১২ মাসে ২৪ সংস্কারের অঙ্গীকার করে নির্বাচনে জিতেছিল ছাত্রশিবির-সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট। মেয়াদের শেষে এসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা।
গত ২৩ আগস্ট দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিট। অগ্রণী ব্যাংকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় দীর্ঘ সারি শিক্ষার্থীদের। বিভিন্ন ফি জমা দিচ্ছিলেন তাঁরা। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে তাঁদের শরীর বেয়ে ঝরছিল ঘাম। সেখানে কথা হয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে তাঁর সময় লাগল দুই দিন।
‘কাগজপত্র নিয়ে হল, ব্যাংক, বিভাগে কয়েক দফা যাতায়াত করতে হয়। হল প্রাধ্যক্ষের একটা স্বাক্ষরের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা লাগে। দাপ্তরিক নানা কাজ শেষ করে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হলো। এত যে ভোগান্তি, দেখার যেন কেউ নেই’—আক্ষেপ আমিনুল ইসলামের।
এই ভোগান্তি নতুন নয়। বিভিন্ন সময় ভর্তি ফি জমা, ফরম পূরণসহ যাবতীয় কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের দাবি উঠলেও তা মুখে মুখেই রয়ে গেছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচন। এর আগে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ বিষয়টি সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু রাকসুর মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে ২৬ অক্টোবর। শেষ পর্যায়ে এসেও সমাধান হলো না।
চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের ঘোষিত ইশতেহারে আকৃষ্ট হয়েছিলেন অনেক শিক্ষার্থী। মেয়াদের ১২ মাসে ২৪টি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই।
‘১২ মাসে ২৪ সংস্কার’—এমন স্লোগান সামনে রেখে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল। ২৩টি পদের মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি), সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২০টিতে জয়লাভ করে প্যানেলটি।
চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের ঘোষিত ইশতেহারে আকৃষ্ট হয়েছিলেন অনেক শিক্ষার্থী। মেয়াদের ১২ মাসে ২৪টি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই।
► ভর্তি ও ফরম পূরণ কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাল হয়নি। ► আবাসন, খাবার, চিকিৎসা ও ইন্টারনেট সমস্যা আগের মতোই। ► লিগ্যাল ডেস্ক, হেল্পলাইন ও নিরাপত্তা সেল চালু হয়নি। ► সবচেয়ে বেশি বিতর্কে জড়িয়েছেন আম্মার।
শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা বলছেন, রাকসুর প্রতিনিধিরা ইশতেহার বাস্তবায়নে মনোযোগী না হয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণায় অংশগ্রহণ, আওয়ামীপন্থী ডিনদের পদত্যাগে বাধ্য করানো, গণমাধ্যম বন্ধের হুঁশিয়ারি, শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধ করার হুঁশিয়ারি, তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় পেটানোর মতো ঘটনায় সক্রিয় হয়ে বিতর্কিত হন তাঁরা।
ইশতেহার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৪ দফার মধ্যে কিছু কাজ হয়েছে, কিছু কাজ চলমান। আবার অনেক কাজ শুরুই হয়নি। রাকসুর নেতাদের দাবি, ইশতেহারের ৬৭ শতাংশ কাজ তাঁরা বাস্তবায়ন করেছেন। ৩৩ শতাংশ কাজ শুরু হয়নি।
বছরজুড়ে নানা ঘটনায় গণমাধ্যমে ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রাকসু। বিতর্কিত মন্তব্য, হুমকি, শিক্ষার্থী পেটানো, ডিনদের পদত্যাগে বাধ্য করা ইত্যাদি ঘটনায় বেশির ভাগ সময় আলোচনা–সমালোচনায় ছিল রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের কর্মকাণ্ড।
ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেলের ২৪ দফা ইশতেহারের প্রথম দফা ছিল ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন’। এতে ছিল জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা, জুলাই জাদুঘর স্থাপন, ১৬ জুলাই ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা’, সব ধরনের নিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ এবং রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করা। এই পাঁচটি অঙ্গীকারের একটিও বাস্তবায়িত হয়নি।
ইশতেহারের দুই নম্বরে ছিল ‘মানসম্মত খাবারের নিশ্চয়তা’। হলের খাবারের মানোন্নয়ন ও বৈচিত্র্য আনার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে ক্যাম্পাসে ও হলের ডাইনিং পরিদর্শন ছাড়া এ ব্যাপারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। খাবারের মান ও পরিবেশ আগের মতোই আছে। হলের আবাসনব্যবস্থার রোডম্যাপ প্রণয়ন, অন–ক্যাম্পাস জব চালু, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আবাসন ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও থাকলেও বাস্তবায়িত হয়নি।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বারোপের বিষয়ে বেশ কিছু অঙ্গীকার ছিল প্যানেলটির। এর মধ্যে স্নাতকোত্তরের থিসিস শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রণোদনা বাস্তবায়িত হয়েছে। এ ছাড়া রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য নিয়মিত কর্মশালার আয়োজনসহ এ–সংক্রান্ত অন্যান্য প্রতিশ্রুতির কিছু কাজ হলেও পুরোপুরি পূরণ হয়নি।
এ ছাড়া এআই টুলস, জার্নাল, মাইক্রোসফট ৩৬৫ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা সাবস্ক্রিপশন ফ্রি করার উদ্যোগ গ্রহণের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। লাইব্রেরি ও সেমিনার লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বই যুক্ত করা এবং ডিজিটাল অ্যাকসেসের ব্যবস্থা হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ৩০০ চেয়ার যুক্ত করা হয়েছে এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র বসানো হলেও তা চালু হয়নি। তবে লাইব্রেরি প্রশাসন দাবি করেছে, এসি স্থাপনে রাকসুর ভূমিকা নেই।
শিবির–সমর্থিত প্যানেলের ৬ নম্বর ইশতেহারে ছিল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা; এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কানেকটিভিটি নিশ্চিত করা; বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণায় যৌথ সমন্বয়ের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা করা এবং আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে টিচার্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের ব্যবস্থা রাখা। এসব ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে আইনি সহায়তার জন্য একটি লিগ্যাল ডেস্ক চালুর কথা থাকলেও হয়নি। তবে হল উন্নয়নের নামে ৫০ টাকা আবশ্যিক ফি বাতিল হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রকে ২০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যালে রূপান্তর, পর্যাপ্ত টেস্ট মেশিনারিজ ও ল্যাব চালুর কথা থাকলেও কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট–সেবা চালুর অঙ্গীকার করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। রাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উচ্চগতির ইন্টারনেট–সেবা চালু করতে জরিপ করা হয়েছে। এরপর হিট প্রজেক্টের আওতায় ১৩ কোটি টাকার বেশি অর্থ অনুমোদন দিয়েছে ইউজিসি। শিগগিরই কাজ শুরু হবে।
এ ছাড়া নিরাপদ ক্যাম্পাস, পরিবহনব্যবস্থা সহজীকরণ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু, বুলিং ও যৌন হয়রানি রোধে নিরাপত্তা সেল গঠন এবং ছাত্রী হল এলাকায় সুপারশপ চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় র্যাম্প, লিফট, ব্রেইল বই, অডিও বুক, ই-লার্নিং, শ্রুতলেখকের বিষয়গুলো কাগজেই থেকে গেল।

গত ১০ মাসে ইশতেহারের ৬৭ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে দাবি করে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দেড় মাস বাজেট-সংক্রান্ত নানা জটিলতায় কোনো কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারে বেশ কিছু বিষয় আছে, যেগুলোতে আমরা হাত দিতে পারিনি। কিছু কিছু ইশতেহার রয়েছে, যেগুলো আসলে এক বছরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের অনেক কাজ চলমান। আশা করছি, নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সেগুলো দৃশ্যমান হবে।’

বছরজুড়ে নানা ঘটনায় গণমাধ্যমে ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রাকসু। বিতর্কিত মন্তব্য, হুমকি, শিক্ষার্থী পেটানো, ডিনদের পদত্যাগে বাধ্য করা ইত্যাদি ঘটনায় বেশির ভাগ সময় আলোচনা–সমালোচনায় ছিল রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের কর্মকাণ্ড।
গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের পক্ষে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান।
একই মাসে শরিফ ওসমান হাদি নিহত হওয়ার পর ‘অপারেশন জিরো টলারেন্স ফর ফ্যাসিজম’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সালাহউদ্দিন আম্মার। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আওয়ামীপন্থী ছয় ডিনকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়ে তাঁদের হুমকি দেন ও অশোভন মন্তব্য করেন তিনি। পরে ডিনদের পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসন ভবনের সব কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হলে তাঁরা দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানান। পরদিন প্রশাসন ডিনদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান জানান সালাহউদ্দিন আম্মার। ৫ মে নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি লিখেন, ‘কুকুর বিড়াল মেরোনা, নাস্তিক পেলে ছেড়োনা। লীগ পেলে ছেড়ো না।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে তিনি পোস্টটি সরিয়ে দেন। একই মাসে ডাকসুর এক নারী প্রতিনিধিকে নিয়ে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য করেন।
২৭ জুন শহীদজননী জাহানারা ইমাম সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করেন রাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক জায়িদ হাসান।
২৮ জুলাই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় পিটিয়ে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন আম্মারসহ রাকসু ও শিবিরের নেতারা। এ ঘটনায় ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের প্রতি মায়াকান্না দেখানোর কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। এর প্রতিবাদে রাকসুর সব কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকেরা।
বির্তকিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আম্মার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারা ফ্যাসিজম ছড়াচ্ছে, কারা ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে এসব বিষয়ে তৎপর থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অভ্যুত্থানকে বাঁচিয়ে রাখতে যা যা কাজ করা প্রয়োজন, সেটা তো কাজের মধ্যেই পড়ছে। অভ্যুত্থানের পর কিছু দায়বদ্ধতা অবশ্যই আছে। রাকসু ভবনে এসে ছাত্রলীগ হামলা করবে আবার তাকে ছেড়ে দিব, ব্যাপারটা তো এমন না।’
নির্বাচিত হয়ে রাকসু প্রতিনিধিরা পেশিশক্তি ব্যবহার করেছেন উল্লেখ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের পেটানো, ডিনদের জোর করে পদত্যাগ করানো, হুমকি ও অযাচিত মন্তব্য করেছেন রাকসুর নেতারা। শিক্ষার্থীদের ‘সফট কর্নার’ পেয়ে তাঁরা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন।

রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাকসুর প্রতি অনেকাংশে আস্থা হারিয়েছি। কিছু কার্যক্রম ছাড়া রাকসু থাকা আর না থাকা একই হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
রাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ছিলেন শেখ নূর উদ্দিন আবির। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাকসুর কর্মকাণ্ড আশাহত করেছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পেছনে তাদের মুখরোচক ইশতেহার কাজ করেছে। কিন্তু জয়ী হওয়ার পর ইশতেহার বাস্তবায়নে কোনো চেষ্টা করেনি। আর তাদের ইশতেহারই ছিল অতিরঞ্জিত।
‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, জুলাই–পরবর্তী শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু কয়েকটি কাওয়ালি অনুষ্ঠান, জুলাইকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান ও ওয়েলফেয়ার ভবনের ছাদে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ছাড়া তারা তেমন দৃশ্যমান কাজ করতে পারেনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চশিক্ষা কী এবং এখানে সাংস্কৃতিক তৎপরতা কেমন হওয়া দরকার, শিবির সেটা জানে না বললেই চলে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শিক জায়গায় তাদের শ্রদ্ধাবোধ ছিল না। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার জন্য যা করা উচিত, তারা তা-ই করেছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দক্ষিণ এশিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সার্ক কালচারাল সেন্টারের (এসসিসি) তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক কর্মশালা। ‘সার্ক প্রমোটিং ডিজিটাল টেকনোলিজি ফর পগ্রেসিভ কালচার হেরিটেজ’ শীর্ষক এ আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ‘ভার্চুয়াল মিউজিয়াম বাংলাদেশ’ এর প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ জামান সঞ্জিব। আগামী ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর কলম্বোয় সার্ক কালচারাল সেন্টারে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে। হাইব্রিড পদ্ধতিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মনোনীত প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঐতিহ্যবিষয়ক পেশাজীবী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আইটি বিশেষজ্ঞ, ডিজিটাল ক্রিয়েটর ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এতে অংশ নেবেন। আরও পড়ুন সার্কের পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত শামা ওবায়েদের আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, জাদুঘর, শিল্পকর্ম, লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান, পারফর্মিং আর্টসহ নানা ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণই কর্মশালাটির মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন, ডিজিটাল আর্কাইভ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), থ্রিডি মডেলিং, জিআইএস ও অনলাইন ভার্চুয়াল প্রদর্শনীর মতো প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হবে। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে আহমেদ জামান সঞ্জিব একটি সেশন ১২-তে রিসোর্স পারসন হিসেবে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি রূপরেখা তুলে ধরবেন। তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সংরক্ষণ এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সার্ক কালচারাল সেন্টার জানিয়েছে, এ কর্মশালার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সফল ডিজিটাল ঐতিহ্য সংরক্ষণ উদ্যোগ, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করা প্রযুক্তিবিদ, গবেষক, জাদুঘরকর্মী ও সাংস্কৃতিক পেশাজীবীদের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে। ‘ভার্চুয়াল মিউজিয়াম বাংলাদেশ’ কী? বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোকে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের উদ্যোগ হিসেবে ‘ভার্চুয়াল মিউজিয়াম বাংলাদেশ (ভিএমবি)’ যাত্রা শুরু করে। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। প্রতিষ্ঠাতা ও প্রজেক্ট হেড আহমেদ জামান সঞ্জিবের নেতৃত্বে এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে। আরও পড়ুন সামরিক জাদুঘরে ডিজিটাল পার্কিং সেবা চালু ২০২২ সালে রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভার্চুয়াল মিউজিয়াম বাংলাদেশ উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে ঘরে বসেই ভিআর হেডসেট বা কম্পিউটারের সাহায্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ভার্চুয়ালি ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভিআর হেডসেট ছাড়াও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কিছু স্থাপনার ৩৬০ ডিগ্রি ভার্চুয়াল ট্যুর দেখার সুবিধা রয়েছে। প্রকল্পটির ভার্চুয়াল সংগ্রহে ষাট গম্বুজ মসজিদ, ছোট সোনা মসজিদ, বড় সরদারবাড়ি, পানাম নগর, এগারো শিবমন্দির ও কান্তজিউ মন্দিরসহ বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো যুক্ত হয়েছে। পরবর্তীতে সোমপুর মহাবিহারের ভার্চুয়াল সংস্করণও যুক্ত করা হয়। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নথিবদ্ধ, সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে সহজলভ্য করার এই উদ্যোগই এবার দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিসরে বাংলাদেশের একটি উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। ইএইচটি/এমএমকে
চলতি সপ্তাহে কর্মীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে আনতে পারে ওপেনএআই। তবে এ ক্ষেত্রে এআই খাতের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও একই ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি কমানোর কথা ভাবছে ওপেনএআই। বিশেষ করে আরও উন্নত এআই ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরগতিতে এগোনোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও সেই সঙ্গে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এআই খাতের বিভিন্ন গবেষক ও কর্মী উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ্যে সতর্ক করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর গতি যদি নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরির গতির চেয়ে বেশি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে প্রযুক্তিটির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে গত কয়েক মাসে ওপেনএআই তাদের কিছু এআই মডেল তৈরির কাজের গতি কমিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কিছু এআই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর আগে জুলাইয়ে অল্টম্যান জানিয়েছিলেন, এআই উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।এদিকে শক্তিশালী এআই তৈরির প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতরেই উদ্বেগ বাড়ছে। গত কয়েক সপ্তাহে বড় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের কেউ কেউ উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ্যে সতর্ক করেছেন। এসব বক্তব্যের পর এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী জাকুব পাচকোস্কিও সম্প্রতি উন্নত এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। ওপেনএআইয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘অ্যান এলিয়েন মাইন্ড’ শিরোনামের এক দীর্ঘ ব্লগ পোস্টে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন কোন পথে এগোবে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পাচকোস্কির মতে, এ ক্ষেত্রে দুটি পথ বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রথমটি হলো, এআইয়ের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় মানুষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। অন্যটি হলো, প্রয়োজন অনুযায়ী এআই উন্নয়নের গতি কমানোর বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করা। এতে নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো যথেষ্ট কার্যকর কি না, তা যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যেতে পারে। পাচকোস্কির এই বক্তব্যের মধ্যেই এআই খাতে কর্মীদের মধ্যে দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।চলতি সপ্তাহের শুরুতে অ্যানথ্রপিকে কর্মরত এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন চাকরি ছেড়ে দেন। পরে তিনি অভিযোগ করেন, মানুষের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই তৈরির প্রতিযোগিতায় অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই যথেষ্ট দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এআই উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি মনে করেন, এই প্রযুক্তি চলতি দশকের শেষ নাগাদ সব মানুষকে হত্যা করার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। কক্সনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন অ্যানথ্রপিকের গবেষক ইভান হুবিঙ্গারও। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এআইয়ের কারণে সব মানুষ মারা যেতে পারে এমন আশঙ্কাকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তাঁর ব্যক্তিগত ধারণা, আগামী এক দশকে এমন ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি। অ্যানথ্রপিক এ সমস্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে সুপারইন্টেলিজেন্ট এআইকে মানুষের নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে মনে করেন হুবিঙ্গার। একই সঙ্গে এ সমস্যা সমাধানে অ্যানথ্রপিক সঠিক পথে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও তিনি নিশ্চিত নন। কক্সনই অবশ্য একমাত্র গবেষক নন, যিনি এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। চলতি সপ্তাহে অ্যানথ্রপিক ও গুগল ডিপমাইন্ডের চাকরি ছেড়ে যাওয়া দুই গবেষক জো বেন্টন ও জশ এঙ্গেলসও এআই উন্নয়নের দ্রুতগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে বড় কয়েকটি এআই প্রতিষ্ঠানের এক হাজারের বেশি কর্মী এআই উন্নয়নের গতি কমানোর জন্য একটি ব্যবস্থা চালুর দাবিতে আবেদনে স্বাক্ষর করেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেশ কয়েকজন গবেষকও বড় এআই প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ করেছেন।এদিকে উন্নত এআই তৈরির কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার দাবিও উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও প্রতিনিধি গ্রেগ কাসার জানিয়েছেন, তাঁরা ‘ব্যান আর্টিফিশিয়াল সুপারইন্টেলিজেন্স অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা করছেন। প্রস্তাবিত আইনে সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই তৈরি ও ব্যবহারের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধিমালা তৈরি না করা পর্যন্ত উন্নত এআই তৈরির কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে