জাতীয়

১৫ বছরে শিশুনিকেতন: শৈশবের আলোয় এক দীর্ঘ পথচলার পুনর্মিলন

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
১৫ বছরে শিশুনিকেতন: শৈশবের আলোয় এক দীর্ঘ পথচলার পুনর্মিলন
১৫ বছরে শিশুনিকেতন: শৈশবের আলোয় এক দীর্ঘ পথচলার পুনর্মিলন

‘একটি শিশুর শিক্ষার আলো, একটি জাতির আশা,

শিশুনিকেতন ছড়িয়ে দিক মানবতার ভালোবাসা।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত শিশুনিকেতন। পথচলার ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে থ্রিএম (মিট, মিংগল ও মেক মেমোরিজ) অনুসরণ করে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো শিশুনিকেতনের প্রথম রিইউনিয়ন। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর একই ছাদের নিচে মিলিত হলেন শিশুনিকেতনের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক, ফ্যাসিলিটেটর, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দিনটি নিছক একটি পুনর্মিলন নয়; বরং একটি স্বপ্নের ১৫ বছরের পথচলাকে ফিরে দেখার দিন।

‘এসো গড়ি শিশুনিকেতন হয়ে শিশুর অধিকার সচেতন’—এই স্লোগানে শিশুনিকেতন ২০১২ সালের ৩ আগস্ট অধ্যাপক মুহা. জুলফিকার আলী ইসলাম স্যারের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন অগ্রণী ভূমিকা রাখেন ৪৭, ৪৮, ৪৯ ও ৫০তম ব্যাচের উদ্যমী শিক্ষার্থীরা। তাঁরা নিজ হাতে মাটি কেটে, বাঁশ ও অর্থ সংগ্রহ করে কাঠামো দাঁড় করান। আর এ ধারা অব্যাহত রেখেছেন পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

শিশুনিকেতন প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর পাশের রেললাইনের ধারে বসবাসকারী সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করা। এটি হয়ে ওঠে শিক্ষা, সচেতনতা ও সামাজিক বিকাশের একটি উন্মুক্ত পরিসর। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও স্বেচ্ছাসেবী প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এই উদ্যোগ ধীরে ধীরে একটি নীরব বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়।

শিশুনিকেতনের বিশেষত্ব এখানেই, এটি কেবল শিশুদের পড়াশোনার জায়গা ছিল না; এটি ছিল স্বপ্ন দেখার জায়গা। যেসব শিশুর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় টিকে থাকা ছিল কঠিন, তাদের আত্মবিশ্বাস, মূল্যবোধ, স্বাস্থ্যসচেতনতা, সামাজিকতা ও নিজের অধিকার সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। আর এই কাজের সঙ্গে যুক্ত তরুণ শিক্ষার্থীরাও শ্রেণিকক্ষের সমাজবিজ্ঞানকে বাস্তব জীবনের মানুষের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: ns@prothomalo.com

তবে এর পেছনের কাজটি শুধু একটি সাধারণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে শুরু হয়নি। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইনসিডিন বাংলাদেশের কাছ থেকে শিশু অধিকার ও ইউএনসিআরসি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নেন। তাঁরা সোশিওলজি ইয়ুথ গ্রুপ (এসওয়াইজি) গঠন করেন এবং এরপর শিশুনিকেতন নামে একটি অনানুষ্ঠানিক বা স্বেচ্ছাসেবী স্কুল চালু করেন। পরবর্তী সময় রাজশাহী ইউনিভার্সিটি সোশিওলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (আরইউএসএএ) শিশুনিকেতনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়।

শিশুনিকেতনের দীর্ঘ পথচলায় বিভিন্ন ব্যক্তি, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও দেশি–বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। নানা সময়ে শিশুদের জন্য শিক্ষা উপকরণ, বই-খাতা, পোশাক, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসার সহায়তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে তারা শিশুনিকেতনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি অনেক ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষী নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত সহযোগিতাই শিশুনিকেতনের পথচলাকে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল করেছে।

এই ১৫ বছরের পথচলায় অনেক মুখ এসেছে, অনেক মুখ বিদায় নিয়েছে। কেউ ছিলেন শিক্ষক, কেউ ফ্যাসিলিটেটর, কেউ স্বেচ্ছাসেবক, কেউবা ছিলেন সেই ছোট্ট শিক্ষার্থী, যার চোখে একদিন ভবিষ্যতের স্বপ্ন জ্বলে উঠেছিল। সময়ের স্রোতে সবাই নিজ নিজ জীবনে ছড়িয়ে গেলেও শিশুনিকেতন তাদের স্মৃতির একটি অভিন্ন ঠিকানা হয়ে থেকেছে। শুধু কাঠামো ও পরিচালনায় পরিবর্তন এসেছে।

প্রথম রিইউনিয়ন সেই হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোকে আবারও কাছে টেনে এনেছে। পুরোনো পরিচিত মুখ, একসঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি, শিশুদের হাসি, শিক্ষক–শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সেই দিনগুলো যেন আজ নতুন করে ফিরে এসেছে স্মৃতিচারণায়। কেউ হয়তো এখন পেশাজীবনে প্রতিষ্ঠিত, কেউ গবেষণায়, কেউ শিক্ষকতায়, কেউ দেশের বাইরে, কিন্তু শিশুনিকেতনের স্মৃতিতে সবাই যেন আবার সেই আগের মানুষটি।

১৫ বছর পূর্তি তাই শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বয়স পূর্ণ হওয়ার গল্প নয়। এটি প্রান্তিক শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর গল্প। এটি প্রমাণ করে, একটি ছোট উদ্যোগও সময়ের সঙ্গে বড় সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। সমাজবিজ্ঞান যেখানে সমাজকে বোঝার শিক্ষা দেয়, শিশুনিকেতন সেখানে সমাজের প্রান্তে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেই শিক্ষাকে বাস্তবে প্রয়োগের একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

আজকের এই রিইউনিয়ন নতুন করে সেই দায়বদ্ধতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। অতীতের অর্জনকে স্মরণ করে ভবিষ্যতের পথচলার প্রত্যয় নিয়ে শিশুনিকেতন আরও অনেক শিশুর জীবনে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেবে—এই প্রত্যাশা থাকুক ১৫ বছর পূর্তির দিনে।

*লেখক: সবুজ মোল্যাহ, সমাজবিজ্ঞান, ৫৯তম ব্যাচ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট: আসিফ মাহমুদ
পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট: আসিফ মাহমুদ

এই রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ এমন মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, একটা আনপপুলার অপিনিয়ন দেই। ১১ হাজার কোটি না, আমি যদি এর ১% অর্থাৎ ১১০ কোটি টাকারও দুর্নীতি করতাম তাহলে দুদক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানই আমার বিরুদ্ধে কিছু করতো না। এই করাপ্টেড রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ লেখেন, জায়গামতো সালামি আর গিফ্ট পাঠিয়ে দিলে হাজার হাজার অভিযোগও কখনো অনুসন্ধানের মুখ দেখতো না। মাঝেমধ্যে মনে হয় সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। শুধু টাকা থাকার কারণে এস আলমরা টিকে যায় রাষ্ট্রের লাখ কোটি টাকা লোপাট করেও। এনসিপির এই নেতা লেখেন, বড় বড় নেতার ছেলেদের সঙ্গে সমঝোতা করে বিসিবি ডিরেক্টর না বানানো, সমঝোতা করে ফ্যাসিবাদের আইকন খেলোয়াড়কে দেশে না আনা, জোর করে সিটি করপোরেশনে বসতে সহযোগিতা না করা, গণপ্রতিরক্ষা বাস্তবায়নে তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু, ভারতীয় দূতাবাসসহ ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম ফেলানীর নামে নামকরণ করাসহ ভুড়ি ভুড়ি বোল্ড কাজ করার পরেও যে এখন পর্যন্ত রাজনীতিতে বেঁচে আছি এটাই অনেক। আরও পড়ুন আসিফ মাহমুদ / বিদেশে ১ পয়সা বিনিয়োগের প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, আমি আমার নীতি, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণের প্রশ্নে কখনো মাথানত করিনাই। শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই সমঝোতা না করে বোল্ড পজিশন বা চ্যালেঞ্জ নেওয়াকে আমার ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন। রাজনীতিতে কম্প্রোমাইজ করে চললে হয়তো অনেক ভালো থাকতে পারতাম, তবে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকা লাগতো সারাজীবন। শেষে তিনি লেখেন, এমন বড় বড় ক্ষমতাবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রের সঙ্গে আপস করিনি যাদের কথা এই রাষ্ট্রের কেউই সহজে ফেলার সাহস করে না। এমনটা তো হওয়ারই ছিল। এএমএ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ও ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা অনুমোদন

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ও ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা অনুমোদন

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, পুলিশের এসিসহ দুই এএসআই প্রত্যাহার

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, পুলিশের এসিসহ দুই এএসআই প্রত্যাহার

গাইবান্ধার হরিদাস ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে

গাইবান্ধার হরিদাস ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে

শিক্ষার্থীদের ঢাকার ইতিহাস চেনাতে ছুটির দিনে শিক্ষাসফরের উদ্যোগ ডিএসসিসির
শিক্ষার্থীদের ঢাকার ইতিহাস চেনাতে ছুটির দিনে শিক্ষাসফরের উদ্যোগ ডিএসসিসির

ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে ছুটির দিনে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে শিক্ষাসফরের আয়োজন করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কার্জন হল, শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এই নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছিল।‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করছেন নৃত্যশিল্পীরা। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্বে দেশের নয়টি নাট্যদল নয়টি নাটক মঞ্চস্থ করে। এর মধ্যে প্রাচ্যনাটের ‘কিনু কাহারের থেটার’, লোক নাট্যদল (বনানী)-এর ‘কঞ্জুস’, ঢাকা পদাতিকের ‘ট্রায়াল অব সূর্য সেন’, বাঁশরী রেপার্টরি থিয়েটারের ‘আলেয়া’, আরণ্যক নাট্যদলের ‘কম্পানি’, থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘আমিনা সুন্দরী’, তীরন্দাজ রেপার্টরির ‘কণ্ঠনালীতে সূর্য’, দৃষ্টিপাত নাট্য দলের ‘সে এক স্বপ্নের রাত’ এবং বাংলাদেশ থিয়েটারের ‘সী-মোরগ’ উল্লেখযোগ্য।জাতীয় নাট্যশালায় সমাপনী আয়োজনে নৃত্যশিল্পীদের সমবেত নৃত্য পরিবেশনা। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকাসমাপনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব শুধু পরিচ্ছন্নতা ও কর আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা এবং ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাও সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, লালকুঠিসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে সংস্কারকাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটির দিনে কার্জন হল, শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলসহ ঐতিহাসিক স্থানে শিক্ষাসফরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ব্যবহারের জন্য ডিএসসিসির আওতাধীন মিলনায়তন ও কমিউনিটি সেন্টারে বিশেষ ছাড় দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ একটি নাটকের দৃশ্য। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকাপরে উৎসবে অংশ নেওয়া নাট্যদলগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৬ থেকে ২৩ আগস্ট পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে উৎসবের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খয়বর রহমান।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
গান ও শিল্পীর শক্তি অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে: রিজভী

গান ও শিল্পীর শক্তি অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে: রিজভী

ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে রাজুর সরঞ্জাম সরানো, গণজাগরণ মঞ্চকে ‘মব সন্ত্রাস’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ

ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে রাজুর সরঞ্জাম সরানো, গণজাগরণ মঞ্চকে ‘মব সন্ত্রাস’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪৮ শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪৮ শিক্ষার্থী

0 Comments