জাতীয়

যে কাজ করছি, সেটিই কি আসলে আমাদের কাজ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
যে কাজ করছি, সেটিই কি আসলে আমাদের কাজ
যে কাজ করছি, সেটিই কি আসলে আমাদের কাজ

পৃথিবীতে মানুষের আসার পেছনে কোনো না কোনো উদ্দেশ্য আছে বলে আমাদের মধ্যে অনেকেই বিশ্বাস করি। কেউ মনে করেন, জীবনের গতিপথ আগে থেকেই নির্ধারিত। আবার কেউ মনে করেন, চলার পথের অভিজ্ঞতা, পছন্দ ও সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই মানুষ ধীরে ধীরে পৃথিবীতে নিজের পথ তৈরি করে। তবে একটি বিষয় স্বীকার করতেই হবে—প্রত্যেক মানুষের স্বভাব, আগ্রহ, প্রতিভা ও পৃথিবীকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা।

কিছু মানুষকে দেখলে মনে হয়, তাঁরা যে কাজটি করছেন, সেটি যেন তাঁদের জন্যই তৈরি। স্টিভ জবস, ডলি পার্টন কিংবা অ্যান্থনি বোর্দেইনের কথাই ধরা যাক। তাঁদের অন্য কোনো সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় কল্পনা করা কঠিন। কারণ, তাঁরা যে কাজ করেছেন, তার মধ্যে তাঁদের ব্যক্তিত্ব, আগ্রহ ও বিশেষ গুণগুলো খুব স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

স্টিভ জবস প্রযুক্তির সঙ্গে নকশাকে এমনভাবে মিলিয়েছিলেন, যাতে জটিল প্রযুক্তিপণ্যও মানুষের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ডলি পার্টন নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা ও গল্প বলার অসাধারণ ক্ষমতাকে গানে রূপ দিয়েছেন। অ্যান্থনি বোর্দেইনের কৌতূহল ও বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ তাঁকে খাবার, ভ্রমণ ও মানুষের জীবন নিয়ে ভিন্নভাবে ভাবতে সাহায্য করেছে।

স্টিভ জবস, ডলি পার্টন কিংবা অ্যান্থনি বোর্দেইনের জন্মের সময়ই তাঁরা কী হবেন, তা নির্ধারিত ছিল—এমনটা বলা কঠিন। তবে তাঁদের কিছু স্বাভাবিক গুণ ও আগ্রহ ছিল, যা জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আরও বিকশিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই গুণগুলোর সঙ্গে তাঁদের কাজের চমৎকার মিল তৈরি হয়েছে।

তাই জীবনের উদ্দেশ্য বলতে হয়তো এমন কোনো একটি নির্দিষ্ট কাজকে বোঝায় না, যা করার জন্য মানুষ জন্ম থেকেই নির্ধারিত; বরং এমন কাজ খুঁজে পাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে নিজের স্বাভাবিক দক্ষতা, আগ্রহ ও মূল্যবোধ একসঙ্গে কাজে লাগানো যায়।

কর্মজীবনের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, মানুষ সাধারণত এমন কাজেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, যেখানে তার নিজের শক্তিগুলো কাজে লাগানোর সুযোগ থাকে। কারও ভালো লাগে স্বাধীনভাবে কাজ করতে। কেউ নতুন কিছু তৈরি করতে পছন্দ করেন। কেউ নেতৃত্ব দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আবার কেউ মানুষের সমস্যা সমাধান করতে বা অন্যকে শেখাতে আনন্দ পান।

অর্থপূর্ণ কাজের সঙ্গে ব্যক্তির এসব বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা বিশ্লেষণে ১৪৪টি পৃথক গবেষণায় প্রায় ৫২ হাজার মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, দায়িত্বশীলতা, অন্যের প্রতি সহমর্মিতা, উদ্যোগী মনোভাব ও কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার মতো ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে অর্থপূর্ণ কাজের সম্পর্ক রয়েছে।

অর্থাৎ কাজটি কী, শুধু সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়। কে কাজটি করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মানুষ কর্মক্ষেত্রে শুধু তার দক্ষতা নিয়ে যায় না; সঙ্গে নিয়ে যায় তার ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, আগ্রহ ও জীবনের অভিজ্ঞতাও। যে কাজের সঙ্গে এসব বিষয় ভালোভাবে মিলে যায়, সেই কাজ অনেক বেশি অর্থপূর্ণ মনে হতে পারে।

আরেকটি গবেষণায় ৯৯৫ মার্কিন কর্মীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যাঁরা নিজেদের কাজকে বেশি অর্থপূর্ণ মনে করেন, তাঁরা সাধারণত কাজ নিয়ে বেশি সন্তুষ্ট এবং নিজেদের জীবন নিয়েও বেশি ভালো বোধ করেন। গবেষণায় আরও দেখা যায়, কর্মজীবন নিয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার সঙ্গেও কাজকে অর্থপূর্ণ মনে করার সম্পর্ক রয়েছে।

এর মানে হলো, অর্থপূর্ণ কাজ সব সময় এমন কিছু নয়, যা হঠাৎ খুঁজে পাওয়া যায়। অনেক সময় নিজের সম্পর্কে ভালোভাবে জানার পর এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে মানুষ নিজের কাজকে অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারে।

তবে জীবনে ‘পারফেক্ট’ কাজ পাওয়া সব সময় সম্ভব নয়। কোনো কাজেই সব সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যায় না। ভালো বেতন, সামাজিক মর্যাদা, চাকরির নিরাপত্তা—এসব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু এগুলো দিয়ে বোঝা যায় না, কাজটি একজন মানুষের জন্য সত্যিই উপযুক্ত কি না।
তাই চাকরি বেছে নেওয়ার সময় শুধু ‘কোথায় বেশি টাকা পাব?’ কিংবা ‘কোন চাকরিতে বেশি মর্যাদা আছে?’—এমন প্রশ্নের পাশাপাশি আরও একটি প্রশ্ন করা যেতে পারে:
কোন ধরনের কাজ আমার ভেতরের সেরাটাকে বের করে আনে?

কারও ক্ষেত্রে উত্তর হতে পারে কঠিন সমস্যা সমাধান করা। কারও ক্ষেত্রে কিছু তৈরি করা, কাউকে শেখানো, মানুষের যত্ন নেওয়া কিংবা কোনো জটিল কাজ পরিচালনা করা। একজনের কাছে যে কাজ আনন্দের, অন্যজনের কাছে সেটিই হয়তো বিরক্তিকর। তাই অর্থপূর্ণ কাজের ধারণাটি সবার জন্য এক নয়।

কোনো কাজে ভালো করলেই যে কাজটি নিজের জন্য উপযুক্ত হবে, এমনটাও নয়। একজন মানুষ কোনো কাজে দক্ষ হতে পারে, ভালো আয় করতে পারে, প্রশংসাও পেতে পারে। তারপরও সেই কাজ তার জন্য অর্থপূর্ণ না–ও হতে পারে। কারণ, কাজটি হয়তো তার প্রকৃত আগ্রহ, মূল্যবোধ কিংবা সক্ষমতার সবচেয়ে ভালো ব্যবহার করছে না।

এ ক্ষেত্রে নিজের অতীত অভিজ্ঞতার দিকে ফিরে তাকানো যেতে পারে। কোন কাজ করার সময় সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে? কোন কাজ করতে গিয়ে সময়ের কথা মনে থাকেনি? কোন দায়িত্ব পালন করলে ক্লান্তির বদলে নতুন উদ্যম পাওয়া গেছে? কোন ধরনের সমস্যার সমাধান করতে মানুষ বারবার আপনার সাহায্য চেয়েছে?
এসব প্রশ্নের উত্তর নিজের সম্পর্কে অনেক কিছু জানাতে পারে।

আমরা সাধারণত কোন কাজগুলো পছন্দ করিনি, সেগুলো নিয়েই বেশি ভাবি। এটিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আরও কিছু বিষয় খুঁজে বের করা দরকার—কোন কাজে আমরা স্বাভাবিকভাবে ভালো, কী আমাদের আগ্রহী করে, কোন বিষয়গুলো আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোথায় আমরা সবচেয়ে ভালো অবদান রাখতে পারি।

জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোও অনেক সময় ভবিষ্যতের কাজকে প্রভাবিত করে। তবে এর অর্থ এই নয় যে জীবনের কষ্টগুলো কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যেই ঘটেছে বা কষ্ট পাওয়াটা ভালো কিছু। জীবনে অনেক ঘটনা ঘটে, যেগুলো মানুষ কখনোই চাইত না। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা থেকে পরে কী শেখা যাবে বা কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যাবে, সেটি মানুষের নিজের হাতে থাকে।

কর্মজীবনেও একই বিষয় দেখা যায়। কোনো চাকরি হয়তো প্রথমে মনে হতে পারে ভুল সিদ্ধান্ত। পরে দেখা গেল, সেই কাজই এমন একটি দক্ষতা শিখিয়েছে, যা ভবিষ্যতে খুব কাজে লেগেছে। কোনো দায়িত্ব হয়তো তখন খুব সাধারণ মনে হয়েছিল, কিন্তু কয়েক বছর পর সেটিই বড় কোনো সুযোগের ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমনকি যে কাজ শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দিতে হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, সেই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, কোন ধরনের কাজ নিজের জন্য উপযুক্ত নয়।

তাই কর্মজীবনকে শুধু চাকরি, পদোন্নতি কিংবা সাফল্যের তালিকা হিসেবে দেখলে অনেক কিছু বাদ পড়ে যায়; বরং কর্মজীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে নিজের সম্পর্কে একটি করে সূত্র হিসেবে দেখা যেতে পারে।

পৃথিবীতে আসার সময় কেউই জানে না, জীবনে ঠিক কী করতে হবে। কিন্তু প্রত্যেকের মধ্যেই কিছু বিশেষ গুণ, আগ্রহ ও সক্ষমতা থাকে। জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে সেগুলোকে চিনতে সাহায্য করে। হয়তো জীবনের উদ্দেশ্য আগে থেকেই লেখা কোনো উত্তর নয়; বরং নিজের ভেতরের শক্তিগুলোকে চিনে, সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে এবং জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে ধীরে ধীরে সেই উদ্দেশ্য তৈরি করে নিতে হয়।

লেখক: মার্ক সি ক্রাউলি
সূত্র: সাইকোলজি টুডে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
‘আমাদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে’ 
‘আমাদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে’ 

শিক্ষক সঙ্কট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলোর প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে যখন শিক্ষার্থীরা আবারো বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকারী গ্রেটা থুনবার্গ।

News অক্টোবর ১৩, ২০২৬ 0
লভ্যাংশের অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে না রাখলে শাস্তি

লভ্যাংশের অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে না রাখলে শাস্তি

কলকাতায় তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলে অনুপস্থিত মমতা

কলকাতায় তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলে অনুপস্থিত মমতা

ড. ইউনূসকে হেনস্তায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা হয়েছে

ড. ইউনূসকে হেনস্তায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা হয়েছে

বহিষ্কারেও থামছে না নেতাকর্মীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড
বহিষ্কারেও থামছে না নেতাকর্মীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড

এ পরিস্থিতিতে তৃণমূলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। গত রোববার সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি বা দখলদারত্বে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

News অক্টোবর ১৩, ২০২৬ 0
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: শাহে আলম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: শাহে আলম

পুনর্গঠন হচ্ছে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি, বাদ যাচ্ছে দুই পদ

পুনর্গঠন হচ্ছে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি, বাদ যাচ্ছে দুই পদ

ছেলের মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার পরপরই প্রাণ গেল মায়ের

ছেলের মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার পরপরই প্রাণ গেল মায়ের

কলকাতায় ইরান সোসাইটিতে নজরুল-স্মরণ
কলকাতায় ইরান সোসাইটিতে নজরুল-স্মরণ

বিশেষ দিনটির তাৎপর্য অনুধাবন করে গত ১২ অক্টোবর কলকাতায় ইরান সোসাইটিতে ছায়ানট (কলকাতা)-এর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘তরুণ ইরান-কবি কাঁদে নিরজনে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের।

News অক্টোবর ১৩, ২০২৬ 0
মেলান্দহে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সালিস, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

মেলান্দহে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সালিস, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

৫০০ উপজেলায় মানসিক স্বাস্থ্য সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

৫০০ উপজেলায় মানসিক স্বাস্থ্য সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

গোপালগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালন

গোপালগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালন

0 Comments