একসময় বিদেশে চাকরির জন্য দালালকে খুঁজতে হতো গ্রামের বাজারে, চায়ের দোকানে, বাজারের মোড়ে কিংবা পরিচিত কারও উঠানে। এখন তাকে খুঁজতে হয় না, সে নিজেই এসে হাজির হয় স্মার্টফোনের পর্দায়। তার অফিসের সাইনবোর্ড নেই, ট্রেড লাইসেন্স দেখা যায় না, কখনো হয়তো নিজের আসল নামটিও জানা যায় না। আছে একটি ফেসবুক পেজ, কয়েকটি চকচকে ছবি, বিদেশি পতাকা, ‘ফ্রি ভিসা’, ‘নিশ্চিত চাকরি’, ‘মাসে এক লাখ টাকা বেতন’—আর আছে একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর। বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসনের পুরোনো দালালি তাই বিলীন হয়নি, বরং প্রযুক্তির সঙ্গে তার নতুন রূপ হয়েছে।
এই পরিবর্তনকে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসনব্যবস্থার একটি গভীর দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। রাষ্ট্র এখনো অভিবাসনকে নিয়ন্ত্রণ করে মূলত কাগজপত্র, লাইসেন্স ও ভিসার মাধ্যমে, অথচ শ্রমিকের যাত্রা শুরু হচ্ছে এমন এক ডিজিটাল পরিসরে, যেখানে সেই নিয়ন্ত্রণের বড় অংশই অনুপস্থিত। ফলে দালাল ডিজিটাল হয়েছে, কিন্তু তাকে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা সেই গতিতে বদলায়নি।
প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ বিদেশে কাজের আশায় দেশ ছাড়েন। সরকারি হিসাবে প্রতিবছর শ্রমবাজারে প্রবেশ করা প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণের মধ্যে ৮ থেকে ৯ লাখ তরুণকে বিদেশে কর্মসংস্থানের পথ খুঁজতে হয়। তাঁদের অনেকের বিদেশযাত্রার অর্থ আসে জমি বিক্রি, গয়না বন্ধক বা উচ্চ সুদের ঋণ থেকে। বিদেশে যাওয়ার খরচ এত বেশি যে অনেক শ্রমিককে সঞ্চয় শেষ করতে বা বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হয়। এই একটি তথ্যই ডিজিটাল দালালির গুরুত্ব বোঝার জন্য যথেষ্ট। একজন মানুষের ফেসবুকের পর্দায় দেখা একটি ‘চাকরির বিজ্ঞাপন’ আসলে একটি পরিবারের বহু বছরের সঞ্চয়, সম্পদ ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিগত পাঁচ বছরে মালয়েশিয়ায় চাকরির নামে হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাঁদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়া হয়েছিল বিদেশে কারখানায় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে। পত্রপত্রিকার সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে মুন্সিগঞ্জ ও কুমিল্লার কয়েক শ অভিবাসনপ্রত্যাশীর কথা উঠে এসেছে, যাঁরা ফেসবুকের মাধ্যমে সৌদি আরবে ‘ফ্রি ভিসা’র চাকরির প্রলোভনে পড়ে জনপ্রতি প্রায় চার থেকে ছয় লাখ টাকা দিয়েছেন। বিজ্ঞাপনে ছিল নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের লোগো, নকল স্বাক্ষর এবং বিশ্বাসযোগ্য দেখানোর মতো নানা উপাদান। পরে অনেকেই জানতে পারেন, তাঁদের ভিসা আসলে কাজের অনুমতিই নয়।
ইউটিউবের চমকপ্রদ ভিডিও দেখিয়ে সহজে ইউরোপে যাওয়ার পথ বুঝিয়ে ইউরোপে যাওয়ার জন্য দালালদের নেটওয়ার্কে ফেসবুক, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের গ্রুপ ব্যবহার করে ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব, যোগাযোগ ও যাত্রার তথ্য দেওয়া হয়। মানব পাচারকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়; বিশেষ করে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পাঠানোর ক্ষেত্রেও ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ব্যবহারের কথা উঠে এসেছে বছর চারেক আগে প্রথম আলোর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।
কয়েক সপ্তাহ আগে প্রথম আলোর আরেকটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ায় যাওয়ার পর এক দালালের প্রতারণার শিকার হন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার যুবক কামরুল হাসান। পরে আরেক দালাল তাঁকে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা নেন। শেষ পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে তাঁকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয় বলে তাঁর পরিবারের অভিযোগ।
প্রযুক্তি প্রতারণাকে শুধু দ্রুত করেনি, তার পরিসর বদলে দিয়েছে। অতীতে গ্রামের দালালের ক্ষমতা ছিল সীমিত, সীমাবদ্ধতা ছিল তাঁর ভৌগোলিক পরিসর। তাঁকে চেনা যেত, তাঁর বাড়ি কোথায়, তা জানা যেত, তাঁর সঙ্গে কারা ওঠাবসা করেন, তা বোঝা যেত, তাঁর সামাজিক পরিচয় ছিল। ডিজিটাল দালালের কোনো ভৌগোলিক সীমা নেই।
একটি ফেসবুক পোস্ট কয়েক ঘণ্টায় হাজার মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শত শত চাকরিপ্রার্থী ঢুকতে পারেন। একই ভুয়া নিয়োগপত্র, একই বিদেশি কোম্পানির লোগো, একই ‘সফল প্রবাসী’র ছবি অসংখ্য মানুষের কাছে পাঠানো যায়। অর্থাৎ প্রতারণা এখন আর ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা এখন বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার মতো একটি কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়ায় একটি ব্যবসায়িক মডেলে পরিণত হয়েছে।
আরও বিপজ্জনক বিষয় হলো ডিজিটাল দালাল নিজেকে দালাল বলে পরিচয় দেয় না। সে ‘রিক্রুটমেন্ট কনসালট্যান্ট’, ‘ভিসা প্রসেসিং এক্সপার্ট’, ‘ওভারসিজ জব সলিউশন’ কিংবা কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ‘অফিশিয়াল প্রতিনিধি’ হতে পারের। তার ফেসবুক পেজে হাজার হাজার অনুসারী থাকতে পারে, ইউটিউবে ভিডিও থাকতে পারে। থাকতে পারে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের ছবি, ভিডিও, প্রশংসাপত্র এবং কৃত্রিম সাফল্যের গল্প। ফলে প্রতারণা ও বৈধ নিয়োগের পার্থক্যটি প্রযুক্তিগত নয়, জ্ঞানগত।
দালাল স্মার্ট হয়েছে, রাষ্ট্রকেও স্মার্ট হতে হবে। বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন যেন ফেসবুকের একটি পোস্টে শুরু হয়ে অকাল মৃত্যুতে কিংবা পরিবারের ঋণে শেষ না হয়—এটি শুধু শ্রমিকের সতর্কতার দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রের জবাবদিহির পরীক্ষা।
একজন অভিবাসনপ্রত্যাশী শ্রমিকের কাছে পার্থক্যটি ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে যায়। এখানে আমরা একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন এড়িয়ে যাই—একজন বিদেশগামী শ্রমিকের কাছ থেকে কি সত্যিই আশা করা যায় যে তিনি নিজেই বুঝবেন কোন নিয়োগকর্তা বৈধ, কোন ভিসা আসল, কোন ওয়েবসাইট সত্যি এবং কোন নিয়োগপত্র ভুয়া?
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিদেশযাত্রার অপেক্ষায় থাকা মানুষের বড় অংশের মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়নি এবং তাঁদের অধিকাংশই আনুষ্ঠানিকভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির বদলে আত্মীয়, স্থানীয় দালাল, সাব-এজেন্ট ও অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করেন। এগুলোকে নিখুঁত জাতীয় পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি বড় প্রবণতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায়, যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পুরোনো দালালি নেটওয়ার্কের সঙ্গে মিশে প্রতারণার নতুন নতুন রূপ ও ব্র্যান্ড তৈরি করছে।

বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসনের একটি মৌলিক দুর্বলতা হলো তথ্যের অসমতা। কয়েক বছর আগের এক গবেষণায় বাংলাদেশের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ‘তথ্যের অসমতা’, বেসরকারি ও অনানুষ্ঠানিক নিয়োগ খাতের ক্ষমতার আধিপত্য এবং ন্যায়বিচারে সীমিত প্রবেশাধিকারকে পরস্পর-সম্পর্কিত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে (তথ্যসূত্র: আইওএম, ২০২২)। ডিজিটাল দালাল এই তথ্যের অসমতাকেই পুঁজি করে।
অভিবাসনপ্রত্যাশী শ্রমিকের কাছে বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন থাকলেও চাকরি, নিয়োগদাতা, বেতন, কাজের শর্ত বা ভিসার বৈধতা যাচাইয়ের তথ্য ও অভিজ্ঞতা তাঁর সীমিত, বিপরীতে দালাল জানে কোন তথ্য, ভিডিও বা নথি দেখালে বিশ্বাস তৈরি হবে এবং কত টাকার প্রলোভনে শ্রমিক রাজি হতে পারেন। এই তথ্যের অসমতাই ডিজিটাল দালালের বড় শক্তি—প্রযুক্তি তথ্য পাওয়ার সুযোগ বাড়ালেও তথ্যের নিয়ন্ত্রণ একপক্ষের হাতে থাকলে তা নিরাপত্তার বদলে প্রতারণার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
তাই সমস্যাটি শুধু প্রযুক্তির নয়, ক্ষমতারও। আগে দালালকে একে একে শ্রমিকের কাছে যেতে হতো, এখন একটি ভুয়া বিজ্ঞাপন, সাজানো ভিডিও বা নকল নথি মুহূর্তে শত শত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। প্রযুক্তি নতুন করে প্রতারণার ক্ষমতা তৈরি করেনি, বরং পুরোনো ক্ষমতার বৈষম্যকে বহুগুণ বাড়িয়েছে। শ্রমিককে নিরাপদ রাখতে তাই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও তাঁর হাতে দিতে হবে।
ফেসবুকে যোগাযোগ, হোয়াটসঅ্যাপে দর-কষাকষি, মোবাইল আর্থিক সেবায় টাকা পাঠানো—বিদেশযাত্রার দালালি এখন অনেকটাই ডিজিটাল। কিন্তু প্রতারিত হলে দায় কার? চাকরির ফেসবুক পেজ বন্ধ হয়ে গেলে, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর বদলে গেলে কিংবা টাকা নেওয়ার পর মধ্যস্থতাকারী উধাও হলে প্রতারিত শ্রমিক যাবেন কোথায়? ‘অভিযোগ করুন’ গোছের দায়সারা কথা বলা সহজ, কিন্তু প্রমাণ রাখা কঠিন। কথোপকথন মুছে গেলে, টাকা পাঠানো নম্বর বন্ধ হয়ে গেলে বা পেজটি রাতারাতি উধাও হলে দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা কঠিন। রাষ্ট্র অবশ্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জোরদারের চেষ্টা করছে।
২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড মাইগ্র্যান্টস অ্যাক্ট-এ নিয়োগের সাব-এজেন্ট ও মধ্যস্থতাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের আচরণবিধিতেও সাব-এজেন্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রিক্রুটমেন্ট এজেন্টস ইনফরমেশন সিস্টেম (রেইমস)-এ দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ নিয়োগব্যবস্থাকে নিয়ম ও নিবন্ধনের আওতায় আনার চেষ্টা রয়েছে।
কিন্তু আইন যতটা এগিয়েছে, ডিজিটাল বাস্তবতা তার চেয়ে দ্রুত বদলেছে। লাইসেন্স থাকা আর ডিজিটালভাবে জবাবদিহিমূলক হওয়া এক নয়। তাই এজেন্সি থেকে সাব-এজেন্ট, ফেসবুক পেজ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং বিজ্ঞাপন থেকে টাকা লেনদেন—পুরো চেইনকেই নজরদারিতে আনতে হবে।
বাংলাদেশের অভিবাসনব্যবস্থায় অতিরিক্ত নিয়োগ ব্যয় পুরোনো সংকট হলেও ডিজিটাল দালালি তা কমানোর বদলে ‘রেজিস্ট্রেশন’, ‘ভিসা প্রসেসিং’ বা ‘ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন’-এর মতো নানা নামে টাকা নেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি করছে। ২০২৫ সালের এডিবিআই, ওইসিডি ও আইএলওর যৌথ বিশ্লেষণেও বাংলাদেশি শ্রমিকদের তুলনামূলক বেশি নিয়োগ ব্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
আইওএমের সাম্প্রতিক সতর্কতা ও তথ্য বলছে, অনলাইনের ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন শুধু অর্থ আত্মসাতের ফাঁদ নয়, কখনো তা মানুষকে পাচার ও জোরপূর্বক অপরাধে ব্যবহারের প্রথম দরজা হয়ে উঠছে।
বিদেশযাত্রায় অনলাইন প্রতারণা তথা ডিজিটাল দালালের ফাঁদ ঠেকাতে কয়েকটি পদক্ষেপ অতি জরুরি। প্রথমত, সরকারকে ‘লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সি’ থেকে ‘যাচাইযোগ্য ডিজিটাল নিয়োগব্যবস্থা’র দিকে যেতে হবে। প্রতিটি বিদেশি চাকরির বিজ্ঞাপনের জন্য একটি ইউনিক সরকারি আইডি থাকা উচিত। সেই আইডি ছাড়া কোনো বিজ্ঞাপন বৈধ নয়। শ্রমিক ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপন দেখলে সরকারি একটি প্ল্যাটফর্মে গিয়ে কয়েক সেকেন্ডে জানতে পারবেন চাকরিটি সত্যি কি না, নিয়োগকর্তা কে, বেতন কত, ভিসার ধরন কী, মোট খরচ কত এবং কোন এজেন্সি দায়ী।
দ্বিতীয়ত, শুধু শ্রমিককে ‘সচেতন’ করার পুরোনো পদ্ধতি যথেষ্ট নয়। যে রাষ্ট্র শ্রমিকের কাছ থেকে পাসপোর্ট, মেডিক্যাল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও ভিসার কাগজ চায়, সেই রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব শ্রমিককে প্রতারণামুক্ত তথ্য দেওয়া। সব দায় শ্রমিকের ডিজিটাল সাক্ষরতার ওপর চাপিয়ে দেওয়া আসলে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক ব্যর্থতাকে আড়াল করা।
তৃতীয়ত, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোরও দায় আছে।
বাংলাদেশে বিদেশি চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা সংগ্রহকারী অ্যাকাউন্ট বা পেজ শনাক্ত ও রিপোর্ট করার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের কার্যকর সমন্বয় দরকার। শুধু প্রতারণার শিকার হওয়ার পর অভিযোগ গ্রহণ করলে হবে না, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন ছড়ানোর আগেই তা শনাক্ত করার ব্যবস্থা দরকার।
আমাদের ভাষাটাও বদলাতে হবে। আমরা প্রায়ই বলি, ‘দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।’ এই ভাষা সাবধানে ব্যবহার করা দরকার। কারণ, একজন শ্রমিক প্রতারণা খুঁজতে বিদেশে যেতে চান না। তিনি একটি চাকরি খুঁজতে চান। দালাল তাই শুধু একজন ব্যক্তি নয়, দালাল একটি ব্যবস্থার ফাঁক। আগে সেই ফাঁক ছিল গ্রামের বাজারে। এখন সেটি ফেসবুকের নিউজফিডে। আগে দালালের হাতে ছিল একটি মুঠোফোন, এখন তার হাতে আছে অ্যালগরিদম, হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানোর ক্ষমতা এবং কয়েক মিনিটে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার সুবিধা।
সবশেষে, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ডিজিটালভাবে অভিবাসনব্যবস্থা আধুনিক করার পথে এগিয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তি যদি শুধু দালালের নাগাল বাড়ায়, আর শ্রমিকের নিরাপত্তা না বাড়ায়, তবে সেটি আধুনিকায়ন নয়, পুরোনো শোষণের নতুন অবকাঠামো। ফেসবুকে একটি চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে একজন তরুণ যখন বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁর হাতে থাকে একটি স্মার্টফোন। কিন্তু তাঁর পেছনে থাকে একটি পরিবার, একটি ঋণ এবং একটি ভবিষ্যৎ। সেই ভবিষ্যৎ রক্ষার দায়িত্ব শুধু তাঁর একার নয়।
দালাল স্মার্ট হয়েছে, রাষ্ট্রকেও স্মার্ট হতে হবে। বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন যেন ফেসবুকের একটি পোস্টে শুরু হয়ে অকাল মৃত্যুতে কিংবা পরিবারের ঋণে শেষ না হয়—এটি শুধু শ্রমিকের সতর্কতার দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রের জবাবদিহির পরীক্ষা।
ড. সেলিম রেজা সহযোগী অধ্যাপক ও সমন্বয়ক, সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
* মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানির প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুটি করে মোট ১৮টি কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। প্রয়োজন হলে দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এর অতিরিক্ত কার্গো এলএনজিও আমদানি করা যাবে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এ প্রস্তাব উত্থাপন করে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। স্থানীয় সরকার বিভাগ এ প্রস্তাব উত্থাপন করে। এমএএস/এমএএইচ/
জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় উন্নত তথ্য ও বিশ্লেষণভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবস্থা সংযোজনের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে অগ্রিম যাত্রী তথ্য, যাত্রী নামের নথি, ই-ভিসা, ই-ভ্রমণ অনুমোদন এবং সার্বভৌম তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা সংযোজনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা সংযোজনের লক্ষ্যে ভিন্ন ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরাসরি চুক্তি সম্পাদনের জন্য সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮(২) ধারার আওতায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রস্তাব উত্থাপন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এমএএস/এমএএইচ/
১২৬ বলে ১৫০ রান। ১৭টি চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা।উইন্ডহুকে আজ নামিবিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ইনিংসটা যিনি খেলেছেন, তাঁর নাম জর্ডান হারমান।ওয়ানডে ইতিহাসে এর চেয়ে বড় ইনিংস অগুনতি। কিন্তু এই ইনিংস দিয়ে ২৪ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার হারমান ঢুকে গেলেন ইতিহাসের পাতায়। ওয়ানডেতে যে আজই অভিষেক হলো হারমানের! আর তাতেই হারমান ছুঁয়ে ফেললেন ওয়ানডে অভিষেকের সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড!মজার ব্যাপার হলো, এই রেকর্ডের ভাগীদার অন্য কেউ নন, তাঁরই সতীর্থ ম্যাথু ব্রিটজকে। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে ১৪৮ বলে ঠিক ১৫০ রানের এক ইনিংস খেলে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন ব্রিটজকে।জর্ডান হারমানটস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য খুব ঝোড়ো ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার। সপ্তম ওভারেই হারায় ইস্টারহুইজেনকে। এরপর হারমান আর ডি জর্জি মিলে নামিবিয়ার বোলিং ধ্বংস করে দেন। দুজনে মিলে যোগ করেন ১৬৬ বলে ১৯০ রান। হারমান সেঞ্চুরি করেন ৯৩ বলে। দলকে ২১৭ রানে রেখে ডি জর্জি (৮৪ বলে ৭২ রান) ফিরলেও হারমানের ব্যাট থামেনি। ডেভাল্ড ব্রেভিসকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৫৯ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত আউট হন ১২৬ বলে ১৫০ রান করে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে হারমানের এটি পঞ্চম সেঞ্চুরি। এ প্রতিবেদন লেখার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ হয়ে গেছে, ৫০ ওভারে তারা তুলেছে ৬ উইকেটে ৩৪৮ রান।কাউন্টিতে নতুন গল্প লিখছেন হাসান–খালেদব্রিটজকের আগে এই রেকর্ডের চূড়ায় ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ডেসমন্ড হেইন্স। ১৯৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অ্যান্টিগা রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে ১৩৬ বলে ১৪৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটসম্যান।হেইন্সের সেই কীর্তি অক্ষত ছিল প্রায় সাড়ে চার দশক। ব্রিটজকের রেকর্ডে ভাগ বসল দেড় বছরেই।কেন্টে হাসানের সাফল্যের রহস্য কী