জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্রকে ৫:১০ অনুপাতে জবাব ইরানের, নিশানায় আরও ১০ ট্যাংকার

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রকে ৫:১০ অনুপাতে জবাব ইরানের, নিশানায় আরও ১০ ট্যাংকার
যুক্তরাষ্ট্রকে ৫:১০ অনুপাতে জবাব ইরানের, নিশানায় আরও ১০ ট্যাংকার

পারস্য উপসাগরে পাঁচটি ইরানি ট্যাংকারে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়াও হরমুজ প্রণালির ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ’ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা আরও ১০টি জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এ তথ্য জানিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানায়, পারস্য উপসাগরে পাঁচটি ইরানি ট্যাংকারের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনীর’ ‘আগ্রাসন ও দুষ্কর্মের’ জবাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। এই হামলায় মার্কিন ট্যাংকারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালির ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ’ এলাকা অতিক্রমের চেষ্টা করা আরও ১০টি জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, ইরানি বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে হরমুজ প্রণালি।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে ১৮  জুন একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে সম্মতিতে পৌঁছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস-এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা সকল ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

এনএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে এখন পর্যন্ত চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১১ হাজার ৮৭৩ জন আহত হয়েছে। এছাড়া আরও ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।

এদিকে, দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৬৯৩ জনের বেশি ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন আইডিএফ-এর সদস্য এবং ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক।

এছাড়া ইউএস সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাত চলাকালে ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং ৭৮৭ জন আহত হয়েছেন।

কেএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
এলএনজি আমদানি ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন
এলএনজি আমদানি ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদন

জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানির প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুটি করে মোট ১৮টি কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। প্রয়োজন হলে দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এর অতিরিক্ত কার্গো এলএনজিও আমদানি করা যাবে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এ প্রস্তাব উত্থাপন করে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। স্থানীয় সরকার বিভাগ এ প্রস্তাব উত্থাপন করে। এমএএস/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিল্পীদের মানববন্ধন

বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে শিল্পীদের মানববন্ধন

বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের বাংলাদেশের কবি ও কবিতা

বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের বাংলাদেশের কবি ও কবিতা

নকলায় পাখি শিকারের সরঞ্জামসহ ১০ বক উদ্ধার

নকলায় পাখি শিকারের সরঞ্জামসহ ১০ বক উদ্ধার

ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে উন্নত তথ্য ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা
ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে উন্নত তথ্য ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা

জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় উন্নত তথ্য ও বিশ্লেষণভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবস্থা সংযোজনের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে অগ্রিম যাত্রী তথ্য, যাত্রী নামের নথি, ই-ভিসা, ই-ভ্রমণ অনুমোদন এবং সার্বভৌম তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা সংযোজনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা সংযোজনের লক্ষ্যে ভিন্ন ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরাসরি চুক্তি সম্পাদনের জন্য সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮(২) ধারার আওতায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রস্তাব উত্থাপন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এমএএস/এমএএইচ/

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
কথার আঘাতও আত্মহত্যার কারণ হতে পারে, দরকার সহনশীলতা

কথার আঘাতও আত্মহত্যার কারণ হতে পারে, দরকার সহনশীলতা

ক্যাফেতে অসামাজিক কার্যকলাপ, ৪ তরুণ-তরুণীসহ আটক ৫

ক্যাফেতে অসামাজিক কার্যকলাপ, ৪ তরুণ-তরুণীসহ আটক ৫

সিলেটে শিকল বেঁধে তরুণীকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল

সিলেটে শিকল বেঁধে তরুণীকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল

ওয়ানডে অভিষেকেই ১৫০ রান, বিশ্ব রেকর্ড ছুঁলেন হারমান
ওয়ানডে অভিষেকেই ১৫০ রান, বিশ্ব রেকর্ড ছুঁলেন হারমান

১২৬ বলে ১৫০ রান। ১৭টি চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা।উইন্ডহুকে আজ নামিবিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ইনিংসটা যিনি খেলেছেন, তাঁর নাম জর্ডান হারমান।ওয়ানডে ইতিহাসে এর চেয়ে বড় ইনিংস অগুনতি। কিন্তু এই ইনিংস দিয়ে ২৪ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার হারমান ঢুকে গেলেন ইতিহাসের পাতায়। ওয়ানডেতে যে আজই অভিষেক হলো হারমানের! আর তাতেই হারমান ছুঁয়ে ফেললেন ওয়ানডে অভিষেকের সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড!মজার ব্যাপার হলো, এই রেকর্ডের ভাগীদার অন্য কেউ নন, তাঁরই সতীর্থ ম্যাথু ব্রিটজকে। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে ১৪৮ বলে ঠিক ১৫০ রানের এক ইনিংস খেলে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন ব্রিটজকে।জর্ডান হারমানটস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য খুব ঝোড়ো ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার। সপ্তম ওভারেই হারায় ইস্টারহুইজেনকে। এরপর হারমান আর ডি জর্জি মিলে নামিবিয়ার বোলিং ধ্বংস করে দেন। দুজনে মিলে যোগ করেন ১৬৬ বলে ১৯০ রান। হারমান সেঞ্চুরি করেন ৯৩ বলে। দলকে ২১৭ রানে রেখে ডি জর্জি (৮৪ বলে ৭২ রান) ফিরলেও হারমানের ব্যাট থামেনি। ডেভাল্ড ব্রেভিসকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৫৯ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত আউট হন ১২৬ বলে ১৫০ রান করে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে হারমানের এটি পঞ্চম সেঞ্চুরি। এ প্রতিবেদন লেখার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ হয়ে গেছে, ৫০ ওভারে তারা তুলেছে ৬ উইকেটে ৩৪৮ রান।কাউন্টিতে নতুন গল্প লিখছেন হাসান–খালেদব্রিটজকের আগে এই রেকর্ডের চূড়ায় ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ডেসমন্ড হেইন্স। ১৯৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অ্যান্টিগা রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে ১৩৬ বলে ১৪৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটসম্যান।হেইন্সের সেই কীর্তি অক্ষত ছিল প্রায় সাড়ে চার দশক। ব্রিটজকের রেকর্ডে ভাগ বসল দেড় বছরেই।কেন্টে হাসানের সাফল্যের রহস্য কী

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
টাইগারদের সামনে ঠাসা সূচি, পেসারদের নিয়েই যত দুশ্চিন্তা

টাইগারদের সামনে ঠাসা সূচি, পেসারদের নিয়েই যত দুশ্চিন্তা

রহস্য বাড়াচ্ছে ১৭ কোটি টাকার আংটি, গোপনে সেরেছেন বিয়ে

রহস্য বাড়াচ্ছে ১৭ কোটি টাকার আংটি, গোপনে সেরেছেন বিয়ে

আধুনিকায়ন করা হবে বেনাপোল স্থলবন্দর, ২৭৭ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন

আধুনিকায়ন করা হবে বেনাপোল স্থলবন্দর, ২৭৭ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন

0 Comments