জাতীয়

‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পদোন্নতি করি, টাকা নিই—এটা কীভাবে সম্ভব’, প্রশ্ন আসিফ মাহমুদের

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পদোন্নতি করি, টাকা নিই—এটা কীভাবে সম্ভব’, প্রশ্ন আসিফ মাহমুদের
‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পদোন্নতি করি, টাকা নিই—এটা কীভাবে সম্ভব’, প্রশ্ন আসিফ মাহমুদের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অভিযোগ করে বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষকে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তথ্যসহ ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করলে এর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না। বরং বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংঘটিত একটি পদোন্নতির ঘটনায় তাঁকে জড়ানো হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসে থাকা অবস্থায় পদোন্নতি করি, টাকা নিই—এটা কীভাবে সম্ভব?’

‘অভিযোগ বনাম বাস্তবতা: এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদকে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রকৃত তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা থাকাকালে মন্ত্রণালয়ের পদায়ন-বদলিসংক্রান্ত ব্যাপারে দুদকের সাম্প্রতিক যেসব অভিযোগ এবং সংস্থাটির মুখপাত্রের যে বক্তব্য, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে একটি ‘প্রেজেন্টেশন’ দেওয়া হয়। এতে অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা, দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বাস্তবতা প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরা হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, একটি অভিযোগে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে অর্থ নেওয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে ১১২ জনের চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতেই এই দায়িত্ব বাতিল করা হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া হয়। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তাঁদের চলতি দায়িত্ব বাতিল করে মন্ত্রণালয়। ফলে সিদ্ধান্তটি ছিল আদালতের রায় বাস্তবায়নের অংশ। এটি তাঁর ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। অন্য অভিযোগে ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও পছন্দের স্থানে পদায়নের বিনিময়ে প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়ার প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। অভিযোগটি করা হয় ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল। তবে পদোন্নতির আদেশ হয় ১১ মে। তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়। ফলে এই পদোন্নতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার সুযোগ ছিল না।

আসিফ মাহমুদের প্রশ্ন, ওই পদোন্নতিতে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তখনকার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান না করে তাঁর বিরুদ্ধে কেন অনুসন্ধান করা হচ্ছে?

আসিফ মাহমুদ বলেন, দুদক অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করলে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর আগে অভিযোগের সময়কাল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়িত্বে থাকার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারত। সব কটি অভিযোগই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। এই অনুসন্ধান রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুদক কমিশন-সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুনভাবে কমিশন গঠন করা হয়েছে। সেই দুদক রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানো ও হয়রানি করার লক্ষ্যেই অনুসন্ধানটি শুরু করা হয়েছে।

আসিফ মাহমুদের অভিযোগের একটি অংশ দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্য ঘিরে। তাঁর ভাষ্য, দুদকের মুখপাত্র প্রথমে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ায় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। পরে সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওই বক্তব্য ভুলবশত বলা হয়েছে জানিয়ে তা ব্যবহার না করার অনুরোধ করা হয়। দুদকের মুখপাত্রের প্রথম বক্তব্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার খবর প্রচারিত হয়। কিন্তু পরে ওই বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি। এতে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি দুদকের অনুসন্ধানকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও রাজনৈতিকভাবে হয়রানির অংশ হিসেবে দেখছেন। অভিযোগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা যাচাই করতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, সিদ্ধান্তের তারিখ ও দায়িত্বে থাকার সময়কাল বিবেচনা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বিষয়ে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হন আসিফ মাহমুদ। তিনি শুরুতে ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পর থেকে তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। তখন থেকে তিনি এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মা হারিয়ে কাঁদছেন চিন্ময় প্রভু, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে ওমর সানির চাওয়া
মা হারিয়ে কাঁদছেন চিন্ময় প্রভু, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে ওমর সানির চাওয়া

মায়ের মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তাকে দেখতে এসে একজন মুসলিম ব্যক্তিকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন চিন্ময় প্রভু। আবেগঘন সেই মুহূর্তের ছবিটি অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। এবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি পোস্ট করেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানি। ছবিটি পোস্ট করে ওমর সানি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ,,, আমি এভাবেই দেখতে চাই।’ তার এই পোস্টের পর ছবিটি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা যায়, চিন্ময় প্রভুর মায়ের মৃত্যুর পর তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় মাকে শেষবারের মতো দেখতে এসে এক মুসলিম ব্যক্তিকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সেই মুহূর্তের ছবিই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটিতে ধর্মীয় পরিচয়ের বিভাজন ছাড়িয়ে একজন মানুষের প্রতি আরেকজন মানুষের সহমর্মিতা ও ভালোবাসার দৃশ্য ফুটে উঠেছে। এ কারণেই ছবিটি অনেকের নজর কাড়ে এবং অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি সেই ছবিটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও প্রকাশ করেছেন ওমর সানি। ছবির সঙ্গে দেওয়া তার ছোট্ট বার্তাটিও অনুসারীদের নজর কেড়েছে। পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে অনেকে সম্প্রীতি ও মানবিকতার এমন বার্তার প্রশংসা করেছেন। ধর্ম-বর্ণের বিভাজনের বাইরে মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা ও ভালোবাসার এমন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই আলোচনার জন্ম দেয়। ওমর সানির সাম্প্রতিক পোস্টেও সেই মানবিক বার্তাই উঠে এসেছে।   এলআইএ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
চাঁদপুর মাছঘাটে পচা ইলিশ বিক্রি, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

চাঁদপুর মাছঘাটে পচা ইলিশ বিক্রি, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

হঠাৎ বদলে যাচ্ছে সৌরজগতের একটি ছোট্ট বস্তুর রিং, রহস্য ধরল জেমস ওয়েব

হঠাৎ বদলে যাচ্ছে সৌরজগতের একটি ছোট্ট বস্তুর রিং, রহস্য ধরল জেমস ওয়েব

এ মাসেই মা হবেন অভিনেত্রী মৌসুমী, বেবি শাওয়ারে কারা এলেন

এ মাসেই মা হবেন অভিনেত্রী মৌসুমী, বেবি শাওয়ারে কারা এলেন

বিশ্বের শীর্ষ কূটনীতিক, অথচ বেতন যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীদের চেয়েও কম!
বিশ্বের শীর্ষ কূটনীতিক, অথচ বেতন যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীদের চেয়েও কম!

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদ জাতিসংঘের মহাসচিব। যুদ্ধ, সংঘাত, মানবিক সংকট ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এই পদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ তার বেতন যুক্তরাষ্ট্রের একজন মন্ত্রীর চেয়েও কম! প্রচলিত হিসাবে, বিশ্বের শীর্ষ কূটনীতিক (World's Top Diplomat) জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্ষিক বেতন প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার ২৫৩ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের নির্বাহী বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রিসভা পর্যায়ের পদগুলোর বেসিক বেতন ২ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ ডলার। আরও পড়ুন জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, এগিয়ে যিনি অর্থাৎ শুধু এই সংখ্যাগুলো তুলনা করলে জাতিসংঘ মহাসচিবের চেয়ে একজন মার্কিন মন্ত্রী বছরে প্রায় ২৫ হাজার ৮৪৭ ডলার বেশি পান। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ ডলার ১২২ টাকা ধরলে এর পরিমাণ প্রায় ৩১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। উল্লেখ্য যে, এখানে দুই পক্ষের বেতন কাঠামো এক নয়। তাই একে সরাসরি ‘হাতে পাওয়া বেতন’ হিসেবে তুলনা করা ঠিক হবে না। জাতিসংঘ মহাসচিবের কাজ কী? জাতিসংঘ সনদের ৯৭ নম্বর অনুচ্ছেদে মহাসচিবকে জাতিসংঘের ‘chief administrative officer’ বা প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলা হয়েছে। তিনি জাতিসংঘ সচিবালয়ের নেতৃত্ব দেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার প্রশাসনিক নেতৃত্ব তার হাতে। আরও পড়ুন ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত-স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদসহ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি ভূমিকা রাখেন। সনদের ৯৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মহাসচিবকে জাতিসংঘের কাজের ওপর সাধারণ পরিষদে প্রতিবছর প্রতিবেদন দিতে হয়। আর ৯৯ নম্বর অনুচ্ছেদে তাকে এমন কোনো বিষয় নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে,যা তার বিবেচনায় আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে মহাসচিবের কাজ শুধু জাতিসংঘের অফিস পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও মধ্যস্থতাও তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আরও পড়ুন দারিদ্র্য ব্যক্তিগত নয়, এটি ব্যবস্থাগত ব্যর্থতা: জাতিসংঘ মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রী কত বেতন পান? যুক্তরাষ্ট্রে ‘মন্ত্রী’ বলতে সাধারণত ফেডারেল সরকারের Cabinet Secretary-দের বোঝানো হয়। যেমন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও অন্যান্য দপ্তরের প্রধানরা। ২০২৬ সালের মার্কিন Office of Personnel Management-এর ঘোষণা অনুযায়ী, Level II-এর বার্ষিক বেসিক বেতন ২ লাখ ২৮ হাজার ডলার। আর Level I-এর বেতন ২ লাখ ৫৩ হাজার ১০০ ডলার। তবে সব Cabinet Secretary-কে একই Level-এ রাখা হয় কি না এবং কোন পদ কোন বেতনস্তরে পড়ে, তা পদভেদে বিবেচনা করতে হয়। তাহলে মহাসচিবের বেতন কম কেন? এর পেছনে রয়েছে জাতিসংঘের নিজস্ব বেতন কাঠামো। জাতিসংঘের বেতনব্যবস্থা জাতীয় সরকারের বেতন কাঠামোর মতো নয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক কর্মীদের জন্য আলাদা বেতন ও ভাতা কাঠামো রয়েছে। জাতিসংঘের পেশাদার ও উচ্চপর্যায়ের কর্মীদের বেতন নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিস কমিশনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরও পড়ুন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন খলিলুর রহমান এ ছাড়া বেতন বলতে শুধু মূল বেতন বোঝায় না। পদ, দায়িত্ব ও কর্মস্থল অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও সুবিধা থাকতে পারে। জাতিসংঘের নিয়মে আন্তর্জাতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া উচ্চপর্যায়ের কর্মীদের ক্ষেত্রে পোস্ট অ্যাডজাস্টমেন্টসহ বিভিন্ন সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে শুধু বার্ষিক মূল বেতন দেখে দুই পদের সম্পূর্ণ আর্থিক সুবিধা তুলনা করা বাস্তবে যথেষ্ট নয়। সূত্র: জাতিসংঘ, ওয়ানএইচআরকেএএ/

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
মেয়াদোত্তীর্ণ ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা

মেয়াদোত্তীর্ণ ইনসুলিন রাখায় ফার্মেসিকে জরিমানা

পল্লবীতে বস্তাবন্দির ভিডিও ‘অপহরণ নাটক’, চট্টগ্রাম থেকে নজরুল উদ্ধার

পল্লবীতে বস্তাবন্দির ভিডিও ‘অপহরণ নাটক’, চট্টগ্রাম থেকে নজরুল উদ্ধার

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪৫ জনের চাকরি

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪৫ জনের চাকরি

দুদকের তলবে হাজির হননি সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন, চাইলেন ৩০ দিনের সময়
দুদকের তলবে হাজির হননি সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন, চাইলেন ৩০ দিনের সময়

দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তলব করা হলেও তিনি আজ সোমবার হাজির হননি। তিনি কমিশনের কাছে ৩০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। আজ দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে শফিউদ্দিন আহমেদের হাজির হয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি ৩০ দিনের সময় চেয়েছেন। এখন আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে কমিশন।গত ৩০ আগস্ট সাবেক এই সেনাপ্রধানকে তলব করে দুদকের পরিচালক মো. আবুল হাসনাত চিঠি দেন। সেই চিঠিতে তাঁকে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়। একই সঙ্গে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি সঙ্গে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।তলবি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য শোনা এবং তা রেকর্ড করা ‘অপরিহার্য’।দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে পরিচালক মো. আবুল হাসনাতের নেতৃত্বে একটি দল কাজ করছে। গত বছর ১৪ ডিসেম্বর থেকে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়।সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন আহমেদকে দুদকে তলবজেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিন বছর সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালের ২৩ জুন অবসরে যান তিনি।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
দুদকের মামলায় রিজেন্টের চেয়ারম্যান সাহেদকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত

দুদকের মামলায় রিজেন্টের চেয়ারম্যান সাহেদকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত

হাওরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল কৃষকের

হাওরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল কৃষকের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা ১৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা ১৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

0 Comments