেখানো হয়নি; বরং তিনি যেসব ইভেন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেগুলোর ছবিই রাখা হয়েছে।

বদলেছে উপস্থাপনা

সংস্কারের পর সংগ্রহশালায় ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের নানা আলোকচিত্র রাখা হয়েছে।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদ থেকে শুরু করে সে সময়ের আন্দোলনের কিছু দৃশ্য ও মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাসহ ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক পিয়ারু সরদারের ছবি রাখা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের কমান্ডার, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ছবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর মুখাবয়ব, সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি স্থান পেয়েছে সংগ্রহশালায়। এসব ছবির নিচের দিকে মুক্তিযুদ্ধে একটি খোদাই চিত্র আছে, যেখানে বঙ্গবন্ধুও আছেন।

ডাকসু সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ছবি

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলের ছবি হিসেবে খাল খনন; খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের একসঙ্গে একটি স্থিরচিত্র; জিয়াউর রহমানের যুদ্ধের সময়ের দুটি ছবি এবং ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপারের একটি ছবি স্থান পেয়েছে।

স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের ১৪টি স্থিরচিত্র সেখানে রাখা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে শহীদ নূর হোসেনের শরীরে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখা সেই আইকনিক ছবি। এ ছাড়া ডাকসুর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত শহীদদের তালিকা, শহীদ আসাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াসহ আরও কয়েকটি ছবি সেখানে রাখা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের নানা আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে ডাকসু সংগ্রহশালায়

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগ আন্দোলন, বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ ও সানি হত্যাকাণ্ড, ২০২০ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন ও সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ছবি সেখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে ১৯৯১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বিশেষ কোনো স্থিরচিত্র পাওয়া যায়নি।

সংগ্রহশালায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম থেকে শুরু করে হুমায়ূন আহমেদ, কবি জসীমউদ্‌দীন, আবুল কাশেম ফজলুল হক, মুনীর চৌধুরী, আবুল ফজলসহ বরেণ্য সাহিত্যিকদের ছবি স্থান পেয়েছে। স্থান পেয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়া থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুর থেকে লাশ আনা, জানাজা এবং কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফনের ছবি।

রাব্বানী-রাশেদের নাম নেই ড্যাশবোর্ডে

ঐতিহাসিক ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ীদের ড্যাশবোর্ডে ২০১৯ সালে নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের নাম লেখা হলেও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বিজয়ীর নাম খালি রাখা হয়েছে। ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে বিজয় লাভ করেন তৎকালীন ছাত্রলীগের (বর্তমান নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। পরে তাঁর বিরুদ্ধে ছাত্রত্ব না থেকেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠলে বর্তমান প্রশাসন পদ বাতিল করে জিএস ঘোষণা করেন রাশেদ খানকে (প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা)।

এ বিষয়ে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো একটি বিতর্ক রয়েছে। সিন্ডিকেট থেকে বিষয়টি পাস হলেও এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। আবার গোলাম রব্বানীর জিএস পদে থাকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ কারণে বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পদটি ফাঁকা রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে আবার নতুন করে কাউকে ওই পদে বহাল করার নিয়ম নেই। এ নিয়ে বিরোধ ও বিভ্রান্তি আছে। তাই আপাতত পদটি খালি রাখা হয়েছে। বিষয়টির সমাধান হলে নাম যুক্ত করা হবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
হাটহাজারীতে অভিযান, আড়াই কোটি টাকার সরকারি জমি পুনরুদ্ধার
হাটহাজারীতে অভিযান, আড়াই কোটি টাকার সরকারি জমি পুনরুদ্ধার

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ধলই ইউনিয়নের পশ্চিম ধলই এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহেদ আরমান। অভিযানকালে পশ্চিম ধলইয়ের মনিয়া পুকুরপাড় সংলগ্ন হাটহাজারী-নাজিরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন প্রায় ২০ শতক জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা এসব সরকারি জমির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এদিকে, সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমআরএএইচ/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
কীটনাশক কোম্পানির ‘ইচ্ছামতো’ দামে দিশাহারা কৃষক

কীটনাশক কোম্পানির ‘ইচ্ছামতো’ দামে দিশাহারা কৃষক

কর্মস্থলে নেই ১৪ মাস, কর পরিদর্শক সোহেলাকে চাকরি থেকে অপসারণ

কর্মস্থলে নেই ১৪ মাস, কর পরিদর্শক সোহেলাকে চাকরি থেকে অপসারণ

দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএনপির মতবিনিময় সভায় হাতাহাতি, আহত ৫

দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএনপির মতবিনিময় সভায় হাতাহাতি, আহত ৫

পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিলো বিজেপি সরকার
পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিলো বিজেপি সরকার

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপির সরকার। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সরকারিভাবে অনুমোদিত ও অনুমোদনহীন মাদ্রাসার কার্যপদ্ধতি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। সেই কমিটির তদন্তের পর প্রথম পর্যায়ে ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি ১০০টিরও বেশি মাদ্রাসাকে শোকজ করা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না মিললে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে, যেসব মাদ্রাসায় প্রয়োজনীয় সরকারি বা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চলছিল, সেসব মাদ্রাসায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের ২২ জেলা ও কলকাতার মাদ্রাসাগুলোর তথ্য সংগ্ৰহ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন, পরিচালন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থী সংখ্যা, তাদের পরিচয়, শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা, অর্থের উৎস- সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  প্রসাশন সূত্রে জানা গেছে, যেসব মাদ্রাসার বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষের অভাব, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা কম, রাজ্যের নির্ধারিত স্কুলের পাঠ্যক্রম থেকে বড় ধরনের বিচ্যুতি ও প্রশাসনের নিয়ম না মানার অভিযোগ পাওয়া গেছে- এমন একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রায় ৪৫টি মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে। এরপর রয়েছে দিনাজপুর, সেখানে প্রায় ৩৭টি মাদ্রাসায় নোটিশ পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার।  দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে ৩২টি এবং নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ২৫টি করে মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ দেওয়ার পর অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা সাজিদ রশিদি জানিয়েছেন, সরকারের অধীনে থাকা মাদ্রাসা বন্ধ করলে তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু আমাদের পরিচালিত, সরকারের নিয়ন্ত্রণে বাইরে থাকা আড়াই শতাংশ মাদ্রাসা বন্ধ করে দেখান। মাওলানা সাজিদ রশিদির মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সাজিদ রশিদি কে? আমাদের লড়াই কোনো মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নয়। মাদ্রাসার নামে যে ‘ভারতবিরোধী’ কাজ হচ্ছে, আমরা তার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রামউন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, মাদ্রাসা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। এর আগে বহু সন্ত্রাসী ধরা পড়েছে, যারা মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন ও দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন। দিলীপ ঘোষ বলেন, বহুবার বহু মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। যারা বিধিবদ্ধভাবে রেজিস্ট্রেশন করা সরকারের নিয়ম-নীতি মেনে চালাচ্ছেন, তাদের মাদ্রাসা চলবে। যেখানে-সেখানে মাদ্রাসা খুলে উৎপাত করার অনুমতি সরকার দেবে না, আর সেই কাজ শুরু হয়েছে। মাদ্রাসা বন্ধের বিষয়ে রাজ্যের কেবিনেট মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, বিগত দিনে দেখেছি, ভোট ব্যাংকের জন্য এসব মাদ্রাসা ব্যাবহার করা হয়েছে। খারিজি মাদ্রাসায় ভারত বিরোধী কার্যকলাপ হয়েছে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান- সব পরিবারের বাচ্চারা আমাদের সন্তান। কেন হবে এসব? আমরা ভারতবর্ষকে টুকরো টুকরো করতে দেবো না। তথ্য বলছে, এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২ হাজার ১৩২টি মাদ্রাসা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে চলছে। অন্যদিকে, সরকারি রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চলছে ২৩৯৬টি মাদ্রাসা। ডিডি/এসএএইচ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
স্মার্ট ক্যাম্পাসের পথে ইউএপি, চালু হলো ‘ওয়ানকার্ড’

স্মার্ট ক্যাম্পাসের পথে ইউএপি, চালু হলো ‘ওয়ানকার্ড’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মঙ্গলবার ১৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মঙ্গলবার ১৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে লাল কার্ড, এমবাপ্পের প্রত্যাবর্তন

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে লাল কার্ড, এমবাপ্পের প্রত্যাবর্তন

ইনেসের সঙ্গে ইয়ামালের ‘পরিবারে’ নতুন দুই সদস্য?
ইনেসের সঙ্গে ইয়ামালের ‘পরিবারে’ নতুন দুই সদস্য?

লিওনেল মেসির উত্তরসূরি হিসেবে মাঠে নিজের জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়েও নিয়মিত আলোচনায় থাকেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। স্প্যানিশ ইনফ্লুয়েন্সার ইনেস গার্সিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম আলোচনা-সমালোচনা হয়নি। এবার সেই সম্পর্ককে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। কারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওতে দুজনকে দেখা গেছে দুটি সাদা ল্যাব্রাডর কুকুরছানাকে নিয়ে। যদিও ইয়ামাল কিংবা ইনেস কেউই নিশ্চিত করেননি যে কুকুরছানা দুটি তাদেরই। তবে দুজনকে একসঙ্গে কুকুরছানাগুলোকে কোলে নিয়ে আনন্দ করতে দেখা যাওয়ায় ভক্তদের ধারণা, সম্পর্কের নতুন এক ধাপে পা রাখতে পারেন তারা। ইয়ামাল ও ইনেসের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে দু’জনের বয়সের পার্থক্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করেছেন অনেকে। সম্পর্ক কিভাবে পরিচালনা করছেন, তা নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। তবে এসবের মধ্যেও ইনেসকে ইয়ামালের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মুহূর্তে দেখা গেছে। বার্সেলোনার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক আয়োজন থেকে শুরু করে ফিফা বিশ্বকাপ- বড় মঞ্চগুলোতেও ইয়ামালের পাশে ছিলেন তিনি।       View this post on Instagram       A post shared by Inés García Santos (@ineesgaarcia) এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন ভিডিও তাদের সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন ভক্তরা। পরিবারে কি যোগ হলো দুই নতুন সদস্য? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে ইয়ামাল ও ইনেসকে দেখা যায় দুটি সাদা ল্যাব্রাডর কুকুরছানার সঙ্গে। দু’জনের মুখেই ছিল হাসি, আর কুকুরছানাগুলোকে নিয়ে বেশ আনন্দের সময় কাটাতে দেখা যায় তাদের। তবে কুকুরছানা দুটি ইয়ামাল-ইনেসের নিজেদের কি না, সেটি ভিডিওতে স্পষ্ট করা হয়নি। তারা কুকুরগুলোর মালিক- এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেননি। তবু দুজনের একসঙ্গে কুকুরছানা নিয়ে উপস্থিতি থেকেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। অনেকের ধারণা, কুকুর দুটির দেখভালের দায়িত্ব যদি তারা নিয়ে থাকেন, তাহলে এটি তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন এক ধরনের যৌথ দায়িত্বের সূচনা হতে পারে। অবশ্য বিষয়টি এখনো পুরোপুরি অনুমানের পর্যায়েই রয়েছে। ভিডিওটির আরেকটি বিষয়ও ভক্তদের নজর কেড়েছে। ইয়ামাল ও ইনেস দুজনেই সাদা পোশাক পরেছিলেন, আর তাদের কোলে থাকা কুকুরছানাগুলোর রংও ছিল সাদা। ফলে পুরো মুহূর্তটিই ছিল বেশ পরিকল্পিত ও আকর্ষণীয়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। টিকটকে সেটি ৮ কোটি ৭০ লাখের বেশি ভিউ এবং দেড় কোটিরও বেশি লাইক পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন ‘পরিবারের সদস্য’ হিসেবে কুকুরছানাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকুক বা না থাকুক, তারা যে ভক্তদের নজর এড়াতে পারেনি, তা বলাই যায়। ভিডিওটির শেষ মুহূর্তও ভক্তদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। কুকুরছানাদের সঙ্গে সময় কাটানোর পর ইয়ামাল ও ইনেসকে একে অপরকে চুমু দিতে দেখা যায়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়- তবে কি সত্যিই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিচ্ছেন তারা? কুকুরছানা দুটির উপস্থিতিকে অনেকে তাই নিছক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন না। বরং দুজনের সম্পর্কের মধ্যে নতুন কোনো দায়িত্ব যোগ হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ। তবে আবারও বলার মতো বিষয় হলো, কুকুরছানা দুটি তাদের নিজেদের- এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। এই ঘটনায় ভক্তদের আলোচনায় এসেছে ইয়ামালের ছোট ভাই কেয়েনের নামও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রাণবন্ত উপস্থিতির কারণে এরই মধ্যে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে কেয়েন। ইয়ামালের ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন মুহূর্তেও তাকে দেখা যায়। ফলে কুকুরছানা দুটি সত্যিই যদি ইয়ামাল ও ইনেসের নতুন পোষ্য হয়ে থাকে, তাহলে কেয়েনের সঙ্গে তাদের দেখা হওয়ার মুহূর্তটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ভক্তরা। আইএইচএস/

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
নামাজের ঘরে ঝুলছিল ব্যাংকারের মরদেহ, চিরকুটে ঋণ-বদলি-মামলার কথা

নামাজের ঘরে ঝুলছিল ব্যাংকারের মরদেহ, চিরকুটে ঋণ-বদলি-মামলার কথা

সহকর্মীদের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ, দুদকের সহকারী পরিচালক রাজু বরখাস্ত

সহকর্মীদের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ, দুদকের সহকারী পরিচালক রাজু বরখাস্ত

রাজধানীতে এশিয়ান পর্যটন মেলা শুরু বৃহস্পতিবার, অংশ নিচ্ছে দেশ–বিদেশের ২০০ প্রতিষ্ঠান

রাজধানীতে এশিয়ান পর্যটন মেলা শুরু বৃহস্পতিবার, অংশ নিচ্ছে দেশ–বিদেশের ২০০ প্রতিষ্ঠান

0 Comments