জাতীয়

ছুটির দিনে বইয়ের টানে স্কুলে ভিড়

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ছুটির দিনে বইয়ের টানে স্কুলে ভিড়
ছুটির দিনে বইয়ের টানে স্কুলে ভিড়

শনিবার সকাল। সাপ্তাহিক ছুটি। ক্লাস–পরীক্ষার ব্যস্ততা নেই। তবু বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। তাদের এই ভিড় বইয়ের স্টল ঘিরে। কারও হাতে গল্পের বই, কারও হাতে ছিল কিশোর উপন্যাস। কেউ পছন্দের বইটি হাতে নিয়ে মলাট দেখছে, কেউ স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে বই কেনার জন্য। অভিভাবকেরাও মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে ব্যস্ত বই বাছাইয়ে।

প্রিয় লেখকের বই কেনার অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণটি মুখর হয়ে উঠেছিল। এমন দৃশ্য দেখা যায় চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের সিলভার বেলস কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড গার্লস হাইস্কুলে। সকাল থেকেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রথমা প্রকাশন ও সিলভার বেলস কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড গার্লস হাইস্কুল যৌথভাবে এই বই উৎসবের আয়োজন করে। সহযোগিতায় ছিল উৎসব সুপারমার্কেট।

সকালে বই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিভা ইন্দু। প্রধান অতিথি ছিলেন লেখক ও প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। বই উৎসবে অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশনা।

মেলায় ছিল একটিমাত্র বইয়ের স্টল। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে থেকে সেটির সামনে ছিল নানা বয়সী শিক্ষার্থীর ভিড়। কেউ বইয়ের মলাট দেখছে, কেউ কয়েক পৃষ্ঠা পড়ে দেখছে। পছন্দের বই হাতে পেয়ে কারও মুখে হাসি। আবার কেউ একাধিক বইয়ের মধ্যে কোনটি কিনবে, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেছে।

বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইপ্সিতা জান্নাতুল ফেরদৌস বাবা ও ছোট বোনকে নিয়ে এসেছিল বই উৎসবে। তার পছন্দ গল্প ও কিশোর উপন্যাস। তার কথা, ‘বই পড়লে নিজের মতো করে একটা জগৎ কল্পনা করা যায়। তাই গল্পের বই পড়তে আমার ভালো লাগে। আজ পছন্দের কয়েকটা বই কিনেছি।’

তার মতো অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই বই উৎসব ছিল শুধু বই কেনার সুযোগ নয়, প্রিয় লেখকদের বই একসঙ্গে দেখার আনন্দও। বন্ধুদের সঙ্গে বই নিয়ে আলোচনা, একে অপরকে পছন্দের বই দেখানো—সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে স্কুলজুড়ে।

সদ্য এসএসসি উত্তীর্ণ মাওয়া সিদ্দিকী কিনেছিল বিশ্বজিৎ চৌধুরীর দুটি উপন্যাস। স্টলের পাশেই ছিলেন লেখক। তাই অটোগ্রাফ নেওয়ার সুযোগ হারায়নি সে। পছন্দের বই সংগ্রহ করে উচ্ছ্বসিত মাওয়া সিদ্দিকী বলে, তাদের বিদ্যালয়ে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প–উপন্যাস, কবিতা–ছড়া পড়ার প্রতি জোর দেওয়া হতো। বিদ্যালয়ে এই ধরনের বই উৎসবের আয়োজন করায় পছন্দের বই কেনা সহজ হয়েছে।

উৎসবে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। সন্তানের পছন্দের বই খুঁজে দিতে স্টলে ভিড় করছিলেন তাঁরা। কেউ বই কিনে দিচ্ছেন, কেউ আবার সন্তানকে বই বেছে নিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। তেমনই একজন অভিভাবক হাসান ফরহাদ। তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে আলিজা হাসানকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন উৎসবে। তিনি বলেন, ‘এখন বাচ্চাদের হাতে সব সময় মোবাইল বা অন্য কোনো ডিভাইস থাকে। বই পড়ার কথা বললে অনেক সময় আগ্রহ দেখায় না। কিন্তু এমন আয়োজন হলে তারা নিজেরাই বই দেখতে আসে, পছন্দ করে, কিনতে চায়। এটা আমাদের জন্য খুব আনন্দের।’

প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া অনসূয়া নন্দিনীর পিতা অনুপম শীল বলেন, শুধু পরীক্ষার বই পড়লেই তো হবে না। গল্প, উপন্যাস, বিজ্ঞান, ইতিহাস—বিভিন্ন ধরনের বই পড়লে বাচ্চাদের চিন্তাভাবনার পরিধি বাড়ে। তাই এমন আয়োজন আরও হওয়া দরকার। তারেক আহমেদ নূরী নামের আরেক অভিভাবক মেয়ের জন্য কয়েকটি বই কিনছিলেন। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করিয়ে দেওয়ার জন্য স্কুলের এমন আয়োজন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে এসে নিজের পছন্দের বই হাতে নেওয়ার মধ্যে আলাদা আনন্দ আছে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেখক ও প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে বই পড়ার আগ্রহ কমে গেছে। এ জন্য শিশু–কিশোরদের দায় করে লাভ নেই। তারা যদি বাসায় মা–বাবাসহ পরিবারের বড়দের বই পড়তে না দেখে, তাহলে এ অভ্যাস হবে না। কেননা, শিশু–কিশোরেরা অনুসরণ করতে পছন্দ করে। তিনি বলেন, আজকের উৎসবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি মন ভালো করে দেওয়ার মতো। একটি বই মানুষের জীবনের চিন্তাভাবনা ও মূল্যবোধও পাল্টে দিতে পারে।

কবি ও সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ছোটবেলায় বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হলে সেটি অনেক দূর পর্যন্ত যায়। বই উৎসবের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের সেই অভ্যাস তৈরিতে উৎসাহিত করে। আজ যে শিক্ষার্থী একটি বই কিনল, হয়তো কাল সে আরও কয়েকটি বই খুঁজবে।

সিলভার বেলস কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বিভা ইন্দু বলেন, এ ধরনের বই উৎসব আয়োজনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও প্রচুর উৎসাহ–উদ্দীপনা ছিল। তার প্রমাণ হচ্ছে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। তারা এখানে নিজের পছন্দে বই দেখছে, লেখকদের সঙ্গে কথা বলছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করছে। ফলে বইয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্কটা শুধু পড়াশোনার মধ্যে আটকে থাকছে না। এই উৎসবের কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সহজে পছন্দের বই কিনতে পারবেন। কেননা, দূরত্বের কারণে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বইমেলায় যাওয়া সম্ভব হয় না।

বই উৎসবের সহযোগিতায় থাকা উৎসব সুপারমার্কেটের সমন্বয়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, সৃষ্টিশীল, সৃজনশীল ও মননশীল উৎসব আয়োজনে তাঁদের সহযোগিতা রয়েছে। এই বই উৎসব শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাড়া মুগ্ধ করেছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ১৮ নারী-পুরুষ আটক, জরিমানা
অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ১৮ নারী-পুরুষ আটক, জরিমানা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ১৮ জন নারী-পুরুষকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চৌমুহনী পৌর এলাকার রিলাক্স ও রাজ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এদের মধ্যে রিলাক্স হোটেল থেকে বেগমগঞ্জের হাজীপুরের আবদুল হাকিমের ছেলে ইমাম হোসেনসহ (৫০) পাঁচজন নারী এবং ডালিয়া মার্কেটের রাজ আবাসিক হোটেল থেকে আরমান হোসেন (২২), নাছির উদ্দিন (৩২), মিজানুর রহমান (২২), মোজাম্মেল হোসেন (২০) ও মো. রাকিব হোসেনসহ (১৯) সাতজন নারী রয়েছেন। নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার বলেন, আটককৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। নোয়াখালী আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বিচারক ১৮ আসামির প্রতিজনকে ২০০ টাকা করে জরিমানা আরোপ করে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেছেন। ইকবাল হোসেন মজনু/এসজেডএইচ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনগণ বঞ্চিতদের তালিকায় শীর্ষে: ফজলুল করীম মারুফ

ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনগণ বঞ্চিতদের তালিকায় শীর্ষে: ফজলুল করীম মারুফ

পরিবারের প্রবীণ সদস্যের সঠিক পুষ্টি কীভাবে নিশ্চিত করবেন 

পরিবারের প্রবীণ সদস্যের সঠিক পুষ্টি কীভাবে নিশ্চিত করবেন 

মতপ্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট

মতপ্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট

এমপিও শিক্ষকদের বদলির আবেদন ফের শুরু, মাউশির বিশেষ নির্দেশনা
এমপিও শিক্ষকদের বদলির আবেদন ফের শুরু, মাউশির বিশেষ নির্দেশনা

দেশের বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদন আবারও নেওয়া হচ্ছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ আবেদন করা যাবে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বদলি আবেদনের ড্যাশবোর্ডেও বিজ্ঞপ্তটি প্রদর্শিত হচ্ছে। আরও পড়ুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস মনিটরিং হবে সরাসরি, চালু হচ্ছে অ্যাপ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এমপিও শিক্ষক বদলি আবেদন কার্যক্রম ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। দ্বিতীয় ধাপে যেসব শিক্ষকের তথ্য সংশোধন করা হয়েছে, শুধু সেসব শিক্ষকই আবেদন করার সুযোগ পাবেন। প্রথম ধাপে আবেদনকারী শিক্ষকরা দ্বিতীয় ধাপে নতুন আবেদন বা পূর্বের আবেদন সংশোধন করার সুযোগ পাবেন না। বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের জন্যও বার্তা দিয়েছে মাউশি। অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানপ্রধান কর্তৃক শিক্ষক তথ্য ও শূন্যপদের তালিকাসহ প্রতিষ্ঠানের তথ্যাদি উপজেলা ও জোনপর্যায়ে যাচাইয়ের জন্য প্রেরণের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আরও পড়ুন স্কুলে ভর্তিতে পরীক্ষা হবে তিন বিষয়ে, জানা গেল নতুন নিয়ম শিক্ষক বদলি আবেদন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কারণে বর্তমানে প্রতিষ্ঠান তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রেরণের সুযোগ বন্ধ থাকবে। যাচাই কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। মাউশির মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, বদলি আবেদনগ্রহণ শেষ হওয়ার দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে বদলির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এক মুহূর্তও দেরি করার পরিকল্পনা নেই। যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষকদের বদলি করা হবে। এএএইচ/ইএ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
রুরাল পাওয়ার কোম্পানিতে নিয়োগ, আবেদন ফি ১০০ টাকা

রুরাল পাওয়ার কোম্পানিতে নিয়োগ, আবেদন ফি ১০০ টাকা

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতার পদ স্থগিত, যা জানা গেল

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতার পদ স্থগিত, যা জানা গেল

বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী 

বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী 

৬৩ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট রাখতেন, সেই মহসিন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার
৬৩ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট রাখতেন, সেই মহসিন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট জমা রাখা মোহাম্মদ মহসিন নামের সেই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার নগরের খুলশী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ জানায়, মহসিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। নগরের কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তিনি।খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আটতলা ভবন তাঁদের ভাড়া করে দেন। মহসিনের পেছনে থাকা অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।ওসি আরও বলেন, মহসিন কুরিয়ারে ১১৮ গ্রাম কোকেন ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন কয়েক দিন আগে। এগুলো ফেরত আসে। কোকেনের তথ্য খুঁজতে গিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যায়। মহসিনকে কোকেনের মামলায় আজ সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখাতে আদালতে আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে রিমান্ডেরও আবেদন করা হবে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে চক্রটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা-পুলিশ। তাঁদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের ১ জন ও ভিয়েতনামের ১ জন নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।চট্টগ্রাম নগরে ৭০ বিদেশি নাগরিক আটক, পুলিশ বলছে অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্যএ ঘটনায় খুলশী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছে। শুক্রবার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।পুলিশ জানায়, ১৪টি ফ্ল্যাটে দেড় মাস ধরে ভাড়া নিয়ে তাঁরা অবস্থান করছেন। ভবনটিতে সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছিল। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন তাঁরা। এ কাজে তাঁদের সহায়তা করেছে দেশীয় একটি চক্র।৮ তলার ভবনে নানা ডিভাইস নিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিক কী করছিলেন, যা বলছে পুলিশ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
বিনা টিকিটে ভ্রমণের অনুশোচনা, রেলকে ২৫ হাজার টাকা দিলেন শিক্ষিকা

বিনা টিকিটে ভ্রমণের অনুশোচনা, রেলকে ২৫ হাজার টাকা দিলেন শিক্ষিকা

মুখস্ত না করেই নামতা মনে রাখার কৌশল

মুখস্ত না করেই নামতা মনে রাখার কৌশল

বিপিএলে ফিক্সিং: অভিযুক্ত ৯ ক্রিকেটারের কী হলো

বিপিএলে ফিক্সিং: অভিযুক্ত ৯ ক্রিকেটারের কী হলো

0 Comments