আর্থিক খাত যখন নানা সংকটে জর্জরিত, তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই রেকর্ড মুনাফা কি আর্থিক খাতের দুর্বলতা, নাকি অর্থনীতির শক্তির প্রতিফলন? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা ও আর্থিক খাত নিয়ে লিখেছেন শওকত হোসেন
দেশের আর্থিক খাত নিয়ে চারদিকে যখন খারাপ খবর, তখন বাংলাদেশ ব্যাংককে নিয়ে চমক লাগানো তথ্য পাওয়া গেল। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা করেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। তাহলে এত মুনাফা কীভাবে হলো? এটি কি অর্থনীতির সুস্বাস্থ্যের প্রমাণ?
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট বা গ্রস মুনাফা হয়েছে ৩৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা। এ সময়ে ব্যয় হয় ৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। ফলে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ২৩ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে নিট মুনাফা ছিল ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা।
এই মুনাফা থেকে ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ নিট মুনাফার প্রায় পুরোটাই সরকার পেয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছয়টি মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রণোদনা বোনাস হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধির পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করেছে। এক. দেশের কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং দৈনন্দিন লেনদেন চালু রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এসব ব্যাংককে রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ও বিশেষ তারল্য সহায়তার আওতায় বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিপরীতে পাওয়া সুদ বাংলাদেশ ব্যাংকের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল।
এখানে বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় বাড়লেও এর একটি অংশ এসেছে ব্যাংক খাতের দুর্বলতা থেকে। ব্যাংকগুলো শক্তিশালী ও সুশাসিত হলে এত বিপুল জরুরি তারল্য সহায়তার প্রয়োজন কিন্তু হতো না।
দুই. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করেছে। বছরের অধিকাংশ সময় নীতি সুদহার উঁচু থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থের ওপর ব্যাংকগুলোকে বেশি সুদ দিতে হয়েছে। ফলে ঋণ ও তারল্য সহায়তা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় বেড়েছে। সরকারকে দেওয়া ঋণ ও সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ থেকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদ পেয়েছে। রাজস্ব আদায় ও বৈদেশিক অর্থায়নে ঘাটতি থাকায় সরকারকে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বেশি ঋণ নিতে হয়েছে। একই সময়ে সরকারি সিকিউরিটিজের সুদহারও উঁচু ছিল। অর্থাৎ উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় অনুসরণ করা সুদহার নীতিও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
তিন. বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি বড় অংশ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমানত, বিদেশি সরকারি বন্ড এবং অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি নিরাপদ আর্থিক সম্পদে বিনিয়োগ করে। আন্তর্জাতিক সুদহার আগের কয়েক বছরের তুলনায় উঁচু থাকায় এসব বিনিয়োগ থেকেও ভালো আয় হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এ কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির ছয়টি প্রধান কাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন; বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপের নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন; মুদ্রা, রাজস্ব ও বিনিময় হার নীতির পারস্পরিক সম্পর্ক এবং এসব নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া; বাংলাদেশের সরকারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধারণ ও পরিচালনা; ব্যাংক নোট ইস্যুসহ নিরাপদ ও দক্ষ পরিশোধব্যবস্থা গড়ে তোলা ও নিয়ন্ত্রণ করা; এবং ব্যাংক কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ ও তদারক করা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাজ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। তাই লাভ-লোকসানের অঙ্ক দিয়ে তার সাফল্য বিচার করা ঠিক নয়। কোনো নীতি দেশের স্বার্থ ও নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করছে কি না, সেটিই আসল কথা।
অর্থনীতিতে সংকট বাড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বাড়তে পারে। মূল্যস্ফীতি কমাতে নীতি সুদহার বাড়ানো হলে বাণিজ্যিক ব্যাংককে দেওয়া ঋণ থেকে বেশি সুদ আসে। দেশীয় মুদ্রার দরপতন ঠেকাতে ডলার বিক্রি করেও আয় হতে পারে। আবার তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকগুলো বেশি ঋণ নিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয় বাড়ে। অর্থাৎ বেশি মুনাফা সব সময় অর্থনীতির ভালো অবস্থার লক্ষণ নয়; এর পেছনে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার ওপর চাপ কিংবা ব্যাংক খাতের দুর্বলতা থাকতে পারে।
অন্যদিকে অর্থনীতি ও আর্থিক খাত স্থিতিশীল রাখতে কম সুদে অর্থ দেওয়া, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করা বা সংকটাপন্ন ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ গ্রহণের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা কমতে পারে। এমনকি লোকসানও হতে পারে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ মূল্য ও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করলে শুধু লোকসানের কারণে নীতিকে ব্যর্থ বলা যাবে না।
এবার অন্য কয়েকটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভিজ্ঞতার দিকে তাকানো যাক।

ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক বা আরবিআইয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৪ লাখ ২৮ হাজার কোটি ভারতীয় রুপি হয়েছে। তবে তারা কেন্দ্রীয় সরকারকে দিয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৫৮৮ কোটি রুপি।
আরবিআইয়ের আয়ের বড় অংশ এসেছে বৈদেশিক সম্পদ থেকে। বিদেশি সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের রিটার্ন, বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন এবং দেশীয় সরকারি বন্ড থেকে আয় বেড়েছে। রুপির ওপর চাপ বাড়ছে। এই চাপ মোকাবিলায় আরবিআই বাজারে ডলার বিক্রি করেছে। এসব ডলারের একটি অংশ আগে তুলনামূলক কম রুপি দরে কেনা হয়েছিল। পরে বেশি রুপি দরে বিক্রি করায় মুনাফা হয়েছে।
তবে ভারত আয়ের পুরো অর্থ সরকারকে দেয়নি। প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কোটি রুপি কনটিনজেন্সি ফান্ড বা আপৎকালীন ঝুঁকি সঞ্চিতিতে স্থানান্তর করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার দর, স্বর্ণের মূল্য, সুদহার কিংবা সরকারি বন্ডের বাজারমূল্য পরিবর্তিত হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদের মূল্য দ্রুত কমতে পারে। এই ঝুঁকি সামলাতে সরকারকে উদ্বৃত্ত দেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজের আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী করা হয়েছে।
বাংলাদেশে মুনাফা বেড়েছে মূলত সংকটে থাকা ব্যাংক ও সরকারকে দেওয়া অর্থের সুদ এবং রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগ থেকে। ভারতে বৈদেশিক সম্পদ, ডলার বিক্রি ও সরকারি বন্ড থেকে আয় বেড়েছে। পাকিস্তানে উচ্চ নীতি সুদ ও ব্যাংকগুলোকে দেওয়া তারল্য মুনাফা বাড়িয়েছিল; সুদ কমার পর মুনাফাও কমেছে। শ্রীলঙ্কায় মুনাফা কমলেও রিজার্ভ, মূলধন ও আর্থিক সক্ষমতা বেড়েছে। অর্থাৎ বেশি মুনাফা অর্থনীতির শক্তি ও কম মুনাফা দুর্বলতার নিশ্চিত প্রমাণ নয়।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি পাকিস্তানি রুপি নিট মুনাফা করেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ কোটি রুপি কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নিট মুনাফার প্রায় ৯৭ শতাংশ সরকার পেয়েছে।
যদিও আগের অর্থবছরের তুলনায় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইএমএফ কর্মসূচির শর্ত পূরণে নীতি সুদহার একপর্যায়ে ২২ শতাংশে উঠেছিল। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ছিল সরকারি ট্রেজারি বিল ও পাকিস্তান ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের বড় ক্রেতা। তারল্যের প্রয়োজন হলে এসব সিকিউরিটিজ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে রেখে রেপো ও ওপেন মার্কেট অপারেশনের মাধ্যমে অর্থ নিত। উচ্চ সুদহার ও বিপুল তারল্য সরবরাহের কারণে স্টেট ব্যাংকের সুদ আয়ও বেড়েছিল।
পরে মূল্যস্ফীতি কমে আসায় নীতি সুদ ধাপে ধাপে ১১ দশমিক ৫ শতাংশে নামানো হয়। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয় ও মুনাফাও কমে। কাজেই মুনাফা কমাকে এখানে সরাসরি ব্যর্থতা বলা যায় না; বরং মূল্যস্ফীতি কমার কারণেই সুদ কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা ছিল সরকারের করবহির্ভূত রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস।
শ্রীলঙ্কার উদাহরণটি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান থেকে ভিন্ন। ২০২৫ সালে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলঙ্কার নিট মুনাফা ছিল ১৯৩ দশমিক ১ বিলিয়ন শ্রীলঙ্কান রুপি। আগের বছরের তুলনায় মুনাফা কমেছে ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ। মুনাফা কমার অন্যতম কারণ ছিল বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ থেকে নিট আয় হ্রাস। একই সময়ে স্থানীয় মুদ্রার সম্পদ থেকেও নিট আয় কমেছে। অর্থনীতি ও বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এ কারণে সংকটকালের অস্বাভাবিক সুদ, বিনিময় হার ও পুনর্মূল্যায়ন থেকে পাওয়া আয় কমেছে।
মুনাফা কমলেও শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়নি; বরং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মোট সম্পদ বেড়েছে, ইকুইটি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে সোয়াপ ব্যবস্থায় নেওয়া অর্থের বকেয়া কমায় বৈদেশিক মুদ্রায় দেনা পরিশোধের চাপও হ্রাস পেয়েছে। অর্থাৎ মুনাফা কমা মানেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি নয়; মূলধন, রিজার্ভ, সম্পদ ও দায়ের অবস্থাও বিবেচনায় নিতে হয়।
শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এত মুনাফা করলেও সরকার পেয়েছে মোট মুনাফার প্রায় ২২ শতাংশ। বাকি অর্থ আগের লোকসান সমন্বয়, রিজার্ভ গঠন, বাজারঝুঁকি মোকাবিলা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূলধন শক্তিশালী করতে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশে মুনাফা বেড়েছে মূলত সংকটে থাকা ব্যাংক ও সরকারকে দেওয়া অর্থের সুদ এবং রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগ থেকে। ভারতে বৈদেশিক সম্পদ, ডলার বিক্রি ও সরকারি বন্ড থেকে আয় বেড়েছে। পাকিস্তানে উচ্চ নীতি সুদ ও ব্যাংকগুলোকে দেওয়া তারল্য মুনাফা বাড়িয়েছিল; সুদ কমার পর মুনাফাও কমেছে। শ্রীলঙ্কায় মুনাফা কমলেও রিজার্ভ, মূলধন ও আর্থিক সক্ষমতা বেড়েছে। অর্থাৎ বেশি মুনাফা অর্থনীতির শক্তি ও কম মুনাফা দুর্বলতার নিশ্চিত প্রমাণ নয়।
মুনাফা বণ্টনেও পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান প্রায় পুরো নিট মুনাফা সরকারকে দিয়েছে, কিন্তু শ্রীলঙ্কা দিয়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। ভারত সরকারকে উদ্বৃত্ত দেওয়ার আগে বড় অঙ্কের অর্থ ঝুঁকি সঞ্চিতিতে রেখেছে। অথচ বাংলাদেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোকে দেওয়া বিপুল ঋণের বিপরীতে ভবিষ্যৎ ক্ষতি সামলাতে পর্যাপ্ত সঞ্চিতি রাখা প্রয়োজন। তাই প্রায় পুরো মুনাফা সরকারকে দেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূলধন ও ঋণঝুঁকি বহনের সক্ষমতা মূল্যায়ন করা উচিত ছিল।
এমনিতেই সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফার প্রায় পুরো অংশ পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পাবে সরকার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা করা অস্বাভাবিক নয়। আর্থিকভাবে সক্ষম থাকাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতার জন্য জরুরি। কিন্তু মুনাফা তার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাফল্য বিচার করতে হবে মূল্যস্ফীতি কতটা কমেছে ও স্থিতিশীল হয়েছে, টাকার বিনিময় হারের অস্বাভাবিক অস্থিরতা কমেছে কি না, দুর্বল ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকনির্ভরতা হ্রাস পেয়েছে কি না, আমানতকারীদের অর্থ কতটা নিরাপদ, খেলাপি ঋণ ও ব্যাংক জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যথেষ্ট নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য কি না—এসব দিয়ে।
তাই আসল প্রশ্ন শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক কত টাকা মুনাফা করেছে, সেটি নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো—মুনাফা কোথা থেকে এসেছে, এর বিপরীতে কী ঝুঁকি রয়েছে, কতটা প্রকৃত আয় ও কতটা হিসাবি লাভ এবং সেই অর্থ সরকার, ঝুঁকি সঞ্চিতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব মূলধনের মধ্যে কীভাবে বণ্টন করা হয়েছে।
শওকত হোসেন প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন
মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। এ পরীক্ষার ফল ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সারা দেশের মতো ময়মনসিংহেও নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল। তবে, ফল প্রকাশের দিনেও নগরীর কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে দেখা যায়নি চিরচেনা উৎসব। শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, বন্ধুদের সঙ্গে ফল জানার অপেক্ষা কিংবা আনন্দ-হতাশা ভাগাভাগির সেই দৃশ্য যেন হারিয়ে যাচ্ছে সময়ের ব্যবধানে। প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই ফল জানার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বদলে গেছে ফল প্রকাশের দিনের চেনা চিত্র।
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।