রাজধানীর অদূরে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রাম। একদিকে ঘনবসতি, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ ফাঁকা জায়গা, বালুর মাঠ ও চরাঞ্চল। সন্ধ্যা নামলেই অনেকটা বদলে যায় এলাকার চিত্র। ফাঁকা জায়গায় মাদকসেবীদের আড্ডা, মাদক কেনাবেচা, কিশোরদের সংঘবদ্ধ চলাফেরা আর বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় বড়দেশী।
সর্বশেষ পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সেই আলোচনাই আবার সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় গ্রেফতার কয়েকজন কিশোর গ্যাং ও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের বেশিরভাগই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে জড়িত।
মাদকের ‘ওপেন সিক্রেট’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বড়দেশী এলাকায় মাদক কেনাবেচা অনেকটাই প্রকাশ্য। বিশেষ করে নির্জন জায়গা, বালুর মাঠ ও বসতিপ্রবণ এলাকার বাইরে কিছু স্পটে মাদকসেবীদের আড্ডা চলে। কেউ কোনো প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হতে হয়। সরকার দলীয় কয়েকজন নেতার পশ্রয়ে চলে এসব মাদক স্পট।
শুধু অভিযোগ নয়, বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বড়দেশী এলাকা থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৫ সালের জুনে বড়দেশী এলাকা থেকে গাঁজা ও হেরোইনসহ দুজনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছিল পুলিশ।
এর আগে বড়দেশী পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে ২০ কেজি গাঁজাসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও বড়দেশী পশ্চিমপাড়া থেকে বিপুল পরিমাণ হেরোইনসহ এক নারীকে গ্রেফতার করে। তবে এসব ‘নামমাত্র অভিযান’ বলছে কেউ কেউ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে বেশিরভাগ মানুষই মাদকের সংঙ্গে জড়িত। কেউ খায়, না হয় কেউ বিক্রি করে। পুলিশ প্রশাসন আগে থেকেই মাসোয়ারা নিয়ে নীরব থাকে।’
হত্যার পুরোনো ইতিহাস
বড়দেশীর অপরাধচিত্র শুধু মাদককেন্দ্রিক নয়। এই এলাকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একাধিক হত্যাকাণ্ডের পুরোনো ইতিহাসও।
জানা গেছে, ২০০৭ সালের ৩ মার্চ আমিনবাজার এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাব-১১ এর উপসহকারী পরিচালক হুমায়ুন কবির ও কনস্টেবল ফুল মিয়া নিহত হন। এর কিছুদিন পর একই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে পুলিশের উপপরিদর্শক মতিউর রহমান নিহত হন।
এরপর আসে ২০১১ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনা। ১৭ জুলাই বড়দেশীর কেবলারচরে বেড়াতে যাওয়া ছয় ছাত্রকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে এবং বড়দেশীর নাম জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ওই মামলায় ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। অর্থাৎ এক দশকেরও বেশি সময় আগে ঘটে যাওয়া সেই হত্যাকাণ্ডের বিচারও শেষ পর্যন্ত বড় একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করে। কিন্তু এরপরও বড়দেশীর অপরাধের ইতিহাস থেমে থাকেনি। ২০২৪ সালে বাবা-ছেলে হত্যাকাণ্ড, ২০২৬ সালে দেলোয়ার হোসেন হত্যা, শারমিন আক্তার লিজা হত্যা এবং সর্বশেষ এসআই আলতাব হোসেন হত্যাকাণ্ড— সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও একের পর এক হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে।

কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান
সর্বশেষ এসআই আলতাব হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর বড়দেশীতে কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে।
র্যাবের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রেফতারদের মধ্যে আপন ও জিহাদ অপরাধপ্রবণ এবং তারা ওই অঞ্চলের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। র্যাব আপনকে একটি গ্যাংয়ের দলনেতা ও মাদক সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলার তথ্যও দেওয়া হয়েছে।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশ হত্যার সঙ্গে জড়িতরা অধিকাংশ মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আটকরা সরাসরি হত্যার মিশনে অংশ নেন।
নির্জনতা কি অপরাধীদের সুযোগ দিচ্ছে?
বড়দেশীর ভৌগোলিক অবস্থানও অপরাধ বিস্তারে ভূমিকা রাখছে কি না সেই প্রশ্নও উঠেছে।
এলাকার কিছু অংশ তুলনামূলক নির্জন। ফাঁকা জায়গা, বালুর মাঠ ও চরাঞ্চলের কারণে সন্ধ্যার পর নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এমন পরিবেশ মাদকসেবী, মাদক কারবারি কিংবা অন্যান্য অপরাধীদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে এসেছে, দিনের বিভিন্ন সময়ও কিছু ফাঁকা জায়গায় মাদকসেবীদের আড্ডা দেখা যায়।
তবে অপরাধের জন্য শুধু ভৌগোলিক অবস্থানকে দায়ী করা যায় না। পুলিশের টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, মাদকবিরোধী অভিযান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার—সবকিছুর সমন্বিত চিত্র প্রয়োজন।
সাধারণ মানুষ কেন মুখ খুলতে ভয় পান?
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা বা হয়রানির আশঙ্কা থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তিনি ও তার ছেলে আগে মারধরের শিকার হয়েছিলেন।
এই ধরনের অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু মাদক ব্যবসার প্রশ্ন নয়; বরং এলাকায় অপরাধীদের সামাজিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত, সেই প্রশ্নও সামনে আসে।
আলতাব হত্যা কি সতর্কবার্তা?
এসআই আলতাব হোসেন হত্যাকাণ্ড বড়দেশীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি পার্কিং ও অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে বিরোধের মধ্যে আলতাফ হোসেন সেখানে মধ্যস্থতা করতে যান। এরপর তিনি হামলার শিকার হন। তাকে ও তার ছেলেকে একটি পোশাক কারখানার ভেতরেও মারধর করা হয় বলে পুলিশ ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। গুরুতর আহত আলতাব হাসপাতালে মারা যান।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো- হামলার সময় তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও হামলা থামেনি বলে র্যাবের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় এরই মধ্যে একাধিক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছেন। র্যাবের দাবি, গ্রেফতারদের কয়েকজন কিশোর গ্যাং ও মাদক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
এখন প্রয়োজন নথিভিত্তিক অনুসন্ধান
বড়দেশীর অপরাধচিত্র বুঝতে হলে শুধু সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড নয়, গত দুই দশকের পুলিশি নথি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোন বছরে কতটি হত্যা মামলা হয়েছে? কতজন নিহত হয়েছেন? কত মামলায় আসামি গ্রেফতার হয়েছে? কতটির চার্জশিট হয়েছে? কত মামলার বিচার শেষ হয়েছে? কতজন সাজা পেয়েছেন? আর কতজন খালাস পেয়েছেন?
এর পাশাপাশি মাদক মামলার সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ। গত পাঁচ বা দশ বছরে বড়দেশী এলাকায় কতটি মাদক মামলা হয়েছে, কতজন গ্রেফতার হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা কী হয়েছে- সেই হিসাবও বের করা প্রয়োজন।
বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে- বড়দেশীর সমস্যা কি শুধুই কয়েকজন অপরাধীর কারণে? নাকি দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসা, নির্জন পরিবেশ, কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার, স্থানীয় বিরোধ এবং দুর্বল নজরদারির সমন্বিত ফল? এসআই আলতাব হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর এই প্রশ্নগুলো নতুন করে সামনে এসেছে। বড়দেশীর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একাধিক হত্যাকাণ্ড, মাদক উদ্ধারের ঘটনা এবং কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি অপরাধ হিসেবে দেখার পাশাপাশি এলাকাটির সামগ্রিক অপরাধপ্রবণতা নিয়ে প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
তবে বড়দেশীর সব বাসিন্দাকে অপরাধের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। হাজারো সাধারণ মানুষ সেখানে বসবাস করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। অপরাধ দমনে প্রয়োজন নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান, দৃশ্যমান পুলিশি টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, কিশোরদের অপরাধে জড়ানোর কারণ চিহ্নিত করা এবং মামলা দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।
যদিও সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, বড়দেশী গ্রামটিতে চলাচলের ব্যবস্থা নাজুক, তবুও গ্রামটিকে বিশেষ নজরদারিতে রাখার পরিকল্পনা চলছে। আপরাধীদের চিহ্নিত ও ধরতে সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টা চলছে।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন বলেন, শুধু পুলিশ নয়, মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাংদের প্রতিহত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা বড়দেশীকে অপরাধমুক্ত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেব।
এফএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
গণভোটের গণরায় সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের একদফার আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদের কোনো সরাসরি আইনি ভিত্তি নেই। সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সমঝোতা শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ রাখতে পারে।”
পাবনার সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া হাটে দুই রাজনৈতিক নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।