জাতীয়

বেলুচিস্তানের শান্ত এলাকাও এখন রণক্ষেত্র, চাপে পাকিস্তান সরকার

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
বেলুচিস্তানের শান্ত এলাকাও এখন রণক্ষেত্র, চাপে পাকিস্তান সরকার
বেলুচিস্তানের শান্ত এলাকাও এখন রণক্ষেত্র, চাপে পাকিস্তান সরকার

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে নতুন করে ছড়াচ্ছে সহিংসতা। এখন হামলার কেন্দ্র হয়ে উঠছে প্রদেশটির পশতুন-অধ্যুষিত জেলাগুলো।

দুই দশক ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সশস্ত্র বিদ্রোহে জর্জরিত বেলুচিস্তানের কিছু পশতুন এলাকা এতদিন তুলনামূলকভাবে সংঘাতের বাইরে ছিল। তবে চলতি বছরের জুন থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ৩০

গত কয়েক মাসে এসব এলাকায় পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপি এবং বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর হামলা বেড়েছে।

সীমান্ত এলাকায় নতুন হামলা

গত ১ সেপ্টেম্বর বেলুচিস্তানের পশতুন-অধ্যুষিত পিশিন জেলায় জিয়ারাত ক্রস এলাকায় একটি কাস্টমস স্থাপনায় হামলা হয়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, টিটিপির চালানো ওই হামলা তারা প্রতিহত করেছে।

এ ঘটনায় কয়েকজন হামলাকারী নিহত হন। নিহত হন নিরাপত্তা বাহিনী ও কাস্টমসের ছয় সদস্যও।

এর তিনদিন পর কোয়েটার উপকণ্ঠে শাবান এলাকায় আরেক অভিযানে ২৬ জন টিটিপি সদস্যকে হত্যার দাবি করে নিরাপত্তা বাহিনী।

এর মধ্যেই ৩ সেপ্টেম্বর জিয়ারাত থেকে ফেরার পথে একটি আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে হামলা হয়। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ওই হামলায় এক ডজনের বেশি আধাসামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন

পাকিস্তানে ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ ১৮ সেনাসদস্য নিহত

বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

বেলুচিস্তান এখন সবচেয়ে সহিংস প্রদেশ

পাকিস্তানের বিভিন্ন সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, চলতি বছর বেলুচিস্তান সহিংসতার দিক থেকে পার্শ্ববর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়াকে ছাড়িয়ে গেছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিকস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বেশিরভাগ সময় বেলুচিস্তানই ছিল দেশটির সবচেয়ে বেশি সহিংসতাপ্রবণ প্রদেশ।

জুলাইয়ে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। পিকস ওই মাসকে ২০২৬ সালে দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হিসেবে উল্লেখ করেছে। শুধু জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বেলুচিস্তানে ২৫টি হামলায় ১০২ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে টিটিপির কর্মকাণ্ড বাড়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বেলুচিস্তানে ৩ সপ্তাহের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করলো পাকিস্তান সরকার

আগস্টে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১১৫ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে পিকস। একই সময়ে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় নিহত হন ৫৬ জন। একীভূত উপজাতীয় জেলাগুলোতে নিহত হন ৩২ জন।

জুনের আগে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন

গত জুনের আগে বেলুচিস্তানের ১১টি পশতুন-অধ্যুষিত জেলা প্রায় পুরোপুরি বড় ধরনের সশস্ত্র হামলা থেকে মুক্ত ছিল।

জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ঝোব, শেরানি, কিলা সাইফুল্লাহ, লোরালাই, মুসাখাইল, দুকি, বারখান, পিশিন, কিলা আবদুল্লাহ, জিয়ারাত ও হারনাইয়ে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা নথিভুক্ত হয়নি।

কিন্তু জুনে সেই চিত্র বদলে যায়। ১০ জুন মোটরসাইকেলে থাকা বন্দুকধারীরা চারটি জেলায় পুলিশ স্থাপনায় হামলা চালায়।

এরপর থেকে পশতুন-অধ্যুষিত এসব এলাকায় কমপক্ষে ১৩টি সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। জুলাইয়ে জিয়ারাতের কাছে একটি বাঁধ প্রকল্প পাহারায় থাকা ২৭ পুলিশ সদস্য নিহত হন।

এসব হামলার কোনোটি বিএলএ, আবার কোনোটি টিটিপি বা অন্যান্য বেলুচ গোষ্ঠী দাবি করেছে।

আরও পড়ুন

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে আরও ২২ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত

পুলিশ সদস্যদের হত্যার ঘটনায় কোয়েটায় নিহতদের পরিবার ও পশতুন জাতীয়তাবাদী দলগুলো তিনদিনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তাদের অভিযোগ ছিল, আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের যথাসময়ে অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানো হয়নি।

টিটিপি-বিএলএর যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন

বেলুচিস্তান নিয়ে কাজ করা নীতিবিশ্লেষক রাফিউল্লাহ কাকার এই পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ ও তুলনামূলকভাবে নতুন ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

তার মতে, বিএলএর প্রচলিত কর্মকাণ্ডের এলাকার বাইরে হামলা চালানোর সক্ষমতা ও আগ্রহ তাদের ভৌগোলিক বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর পাশাপাশি টিটিপি ও বিএলএর মধ্যে কোনো ধরনের কৌশলগত সমন্বয় বা সহযোগিতা আছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইফতিখার ফিরদৌস দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সরাসরি সহযোগিতার বিষয়ে সতর্ক। তার মতে, টিটিপি ২০১৯ সাল থেকেই বেলুচিস্তানে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

টিটিপির প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদও বেলুচ সশস্ত্র যোদ্ধাদের সঙ্গে জোট গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

আরও পড়ুন

বেলুচিস্তানে বাস থামিয়ে ৯ যাত্রীকে অপহরণের পর হত্যা

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বেলুচিস্তানের উত্তরাঞ্চলের মহাসড়ক এন-৫০। এই সড়ক ঝোব ও জিয়ারাতকে কোয়েটার মাধ্যমে খাইবার পাখতুনখাওয়ার দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানই টিটিপির ঐতিহাসিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

বাণিজ্যপথও এখন ঝুঁকিতে

বেলুচিস্তানের সাম্প্রতিক সহিংসতার আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে। ইরান সীমান্তের তাফতান থেকে কোয়েটা পর্যন্ত এন-৪০ মহাসড়ক এবং কোয়েটা থেকে করাচি পর্যন্ত এন-২৫ মহাসড়ক দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রায় চার মাস ধরে সড়ক দুটির স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে।

বেলুচিস্তান গুডস ট্রাকস ওনার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী সদস্য হাজি আমিন সুমালানি বলেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে চালকেরা এসব পথে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

তার দাবি, এই সময়ে ১০০টির বেশি পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে কয়েক কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে। দুই চালকও নিহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

পাকিস্তানে দফায় দফায় হামলা, ১০ নিরাপত্তাকর্মীসহ নিহত ৯৮

কোয়েটা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মুহাম্মদ আইয়ুব মিরইয়ানি বলেন, চেম্বারের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।

কেন বাড়ছে হামলা

বিশ্লেষকদের মতে, বেলুচিস্তানের পশতুন এলাকাগুলোতে হামলা বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে।

কোয়েটাভিত্তিক গবেষক ইমতিয়াজ বেলুচের মতে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের প্রচলিত ঘাঁটির বাইরে অভিযান ছড়িয়ে দিতে চাইছে। বিশেষ করে যেসব পরিবহনপথের সামরিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে, সেগুলোকে তারা লক্ষ্যবস্তু করছে।

উত্তর বেলুচিস্তানের মহাসড়কগুলো প্রদেশের অন্য অনেক সড়কের তুলনায় এতদিন সচল ছিল। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য সেটিই এখন এই অঞ্চলকে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে বলে মনে করছেন তিনি।

আরেক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রহিম নাসার বলেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বড় অভিযান চালানোর পর অনেক যোদ্ধা বেলুচিস্তানে চলে আসে। এপ্রিলের পর তাদের কর্মকাণ্ড আবার বাড়তে শুরু করে। জুনে এসে হামলার মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

তবে টিটিপি ও বিএলএর মধ্যে সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন তিনি। তার মতে, যে গোষ্ঠী কোনো এলাকায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে, সেখানেই হামলা চালাচ্ছে।

বাড়তে পারে স্থানীয় ক্ষোভ

বিশ্লেষকেরা বলছেন, শুধু সামরিক পদক্ষেপ দিয়ে এই পরিস্থিতির সমাধান কঠিন হতে পারে।

বেলুচিস্তানের পশতুন অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে আগেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ রয়েছে। সীমান্ত বন্ধ এবং সীমান্তনির্ভর জীবিকার ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়েও এসব এলাকায় প্রতিবাদ হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হলে স্থানীয় জনগণের অসন্তোষও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেলুচিস্তানে তাই সহিংসতার নতুন বিস্তার পাকিস্তান সরকারের জন্য শুধু নিরাপত্তা নয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
এলএনজি আমদানি ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন
এলএনজি আমদানি ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন

জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানির প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুটি করে মোট ১৮টি কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। প্রয়োজন হলে দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এর অতিরিক্ত কার্গো এলএনজিও আমদানি করা যাবে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এ প্রস্তাব উত্থাপন করে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। স্থানীয় সরকার বিভাগ এ প্রস্তাব উত্থাপন করে। এমএএস/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিল্পীদের মানববন্ধন

বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিল্পীদের মানববন্ধন

বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের বাংলাদেশের কবি ও কবিতা

বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের বাংলাদেশের কবি ও কবিতা

নকলায় পাখি শিকারের সরঞ্জামসহ ১০ বক উদ্ধার

নকলায় পাখি শিকারের সরঞ্জামসহ ১০ বক উদ্ধার

ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে উন্নত তথ্য ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা
ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে উন্নত তথ্য ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা

জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় উন্নত তথ্য ও বিশ্লেষণভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবস্থা সংযোজনের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে অগ্রিম যাত্রী তথ্য, যাত্রী নামের নথি, ই-ভিসা, ই-ভ্রমণ অনুমোদন এবং সার্বভৌম তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা সংযোজনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা সংযোজনের লক্ষ্যে ভিন্ন ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরাসরি চুক্তি সম্পাদনের জন্য সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮(২) ধারার আওতায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রস্তাব উত্থাপন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এমএএস/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
কথার আঘাতও আত্মহত্যার কারণ হতে পারে, দরকার সহনশীলতা

কথার আঘাতও আত্মহত্যার কারণ হতে পারে, দরকার সহনশীলতা

ক্যাফেতে অসামাজিক কার্যকলাপ, ৪ তরুণ-তরুণীসহ আটক ৫

ক্যাফেতে অসামাজিক কার্যকলাপ, ৪ তরুণ-তরুণীসহ আটক ৫

সিলেটে শিকল বেঁধে তরুণীকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল

সিলেটে শিকল বেঁধে তরুণীকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল

ওয়ানডে অভিষেকেই ১৫০ রান, বিশ্ব রেকর্ড ছুঁলেন হারমান
ওয়ানডে অভিষেকেই ১৫০ রান, বিশ্ব রেকর্ড ছুঁলেন হারমান

১২৬ বলে ১৫০ রান। ১৭টি চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা।উইন্ডহুকে আজ নামিবিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ইনিংসটা যিনি খেলেছেন, তাঁর নাম জর্ডান হারমান।ওয়ানডে ইতিহাসে এর চেয়ে বড় ইনিংস অগুনতি। কিন্তু এই ইনিংস দিয়ে ২৪ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার হারমান ঢুকে গেলেন ইতিহাসের পাতায়। ওয়ানডেতে যে আজই অভিষেক হলো হারমানের! আর তাতেই হারমান ছুঁয়ে ফেললেন ওয়ানডে অভিষেকের সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড!মজার ব্যাপার হলো, এই রেকর্ডের ভাগীদার অন্য কেউ নন, তাঁরই সতীর্থ ম্যাথু ব্রিটজকে। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে ১৪৮ বলে ঠিক ১৫০ রানের এক ইনিংস খেলে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন ব্রিটজকে।জর্ডান হারমানটস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য খুব ঝোড়ো ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার। সপ্তম ওভারেই হারায় ইস্টারহুইজেনকে। এরপর হারমান আর ডি জর্জি মিলে নামিবিয়ার বোলিং ধ্বংস করে দেন। দুজনে মিলে যোগ করেন ১৬৬ বলে ১৯০ রান। হারমান সেঞ্চুরি করেন ৯৩ বলে। দলকে ২১৭ রানে রেখে ডি জর্জি (৮৪ বলে ৭২ রান) ফিরলেও হারমানের ব্যাট থামেনি। ডেভাল্ড ব্রেভিসকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৫৯ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত আউট হন ১২৬ বলে ১৫০ রান করে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে হারমানের এটি পঞ্চম সেঞ্চুরি। এ প্রতিবেদন লেখার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ হয়ে গেছে, ৫০ ওভারে তারা তুলেছে ৬ উইকেটে ৩৪৮ রান।কাউন্টিতে নতুন গল্প লিখছেন হাসান–খালেদব্রিটজকের আগে এই রেকর্ডের চূড়ায় ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ডেসমন্ড হেইন্স। ১৯৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অ্যান্টিগা রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে ১৩৬ বলে ১৪৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটসম্যান।হেইন্সের সেই কীর্তি অক্ষত ছিল প্রায় সাড়ে চার দশক। ব্রিটজকের রেকর্ডে ভাগ বসল দেড় বছরেই।কেন্টে হাসানের সাফল্যের রহস্য কী

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
টাইগারদের সামনে ঠাসা সূচি, পেসারদের নিয়েই যত দুশ্চিন্তা

টাইগারদের সামনে ঠাসা সূচি, পেসারদের নিয়েই যত দুশ্চিন্তা

রহস্য বাড়াচ্ছে ১৭ কোটি টাকার আংটি, গোপনে সেরেছেন বিয়ে

রহস্য বাড়াচ্ছে ১৭ কোটি টাকার আংটি, গোপনে সেরেছেন বিয়ে

আধুনিকায়ন করা হবে বেনাপোল স্থলবন্দর, ২৭৭ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন

আধুনিকায়ন করা হবে বেনাপোল স্থলবন্দর, ২৭৭ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন

0 Comments