রাজনীতি

হাদি হত্যা ও সাংস্কৃতিক লড়াই

লিটন আলী জুন ৯, ২০২৬ 0
হাদি হত্যা ও সাংস্কৃতিক লড়াই
শরীফ ওসমান হাদিকে

 


শরীফ ওসমান হাদিকে কাল্ট বানাতে যারা চেয়েছেন, তারা হাদিবিরোধী। ইনকিলাব মঞ্চ শুধু চেয়েছে হাদি হত্যার বিচার। জাবের হাদিকে পির হিসেবে দাবি করেননি; করেননি আসাদ ও ঝুমাও। হাদির মাজার বানাতে চায়নি কেউ। হাদির কবর মানুষ জিয়ারত করতে গেছে ভালোবাসা থেকে। আজও যায় সেই ভালোবাসা থেকেই। কিন্তু হাদি হত্যার বিচার চাওয়াকে যারা ভিন্ন নাম দিতে চেয়েছে, তারা মূলত ফ্যাসিজমের শিক্ষা থেকে তা চেয়েছে। ‘তাকে একটা খারাপ নাম দিয়ে দাও’—এটাই সেই শিক্ষা। তারা হাদির খারাপ নাম দিতে চেয়েছে।

এখন অনেকে বলছেন, হাদি-ব্যবসার ইতি ঘটেছে। মানুষ এখন হাদির নামে রাস্তায় বের হচ্ছে না। এটাও সেই ফ্যাসিজমের বয়ান। ফ্যাসিজমকালে মানুষ যখন দেখত, বিচার হচ্ছে না, আটকে গেছে, তখন তারা চুপ করে থাকত; আর বিচার না হওয়ার ক্ষোভটা বুকের ভেতর পুষে রাখত। এখনো তাই। একই কারণে তারা চুপ। সেই চুপ থাকা ক্ষোভ থেকেই চব্বিশের জুলাই শেষ হয়েছিল ছত্রিশ দিনে।


কাল্টের প্রধান মন্ত্র হলো ভয়। মানুষকে ধর্মের নামে, মতবাদের নামে ও ক্ষমতার দম্ভে ভয় দেখানো, যা করেছিল ফ্যাসিজম। ফ্যাসিজমের ধর্ম ছিল ‘চেতনা’। চেতনা’র নামে মানুষকে ভীত করে রেখেছিল। ভয়টাকে দারুণভাবে অ্যামপিফ্লাই করেছিল ফ্যাসিস্টরা। সেই চেতনার খারাপ নাম ছিল ‘রাজাকার’। মানুষকে সেই নামে ডেকে তাকে হত্যাযোগ্য করে তোলা হতো এবং শারীরিক, রাজনৈতিক কিংবা সামাজিকভাবে তাকে হত্যা করা হতো।

বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমও খারাপ নাম দেওয়ার কাজটা করছে। এই কাজটা করছে তারা ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশে গণমাধ্যমে দুটি গ্রুপ রয়েছে; একটার নেতৃত্বে এক ব্যবসায়ী গ্রুপ, আরেকটার নেতৃত্বেও তাই—‘কেউ কারে নাহি ছাড়ে, সমানে সমান।’ উল্টোদিকে দুটো কাল্টের মিল আবার ওই এক জায়গাতেই। তাদের কাল্টের তীর্থ সীমান্তের ওপারে। তাদের সব সাপোর্ট সেখান থেকেই। তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করলেও খারাপ নাম দেওয়ার বেলায় তারা এক গুরুর অনুসারী। একটা গ্রুপ একটু আর্টিস্টিক ওয়েতে তাদের কাজ-কারবার চালায়; আরেক গ্রুপ আর্টের ধারও ধারে না। ‘ধর তক্তা মার পেরেক’ জাতীয় অবস্থা।

এদের ফ্রেমিংয়ের ধরনটা অনেকটা এ রকম—ধরেন, কেউ একজন এনজিও কিংবা এমএলএম, অর্থাৎ মাল্টি-লেভেল মার্কেটিংয়ের নামে অথবা বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মানুষের টাকা আত্মসাৎ করল। তাকে যখন পাওনাদাররা ধরবে, তখন হবে ফ্রেমিং। সেই বাটপাড় যদি চেতনাপন্থি কেউ হন, তাহলে খবরের শিরোনাম হবে—‘ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা আদায়,’ কিংবা ‘সালিশের নামে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মব’! এই হলো ফ্রেমিং। অর্থাৎ ভালো কাজকেও ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে বিতর্কিত করা যায়। যৌক্তিক সালিশকেও, কিংবা বিক্ষোভকেও মব বানিয়ে দেওয়া যায়। এমন উদাহরণ অসংখ্য রয়েছে।


একইভাবে কালচারাল ফ্রন্ট রয়েছে কাল্টের অনুসারীদের। তারা মানুষের মৃত্যুতে কাঁদেন না, কাঁদেন গাছের মৃত্যুতে। তারা মানুষ পোড়ানোর ব্যথায় কাতর হন না, হন ভবন পোড়ানোর ব্যথায়। এমন ইতরদের দেখা পাবেন অহরহ। কালচারাল এই ফ্রন্ট মূলত স্টেজ তৈরির কাজ করে কাল্ট প্রসারে। যারা ‘চেতনা’ ছড়ানোর কাজ করেন, তারাও গণমাধ্যমের মতন ফ্রেমিং করেন। যেমন মানুষ পোড়ানোর বিষয়টিকে আড়াল করতে তারা স্টেজে হাজির করেন ভবন পোড়ানোর শোকগাথা। তারা সেই ভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তৈরি করেন। সেই গুরুত্বকে নানা নাটকের মাধ্যমে তারা স্টেজে প্রদর্শন করেন। এমন অসংখ্য নট-নটী দৃশ্যমান এখন। এরাও অসম্ভব নির্লজ্জ। হাদি হত্যার বিচার চাওয়ার ব্যাপারে বিরোধিতাপ্রবণ এই কালচারাল কাল্ট। হাদি যাদের বলতেন, কালচারাল ফ্যাসিস্ট, তারা অগ্রগামী। হাদি ছিলেন মূলত এই কালচারাল কাল্টের জন্য বিপজ্জনক। এই কালচারাল কাল্টটি চেতনার নামে বিষ-বটিকা খাওয়াচ্ছিল জাতিকে। হাদি তাতে বাদ সেধেছিলেন। এর ফলে তাদের ক্ষোভ গিয়ে পড়েছিল হাদির ওপর। ইনকিলাব মঞ্চের ওপর রাগ সে কারণেই। কারণ ইনকিলাব মঞ্চ হলো সেই বিষ তথা ভেনমের অ্যান্টি-ভেনম।

হাদি হত্যার বিচার চাওয়ার ধরন নিয়ে অনেকের আপত্তি রয়েছে। কেউ একে বাড়াবাড়ি কিংবা রাজনৈতিক চাল বলছেন। কিন্তু হাদি হত্যার বিচার চাওয়া ইনকিলাব মঞ্চের আলাপে কোনো রাজনৈতিক চাল ধরা পড়েনি। খুব সীমিত ক্ষমতা নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ সীমাহীন কাজ করেছে। তারা শুধু হাদি হত্যার বিচার চায়নি, আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিকে মূলধারায় প্রতিস্থাপনের কাজ করেছে। ঈদ মিছিল, ঘুড়ি উৎসব—এসবেরই ধারাবাহিকতা। যারা হাদি হত্যার বিচার প্রার্থনাকে খারাপ নাম দিতে চান, তারা কিন্তু আমাদের সংস্কৃতিকে মূলধারায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার কোনো পদক্ষেপই নেননি। প্রকাশ্যে তো নয়ই। তারা প্রকারান্তরে সেই কালচারাল কাল্ট তথা ফ্যাসিস্টদের আলাপেই সায় দিয়ে গেছেন নিজেদের অজান্তে। কালচারাল কাল্ট সেজন্যই অন্যের ধর্মীয় কালচারকে আমাদের মূলধারার কালচার বলে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস চালিয়েছে। সেই প্রয়াস এখনো চলমান।

ঈদুল আজহা গেল। কই গত বছরের মতন আনন্দপূর্ণ ঈদ মিছিল? কোথায় সেই ঈদ উৎসবের মুখরতা? বরং উল্টো ঈদের বিরোধিতা রয়েছে মৌনস্বরে। আগে যেমন পশুহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলা হতো। ঈদ এলেই একদল পশুপ্রেমীর দেখা মিলত। যারা বনের পশু নয়, মনের পশু কোরবানির কথা বলত বিফ কাবাব খেতে খেতে, বিফ কাবাবের সঙ্গে থাকত দামি কোনো মদিরা—সেই ছাগলগুলো এবারও একই কথা বলেছে, যা গত ঈদুল আজহায় বলতে সাহস পায়নি। এখানেই হাদি প্রাসঙ্গিক; হাদির কালচারাল ফাইট প্রাসঙ্গিক। জানি, কেউ কেউ হাদিকে ঈর্ষা করেন। ঈর্ষা করার কারণ, মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে আসা একটা তরুণ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের তরুণ তুর্কি হয়ে উঠবেন, এটা মেনে নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ঈর্ষা সেখান থেকেই। একই কারণে আমাদের জাতীয় কবি নজরুল তার সমসাময়িক অন্যদের ঈর্ষার পাত্র হয়ে উঠেছিলেন।

বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবীদের সেই একই ঈর্ষাজনিত কারণে মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না অনেকেরই। সব দলেই অনেক বৃদ্ধ আছেন, যারা তরুণদের কাছে সাহসে, যুক্তিতে ও বুদ্ধিতে হেরে গিয়েও জিতে যেতে চাইছেন রাজনৈতিক চালে। এটা যে ভুল চাল, যা তারা বুঝতে পারবেন কিছুদিন পরেই। পরবর্তী সময়ে জেনারেশন জেড এবং জেনারেশন আলফা যখন দেশের ভার হাতে তুলে নেবে, তখন এই বৃদ্ধরা এবং তাদের চিন্তা সত্যিকার অর্থেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে। জানি, আমাকেও এখন কেউ কেউ খারাপ নাম দিতে চাইবেন সেই ফ্যাসিস্ট কাল্টের শেখানো মতে। তারপরেও বলে যাই, এর আগেও বলেছিলাম—একটুও ভুল হয়নি, ফ্যাসিস্টদের বিদায় নিতে হয়েছে। যেভাবে ধারণা করেছিলাম, বলেছিলাম, সেভাবেই নিতে হয়েছে। আবার বলছি, লিখে রাখতে পারেন, ভীতু বৃদ্ধরা আগামী ইতিহাসের কাছে নিশ্চিত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবেন; হয়ে উঠবেন এ সময়ের খলনায়ক।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

রাজনীতি

View more
বন্যাদুর্গত এলাকা না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিশালে গেছেন বলে তাঁকে কটাক্ষ করেছেন: নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী
বন্যাদুর্গত এলাকা না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিশালে গেছেন বলে তাঁকে কটাক্ষ করেছেন: নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী

  দেশের মানুষ যখন বন্যায় মারা যাচ্ছে, গৃহপালিত পশু ডুবে যাচ্ছে, তখন বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিশালে গেছেন বলে তাঁকে কটাক্ষ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, ‘বন্যায় গরু ডুবে যাচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী সেখানে না গিয়ে গেলেন বরিশালে। এর আগের দিন উনি ঢাকা মেডিকেলে গেলেন, প্রিয় জুবাইদা রহমানের সঙ্গে সেলফি তুললেন।’ প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘বিয়ের আগে শুনেছি মানুষ প্রেম করে, প্রধানমন্ত্রীর আলহামদুলিল্লাহ বিয়ের পরে যে সুন্দর প্রেম, বাংলাদেশের মানুষ শুধু প্রেম দেখতে পাচ্ছে। আপনাকে আমরা ভোট দিয়েছি, আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বাংলাদেশের মানুষের সংস্কার বাস্তবায়ন করার জন্য, বিচার করার জন্য, আওয়ামী লীগের গুন্ডা-সন্ত্রাসীদের শায়েস্তা করার জন্য, বন্যাদুর্গত এলাকায় যাওয়ার জন্য—আপনাকে লাল বাসে ঘুরে ঘুরে প্রেম করার জন্য মানুষ প্রধানমন্ত্রী বানায় নাই।’ আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নওগাঁর বদলগাছী ডাকবাংলো মোড়ে এনসিপির দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনাদের সন্তানেরা যারা এইচএসসি পরীক্ষার্থী আছে, তারা সাঁতার কেটে গিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। এহছানুল হক মিলন, আমার এলাকার ভাই, উনি খুব সজ্জন ব্যক্তি, খুব সুন্দর ভাব দেখান। বাংলাদেশের মন্ত্রীরা এমন একটা ভং ধরে থাকে যে, সে সবচেয়ে ভালো লোক। আপনার সন্তান সাঁতার কেটে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে, তার সঙ্গে যে মা আছে, বাবা আছে—হাঁটু পরিমাণ রাস্তার পানির মধ্যে গর্তে পড়ছে। আপনার চোখে লজ্জা-শরম নাই?’ প্রথম বরিশাল সফরে গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিরপ্রথম বরিশাল সফরে গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সরকারের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সরকার যদি এইচএসসি পরীক্ষা এক দিন স্থগিত করত বা পরে নিত, তাহলে কী কোনো সমস্যা হতো। যিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন, উনি এসি রুমে বসে না থেকে যদি গিয়ে বলত যে—‘‘আমি তোমাদের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি বা এই পরিস্থিতি করে দিচ্ছি, যেখানে পানি সেখানে সেন্টার না করে অন্য জায়গায় সেন্টার দিয়ে দিচ্ছি’’, তাহলে শিক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারত।’ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনারা একটা ভবনের নাম শুনেছেন—হাওয়া ভবন। এই হাওয়া ভবনের যারা, তারা এখন বাংলাদেশে আইসা ক্ষমতায় বসেছে। এদের হাতে বাংলাদেশ, আমরা নিরাপদ মনে করি না। আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষাব্যবস্থা যদি ঠিক করতে হয়, তাহলে এদের থেকে বাংলাদেশকে মুক্তি দিতে হবে।’ জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাহফুজার রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমনসহ আরও অনেকেই বক্তব্য দেন।

News জুলাই ১৪, ২০২৬ 0
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যু: স্পিকারের নেতৃত্বে দোহা যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যু: স্পিকারের নেতৃত্বে দোহা যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল

চট্টগ্রামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলাকারীদের পাকড়াও করুন: জামায়াত আমির

চট্টগ্রামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলাকারীদের পাকড়াও করুন: জামায়াত আমির

সেনাবাহিনী বারবার দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে

সেনাবাহিনী বারবার দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে

জামায়াতের ফেসবুক পেজে সূরা মুমিনুনের ৪ আয়াত, কারণ কী
জামায়াতের ফেসবুক পেজে সূরা মুমিনুনের ৪ আয়াত, কারণ কী

  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার পবিত্র কোরআনের সূরা মুমিনুনের চারটি আয়াত পোস্ট করা হয়েছে। সূরাটির ২ থেকে ৫ নম্বর আয়াতে মুমিনদের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেছেন— ‘যারা নিজেদের নামাজে বিনয়-নম্র; যারা অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে; যারা যাকাত দান করে এবং যারা নিজেদের লজ্জাস্থানকে সংযত রাখে।’ এই চার আয়াত আসলে একজন মানুষের ব্যক্তিগত ইবাদত, সামাজিক আচরণ, অর্থনৈতিক দায়িত্ব এবং নৈতিক চরিত্র—সবকিছুর একটি পূর্ণাঙ্গ ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা দেয়। কোরআনে বলা হয়েছে, যারা এই গুণগুলো অর্জন করতে পারবেন, তারাই শেষ পর্যন্ত জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবেন। ২ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক তুলে ধরে মুফাসসিররা বলেছেন, কেবল যান্ত্রিকভাবে রুকু-সিজদা করার নাম নামাজ নয়। নামাজ পড়ার সময় মনকে দুনিয়াবি চিন্তা, ব্যবসা বা মোবাইল স্ক্রিন থেকে মুক্ত রাখা এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা এই গুণের অন্তর্ভুক্ত। মুমিন ব্যক্তি মনে করেন, তিনি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছেন এবং আল্লাহ তাকে দেখছেন। ৩ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক তুলে ধরে বলা হয়েছে, বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক, ট্রল করা, পরনিন্দা, অর্থহীন আড্ডা বা সময় নষ্টকারী বিনোদনে মেতে থাকা এর অন্তর্ভুক্ত। একজন সফল মুমিন নিজের সময়ের মূল্য বোঝেন এবং যা কোনো কল্যাণে আসে না, তা থেকে সযত্নে নিজেকে দূরে রাখেন। ৪ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক হলো, নিজের সম্পদের ওপর যখন গরিবের হক বা অধিকার তৈরি হয়, তখন তা স্বেচ্ছায় ও সঠিক নিয়মে অভাবী মানুষের হাতে তুলে দেওয়া। এটি একদিকে যেমন মানুষের মন থেকে কৃপণতা ও লোভ দূর করে আত্মাকে পবিত্র করে, অন্যদিকে সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে। ৫ নম্বর আয়াতের বাস্তব দিক হলো, আধুনিক সমাজে যেখানে পর্নোগ্রাফি, অবাধ মেলামেশা এবং অনৈতিক সম্পর্কের সুযোগ খুব সহজলভ্য, সেখানে একজন মুমিন নিজের চোখ, মন এবং চরিত্রকে আল্লাহর দেওয়া সীমানার ভেতরে ধরে রাখেন। বৈধ উপায়ের (বিবাহের) বাইরে সব ধরনের অনৈতিকতা থেকে নিজেকে রক্ষা করাই এর মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ ও প্রচারণায় পবিত্র কোরআনের আয়াত বা ধর্মীয় বার্তার ব্যবহার নতুন কিছু নয়। তাদের যেকোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা জনসমক্ষে এ ধরনের পোস্টের পেছনে রাজনৈতিক এবং আদর্শগত কয়েকটি দিক জড়িয়ে থাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ যেভাবে দেখে থাকেন, তা হলো—দলটির মূল রাজনৈতিক দর্শনই হলো সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা। ফলে, তাদের প্রচারণায় কোরআন-হাদিসের উদ্ধৃতি থাকাটা তাদের দলীয় পরিচিতিরই একটি স্বাভাবিক অংশ। এই ধরনের পোস্টের মাধ্যমে দলটি সমাজে নিজেদের একটি নৈতিকভাবে অবক্ষয়মুক্ত, সৎ ও সুশৃঙ্খল শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়, যা তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় তাদের আলাদা ভাবমূর্তি তৈরিতে সাহায্য করে। তাছাড়া, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে স্পর্শ করা এবং তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ধর্মীয় বাণী একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম। সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে যখন নৈতিক বা ধর্মীয় পোস্ট দেওয়া হয়, তখন তা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং দলের প্রতি এক ধরনের সফট কর্নার তৈরি করতে পারে।

News জুলাই ৯, ২০২৬ 0
বসবাসের অযোগ্য তালিকায় ঢাকা তৃতীয়, এখান থেকে বের হওয়া জরুরি'

বসবাসের অযোগ্য তালিকায় ঢাকা তৃতীয়, এখান থেকে বের হওয়া জরুরি'

বন্ধ কলকারখানা চালু করে ফের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী

বন্ধ কলকারখানা চালু করে ফের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী

‘মামলা করলে আবার মারব’এলজিইডি কর্মকর্তাকে বিএনপি নেতার হুমকি

‘মামলা করলে আবার মারব’এলজিইডি কর্মকর্তাকে বিএনপি নেতার হুমকি

১৬ আগস্ট কটিয়াদী যাবেন প্রধানমন্ত্রী
১৬ আগস্ট কটিয়াদী যাবেন প্রধানমন্ত্রী

  জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন তিনি কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা এলাকার একটি হ্যাচারি থেকে জাতীয় মৎস্য দিবস উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি সেরা মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করবেন। বুধবার (৮ জুলাই) রাতে বিষয়টি দেশের একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। তিনি জানান, জাতীয় মৎস্য দিবসের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান কটিয়াদীর আচমিতা এলাকার একটি হ্যাচারিতে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয়ভাবে দিবসটির উদ্বোধন করবেন এবং মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা সেরা মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফর সফল করতে প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

News জুলাই ৯, ২০২৬ 0
এটিএম বুথের নিরাপত্তারক্ষীকে উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

এটিএম বুথের নিরাপত্তারক্ষীকে উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

বহিষ্কারের পরেও যদি কেউ অপকর্ম করে সে দায় যুবদলের নয় : যুবদল সভাপতি

বহিষ্কারের পরেও যদি কেউ অপকর্ম করে সে দায় যুবদলের নয় : যুবদল সভাপতি

দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেনন গ্রেপ্তার

দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেনন গ্রেপ্তার

0 Comments