অর্থনীতি

ব্যাংক এমডিদের কাজের মূল্যায়ন হবে ১০০ নম্বরে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা

Shadin Khan সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ব্যাংক এমডিদের কাজের মূল্যায়ন হবে ১০০ নম্বরে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা
ব্যাংক এমডিদের কাজের মূল্যায়ন হবে ১০০ নম্বরে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা

দেশের সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংক শীর্ষ নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের দায়দায়িত্ব ও কর্মমূল্যায়ন (কেপিআই) নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য আজ রোববার নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

নীতিমালায় এমডিদের কাজের মূল্যায়নের জন্য ১০০ নম্বরের একটি মূল্যায়ন-কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্যায়নে খারাপ ঋণ নিয়ন্ত্রণ, মূলধনভিত্তিক সক্ষমতা, সুশাসন, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে ১০০ নম্বরের ওপর ভিত্তি করে এমডি ও সিইওদের মূল্যায়ন করা হবে। যদিও মূল্যায়নে কোনো শীর্ষ নির্বাহীর ধারাবাহিকভাবে খারাপ পারফরম্যান্স দেখা যায়, তবে তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধি না-ও হতে পারে। আবার খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে এমডি অপসারণে পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। আগামী এক মাসের মধ্যে এমডি ও সিইওদের জন্য কেপিআই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে ব্যাংকের পর্ষদকে। তিন বছর বা এমডির অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হবে। প্রতি ছয় মাস পরপর এসব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে হবে। পরে তা জানাতে জমা দিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকে।

মূল্যায়নে ৫ সূচক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এমডি ও সিইওদের বেতন-ভাতা, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণেও স্কোরকার্ড ব্যবহার করতে হবে। প্রধান পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে এই স্কোরকার্ড যাচাই করতে হবে। স্কোরকার্ডে সূচকগুলোর মধ্যে তহবিল সুরক্ষা ও তারল্য পরিস্থিতির জন্য থাকবে ২৫ নম্বর, সম্পদের গুণগত মানের জন্য ২৫ নম্বর, সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ২৫ নম্বর, আর্থিক অন্তর্ভুক্তকরণ, গ্রাহকসেবা ও বাজার আচরণের জন্য ১৫ নম্বর এবং মুনাফা অর্জনের ওপর ১০ নম্বর। এই পাঁচ সূচকে মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে এমডি বা সিইও কেপিআই মূল্যায়ন করতে হবে। ১০০ নম্বরের মধ্যে কোনো এমডি ৭৫ বা তার বেশি নম্বর পেলে সেটি হবে মানসম্মত রেটিং। ৬৫ থেকে ৭৫-নম্বর পেলে ‘এভারেজ’ বা উন্নতি প্রয়োজন রেটিং পাবে এমডিরা। ৬৫-এর নিচে নম্বর পেলে ‘বিলো এভারেজ’ বা অবিলম্বে উন্নতি প্রয়োজন বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এমডিকে নোটিশ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যর্থতায় নম্বর কাটা হবে

বাংলাদেশ ব্যাংক এমডিদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে ন্যূনতম ৩০টি কেপিআই নির্ধারণ করেছে। যার মধ্যে ছয়টি প্রধান কেপিআই অর্জনে ব্যর্থতার জন্য নম্বর কর্তনের বিধান রাখা হয়েছে। কোনো কেপিআইয়ের নির্ধারিত টার্গেটের অন্তত ৫০ শতাংশ অর্জিত হলেই শুধু নম্বর পাওয়া যাবে। ৫০ শতাংশের কম অর্জন হলে ওই কেপিআইয়ে নম্বর মিলবে শূন্য (০)। তবে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি অর্জিত হলে আনুপাতিক হারে নম্বর যোগ হবে এবং শতভাগ অর্জিত হলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যাবে।

আমানত-ঋণ অনুপাত, মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত, প্রকৃত খেলাপি ঋণের অনুপাত, বড় ঋণ ও শীর্ষ ঋণগ্রহীতার কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি, খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায়, সিএমএসএমই, কৃষি, গ্রিন ফাইন্যান্স ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসার—এই ছয়টি ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স ৫০ শতাংশের কম হলে বা শূন্য পেলে নম্বর কেটে নেওয়া হবে। এই নীতিমালার আওতায় খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা এমডিদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অর্থনীতি

View more
ব্যাংক এমডিদের কাজের মূল্যায়ন হবে ১০০ নম্বরে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা
ব্যাংক এমডিদের কাজের মূল্যায়ন হবে ১০০ নম্বরে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা

দেশের সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংক শীর্ষ নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের দায়দায়িত্ব ও কর্মমূল্যায়ন (কেপিআই) নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য আজ রোববার নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে। নীতিমালায় এমডিদের কাজের মূল্যায়নের জন্য ১০০ নম্বরের একটি মূল্যায়ন-কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্যায়নে খারাপ ঋণ নিয়ন্ত্রণ, মূলধনভিত্তিক সক্ষমতা, সুশাসন, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে ১০০ নম্বরের ওপর ভিত্তি করে এমডি ও সিইওদের মূল্যায়ন করা হবে। যদিও মূল্যায়নে কোনো শীর্ষ নির্বাহীর ধারাবাহিকভাবে খারাপ পারফরম্যান্স দেখা যায়, তবে তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধি না-ও হতে পারে। আবার খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে এমডি অপসারণে পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। আগামী এক মাসের মধ্যে এমডি ও সিইওদের জন্য কেপিআই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে ব্যাংকের পর্ষদকে। তিন বছর বা এমডির অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হবে। প্রতি ছয় মাস পরপর এসব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে হবে। পরে তা জানাতে জমা দিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকে।মূল্যায়নে ৫ সূচক বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এমডি ও সিইওদের বেতন-ভাতা, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণেও স্কোরকার্ড ব্যবহার করতে হবে। প্রধান পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে এই স্কোরকার্ড যাচাই করতে হবে। স্কোরকার্ডে সূচকগুলোর মধ্যে তহবিল সুরক্ষা ও তারল্য পরিস্থিতির জন্য থাকবে ২৫ নম্বর, সম্পদের গুণগত মানের জন্য ২৫ নম্বর, সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ২৫ নম্বর, আর্থিক অন্তর্ভুক্তকরণ, গ্রাহকসেবা ও বাজার আচরণের জন্য ১৫ নম্বর এবং মুনাফা অর্জনের ওপর ১০ নম্বর। এই পাঁচ সূচকে মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে এমডি বা সিইও কেপিআই মূল্যায়ন করতে হবে। ১০০ নম্বরের মধ্যে কোনো এমডি ৭৫ বা তার বেশি নম্বর পেলে সেটি হবে মানসম্মত রেটিং। ৬৫ থেকে ৭৫-নম্বর পেলে ‘এভারেজ’ বা উন্নতি প্রয়োজন রেটিং পাবে এমডিরা। ৬৫-এর নিচে নম্বর পেলে ‘বিলো এভারেজ’ বা অবিলম্বে উন্নতি প্রয়োজন বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এমডিকে নোটিশ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।ব্যর্থতায় নম্বর কাটা হবে বাংলাদেশ ব্যাংক এমডিদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে ন্যূনতম ৩০টি কেপিআই নির্ধারণ করেছে। যার মধ্যে ছয়টি প্রধান কেপিআই অর্জনে ব্যর্থতার জন্য নম্বর কর্তনের বিধান রাখা হয়েছে। কোনো কেপিআইয়ের নির্ধারিত টার্গেটের অন্তত ৫০ শতাংশ অর্জিত হলেই শুধু নম্বর পাওয়া যাবে। ৫০ শতাংশের কম অর্জন হলে ওই কেপিআইয়ে নম্বর মিলবে শূন্য (০)। তবে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি অর্জিত হলে আনুপাতিক হারে নম্বর যোগ হবে এবং শতভাগ অর্জিত হলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যাবে।আমানত-ঋণ অনুপাত, মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত, প্রকৃত খেলাপি ঋণের অনুপাত, বড় ঋণ ও শীর্ষ ঋণগ্রহীতার কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি, খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায়, সিএমএসএমই, কৃষি, গ্রিন ফাইন্যান্স ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসার—এই ছয়টি ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স ৫০ শতাংশের কম হলে বা শূন্য পেলে নম্বর কেটে নেওয়া হবে। এই নীতিমালার আওতায় খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা এমডিদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
পাচার করা সম্পদ থেকে কর আদায়ে ৭ সদস্যের কমিটি

পাচার করা সম্পদ থেকে কর আদায়ে ৭ সদস্যের কমিটি

সাগরতলে সোনা-রুপার বিশাল খনির সন্ধান

সাগরতলে সোনা-রুপার বিশাল খনির সন্ধান

গতি হারাচ্ছে বাংলাদেশ, দ্রুত এগোচ্ছে ভিয়েতনাম

গতি হারাচ্ছে বাংলাদেশ, দ্রুত এগোচ্ছে ভিয়েতনাম

টানা দুই দফায় ভরিতে কত কমল স্বর্ণের দাম
টানা দুই দফায় ভরিতে কত কমল স্বর্ণের দাম

  দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। সবশেষ পাঁচ দফা মূল্য সমন্বয়ের মধ্যে চারবারই দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এর মধ্যে টানা দুই দফায় ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম কমেছে মোট ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, গত ১৩ জুলাই প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ১৩ ও ১৪ জুলাই—এই দুই দফা মূল্য সমন্বয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি মোট ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমেছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৯১ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বেড়েছে, ৪৬ বার কমেছে এবং ১ বার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার দাম হ্রাস করা হয়।

News জুলাই ১৪, ২০২৬ 0

ডলারের দাম বাড়ছে: কী প্রভাব পড়ছে আমদানি-রপ্তানিতে?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?

শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?

শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?

ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?
ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?

গত কয়েক বছর ধরে নানা চ্যালেঞ্জ ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর, বাংলাদেশে ই-কমার্স খাত আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিচ্ছে। কিছু বড় বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পতনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হলেও, বর্তমানে ধীরে ধীরে গ্রাহকদের আস্থা ফিরছে। নতুন উদ্যোক্তারা এ খাতে প্রবেশ করছে, পুরোনো খেলোয়াড়রাও নিজেদের পুনর্গঠনে ব্যস্ত। সব মিলিয়ে ই-কমার্সে এক ধরনের চাঙ্গাভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ই-কমার্স খাত একটি বড় সুযোগ পেয়েছিল। ঘরে বসে কেনাকাটা মানুষের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান সেই আস্থা ধরে রাখতে পারেনি। গ্রাহকের টাকা আটকে যাওয়া, পণ্যের সময়মতো ডেলিভারি না পাওয়া এবং অনিয়মিত রিফান্ড প্রক্রিয়ার কারণে এই খাত সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। সরকারের হস্তক্ষেপ ও নীতিমালার অনুপস্থিতিও সংকটকে আরও তীব্র করেছিল। তবে সেই ধস কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে এই খাতটি। এখন অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারের ডিজিটাল কমার্স গাইডলাইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন (ই-ক্যাব) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বেশ কিছু কঠোর নিয়ম-কানুন বাস্তবায়ন করছে, যাতে গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। এতে ক্রেতারা আবারো আগ্রহী হচ্ছেন অনলাইন কেনাকাটায়। নতুন উদ্যোক্তারা অনেক বেশি স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অনেকেই কাস্টমার কেয়ার, ট্র্যাকিং সিস্টেম, ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং সহজ রিফান্ড পলিসি চালু করে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। এর পাশাপাশি ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও ছোট ছোট অনলাইন দোকান গড়ে উঠেছে, যারা স্থানীয়ভাবে দ্রুত সার্ভিস দিয়ে মানুষের চাহিদা পূরণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ই-কমার্সের এখনও বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এবং স্মার্টফোন প্রবৃদ্ধি ই-কমার্সকে শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে। তবে এই খাতকে স্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং গ্রাহকসেবায় উদ্ভাবন খুব জরুরি। সব মিলিয়ে বলা যায়, ই-কমার্স আবারো জেগে উঠছে। এটি শুধু ব্যবসার পুনর্জাগরণ নয়, বরং গ্রাহক-ভিত্তিক একটি নতুন ও সুসংগঠিত ডিজিটাল বাণিজ্য সংস্কৃতির সূচনা। এখন সময়, আস্থার সেই ভাঙা সেতু পুনরায় গড়ে তোলার।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ উচ্চতায়, কেন এত চাহিদা?

স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ উচ্চতায়, কেন এত চাহিদা?

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম

0 Comments