ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে সেজেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। আজ শনিবার পর্দা উঠেছে দুই দিনের এ আয়োজনের। এরই মধ্যে ডজনেরও বেশি বিশ্বনেতা দিল্লিতে জড়ো হয়েছেন। জোরদার করা হয়েছে পুরো দিল্লির নিরাপত্তা।
ধনী পশ্চিমা দেশগুলোর আধিপত্যের অধীন থাকা অর্থনৈতিক জোটগুলোর বিপরীতে একটি ভারসাম্য সৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে ব্রিকস ক্রমশ অবস্থান শক্ত করছে। জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলোই এবারের শীর্ষ সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে।
ব্রিকসের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ, ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ, ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যকার সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ঘিরে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, ভারত ও চীনের সীমান্ত বিরোধ ঘিরে ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমেই বাড়ছে।
দেখার বিষয়, এবারের সম্মেলনে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো নিজেদের মতপার্থক্য কীভাবে কাটিয়ে উঠতে পারে। সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে কী কী বিষয় থাকছে, সেটা নিয়েও বিশ্লেষকদের অনেকের আগ্রহ রয়েছে।
বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য দেশ ১১টি। এসব দেশ মিলে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ এসব দেশের নিয়ন্ত্রণে।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা—পাঁচটি দেশের নামের আদ্যক্ষর নিয়ে নামকরণ করা হয়েছে ব্রিকসের (বিআরআইসিএস)। কাজেই নাম দেখে বোঝা যায়, ব্রিকস হলো এ পাঁচ দেশের জোট।
২০০৬ সালে বাণিজ্য জোট হিসেবে ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে সদস্য ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন। ২০১০ সালে যুক্ত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে জোটের সদস্য আরও বেড়েছে। ২০২৩ সালে এসে ব্রিকসে যোগ দেয় মিসর, ইথিওপিয়া, সৌদি আরব, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
ওই সময় আর্জেন্টিনাকে ব্রিকসের সদস্য হতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু জাভিয়ের মিলেই দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর দেশ পশ্চিমাঘেঁষা নীতি মেনে চলবে। তাই ব্রিকসে যোগ দেবে না।
ইন্দোনেশিয়া ২০২৫ সালে ব্রিকসে যোগ দিয়েছে। বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য দেশ ১১টি। এসব দেশ মিলে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ এসব দেশের নিয়ন্ত্রণে।
শীর্ষ সম্মেলনে থাকছেন আয়োজক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। এর মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট ৭ বছর পর ভারত সফরে এসেছেন।
প্রাথমিক সদস্য হলেও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা ব্রিকসের এবারের সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। জানা গেছে, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন লুলা। ব্রাজিলের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েইরা সম্মেলনে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ব্রিকস সম্মেলনে আরও থাকছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ও ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানও এবারের সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।
এবারের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সময়টিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ বছর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিতীয় দফার শীর্ষ সম্মেলনের আগে ব্রিকস নেতারা বৈঠকে বসছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সি চিন পিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ আর মার্কোস জুনিয়র, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট এভারিস্ত নাদাইশিমিয়ে, নাইজেরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেত্তিমা, উগান্ডার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসিকা আলুপো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুং, কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়া, উরুগুয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিও লুবেতকিন এবং বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি ভারতে এসেছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

ব্রিকসের মূল লক্ষ্য, পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেওয়া; বিশেষত অর্থনৈতিক বিষয়ে। কাজেই এ বিষয়ের কৌশলগুলো নিয়ে শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনা করা হবে—সেটা অনুমেয়।
জোটের নথিপত্র দেখা গেছে, এবারের শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য-সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়া।
ব্রিকসের এবারের সম্মেলনে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান-অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতি শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ফরাসি আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নাটিক্সিসের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালিসিয়া গার্সিয়া-হেরেরো বলেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ব্রিকসের সদস্য রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে আন্তসীমান্ত লেনদেনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়েও নেতারা আলোচনা করতে পারেন।
এ অর্থনীতিবিদ আল-জাজিরাকে বলেন, তবে তাঁরা (ব্রিকস নেতারা) ডলারের বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করবেন না বলেই মনে হচ্ছে।
ক্রেমলিন গত বৃহস্পতিবার জানায়, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে মস্কো অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ডিজিটাল মুদ্রায় বাণিজ্যিক লেনদেন নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা করবে।
ভারতের বেঙ্গালুরুভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান তক্ষশীলা ইনস্টিটিউশনের জিওস্ট্র্যাটেজি প্রোগ্রামের চেয়ারপারসন মনোজ কেওয়ালরামানি আল-জাজিরাকে বলেন, ব্রিকস নেতারা যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন, সেগুলো মূলত সরবরাহব্যবস্থা নিরাপদ রাখা এবং বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের মধ্যে ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।
এ বছর এমন এক সময় ব্রিকসের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধের দামামা বাজছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ছয় মাসে গড়িয়েছে। গত মে মাসে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেছিলেন। ওই বৈঠক থেকে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে যৌথ নিন্দা জানানোর একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সেটা সফল হয়নি।
এবারের শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অংশ নিচ্ছেন। তিনি যুদ্ধের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি ভারতে তাঁর প্রথম সফর। সেই সঙ্গে আট বছর পর কোনো ইরানি প্রেসিডেন্টের ভারত সফরও এটি।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও জনপ্রশাসন বিভাগের খণ্ডকালীন অধ্যাপক আলেহান্দ্রো রেয়েস বলেন, ইরান ব্রিকসের সদস্য। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত বাণিজ্য পথ, জ্বালানি সরবরাহ ও জ্বালানির বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।
এ বিষয়ে এই অধ্যাপক আরও বলেন, যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্রিকসের আরেক সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ইরানের সরাসরি সংঘাত সদস্য দেশগুলোর জন্য এ বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা কঠিন করে তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এতে ইরানি হামলার শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আরব আমিরাতে এখন পর্যন্ত ইরানি হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই সামরিক সদস্য, একজন বেসামরিক ঠিকাদার ও ১২ জন বেসামরিক নাগরিক। সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে গত আগস্টে ইরানের বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আরব আমিরাত।
ইউক্রেনে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ করছে ব্রিকসের প্রাথমিক সদস্য রাশিয়া। এবারের সম্মেলনে জোট নেতারা এ যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
মনোজ কেওয়ালরামানি আল-জাজিরাকে বলেন, ব্রিকসের নেতারা কয়েক বছর ধরেই ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করছেন। তাঁর ধারণা, ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ব্রিকসের প্রতিটি সদস্যের বৈধ স্বার্থ কীভাবে যৌথভাবে বিবেচনায় নেওয়া যায়, তা নিয়ে এবারের সম্মেলনে আলোচনা হতে পারে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ১৭তম ব্রিকস সম্মেলনে দেওয়া যৌথ ঘোষণায় নেতারা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সমালোচনা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। উল্টো রাশিয়ায় ইউক্রেনের হামলার নিন্দা জানিয়েছিলেন।
মনোজ কেওয়ালরামানি বলেন, এ বছর ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসের যৌথ অবস্থান নির্ধারণে বড় সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। কারণ, এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের কৌশল খুঁজতে আলোচনা করছে।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সফর করেন তাঁরা।
জার্মান মার্শাল ফান্ড অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটসের সম্মাননীয় ফেলো ইয়ান লেসার আল-জাজিরাকে বলেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক যখন ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, তখন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ভ্লাদিমির পুতিনকে বৈশ্বিক দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক তুলে ধরার সুযোগ দেবে।
ইয়ান আরও বলেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আসা অনিশ্চিত বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নীতির বিরুদ্ধে ভারসাম্য তৈরির বিষয়ে অনেক দেশের আগ্রহকে কাজে লাগানোর সুযোগ রাশিয়া ও চীন পাবে।
এবারের ব্রিকস সম্মেলনের সময়ও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ বছর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিতীয় দফার শীর্ষ সম্মেলনের আগে ব্রিকস নেতারা বৈঠকে বসছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সি চিন পিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্নেল ঝৌ বো আল-জাজিরাকে বলেন, ব্রিকস নেতাদের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে একত্র হওয়া, বৈঠক করা নতুন নয়। তবে এ বছর একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো, সাত বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট সি ভারত সফরে এলেন।
ঝৌ বোর মতে, বেইজিং ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই শীতল। তাই এ শীর্ষ সম্মেলন সি ও মোদির জন্য মতপার্থক্য দূর করার একটি ভালো সুযোগ।
বৃহত্তর পরিসরে দেখতে গেলে, চলমান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এ বছরের ব্রিকস সম্মেলন বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, বলেন ঝৌ বো।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পাবনা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে পৌরসভা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও ব্র্যাকের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। পাবনা পৌরসভার আয়োজনে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও ব্র্যাকের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাবনা শহরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০৩ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। বর্তমানে আংশিক সংগ্রহ ব্যবস্থা এবং সরাসরি ল্যান্ডফিলে বর্জ্য ফেলার কারণে ড্রেন ও ইছামতি নদীতে ময়লা জমে জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। উদ্যোগটির প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে শক্তিশালী ও ঢাকনাযুক্ত কমিউনিটি বিন স্থাপন, বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ, স্কুল ও কাঁচাবাজারে সচেতনতামূলক প্রচার এবং স্থানীয় মানুষের মাধ্যমে ডাস্টবিন ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬ মাসের কর্মপরিকল্পনায় বর্জ্য ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করার মাধ্যমে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগে পাবনা পৌরসভা সেবা কর্তৃপক্ষ ও অবকাঠামো নিয়ন্ত্রক হিসেবে, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে এবং ব্র্যাক সিস্টেম আর্কিটেক্ট ও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকা পালন করবে বলে আগের যৌথ সভায় জানানো হয়। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, সরকারি উদ্যোগের আশায় না থেকে আমরা নিজেরাই যদি আমাদের প্রত্যাশা পূরণে উদ্যোগ নিতে পারি, নিজেদের উদ্যোগকে সূত্রবদ্ধ করে একটি কর্মে পরিণত করতে পারি, তাহলে সেটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো পাবনা পৌরসভাকে ঘিরে আগামী একশ বছরের একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছিলাম। আমাদের সৌভাগ্য, বাংলাদেশ পরিবর্তনের একটি গেটওয়েতে গেছে। তার সঙ্গে পাবনাও এগিয়ে যাচ্ছে। পাবনা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পাবনা পৌরসভার প্রশাসক খায়রুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মন্ডল, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিষু, পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব অ্যাড. মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল গাফফার খান, পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার ও ব্র্যাকের পরিচালক লিয়াকত আলী। আলমগীর হোসাইন নাবিল/এসজেডএইচ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত রয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত রয়েছেন। আরও উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) নির্বাহী পরিচালক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ। কেএইচ/এমএএইচ/