জাতীয়

সরকার উদ্যোগ নিলে ক্যানসার চিকিৎসা সহজলভ্য করা সম্ভব—রেজা সেলিম

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
সরকার উদ্যোগ নিলে ক্যানসার চিকিৎসা সহজলভ্য করা সম্ভব—রেজা সেলিম
সরকার উদ্যোগ নিলে ক্যানসার চিকিৎসা সহজলভ্য করা সম্ভব—রেজা সেলিম

বাংলাদেশে গ্রামে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে যাওয়া এবং এ নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে চর্চা করার পুরোধা ব্যক্তি রেজা সেলিম। আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন ‘উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি’ ধারণায়। প্রথম আলোর মুখোমুখি হয়েছেন আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প ও আমাদের গ্রাম ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক রেজা সেলিম। তিনি গ্রামে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার, ক্যানসার প্রতিরোধে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, জ্ঞানমেলা ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন। ঢাকার ইকবাল রোডে আমাদের গ্রামের ঢাকা সমন্বয় অফিসে ৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পল্লব মোহাইমেন

আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প দিয়ে শুরু। শুরুর কথা কিছু বলুন।

রেজা সেলিম: আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প বা আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট। ২০০০–০১ সালের দিকে আমাদের যে ভিশন ছিল মানুষের কাছে তথ্যপ্রযুক্তি প্রচারিত হোক এবং তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধাগুলো যাতে সাধারণ মানুষ পায়। অবকাঠামোর চিন্তা একদিকে, আরেকটা চিন্তা ছিল কম্পিউটার মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুবিধা কীভাবে দেওয়া যায় আর তা সাশ্রয়ী উপায়ে। আপনার তো মনে আছে, তখন কম্পিউটার মানে অনেক দাম। ইন্টারনেট ছিল ডায়ালআপ (টেলিফোনের মাধ্যমে)। এই খরচগুলো কীভাবে কমানো যায়, কী বুদ্ধিতে এটাকে এই সাশ্রয়ী রাখা যায়—এসব চিন্তা নিয়েই তো উন্নয়ন। মূল ফোকাস ছিল ই–রেডিনেস। কারণ, আমরা বুঝতে পারছিলাম যে তথ্যপ্রযুক্তির বিশাল সম্ভাবনা আছে।

তথ্যপ্রযুক্তির বিশাল সম্ভাবনা আছে, তা বুঝলেন কীভাবে?

রেজা সেলিম: সে সময় একটা বিতর্ক ছিল, কম্পিউটারের সম্ভাবনা কি শুধু করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, না এটি সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছাবে। ২০০০ সালে জাপানের ওকিনাওয়াতে বিশ্বের ক্ষমতাশালী আটটি দেশের জি–৮ সম্মেলন হয়। এখানে ডট ফোর্স (ডিজিটাল অপরচ্যুনিটি টাস্কফোর্স) গঠন করা হয়। ওকিনাওয়া ঘোষণায় পৃথিবীর আটটি বড় ধনী দেশ তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের প্রস্তাবে এবং জাপানের সমর্থনে একটা সিদ্ধান্ত হয়। ডিজিটাল প্রযুক্তি মানে তথ্যপ্রযুক্তির যে সম্ভাবনা, সেটা উন্নয়নের জন্য হবে। তখনো কারও কাছে ধারণাটা পরিষ্কার ছিল না। প্রযুক্তিবিদদের কাছেও পরিষ্কার ছিল না। এটা মানুষের জন্য (প্রো–পিপল); অর্থাৎ মানুষকেন্দ্রিক করার জন্য বিতর্ক শুরু হয়। এই ডিজিটাল অপরচ্যুনিটি টাস্কফোর্স করে বলা হয় যে ২০০১ সালের জি–৮ সম্মেলনে (ইতালির রেনোয়া শহরে) একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। ডট ফোর্সের সচিবালয় ছিল বিশ্বব্যাংকে। পৃষ্ঠপোষক ছিল কানাডা। জি–৮–এর কনসালটেশনে আমি যুক্ত ছিলাম। প্রথমে কানাডায় জিকে-১ (গ্লোবাল নলেজ) ও পরে মালয়েশিয়ায় জিকে–২ বৈঠক হয়। সেই বৈঠক দুটিতে ‘উন্নয়নের জন্য আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি) ’ ধারণার সুপারিশ করা হয়। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জাতিসংঘের যুক্ততা প্রয়োজন ছিল। তাই জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়। তারপর জাতিসংঘের তথ্যসমাজ শীর্ষ সম্মেলন (ডব্লিউএসআইএস) হয় ২০০৩ সালে জেনেভায় ও ২০০৫ সালে তিউনিসে। জিকেপির দক্ষিণ এশিয়ার সমন্বয়কারী হিসেবে ও বাংলাদেশ সরকারের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম। বিষয়টা জানতাম, এ কারণে ২০০১ সাল থেকে আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প করা সহজ হয়েছে।

আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প রামপালে কেন?

রেজা সেলিম: রামপাল যাওয়ার মূল কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মাহমুদুল হক। তাঁর গ্রাম বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা। সেখানে আর আমার বাড়ি কুমিল্লার গ্রামে কাজ শুরু করলাম। তারপর দেখলাম, কুমিল্লার গ্রাম বাগেরহাটের গ্রামের চেয়ে তুলনামূলক অগ্রসর। তাই বাগেরহাটের রামপালই বেছে নিলাম। রামপাল ঢাকা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে, তখন ২০০০ সালের দিকে যশোর-খুলনা হয়ে সেখানে যেতে সময় লাগত ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা।

শুরুতে আপনারা কম্পিউটারে কী কী করতেন?

রেজা সেলিম: ডেটা এন্ট্রি করে ডেটাবেজ করতাম। এতে গ্রামের একটা ডেটাবেজ তৈরি হলো। কোথায় কী আছে, স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন তথ্যের ডেটাবেজ। ছেলে–মেয়েরা তখন কম্পিউটার শিখতে আসত। এক্সেল, ওয়ার্ড শিখত। মাইক্রোসফট অ্যাকসেস শিখে ওরা ওদের নিজেদের পরিবারের নিজেদের প্রতিবেশীদের ডেটা নিয়ে আসত। একটা নির্দিষ্ট ফরম্যাটে সে ডেটা নিয়ে ওরা এন্ট্রি করতে এবং অনুশীলন করে শিখত। ফলে আমাদের একটা বড় ডেটাবেজ তৈরি হয়। এই ডেটা থেকে নিয়ে আমরা জ্ঞানকেন্দ্রে বা নলেজ সেন্টারের ধারণা উন্নয়ন করি। স্কুলেও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিতাম। তথ্যপ্রযুক্তি–সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য স্কুলগুলোকে ল্যাবরেটরি করে দিতে সহায়তা করতাম। কম্পিউটার শিক্ষক এনে দিতাম। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া—পুরো আন্দোলনটাই এভাবে হয়েছে। সবাই যেন কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে, এটাই ছিল উদ্দেশ্য। বাবা–মায়েদের বোঝাতাম কম্পিউটারের গুরুত্ব। তরুণ ছেলে–মেয়েদের তখন ধারণা হলো, হয়তো কম্পিউটারে শিখলে একটা চাকরি হবে। কারণ, তখন কম্পিউটার টাইপরাইটারকে প্রতিস্থাপন করেছে। আমরা এর আরও যে সুবিধা–সম্ভাবনা আছে, সেটা মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

আমাদের গ্রাম ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারের সামনে রেজা সেলিম

ক্যানসার রিসার্চ সেন্টার করতে গেলেন কেন?

রেজা সেলিম: আমি দীর্ঘদিন হেলথ কমিউনিকেশন নিয়ে কাজ করেছি। আমার ব্যক্তিগত উৎসাহ ছিল স্বাস্থ্যতথ্য নিয়ে। গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যগত তথ্যও আমরা জোগাড় করেছি। ফলে আমাদের কাছে একটা স্বাস্থ্যতথ্যের একটা ডেটাবেজও গড়ে ওঠে। এ ধরনের তথ্য পাওয়া এবং এগুলোকে গবেষণার ছকে বিশ্লেষণ করে মানুষকে সহায়তা করা যায় কি না, এ চিন্তা থেকেই আমরা রামপালে স্তন ক্যানসার সেন্টারে নিরীক্ষার কাজ শুরু করি। ইন্টারনেটে ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ রিচার্ড লাভের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি আসেন, বাংলাদেশে আমাদের কার্যক্রম দেখেন। দেখার পর তিনি আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বললেন, ‘এই কাজে আমি তোমাদের সঙ্গে থাকতে চাই।’ ২০০৬ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে স্তন ক্যানসার প্রকল্পটা শুরু হয়। রামপাল থেকেই ঢাকা ও যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকেরা যুক্ত হতেন ভিডিও কনফারেন্সে। ভিডিও কনফারেন্সের জন্য বিটিসিএলের সহায়তা পেয়েছি। ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ৩০ হাজার নারীর তথ্য আছে আমাদের ইএমআরে (ইলেট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড)। আলট্রাসাউন্ডের ছবিও আছে। এই ইএমআরে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মানা হয়। রোগীর সম্মতিও নেওয়া হয়। সরকারি বা গবেষণার কাজে বিএমআরসির (বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল) নৈতিক নিয়ম অনুযায়ী পুরো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি মেনে ইএমআর দেওয়া হয়। ইএমআর সফটওয়্যার তৈরি করেছে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট তাদের ভিডিও কনফারেন্সিং–সুবিধা আমাদের ব্যবহার করতে দেয়। মাইক্রোসফট করপোরেশন সফটওয়্যার প্রযুক্তি দিয়ে আমাদের সহায়তা করে। ফলে রামপালের গ্রামের নারীও বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা পান।

স্তন ক্যানসার কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার কারণ ২০১২ সালে অসংক্রামক রোগনির্ণয় ও ক্যানসার রিসার্চ সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৪ সালে জমি পাই রামপালেই। এটা কিন্তু কোনো ক্যানসার হাসপাতাল নয়, ক্যানসারসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করার একটি সমাজভিত্তিক স্বাস্থ্য গবেষণাগার। ২০২৫ সালে এটা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। এই অক্টোবরে এর পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে বড় শহরের হাসপাতালে রোগীকে যাতে যেতে না হয়, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য। আর টেলিমেডিসিন–সুবিধা পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে। আমাদের এখানে ক্যানসার প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করে কেমোথেরাপি পর্যন্ত দেওয়া হবে। রেডিওথেরাপি ব্যয়বহুল, তাই পরে যুক্ত হতে পারে।

আপনার গ্রাম তো কুমিল্লায়, বাগেরহাট গেলেন কেন?

রেজা সেলিম: অধ্যাপক মাহমুদুল হকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে। অপেক্ষাকৃত দুর্গম ছিল রামপাল। আজ থেকে ৩২ বছর আগে যখন আমরা কাজ শুরু করেছি, তখন এখানে শিক্ষার হার ছিল ২৯ শতাংশ। এখন ৭০ শতাংশের বেশি। কুমিল্লায় আমার নিজের গ্রামের সঙ্গেও আমি গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

তখন এবং এখন কী পরিবর্তন দেখেন আপনাদের কাজে?

রেজা সেলিম: প্রথম ও এখনো একটা স্বপ্নের তাড়না কাজ করছে। যখন এখানে (রামপাল) ই–মেইল চালু হলো, তখন মানুষ বিশ্বাসই করেনি যে কোনো চিঠি তাৎক্ষণিকভাবে, মানে এখনই ঢাকায় যাবে। এটা তাদের কাছে বিস্ময় ছিল। আমরা একবার এসএমএস পাঠানোর কর্মশালা করেছিলাম। এক ঘণ্টার একটা কর্মশালা। ওই একবারই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এরপর তারাই অন্যদের শিখিয়েছে। আমাদের গ্রামের ৩০ হাজার ক্যানসারের যে রোগী, তাদের মধ্যে চার থেকে সাড়ে চার হাজার রোগীর সঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবে ছিলাম। এত রোগী দেখে যা বুঝেছি, আমাদের এখানে চিকিৎসায় ভয়ের (ফিয়ার) মডেল দেখানো হয়। সঠিকভাবে ও সঠিক সময়ে ক্যানসার নির্ণয় করলে বেশির ভাগ রোগী ভালো হয়। প্রতিরোধযোগ্য রোগকে আগেই প্রতিকার করা যায়। আমাদের সরকারের উচিত প্রতিবছর নারীদের স্তন ক্যানসার ও জয়ায়ুমুখের ক্যানসার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা। ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে রক্তের সিবিসি ও চেস্ট এক্স–রে করা। রক্তের সিবিসি ও চেস্ট এক্স–রে করতে একেকজনের এক হাজার টাকা করে খরচ হবে। ক্যানসার চিকিৎসা সহজলভ্য ও সহজগম্য করা সম্ভব। এটা আমার অভিজ্ঞতা থেকে বুঝি। অন্য রোগের বেলাতেও একই কথা। উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের দাম কিন্তু বেশি নয়। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে কম বয়সে উচ্চ রক্তচাপ বাড়ছে। অনেকেরই কম বয়সে স্ট্রোক করে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে থাকছে। লবণপানির এলাকায় এসব নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হওয়া উচিত।

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করছি, এখন এআইও ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০ বছর হলো মাইক্রোসফট আমাদের সহায়তা করছে, আমাদের সঙ্গে আছে। বাংলাদেশে যেখানে চিকিৎসকেরা রোগী দেখেন দুই–তিন মিনিটে, সেখানে আমাদের গ্রাম সেন্টারে রোগীর সঙ্গে চিকিৎসক কমপক্ষে এক ঘণ্টা কথা বলেন। আপনি যদি ভালো করে রোগীর সব তথ্য না জানেন, তাহলে কেমন করে সঠিক চিকিৎসা দেবেন? অনলাইনেও আমরা চিকিৎসাসেবা দিই। ভার্চ্যুয়াল কেয়ার এই দেশে সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবার অন্যতম মডেল হতে পারে, তার নমুনা আমরা এরই মধ্যে তৈরি করেছি। এসবই আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার করে গ্রামের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া আমার কাছে একটি মায়ার জগৎ হয়ে ধরা পড়েছে।

জ্ঞানমেলার আয়োজন হতো একসময়। জ্ঞানমেলার শুরুটা কীভাবে? কত বছর করেছেন? এখন কেন হয় না?

রেজা সেলিম: জ্ঞানমেলার শুরুটা ২০০৪ সালে রামপালের শ্রীফলতলা হাইস্কুলের মাঠে।। প্রথম মেলায় বিটিআরসির প্রথম চেয়ারম্যান সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ এসেছিলেন। ২০২২ সাল পর্যন্ত করেছি। এ বছর আবার হবে আশা করি। মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা আসতেন এ মেলায়। গ্রামের মানুষের ওপর তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাবটা বোঝা যেত মেলায়। দুপুরের পর গ্রামের নারী, মেয়েদের ঢল নামত। কিন্তু একটাও ইভ টিজিংয়ের ঘটনা ঘটেনি। আমরা জ্ঞানমেলায় স্কুল ও স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের যুক্ত করতাম। শিক্ষকেরাই আয়োজক কমিটিতে থাকেন। রামপালের মানুষ অন্য অনেক এলাকার চেয়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ভালো করে। গ্রামের অনেক তরুণ আউটসোর্সিংয়ের কাজ করেন। শ্রীফলতলা হাইস্কুল মাঠেই আমরা ১০টি জ্ঞানমেলা করেছি।

রামপালে সহকর্মীদের সঙ্গে রেজা সেলিম

আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার কম। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে। এটাকে কীভাবে বাড়ানো যায়? আর কোনটা গ্রহণ করা উচিত, কোনটা নয়?

রেজা সেলিম: জাতিসংঘের প্রথম তথ্যসমাজ শীর্ষ সম্মেলনে (২০০৩) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ছিল। দ্বিতীয় সম্মেলনে (২০০৫) মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের ভালো ভূমিকা ছিল। কিন্তু পরে অনেক কাজে ওভারল্যাপিং হয়েছে। যত বেশি অবকাঠামো করেছি আমরা, তত সুবিধা পায়নি মানুষ। একটা দেশে কিন্তু মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহার কিছু নয়। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট দরকার। সারা দেশে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক আছে, কিন্তু ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নেই। তারপর ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে ট্যাব দেওয়া হয়েছে, তারপর সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। শত শত অ্যাপ তৈরি হয়েছে, কিন্তু বেশির ভাগেরই ব্যবহার নেই বা কার্যকারিতা নেই। বেশির ভাগ মানুষ এখনো গ্রামে থাকে। আশা করি সরকার গ্রামে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেবে। শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, জনসেবার সব খাতেই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার গ্রামমুখী হওয়া দরকার।

আমাদের গ্রাম ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারে ক্যানসারের চিকিৎসা পুরোপুরি হবে?

রেজা সেলিম: প্রথম দিকে হয়তো সব চিকিৎসা হবে না, তবে রোগনির্ণয় হবে। কেমোথেরাপি দেওয়া হবে। আপাতত রেডিওথেরাপি দেওয়া যাবে না। আমরা চেষ্টা করছি এবং সরকারের সহযোগিতা চেয়েছি। খুলনা বিভাগেই কোনো রেডিওথেরাপি নেই। বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে রেডিওথেরাপির এই সংকট উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য অন্তত ১টি করে রেডিওথেরাপি মেশিন থাকা প্রয়োজন। সেই হিসাবে ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে কমপক্ষে ১৭০ থেকে ২০০টি রেডিওথেরাপি মেশিন দরকার। কিন্তু বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে সচল ও অচল সব ধরনের মেশিন হিসাব করলে এর সংখ্যা ৩০–এর মতো হবে।

আমাদের গ্রামের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

রেজা সেলিম: প্রথমত, মানুষকে রোগের ভয়ভীতি থেকে মুক্তি দেওয়া। দ্বিতীয়ত, মানুষ যেন তার বাড়িতে বসে বা গ্রাম থেকে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা পায়, এটা নিশ্চিত করতে চাই। তাকে যেন অকারণে বা ছোটখাটো অসুখে কোনো বড় হাসপাতালে, বড় চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে না হয়। আমরা তার রোগ নির্ণয় করে দেব। তৃতীয়ত, সরকারের ওপর চাপ কমানো। বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীরা প্রয়োজন ছাড়া না গেলে এমনিতেই চাপ কমবে। চিকিৎসার খরচ কমানোর চেষ্টা করা এবং ধারাবাহিক গবেষণা করে দেখা যে কী করে চিকিৎসা ব্যয় কমানো যায়। এর মাধ্যমে যে ডেটা তৈরি হবে, এই ডেটাগুলো দিয়ে একটা বড় ডেটা ডিপোজিটরি হবে। ডেটা ব্যাংকের মতো—যেটি দিয়ে আমাদের দেশের শিক্ষিত সমাজ, চিকিৎসক সমাজ, চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা সহায়তা পাবে। আর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটা হাব হিসেবে কাজ করবে।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

রেজা সেলিম: আপনাকেও ধন্যবাদ।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিমের বাড়িতে শোকের মাতম
চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিমের বাড়িতে শোকের মাতম

চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের বাড়িতে মাতম চলছে। দুপুরের দিকে তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহত তাসনিম রিফায়াতের বাবার নাম আসাদুল হক। তাদের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে রিফায়াত ছিলেন মেজ। প্রায় ১২ বছর ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন তাসনিম রিফায়াত। তার আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাত ৯টায় চট্টগ্রাম সেনানিবাসে তাসনিম রিফায়াতের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ ঢাকায় নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আরও পড়ুন ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত   নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাতের ছোট ভাই শামসাদ আহমেদ বলেন, এর আগেও একই ট্যাংকে একই ধরনের দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছিলেন। ঘটনার আগের দিন রিফাত ওই ট্যাংকে ফায়ারিং করেছিলেন। পরদিন সেখানে বিস্ফোরণে দুজন নিহত হন। আগের ঘটনাটি গোপন রাখা হয়েছিল বলেও তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, “এসব ঘটনায় রিফাতের মধ্যে সবসময় ভয় কাজ করত। তিনি ভিডিওকলের মাধ্যমে কর্মস্থলের বিভিন্ন বিষয় পরিবারকে দেখাতেন এবং ঝুঁকির কথা বলতেন। এমনকি চাকরি নিয়েও তিনি ভীত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘আমার সঙ্গে এমন কিছু হলে হয়তো আমার অস্তিত্বও থাকবে না’। এ কারণে তিনি চাকরি করতে না চাওয়ার কথাও একাধিকবার জানিয়েছিলেন।” ছেলের শোকে বাকরুদ্ধ বাবা আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। এখন আর চাওয়ার কিছু নেই, ছেলের জন্য সবার কাছে শুধু দোয়া চাই।’ এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুইজন সৈনিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। মনির হোসেন মাহিন/এসআর  

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
এআই যুগে আশির দশকে ফেরা

এআই যুগে আশির দশকে ফেরা

সাভারে এসআই আলতাব হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার আরও ৩ আসামি পাঁচ দিনের রিমান্ডে

সাভারে এসআই আলতাব হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার আরও ৩ আসামি পাঁচ দিনের রিমান্ডে

আমার বাবা ও ভাই মুক্তিযোদ্ধা, আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলায় জুলাই আন্দোলনে অংশ নিই: জেরায় সাক্ষী

আমার বাবা ও ভাই মুক্তিযোদ্ধা, আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলায় জুলাই আন্দোলনে অংশ নিই: জেরায় সাক্ষী

স্নায়ুতন্ত্রের জটিল রোগ অ্যাটাক্সিয়া কেন হয়, লক্ষণগুলো কী, প্রতিরোধের উপায়
স্নায়ুতন্ত্রের জটিল রোগ অ্যাটাক্সিয়া কেন হয়, লক্ষণগুলো কী, প্রতিরোধের উপায়

অ্যাটাক্সিয়া স্নায়ুতন্ত্রের একটি সমস্যা। হাঁটার সময় বারবার ভারসাম্য হারানো এবং হাত দিয়ে কোনো কিছু ধরতে গেলে লক্ষ্যচ্যুত হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় এ রোগে। অ্যাটাক্সিয়া রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করতে পারলে এবং দ্রুত চিকিৎসা নিলে রোগী সুস্থ হয়ে যেতে পারেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও নিয়মিত থেরাপির মাধ্যমে এই রোগের প্রকোপ কমানো যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে শুরুর দিকে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হয়।অ্যাটাক্সিয়া হলে মানুষের সমন্বয়ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায় এবং চলাফেরা ও শারীরিক কাজগুলো করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থা জিনগত কারণ, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি বা ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ই বা থায়ামিনের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবের কারণে হতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য রাখায় ব্যাঘাত ঘটায়।অ্যাটাক্সিয়া কত ধরনেরকয়েক রকম অ্যাটাক্সিয়া আছে। সেরেবেলার অ্যাটাক্সিয়া হলে মস্তিষ্কের সেরেবেলাম অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে হাঁটার সমস্যা, হাতের লেখা ও ভারসাম্য হারিয়ে যায়। সেন্সরি অ্যাটাক্সিয়া স্নায়ুতন্ত্রের সেন্সরি অংশের সমস্যা। যেমন পায়ের পেশি বা ত্বকে অনুভূতি হারিয়ে গেলে এ ধরনের অ্যাটাক্সিয়া হয়। এতে রোগী ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলেন। বিশেষ করে হাঁটার সময় চোখ বন্ধ হয়ে যায়।মস্তিষ্কের গতি নিয়ন্ত্রণের অংশে সমস্যা হলে দেখা দেয় মোটর অ্যাটাক্সিয়া। এর ফলে শারীরিক গতি ও দক্ষতা কমে যায়। সেরেবেলার ও সেন্সরি অ্যাটাক্সিয়া সাধারণত জেনেটিক বা জন্মগত কারণে হয়। এ ছাড়া ভিটামিন ই, বি১২ বা থায়ামিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতির সঙ্গে এই রোগ যুক্ত। আবার কোনো নির্ধারিত কারণ ছাড়াই হতে পারে, যাকে স্পোরাডিক অ্যাটাক্সিয়া বলে।কেন হয়, লক্ষণগুলো কীজেনেটিক বা বংশগত কারণ: জিনগত মিউটেশন যা সেরিবেলাম, স্নায়ু বা পেশির গঠন ও এর কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। অজ্ঞাত কারণ: উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অ্যাটাক্সিয়া, যেমন ফ্রাইডরিখের অ্যাটাক্সিয়া। পুষ্টিগত ঘাটতি: ভিটামিন বি১, বি১২, ভিটামিন ই। টক্সিক: বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ যেমন অ্যালকোহল ও ভারী ধাতু, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।অ্যাটাক্সিয়ার সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে এলোমেলো হাঁটা, লেখা বা জামার বোতাম লাগানোর ক্ষেত্রে অদক্ষতা; চলাচলে সমস্যা, বিশেষ করে হাত বা পায়ের ঝাঁকুনি; পেশিশক্তির দুর্বলতা; কথা জড়িয়ে যায়; গিলতে অসুবিধা হয়; চোখ অস্বাভাবিক নড়াচড়া করে; ইচ্ছাকৃত কম্পন বা ক্লান্ত বোধ করা।প্রতিরোধের উপায় অ্যাটাক্সিয়া একটি জটিল স্নায়বিক অবস্থা, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিত করা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত থেরাপি রোগীর জীবনমান উন্নত করতে সাহায্য করে। পুষ্টির ঘাটতিজনিত অ্যাটাক্সিয়া খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সঠিকভাবে পরিকল্পিত খাদ্য ব্যবস্থাপনা উপসর্গ উপশম করতে, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং অবস্থার অবনতি রোধ করতে সাহায্য করে।ডা. হারাধন দেবনাথ, অধ্যাপক, নিউরোসার্জারি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
পদ্মার পানি বাড়ায় আলোর পাঠশালায় পরিবার নিয়ে তিন শিক্ষার্থীর আশ্রয়

পদ্মার পানি বাড়ায় আলোর পাঠশালায় পরিবার নিয়ে তিন শিক্ষার্থীর আশ্রয়

বিজিবি ক্যাম্পে ঢুকে হুমকি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, বিএনপির ৪ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৬

বিজিবি ক্যাম্পে ঢুকে হুমকি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, বিএনপির ৪ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৬

পুলিশ পরিচয়ে ভ্যান ছিনতাই, ঋণের চাপে দিশাহারা বৃদ্ধ দম্পতি

পুলিশ পরিচয়ে ভ্যান ছিনতাই, ঋণের চাপে দিশাহারা বৃদ্ধ দম্পতি

আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা
আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা

২৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের জন্য (আইজেএসও ২০২৬) বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হয়েছে। ছয় সদস্যের এ দলের সঙ্গে আরও রয়েছেন একজন দলনেতা এবং দুজন উপদলনেতা। আগামী ২ থেকে ৯ ডিসেম্বর বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় ২৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হবে। আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৮ আগস্ট রাজধানীর উত্তরার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইউবিএটি) ১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের (বিডিজেএসও) জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ দল গঠন করা হয়েছ। যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ)।আইজেএসও দলের সদস্যরা হলো ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবরার জাহিন, সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহমেদ সাদ, এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাজী সুনেহরা ইসলাম, সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাইফান হায়দার, এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজানা মানহা ও ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাশওয়ান হক।আইজেএসও দলের প্রধান দলনেতা হিসেবে রয়েছেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। সহকারী দলনেতা হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের সমন্বয়কারী ও সমিতির জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম অফিসার মো. রেজাউল ইসলাম এবং একাডেমিক সমন্বয়কারী ফারজানা আক্তার।বাংলাদেশ দলের ৬ শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের জন্য প্রস্তুত করতে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ধানমন্ডির মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগারে (ম্যাসল্যাবে) শুরু হবে বিশেষ প্রস্তুতিমূলক ক্যাম্প।

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, মাদরাসা শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, মাদরাসা শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

এসএসসিতে মাত্র এক বিষয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর জিপিএ ৪.৯৪, তদন্তে কমিটি

এসএসসিতে মাত্র এক বিষয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর জিপিএ ৪.৯৪, তদন্তে কমিটি

কোমর থেকে পায়ে অসংখ্য গুলি লাগে নূরুল্লাহর, মেনন-কামরুলের শাস্তি দাবি

কোমর থেকে পায়ে অসংখ্য গুলি লাগে নূরুল্লাহর, মেনন-কামরুলের শাস্তি দাবি

0 Comments