ইংল্যান্ড টেস্ট দলের অধিনায়ক জো রুটের টেস্ট ক্যারিয়ারে রেকর্ড ভাঙা যেন নিয়মিত ঘটনাই হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ৬২ রানে অপরাজিত থেকে একসঙ্গে একাধিক কীর্তি গড়েছেন এই ইংলিশ ব্যাটার।
১৪৭ বছরের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে চতুর্থ ইনিংসে ২ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। একই ইনিংসে এজবাস্টনে ১ হাজার টেস্ট রানও পূর্ণ করেছেন রুট। পাশাপাশি টেস্টে সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
চতুর্থ ইনিংসে ২ হাজার রানের প্রথম ব্যাটার
টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিংকে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ম্যাচের শেষ দিকে উইকেট সাধারণত ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে, স্কোরবোর্ডে থাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং প্রতিটি উইকেটই তাড়া করা দলের জয়ের সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়। এই কঠিন পরিস্থিতিতেই জো রুট নিজেকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
পাকিস্তানের দেওয়া ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ২ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে ইংল্যান্ড। ইনিংসের প্রথম ওভারেই বেন ডাকেট ও এমিলিও গে ফিরে যান। ফলে পাকিস্তান তখন ছোট লক্ষ্য নিয়েও ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
এরপর ক্রিজে আসেন রুট। চাপের মুহূর্তে ব্যাট হাতে দলের ভরসা হয়ে ওঠা তার ক্যারিয়ারের পরিচিত গল্প। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
জর্ডান কক্সকে সঙ্গে নিয়ে রুট ইংল্যান্ডের ইনিংস সামলান। শেষ পর্যন্ত ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। কক্স অপরাজিত ছিলেন ৫৯ রানে। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান তুলে ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
এই ইনিংসেই রুট চতুর্থ ইনিংসে নিজের ২ হাজার রান পূর্ণ করেন। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৭ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যাটার, যিনি ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে ২ হাজার বা তার বেশি রান করেছেন। চতুর্থ ইনিংসে রুটের এই সাফল্য তার দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ারে চাপের মধ্যে ব্যাটিং করার অসাধারণ সামর্থ্যেরই প্রমাণ।
এজবাস্টনেও প্রথম রুট
একই ইনিংসে আরও একটি রেকর্ড গড়েছেন রুট। এজবাস্টনে ১ হাজার টেস্ট রান করা প্রথম ব্যাটার হয়েছেন তিনি।
ম্যাচ শুরুর আগে বার্মিংহামের এই ঐতিহাসিক মাঠে রুটের রান ছিল ৯৪৮। ১ হাজার পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫২ রান। পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসে সেই প্রয়োজনও মিটিয়ে ফেলেন তিনি। এজবাস্টন এখন এমন চতুর্থ টেস্ট ভেন্যু, যেখানে রুটের রান ১ হাজার ছাড়িয়েছে।
টেস্টে নির্দিষ্ট ভেন্যুতে রুটের রান-
লর্ডস: ২,২০৩
ম্যানচেস্টার: ১,১২৮
দ্য ওভাল: ১,০৫০
এজবাস্টন: ১,০১৮
চারটি ভেন্যুতে ১ হাজারের বেশি টেস্ট রান করা ব্যাটারদের তালিকায় রুট এখন জ্যাক ক্যালিস ও রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে আছেন। অর্থাৎ এই কীর্তি গড়া মাত্র তৃতীয় ব্যাটার তিনি।
শচিনকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি ফিফটি
এজবাস্টনে ৬২ রানের অপরাজিত ইনিংসটি রুটের জন্য আরও একটি কারণে বিশেষ। এটি ছিল টেস্ট ক্যারিয়ারে তার ৬৯তম ফিফটি। এর মধ্য দিয়ে ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। শচিন টেস্ট ক্যারিয়ারে করেছিলেন ৬৮টি ফিফটি। রুটের এখন ৬৯টি।
টেস্টে সবচেয়ে বেশি ফিফটির তালিকায়-
১. জো রুট: ৬৯
২. শচিন টেন্ডুলকার: ৬৮
৩. শিবনারায়ণ চন্দরপল: ৬৬
৪. অ্যালান বোর্ডার: ৬৩
৫. রাহুল দ্রাবিড়: ৬৩
৬. রিকি পন্টিং: ৬২
শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, রুটের এই রেকর্ডের আরেকটি দিকও উল্লেখযোগ্য। টেন্ডুলকারের ৬৮টি ফিফটি পূর্ণ করতে যত টেস্ট ইনিংস লেগেছিল, রুট তার চেয়েও কম ইনিংসে ৬৯টি ফিফটি করেছেন।
১১০টি ফিফটি-প্লাস ইনিংস
৬২ রানের ইনিংসটি রুটের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১০তম ফিফটি-প্লাস স্কোরও। এর মধ্যে রয়েছে ৪১টি সেঞ্চুরি ও ৬৯টি ফিফটি। অর্থাৎ টেস্ট ক্রিকেটে রুট ১১০ বার অন্তত ৫০ রান করেছেন। তার ৬৯টি ফিফটির পাশাপাশি সেঞ্চুরি ৪১টি- যা তার ধারাবাহিকতারই বড় প্রমাণ।
এজবাস্টনে তার এই ৬২ রানের ইনিংসের পরই সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৪১ সেঞ্চুরি ও ৬৯ ফিফটিতে। অর্থাৎ টেস্ট ক্যারিয়ারে অর্ধশতক পেরিয়ে যাওয়া ইনিংসের প্রায় প্রতিটিতেই বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য দেখিয়েছেন তিনি।
রুটের ব্যক্তিগত রেকর্ডের রাতটি আরও স্মরণীয় হয়েছে ইংল্যান্ডের দলীয় সাফল্যে। পাকিস্তানকে তৃতীয় টেস্টে ৮ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে ইংল্যান্ড।
এজবাস্টনে পাকিস্তান ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ১৩০ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল। কিন্তু শুরুতেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও রুট ও কক্সের ব্যাটে সেই চাপ দ্রুত কেটে যায়। রুট ৬২ ও কক্স ৫৯ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন।
ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজজুড়ে দাপুটে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি রুটও নিজের রেকর্ডের খাতায় যোগ করেছেন একাধিক মাইলফলক। চতুর্থ ইনিংসে ২ হাজার রানের প্রথম ব্যাটার, এজবাস্টনে ১ হাজার রানের প্রথম ব্যাটার এবং টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ফিফটির মালিক- এক ইনিংসেই এমন তিনটি বড় অর্জনই এখন তার নামের পাশে।
আইএইচএস/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই উপজেলায় ১৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলা সদর ও সরাইল উপজেলায় গ্যাস থাকবে না। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন রাত ১২টা বাজার অপেক্ষায় থাকেন গৃহিণীরা তিনি জানান, ঘাটুরা এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে একটি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করতে হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে কাজটি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় কাজটি শুরু করা হবে। এটি টানা রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। ফলে টানা ১৪ ঘণ্টা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও সরাইল উপজেলায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এই কর্মকর্তা আরও জানান, রক্ষণাবেক্ষণ কাজটি করলে শহরে গ্যাসের চাপ বাড়বে। এটি উভয় পক্ষের জন্যই লাভ। তাই দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/এএসএম
বাংলাদেশের বাজারে লেনোভোর নতুন দুটি মডেলের মনিটর এনেছে গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি। ‘লেনোভো এল২২-৪২’ ও ‘লেনোভো এল২৭-৪ই’ মডেলের মনিটর দুটির পর্দার আকার যথাক্রমে ২১.৫ ইঞ্চি ও ২৭ ইঞ্চি। মনিটরগুলোর পর্দার রিফ্রেশ রেট ১০০ হার্টজ হওয়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহারের পাশাপাশি ভালো মানের ভিডিও দেখা যায়। আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লেনোভো এল২২-৪২ মডেলের মনিটরটিতে ২৫০ নিটস ব্রাইটনেস ও ১ হাজার ৩০০ বাই ১ কন্ট্রাস্ট রেশিও রয়েছে। অপর দিকে লেনোভো এল২৭-৪ই মডেলের মনিটরটিতে রয়েছে ৩০০ নিটস ব্রাইটনেস ও ১ হাজার ৫০০ বাই ১ কন্ট্রাস্ট রেশিও। ফলে দুটি মনিটরেই প্রাণবন্ত ছবি দেখা যায়।এইচডিএমআই ১.৪, ভিজিএ পোর্ট এবং ভেসা ওয়াল মাউন্ট সুবিধাযুক্ত মনিটর দুটির সঙ্গে ৩ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া যাবে। মনিটর দুটির দাম ধরা হয়েছে যথাক্রমে ১০ হাজার ৭৫০ টাকা ও ১৪ হাজার ৪০০ টাকা।
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার বাসিন্দা কল্পনা খাতুন (৪৬)। তার স্বামী এনামুল হক ও ছেলে শফিউল ইসলামকে নিয়ে নিজের বসতঘরটিকেই বানিয়েছিলেন গাঁজা বেচাকেনার ‘খুচরা দোকান’। প্রতিদিন ভোর থেকেই সেখানে শুরু হতো গাঁজা বেচাকেনা। কেউ গাঁজা কিনে নিয়ে যেতেন, আবার কেউ আশপাশেই বসেই সেবন করতেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিলেন পাঁচগাছি চরপাড়া গ্রামের মানুষ। অবশেষে কল্পনা খাতুন ও তার ছেলে শফিউল ইসলামকে দুই কেজি ৭৫ গ্রাম গাজাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সোনামুখী এলাকার আব্দুর রাজ্জাক নামের আরও এক মাদক কারবারিকে ২১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তাদের বাড়িতে হেফাজতে থাকা মাদক জব্দ করা হয়। কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক তিনজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। এম এ মালেক/এসআর/এএসএম