জাতীয়

বাবা মা যেভাবে সন্তানদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলবেন

D HASAN সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
বাবা মা যেভাবে সন্তানদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলবেন
বাবা মা যেভাবে সন্তানদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলবেন

একই ছাদের নিচে বেড়ে ওঠা দুই ভাই-বোন। কখনো খেলনা নিয়ে তুমুল ঝগড়া, কখনো টিভির রিমোট নিয়ে মনোমালিন্য, আবার কিছুক্ষণ পরেই পাশাপাশি বসে গল্প কিংবা খেলায় মেতে ওঠা-শৈশবে ভাই-বোনের সম্পর্ক যেন এমনই। একদিকে খুনসুটি, অন্যদিকে গভীর টান। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই মধুর সম্পর্ক যেন প্রতিযোগিতা, ঈর্ষা কিংবা অভিমানে দূরে সরে না যায়, সেদিকে শুরু থেকেই নজর রাখা প্রয়োজন।

সন্তান মানুষ করা সহজ নয়। ঘরে একাধিক সন্তান থাকলে তাদের চাহিদা, স্বভাব ও মানসিকতার পার্থক্য সামলানো মা-বাবার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বড় সন্তান মনে করতে পারে, ছোটটি বেশি আদর পাচ্ছে।

আবার ছোটজনের মনে হতে পারে, বড় ভাই বা বোনই সবসময় বেশি সুবিধা পাচ্ছে। এসব ছোটখাটো অভিমান সময়ের সঙ্গে বড় দূরত্বে পরিণত হতে পারে। তাই ভাই-বোনের মধ্যে ভালোবাসা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে মা-বাবার কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।

তুলনা নয়, প্রত্যেককে আলাদা করে দেখুন

‘তোমার ভাই তো এত ভালো পড়াশোনা করে’, ‘তোমার বোনের মতো হতে পারো না?’-এ ধরনের কথা অনেক সময় অভিভাবকরা সন্তানকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু এতে উৎসাহের বদলে তৈরি হতে পারে ঈর্ষা, হীনম্মন্যতা কিংবা ক্ষোভ।

প্রতিটি শিশুর ক্ষমতা ও আগ্রহ আলাদা। কেউ পড়াশোনায় ভালো, কেউ খেলাধুলায়, আবার কেউ হয়তো গান, ছবি আঁকা বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে দক্ষ। তাই একজনকে অন্যজনের মাপকাঠিতে বিচার না করে প্রত্যেক সন্তানের নিজস্ব গুণকে গুরুত্ব দিন।

প্রয়োজন অনুযায়ী সমান মনোযোগ দিন

দুই সন্তানকে সমান ভালোবাসা দেওয়া জরুরি। তবে দুজনের প্রয়োজন সবসময় এক হবে, এমন নয়। একজনের হয়তো পড়াশোনায় বাড়তি সহযোগিতা দরকার, অন্যজনের প্রয়োজন হতে পারে একটু বেশি সময় কিংবা মানসিক সমর্থন। তাই সবকিছু হুবহু সমান করার চেষ্টা না করে ন্যায্য হওয়ার চেষ্টা করুন। সন্তানদের বোঝান, পরিবারের কারও প্রয়োজনের সময় তাকে সহযোগিতা করা ভালোবাসারই অংশ।

ঝগড়ায় তৎক্ষণাৎ পক্ষ না নেওয়া

ভাই-বোনের ঝগড়া হলে একজনের কথা শুনেই অন্যজনকে শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়। এতে যে শিশুকে দোষী করা হলো, তার মনে অন্যায় হওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। বরং দুজনের কথাই শুনুন। কে জিতল বা কে হারল, তার চেয়ে কীভাবে সমস্যাটি মেটানো যায়, সেটি শেখান। ছোটখাটো সমস্যা নিজেরা সমাধান করার সুযোগও দিন।

একসঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ তৈরি করুন

ভাই-বোনের বন্ধুত্ব বাড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো একসঙ্গে আনন্দের সময় তৈরি করা। বোর্ড গেম, গল্পের বই, রান্নায় সাহায্য, ঘরের ছোট কাজ কিংবা পারিবারিক ভ্রমণে দুজনকে একসঙ্গে যুক্ত করতে পারেন।

তবে সবসময় তাদের কী করতে হবে তা বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজেদের মতো করে খেলতে ও গল্প করতে দিন। এই স্বাভাবিক সময়গুলোই ধীরে ধীরে সম্পর্ককে গভীর করে।

বড় হলেই সবসময় মানিয়ে না নেওয়ার চেষ্টা না করা  

‘তুমি বড়, তাই তোমাকেই মানিয়ে নিতে হবে’-এই কথা বড় সন্তানকে বারবার বলা হলে তার মনে অভিমান তৈরি হতে পারে। বয়সে বড় হওয়ায় দায়িত্ববোধ শেখানো অবশ্যই ভালো, কিন্তু প্রতিটি ঘটনায় বড় সন্তানকেই ছাড় দিতে বলা উচিত নয়।
দুই সন্তানকেই একে অন্যের অনুভূতি বোঝা, প্রয়োজন হলে ছাড় দেওয়া এবং নিজের ভুল স্বীকার করার শিক্ষা দিন।

ব্যক্তিগত জিনিসের প্রতি সম্মান শেখানো

ভাই-বোন কাছের মানুষ হলেও প্রত্যেকের নিজস্ব জগৎ থাকে। কারও বই, খেলনা, পোশাক বা ব্যক্তিগত জিনিস অনুমতি ছাড়া ব্যবহার না করার অভ্যাস তৈরি করুন। এতে ছোটবেলা থেকেই একে অন্যের ব্যক্তিগত সীমারেখা ও পছন্দকে সম্মান করার শিক্ষা হবে।

একজনের সাফল্যে অন্যজনকে আনন্দ শেখানো

একজন পরীক্ষায় ভালো ফল করলে বা কোনো প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেলে অন্য সন্তানকে ছোট করবেন না। বরং তাকে ভাই-বোনের সাফল্যে অভিনন্দন জানাতে উৎসাহ দিন। একই সঙ্গে সফল সন্তানকেও অহংকার না করে অন্যজনকে উৎসাহ দেওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। পরিবারে এমন পরিবেশ তৈরি করুন, যেখানে একজনের সাফল্য অন্যজনের কাছে হুমকি নয়, আনন্দের বিষয় হয়ে ওঠে।

ভুল থেকে শেখানো

এক সন্তানের ভুলের কথা অন্যজনের সামনে বলে অপমান করবেন না। প্রয়োজন হলে শাসন করুন, কিন্তু তাকে ‘দুষ্ট’ বা ‘খারাপ’ বলে পরিচয় দেবেন না। আচরণটি ভুল এই কথা বোঝানো, শিশুটিকে ভুলের সঙ্গে এক করে ফেলবেন না।

এছাড়া ঝগড়ার পর জোর করে ‘সরি বলো’ বলার বদলে কেন তার আচরণে ভাই বা বোন কষ্ট পেয়েছে, সেটি বুঝতে সাহায্য করুন। ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষমা করার অভ্যাস দুটিই শেখানো জরুরি।

মা-বাবাই হোন সবচেয়ে বড় উদাহরণ

শিশুরা শুধু মা-বাবার কথা শুনে শেখে না, তাদের আচরণও অনুসরণ করে। বাবা-মা যদি একে অন্যের কথা মন দিয়ে শোনেন, মতের অমিলেও সম্মান বজায় রাখেন এবং ভুল হলে ক্ষমা চান, সন্তানরাও ধীরে ধীরে সেই আচরণ শিখবে।

আরও পড়ুন

শিশুর মেধা বিকাশে ঘুমাতে যাওয়ার আগে করণীয়

ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়া হবেই। অভিমানও থাকবে, মতের অমিলও হবে। তাই সম্পর্ককে একেবারে ঝগড়ামুক্ত করার চেষ্টা না করে তাদের শেখাতে হবে কীভাবে মতের অমিলের মধ্যেও ভালোবাসা ও সম্মান বজায় রাখা যায়।

আরও পড়ুন

শিশুর লেখাপড়ার হাতেখড়িতে মায়ের করণীয়

মা-বাবার সচেতনতা, ধৈর্য আর সঠিক দিকনির্দেশনাই পারে শৈশবের ভাই-বোনের এই বন্ধনকে ভবিষ্যতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সম্পর্কগুলোর একটিতে পরিণত করতে।

সূত্র: ইউনিসেফ, রাইজিং চিল্ডেন নেটওয়ার্ক, ফার্স্ট ওয়েভ ফ্যামিলিস

এসএকেওয়াই

 

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

জাতীয়

View more
গাজীপুরে ৬ ঘণ্টার অবরোধ-সংঘর্ষের পর যান চলাচল স্বাভাবিক
গাজীপুরে ৬ ঘণ্টার অবরোধ-সংঘর্ষের পর যান চলাচল স্বাভাবিক

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।

D HASAN অক্টোবর ৩১, ২০২৬ 0
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা বিষয়ে পাকিস্তান ‘সতর্ক আশাবাদী’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা বিষয়ে পাকিস্তান ‘সতর্ক আশাবাদী’

অতিরিক্ত ডিআইজি জহির সাময়িক বরখাস্ত 

অতিরিক্ত ডিআইজি জহির সাময়িক বরখাস্ত 

৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন শেফালী

৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন শেফালী

২৫ কর্মকর্তাকে ‘দ্য রাইজিং স্ট্যান্ডার্ড’ সম্মাননা দিলো স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক
২৫ কর্মকর্তাকে ‘দ্য রাইজিং স্ট্যান্ডার্ড’ সম্মাননা দিলো স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক

কাজের মান উন্নয়ন এবং ব্যাংকের স্ট্যান্ডার্ডকে ক্রমাগত উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অসাধারণ কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ২৫ জন কর্মকর্তাকে ‘দ্য রাইজিং স্ট্যান্ডার্ড’ সম্মাননা দিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটি ১০০ দিনে ৩ হাজার কোটি টাকা আমানত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে।

D HASAN অক্টোবর ৩১, ২০২৬ 0
হত্যার পর এআই দিয়ে জীবিত দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায়, সেই শিক্ষার্থী পেল জিপিএ-৫

হত্যার পর এআই দিয়ে জীবিত দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায়, সেই শিক্ষার্থী পেল জিপিএ-৫

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে প্রয়োজনে ১ দফার ডাক: ডা. শফিকুর

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে প্রয়োজনে ১ দফার ডাক: ডা. শফিকুর

ইয়েমেনে নতুন যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৩ লাখ মানুষ

ইয়েমেনে নতুন যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৩ লাখ মানুষ

0 Comments