কয়েক মাস আগেই লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। মেয়ের মৃত্যুর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ। মেয়ের স্মৃতি ও ইচ্ছাগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করছেন কায়সার হামিদ।
কারিনাকে সঙ্গে নিয়ে ওমরা করার স্বপ্ন পূরণ করতে না পারলেও, মেয়ের পাসপোর্ট সঙ্গে নিয়ে পবিত্র কাবা শরিফে হাজির হয়েছেন তিনি।
কারিনাকে নিয়ে ওমরা পালনের পরিকল্পনা গত বছর থেকেই করেছিলেন বাবা কায়সার হামিদ। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই হঠাৎ চলে যান কারিনা। মেয়ের সেই অপূর্ণ ইচ্ছাকে হৃদয়ে ধারণ করেই এবার পবিত্র কাবা শরিফে গেছেন তার বাবা।
সৌদি আরব থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারিনাকে স্মরণ করে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন কায়সার হামিদ। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘কারিনা কায়সারকে নিয়ে আল্লাহর ঘরে আসার প্ল্যান গত বছর থেকেই করা হয়েছিল। কিন্তু সে হঠাৎ করে সবার আগেই আল্লাহর কাছে চলে গেছে।’
মেয়েকে নিয়ে দেখা একটি স্বপ্নের কথাও জানিয়েছেন কায়সার হামিদ। তিনি লিখেছেন, ‘স্বপ্নে দেখেছিলাম কারিনা আমার সঙ্গে পবিত্র কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করছে। তাই আমার বিশ্বাস, কারিনা আমাদের সঙ্গেই ওমরা করেছে।’
কারিনার পাসপোর্টও সঙ্গে নিয়ে সৌদি আরবে গেছেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা। কায়সার হামিদ লিখেছেন, ‘তার পাসপোর্টটি সার্বক্ষণিক আমাদের সঙ্গেই ছিল।’
কারিনা কায়সারের মৃত্যুর আগে লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় কয়েক দিন ধরে সংকটাপন্ন ছিলেন। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল।

চিকিৎসকরা প্রথমে ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেন। পরে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছিলেন কারিনা। পরে ওটিটি ও নাটকেও কাজ করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।
এমআই/এলআইএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
হলিউডে স্যান্ড্রা বুলকের পরিচিতি তৈরি হয়েছিল মূলত রোমান্টিক কমেডি ও হালকা মেজাজের ছবির অভিনেত্রী হিসেবে। ‘হোয়াইল ইউ ওয়ার স্লিপিং’, ‘টু উইকস নোটিশ’, ‘হোপ ফ্লোটস’ বা ‘মিস কনজেনিয়ালিটি’—একসময় তাঁর নাম মানেই ছিল হাসি, রোমান্স আর বিনোদনের নিশ্চয়তা। কিন্তু ক্যারিয়ারের একটা পর্যায়ে এসে নিজেই সেই পরিচিত গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কারণ, রোমান্টিক কমেডিতে অভিনয় করতে করতে সমালোচনার মুখে পড়ছিলেন, আর অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে অন্যভাবে প্রমাণ করতে চাইছিলেন। সম্প্রতি বন্ধু ও সহ-অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টনের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের তিক্ত অভিজ্ঞতাও সামনে এনেছেন স্যান্ড্রা। জানিয়েছেন, অভিনয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে অডিশন দিতে গিয়ে তাঁকে এমন অনেক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যা আজও মনে আছে তাঁর।নিউইয়র্কে তখন তিনি ওয়েট্রেসের কাজ করতেন। পাশাপাশি অভিনয়ের জন্য অডিশন দিতেন। স্যান্ড্রার ভাষায়, সে সময় এমন অনেক পুরুষের সামনে অডিশন দিতে হয়েছে, যাঁরা তাঁকে চরিত্র পাওয়ার বিনিময়ে আপত্তিকর প্রস্তাব দিতেন। এমনকি কেউ কেউ তাঁকে সরাসরি ‘প্যান্ট খুলতে’ বলতেন।সেসব প্রস্তাবের জবাবও নাকি স্পষ্ট ছিল তাঁর—‘না, এই চরিত্র আমার জন্য নয়।’ তবে কঠিন সেই সময়টাতেও হাল ছাড়েননি স্যান্ড্রা। তাঁর উপলব্ধি ছিল, একজন সংগ্রামী অভিনেতার সবচেয়ে বড় ভয়—আজকের পর হয়তো আর কোনো কাজ পাওয়া যাবে না। তাই যা পাওয়া যায়, সেটাই গ্রহণ করে নিজের মতো করে এগিয়ে যেতে হয়।অ্যানিস্টনের সঙ্গে কথোপকথনে স্যান্ড্রা বলেন, অভিনয়জীবনের শুরুতে একজন কর্মরত অভিনেতার মনে সব সময়ই ভয় থাকে, ‘হয়তো আর কখনো কাজ পাব না।’ তাই সুযোগ যত ছোটই হোক, সেটাকে কাজে লাগাতে হয়।ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর অবশ্য স্যান্ড্রা বুঝতে পারেন, শুধু পরিচিত ধারায় আটকে থাকলে চলবে না। বিশেষ করে রোমান্টিক কমেডির সাফল্যই একসময় তাঁর জন্য একধরনের ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।স্যান্ড্রা বুলক। রয়টার্স১৯৯৫ সালের ‘হোয়াইল ইউ ওয়ার স্লিপিং’ দিয়ে রোমান্টিক কমেডিতে স্যান্ড্রার জনপ্রিয়তা বাড়ে। এরপর ‘টু ইফ বাই সি’, ‘ফোর্সেস অব নেচার’ আর ‘টু উইকস নোটিশ’ ছবিতে তাঁকে দেখা যায়। ১৯৯৮ সালের ‘হোপ ফ্লটস’ ও ২০০০ সালের ‘মিস কনজেনিয়ালিটি’ও তাঁর তারকাখ্যাতি আরও বাড়িয়ে দেয়।বিশেষ করে হিউ গ্র্যান্টের সঙ্গে ‘টু উইকস নোটিশ’ বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়ার পর তাঁর সামনে রোমান্টিক কমেডির আরও অনেক সুযোগ আসতে পারত। কিন্তু তখনই স্যান্ড্রা উল্টো পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি উপলব্ধি করেন, দর্শক ও চলচ্চিত্রশিল্পের একটি বড় অংশ তাঁকে নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রের অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।তাই মধ্য ২০০০-এর দশকে রোমান্টিক কমেডি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।স্যান্ড্রা বুলক। আইএমডিবি অ্যানিস্টনকে স্যান্ড্রা বলেন, ক্যারিয়ারে খুব সচেতনভাবে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল—‘আমাকে এখন রোমান্টিক কমেডি থেকে বিরতি নিতে হবে।’ কারণ, ওই ছবিগুলোর জন্য তখন তিনি অনেক সমালোচনা শুনছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, অভিনয়ের অন্য দিকগুলোও দেখাতে।সেই সিদ্ধান্তের পর আসে ‘ক্রাশ’। ২০০৪ সালের এই ছবিতে আগের পরিচিত স্যান্ড্রা বুলককে পাওয়া যায়নি। এটি ছিল অনেক বেশি নাটকীয় কাজ। ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দেখিয়ে দেন, শুধু রোমান্টিক কমেডির নায়িকা নন, গুরুতর চরিত্রেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষমতা তাঁর আছে।ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিংয়ে এখন থাকেন ‘বিশেষ’ একজন, কী তাঁর কাজস্যান্ড্রার এ সিদ্ধান্ত যে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, সেটিও তিনি জানতেন। অ্যানিস্টন তাঁকে বলেন, নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা কমেডি ছেড়ে নাটকের জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে চলচ্চিত্রশিল্পে কমেডিকে অনেক সময় নাটকের তুলনায় কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ ভালো কমেডি করা মোটেও সহজ নয়।স্যান্ড্রার জবাব ছিল আরও চমকপ্রদ। তিনি জানান, এখন বরং তাঁর কমেডিই বেশি করতে ইচ্ছে করে। অর্থাৎ যে ঘরানা থেকে একসময় নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন, সময়ের সঙ্গে সেটিই আবার তাঁর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।‘ক্রাশ’ অবশ্য তাঁর সেই ঝুঁকির যথার্থ মূল্য দিয়েছিল। ছবিটি সেরা ছবির অস্কার জেতে এবং স্যান্ড্রা পান স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডে সেরা সম্মিলিত অভিনয়ের পুরস্কার। তবে সেখানেই তাঁর নাটকীয় অভিনয়ের যাত্রা থেমে থাকেনি।২০০৯ সালে আবার রোমান্টিক কমেডিতে ফিরে আসেন স্যান্ড্রা। হিউ গ্র্যান্টের বদলে এবার তাঁর সঙ্গী ছিলেন রায়ান রেনল্ডস—ছবির নাম ‘দ্য প্রোপোজাল’। ছবিটি বড় বাণিজ্যিক সাফল্য পায়। একই বছর মুক্তি পাওয়া ‘অল অ্যাবাউট স্টিভ’ অবশ্য সেভাবে সফল হয়নি। বরং ওই ছবির জন্য স্যান্ড্রা পেয়েছিলেন গোল্ডেন রেজি অ্যাওয়ার্ডে বাজে অভিনেত্রীর পুরস্কার।কিন্তু একই বছরে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য ব্লাইন্ড সাইড’ তাঁর ক্যারিয়ারে আরও বড় মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়। ছবিটির জন্য স্যান্ড্রা বুলক সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জেতেন। তবে এত সাফল্যের পরও রোমান্টিক কমেডির দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি তিনি। ২০২২ সালে চ্যানিং ট্যাটামের সঙ্গে ‘দ্য লস্ট সিটি’ ছবিতে অভিনয় করেন স্যান্ড্রা। মহামারির পর এটি বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায় এবং বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯২ মিলিয়ন ডলার আয় করে।ভ্যারাইটি অবলম্বনে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরনের উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল। প্রতিষ্ঠানটির বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশ-বিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা। এসময় পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে আগ্রহের কথা জানায় শেভরন। আরও পড়ুন আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে, বন্ধ রামপালের আরেক ইউনিট রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান। সাক্ষাতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দেশে বিদ্যমান ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। আরও পড়ুন বিদ্যুৎ না থাকায় টর্চের আলোয় অস্ত্রোপচার এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কেএইচ/কেএসআর
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় (জাবি) প্রতিদিন দুই ঘণ্টা সাময়িক লোডশেডিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার(১৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিস প্রধান অধ্যাপক ড. নাজমুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৩-এর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মোট দুই ঘণ্টা সাময়িক লোডশেডিং দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা এবং বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আরও এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সময়ে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। মো. রকিব হাসান প্রান্ত/কেজে/এএসএম