বামপন্থি নেতৃত্বের হাতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি। কয়েক বছর আগেও দেশটিতে ছিল তীব্র খাদ্য ও জ্বালানি সংকট, চারদিকে ছিল হাহাকার। আজ সেখানে স্বস্তি ফিরছে। খাদের কিনারা থেকে এই পথ পরিবর্তন মোটেও সহজ ছিল না শ্রীলঙ্কার জন্য। বিশেষ করে, একজন বামপন্থি নেতার হাত ধরে দেশটির এই অর্থনৈতিক পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার কর্মসূচির ফলেই শ্রীলঙ্কা আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে।
শ্রীলঙ্কার এই সংকটের শুরু হয়েছিল ভুল সরকারি নীতি ও বৈদেশিক ঋণের পর্বতসম বোঝার কারণে। ২০১৯ সালের ট্যাক্স কাট, করোনা মহামারি এবং পর্যটন খাতের বিপর্যয় দেশটিকে চরম সংকটে ফেলে দেয়। কৃষিতে হঠাৎ রাসায়নিক সার নিষিদ্ধ করার মতো নীতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে।

২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শেষ হয়ে যায়। তাতে জ্বালানি আমদানির অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। দেশজুড়ে দেখা দেয় খাদ্য ও ওষুধের সংকট।
মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায় ৭০ শতাংশের ওপরে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকত না। পেট্রল ও ডিজেলের জন্য মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হতো।
একপর্যায়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। ৫১ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয় তারা। এটি ছিল দেশটির ইতিহাসে প্রথম সার্বভৌম ঋণখেলাপি।
চরম অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিক্রিয়ায় দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র গণ-অসন্তোষ, যা ইতিহাসে ‘আরাগলায়া’ বা গণ-সংগ্রাম নামে পরিচিত।

বিক্ষুব্ধ জনতা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের বাসভবনে চড়াও হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি।
এরপর রাজনৈতিক এক সমঝোতার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বেইলআউট প্যাকেজ সচল করার চেষ্টা করেন। তবে তার কঠোর কর নীতি এবং ব্যয় সংকোচন সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তোলে।
জনগণের মধ্যে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি চরম অনাস্থা তৈরি হয়। দুর্নীতিমুক্ত ও গণমুখী এক নতুন নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়ে ওঠে।
বামপন্থিদের নাটকীয় উত্থান
ঠিক এই রাজনৈতিক ও সামাজিক শূন্যতার মধ্যে উত্থান ঘটে ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ারের (এনপিপি) বামপন্থি নেতা অনুরা কুমারা দিশানায়েকের।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, রাজনৈতিক অভিজাতদের বিশেষ সুবিধা কমানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি অনুরাকে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পান তিনি। পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তার জোট।
অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, একজন মার্ক্সবাদী নেতা ক্ষমতায় আসলে হয়তো বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেবে। এমনকি আইএমএফের সঙ্গে চুক্তিও বাতিল হতে পারে বলে ভাবা হয়েছিল।
কিন্তু অনুরা দিশানায়েকে প্রমাণ করেছেন, তিনি ভাবাদর্শের চেয়ে বাস্তবমুখী অর্থনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি ক্ষমতায় এসেই আইএমএফের কর্মসূচির মৌলিক শর্তগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ঘোষণা দেন। তবে একই সঙ্গে এতে যুক্ত করেন নিজস্ব সংস্কার এজেন্ডা।
অনুরা দিশানায়েকের বামপন্থি সরকার কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
রাজস্ব প্রশাসন শক্তিশালী করা, ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কার, কর আদায় বাড়ানো এবং দুর্নীতি কমানোর উদ্যোগের পাশাপাশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ কমাতে বেশ কিছু করছাড় দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে গাড়ি আমদানি ফের চালু করার সঙ্গে ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে লঙ্কান সরকার। অবৈধ ব্যবসা এবং কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান দেশে আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরাতে সাহায্য করছে।
সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। চা বাগান কর্মীদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সময়, বিদেশি ঋণ পুনর্গঠন প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুফল এখনো সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি।
বর্তমান সময়ে এসে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছে। দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। একসময়ের আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় অবদান রাখছে পর্যটন খাতের অভাবনীয় পুনরুত্থান এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স।
আইএমএফের হিসাবে, ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার পাঁচ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২৬ সালের মার্চের শেষে দেশটির সরকারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে প্রায় সাত বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
রাজস্ব আদায়ও শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটি ২ হাজার ৫৫৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন রুপি রাজস্ব সংগ্রহ করে, যা তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
ঋণ পুনর্গঠন এগিয়ে যাওয়ায় দেশটির ঋণ পরিস্থিতিও আগের তুলনায় টেকসই অবস্থার দিকে যাচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও সংকট পুরোপুরি শেষ হয়নি।
আইএমএফের কর্মসূচির আওতায় রাজস্ব বাড়ানো এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে জনগণের ওপর কর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ রয়েছে। দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্যের প্রভাবও পুরোপুরি কাটেনি।
তাছাড়া, আইএমএফের সর্বশেষ মূল্যায়ন বলছে, ২০২৬ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় তিন শতাংশে নেমে আসতে পারে।
তেলের চড়া দাম, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং পর্যটন আয়ে সম্ভাব্য ধাক্কা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ পুনরুদ্ধারের পথ এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়।
তবু সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি অন্য জায়গায়। দেউলিয়া হয়ে যাওয়া একটি দেশ এখন আবার প্রবৃদ্ধির পথে। রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। ঋণ পুনর্গঠনের কাজ এগিয়েছে। আর এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমন একজন নেতা, যার রাজনৈতিক পরিচয়ের শিকড় বামপন্থি ও মার্কসবাদী রাজনীতিতে।
অনুরা কুমারা দিশানায়েকে বিশ্বকে দেখিয়েছেন, কেবল পুঁজিবাদী বা সমাজতান্ত্রিক তত্ত্বের অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং সুশাসন ও বাস্তববাদী নীতিমালার মাধ্যমেই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। সংকটকে শক্তিতে রূপান্তর করে কীভাবে দুর্নীতি দূর করা যায় এবং অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো যায়, শ্রীলঙ্কা এখন তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য শ্রীলঙ্কার এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প এক বড় ধরনের অনুপ্রেরণা।
সূত্র: রয়টার্স, এপি, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ, আইএমএফ
কেএএ/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা ও পৌর কমিটি থেকে আটজন পদত্যাগ করেছেন। সম্মতি ছাড়া কমিটির তালিকায় নাম রাখার কারণ দেখিয়ে তারা পদত্যাগ করেন। এরআগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। পদত্যাগকারীরা লিখিত পদত্যাগপত্র কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতাদের কাছে পাঠিয়েছেন। পদত্যাগকারীরা হচ্ছেন গাংনী উপজেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মজিরুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার পাশা, সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আলিম, সাবেক যুবলীগ নেতা আশিকুর রহমান আকাশ, আলমগীর বিশ্বাস রাহেল, লিখন উদ্দিন ও মাঝারুল ইসলাম। সোমবার ৭১ সদস্যবিশিষ্টি এই কমিটিতে সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের ছোট ছেলে অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবিরকে সভাপতি এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গাংনী উপজেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটিতে মজিরুল ইসলাম, আনোয়ার পাশা ও আব্দুল আলিমকেসহ সভাপতি, আশিকুর রহমান আকাশকে সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং আলগমীর বিশ্বাস রাহেল, লিখন ও মাঝহারুলকে সদস্য রাখা হয়। আরও পড়ুন কুমিল্লায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা পদত্যাগকারীরা তাদের আবেদনে বলেছেন, কমিটিতে নাম রাখার বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়নি। তাদের সম্মতি ছাড়াই কমিটিতে নাম রাখা হয়েছে। এ কারণে তারা পদত্যাগ করছেন। কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত ও পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চেয়ে যুবলীগের মেহেরপুর জেলা আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান লিটন ও যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে কোনো মাধ্যমেই তাদের পাওয়া যায়নি। তবে মাহফুজুর রহমান লিটন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। আসিফ ইকবাল/এসআর/এএসএম
রাজধানীর হলি ক্রস কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময় জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় এ ফল প্রকাশ করা হবে। দুপুরে কলেজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে সিলেকশন টেস্টের ফলাফল আজ বিকেল ৩টার পর কলেজের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে। এর আগের ঘোষণা অনুযায়ী- আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টার পর কলেজের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও নোটিশ বোর্ডে ফল প্রকাশের কথা ছিল। তবে তা দুই ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন নটর ডেম কলেজে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এদিকে, ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আজ বিকেল ৪টা থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে অনলাইনে বিকাশের মাধ্যমে ভর্তি ফি জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি ফি জমা না দিলে ভর্তির সুযোগ বাতিল বলে গণ্য হবে। হলি ক্রসে আসন কত হলি ক্রস কলেজে এবার বিজ্ঞান বিভাগে ৭৮০টি, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৮০টি এবং মানবিক বিভাগে ২৯০টি আসন রয়েছে। সব মিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে মোট ১ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ভর্তি–সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য কলেজের ওয়েবসাইট www.hcc.edu.bd ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত তারিখ ও সময় পরিবর্তন হলে সেখানেই তা জানানো হবে। বিবাহিতদের ভর্তি নয় হলি ক্রস কলেজ জিপিএ ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি ভর্তির ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু শর্ত দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, হলি ক্রসে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে বিবাহিত ছাত্রীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। সেশন (২০২৬-২৭) চলাকালে কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকেও টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস ও ব্যবহারিক ক্লাসে উপস্থিতি; কলেজ নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান; শরীরচর্চা ও সহ-পাঠ্যক্রম কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। কলেজে মোবাইল ফোন আনা ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এসব বিষয়ে আপত্তি থাকলে আবেদন করার প্রয়োজন নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এএএইচ/এমআরএম
‘তোর পাওয়ার গুনে গুনে আর ২৮ দিন আছে, ২৮ দিন পরে তোরে হল থেকে পিটাইয়া বের করব, আমি নাসিম যদি এই হলে থাকি।’—এভাবেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল সংসদের সহসভাপতিকে (ভিপি) হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। হুমকির একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীশ দীপঙ্কর হলে এই ঘটনা ঘটে। ওই হলের ছাত্র সংসদের ভিপি রিপুল চাকমাকে এই হুমকি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘটনাস্থলে হলের এক আবাসিক শিক্ষকও উপস্থিত ছিলেন।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রিপুল চাকমা ও শেখ নাসিম উদ্দিন দুজনই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে এক তরুণ ব্যাগ নিয়ে হলে আসেন। রিপুল চাকমা ওই তরুণের কাছে পরিচয় জানতে চান। তখন ওই তরুণ বলেন, তিনি হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে উঠেছেন। তখন অবৈধভাবে হলে শিক্ষার্থী তোলা হচ্ছে অভিযোগ এনে বিষয়টি হলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক শিক্ষক নূরে আলমের কাছে জানান। এরপর শিক্ষক নূরে আলম হলের কক্ষটি পরিদর্শনে যান। তাঁর সঙ্গে রিপুল চাকমা এবং কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।৩১৩ নম্বর কক্ষটিতেই থাকেন ছাত্রদল নেতা শেখ নাসিম উদ্দিন। হলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক শিক্ষক কক্ষটিতে নতুন করে কাউকে তোলা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে রিপুল চাকমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শেখ নাসিম উদ্দিন। একপর্যায়ে রিপুল চাকমাকে হল থেকে পিটিয়ে বের করার হুমকি দেন।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিম উদ্দিনরিপুল চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি আবাসিক শিক্ষকের সামনেই ঘটেছে। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নাসিম আমাকে মারার জন্য তেড়ে আসেন। উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা তাঁকে সরিয়ে দেন। ঘটনার ভিডিও আমার কাছে আছে।’ তিনি বলেন, ‘পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য এবং চাকসু নেতারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আমাদের এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়।’জানতে চাইলে শেখ নাসিম উদ্দিন দাবি করেন রিপুল চাকমা তাঁকে গালাগাল করেছেন। এ ছাড়া ভিপির ক্ষমতা দেখিয়ে হলের গেটে তালা দেওয়ার কথা বলায় তিনি রিপুলের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তবে হলের গেটে তালা লাগানোর কথা বলা এবং গালাগালের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিপুল চাকমা।শেখ নাসিম উদ্দিন বলেন, ‘কয়েকজন জুনিয়র আমার কক্ষে ঘুরতে এসেছিল। এরপর অবৈধভাবে হলে শিক্ষার্থী তুলছি—এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে রিপুল হলের আবাসিক শিক্ষককে ডেকে নিয়ে আসেন। আগেও রিপুল একাধিকবার একই কাজ করেছেন। যদিও কোনোবারই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এবারও ভিপি পরিচয়ে ক্ষমতা দেখাতে আসায় তাঁর সঙ্গে আমার কিছুটা কথা-কাটাকাটি হয়েছে।’অতীশ দীপঙ্কর হলের প্রাধ্যক্ষ ও সহযোগী অধ্যাপক এ জি এম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘মূলত হলের আবাসিক শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর সেখানে ছিলেন। তাঁরা বিষয়টি মীমাংসা করেছেন। এটি দুটি পক্ষের ভুল-বোঝাবুঝির ঘটনা। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।’বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল হোসেন বলেন, ‘একটি কক্ষে অবৈধভাবে কোনো শিক্ষার্থী উঠেছেন, হল সংসদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে হল প্রশাসন অভিযান চালায়। তবে সেখানে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। পরে আমরা বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘কারও কোনো অভিযোগ থাকলে, লিখিতভাবে দিতে বলেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘কেউ যদি দলের পরিচয়ে শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কাজ করে থাকে এবং সেটি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’