জাতীয়

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনে আয়বৈষম্য যেভাবে দায়ী

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনে আয়বৈষম্য যেভাবে দায়ী
বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনে আয়বৈষম্য যেভাবে দায়ী

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাসের সবচেয়ে বড় উৎস কার্বন ডাই–অক্সাইড। কার্বন নিঃসরণ বেড়ে যাওয়ার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হলো আয়বৈষম্য, যা তুলনামূলক কম আলোচিত। বাংলাদেশে এ দুইয়ের সম্পর্ক নিয়ে লিখেছেন খলিলউল্লাহ্

বাংলাদেশে আয়বৈষম্য বাড়ছে, এটা আর নতুন খবর নয়। অন্যদিকে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান তেমন উল্লেখযোগ্য না হলেও নিঃসরণের হার ক্রমেই বাড়ছে। এই বৃদ্ধির পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো আয়বৈষম্য। বৈষম্য বাড়ার ফলে স্বল্প কিছু মানুষের হাতে অতিমাত্রায় ধনসম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে। আর সেই অতি ধনিক শ্রেণি নানা রকম বিলাসী দ্রব্যের প্রতি ঝুঁকছে, যা তৈরিতে অতিমাত্রায় জ্বালানি প্রয়োজন।

অন্যদিকে আয়বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের কর্মঘণ্টা বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এটিও কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ।

পরিহাসের বিষয় হলো, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে রাষ্ট্র যেসব আইন প্রণয়ন করতে চায়, আয়বৈষম্যের মাধ্যমে সৃষ্ট ধনিক শ্রেণি সে প্রক্রিয়াতেও প্রভাব বিস্তার করে থাকে। বিদ্যমান আইনকানুন ভঙ্গ করা ও এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা তো আছেই, যথাযথ জবাবদিহি না থাকা এবং ধনিক শ্রেণির প্রতি রাষ্ট্রের পক্ষপাতিত্বও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। বড় করপোরেশনগুলো তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঘটনা জানার পরও মুনাফার কথা চিন্তা করে ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে প্রমাণ রয়েছে।

বাড়ছে কার্বন নিঃসরণ

বিগত ছয় দশকে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ অতিমাত্রায় বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী নানা মাত্রায় তোড়জোড় থাকলেও এ ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। সাধারণত বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনগুলো উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন ছাড়াই শেষ হয়ে থাকে।

এদিকে উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কার্বন নিঃসরণ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে। এর ফলে জ্বালানির চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটা বড় বিপদ। কারণ, আমাদের মতো দেশে আর্থিক সক্ষমতা, কারিগরি জ্ঞান ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির মতো পদ্ধতি বেছে নেওয়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। অন্যদিকে শিল্পায়নের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি অর্জনের সঙ্গে আয়বৈষম্যও বাড়ছে।

উল্লেখিত দুটো বিষয়ই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসডিজির ১০ ও ১৩ নম্বর লক্ষ্যে আয়বৈষম্য কমানো ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা দুটো লক্ষ্যেই ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রমাগত উচ্চমাত্রার দূষিত দেশ হিসেবে বিশ্ব তালিকায় উঠে আসছে। ‘আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটা’ নামক অনলাইন প্রকাশনার ২০২৩ সালের হিসাবে দেখা যায়, ১৯৮০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ প্রতিবছর গড়ে ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে। উৎপাদন, শিল্পকারখানা, পরিবহনের ক্রমাগত উচ্চ ব্যবহার এবং উচ্চ কার্বন পণ্যের কারণে এই বৃদ্ধি ঘটছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়।

অন্যদিকে জলবায়ু উদ্বাস্তুসহ বিভিন্ন আর্থসামাজিক কারণে শহরগুলোতে জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটছে ব্যাপক হারে। ফলে শহরাঞ্চলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে ক্রমাগত। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশের নগরাঞ্চলে দূষণের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে ১৫০ শতাংশ বেশি।

আয়বৈষম্যের সঙ্গে কার্বন নিঃসরণের সম্পর্ক

বিশ্বব্যাপী সাধারণত গিনি কোইফিশিয়েন্ট বা সহগ দিয়ে আয়বৈষম্য পরিমাপ করা হয়। বাংলাদেশে আয় বণ্টনের গিনি সহগ ১৯৮৪ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৩৬, ২০২২ সালে যা বেড়ে হয়েছে শূন্য দশমিক ৪৯৯।

বিভিন্ন অর্থনীতিবিদের করা গবেষণায় দেখা যায়, আয়বৈষম্য পরিবেশের ক্ষতি করে। সমাজের ধনিক শ্রেণি সম্পদ বণ্টনে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দরিদ্র শ্রেণিকে বঞ্চিত করে এবং পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে। একইভাবে, আয়বৈষম্যের কারণে সমাজে ধনিক শ্রেণির স্ট্যাটাস কনজাম্পশন বাড়ে, যা কার্বন নিঃসরণ বাড়ায়।

স্ট্যাটাস কনজাম্পশন মানে ভোগবিলাস, যা সাধারণত নিজেকে জাহির করতে মানুষ করে থাকে। স্ট্যাটাস কনজাম্পশনের জন্য মানুষ বেশি সময় কাজ করতেও বাধ্য হয়। এটিও কার্বন নিঃসরণ বাড়ায়।

আগে থেকেই বাংলাদেশের মানুষের কর্মঘণ্টা উন্নত দেশের তুলনায় বেশি ছিল। ‘আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডেটা’ কর্মঘণ্টা নিয়ে তাদের ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে দেখিয়েছে, ১৯৮০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কানাডায় একজন কর্মীর বার্ষিক গড় কর্মঘণ্টা ছিল ১ হাজার ৭৬১। আর বাংলাদেশে ছিল ২ হাজার ৪৯৭। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু কর্মঘণ্টা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশের তুলনায়ও বেশি। একই সময়ে ভারতে বার্ষিক মাথাপিছু কর্মীদের কর্মঘণ্টা ছিল ২ হাজার ৯০, পাকিস্তানে ২ হাজার ১৪৭ এবং শ্রীলঙ্কায় ১ হাজার ৯২৯।

সম্পদের অসম বণ্টনের কারণে পরিবেশের ওপর দুই ধরনের প্রভাব পড়ে। প্রথমত, বৈষম্যের কারণে আরও বেশি মানুষ দরিদ্র হয়। আর এই দরিদ্র হয়ে পড়া মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও অদক্ষ শ্রমিকেরা জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয় বন ও পরিবেশ নষ্ট করতে। নগরে এসব মানুষের অপরিকল্পিত বসবাসের মাধ্যমেও পরিবেশের ক্ষতি হয়। দ্বিতীয়ত, ধনীরা পুঁজির মালিক হিসেবে উৎপাদন ও কাঁচামাল আহরণে জীবাশ্ব জ্বালানি সবচেয়ে বেশি পোড়ায়।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সরকার কোনো পদক্ষেপ তো নেয়ইনি, বরং ২০২২ সাল থেকে পোশাক কারখানাগুলোয় কর্মীদের কাজের সময় আইনগতভাবেই বাড়িয়ে সপ্তাহে ৭২ ঘণ্টা করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত সময় কাজের ফলে অফিসগুলো বেশি মাত্রায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহার করে বাড়তি কার্বন নিঃসরণ করছে।

২০১৫ সালে ক্রিটিক্যাল পারস্পেকটিভ ইন অ্যাকাউন্টিং নামক জার্নালে আতাউর রহমান বেলাল, স্টুয়ার্ট কুপার ও নিয়াজ আহমেদ খানের একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। ‘করপোরেট এনভায়রনমেন্টাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি: হোয়াট চান্স ইন ভালনারেবল বাংলাদেশ’ শিরোনামের সে নিবন্ধে বাংলাদেশের ৩২টি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আধা–কাঠামোবদ্ধ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১৩ জন ছিলেন করপোরেট ম্যানেজার।

ফলাফলে দেখা যায়, তাঁদের বেশির ভাগই জানতেন যে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবেশদূষণ হচ্ছে। কিন্তু এটা তাঁদের বড় কোনো মাথাব্যথা নয় বলেই তাঁরা মনে করতেন। অন্যদিকে করপোরেট ম্যানেজারদের এ বিষয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাও নেই। কারণ, তা করতে গেলে তাঁদের মুনাফা কমে যাবে বলে তাঁরা মনে করেন।

অথচ সরকারের দিক থেকে নানা ধরনের নীতি নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তা বাস্তবে তেমন কোনো প্রভাব রাখতে পারছে না। কারণ, এসব নীতি বাস্তবায়নের চেয়ে এলিটদের স্বার্থ রক্ষাই বাংলাদেশে প্রাধান্য পেয়ে এসেছে।

ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট সাসটেইনেবিলিটি জার্নালে প্রকাশিত সাঈদ খান, লেনোরা ব্রাউন ও অনুপম দাশের করা গবেষণায় আয়বৈষম্যের সঙ্গে কার্বন নিঃসরণের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাঁরা দেখিয়েছেন, শীর্ষ ১ শতাংশ ধনীর আয় বাড়লে কার্বন নিঃসরণ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ে। অন্যদিকে শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর আয় যদি ১ শতাংশ বাড়ে, তাহলে কার্বন নিঃসরণ বাড়ে ১ শতাংশের চার ভাগের তিন ভাগ। তাই তাঁরা আয়ের সমবণ্টনে জোর দেন। এর ফলে শুধু আয়বৈষম্যই নয়, পরিবেশেরও উপকার হবে বলে তাঁরা মনে করেন।

রুশ বংশোদ্ভূত মার্কিন অর্থনীতিবিদ সিমন কুজনেটসের নাম অনুসারে ব্যাপক আলোচিত কুজনেটস কার্ভ অনুযায়ী, উন্নয়নের শুরুর দিকে বৈষম্য বাড়ে, কারণ আরও বেশি প্রবৃদ্ধির জন্য সম্পদ পুঞ্জীভূত করা হয়। উন্নয়নের এই ধাপে উৎপাদন ও ভোগের কারণে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, নগরায়ণ ও শিল্পায়ন বৃদ্ধি পায়। তাই কার্বন নিঃসরণসহ সার্বিকভাবে পরিবেশের অবনতি ঘটে।

সম্পদের অসম বণ্টনের কারণে পরিবেশের ওপর দুই ধরনের প্রভাব পড়ে। প্রথমত, বৈষম্যের কারণে আরও বেশি মানুষ দরিদ্র হয়। আর এই দরিদ্র হয়ে পড়া মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও অদক্ষ শ্রমিকেরা জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয় বন ও পরিবেশ নষ্ট করতে। নগরে এসব মানুষের অপরিকল্পিত বসবাসের মাধ্যমেও পরিবেশের ক্ষতি হয়।

দ্বিতীয়ত, ধনীরা পুঁজির মালিক হিসেবে উৎপাদন ও কাঁচামাল আহরণে জীবাশ্ব জ্বালানি সবচেয়ে বেশি পোড়ায়। মজার ব্যাপার হলো, উন্নত দেশগুলোয় পরিবেশবান্ধব কঠোর আইনকানুন আছে। ফলে অতিমাত্রায় কার্বন পোড়ায় বা পরিবেশের ক্ষতি করে যেসব শিল্পকারখানা, সেগুলো বাংলাদেশের মতো দেশে সরিয়ে আনা হয়। বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্পের দিকে তাকালেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

স্ট্যাটাস কনজাম্পশন ও ডেমোনস্ট্রেশন ইফেক্ট

২০২২ সালের ২ জানুয়ারি রাতে ঢাকার নতুন বাজার এলাকার মাদানী অ্যাভিনিউয়ে এক ব্যবসায়ী পরিবারে বিয়ের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান হয়। সেখানে নিয়ে আসা হয় বাদশাহ নামে পরিচিত ভারতের জনপ্রিয় র‌্যাপ সংগীতশিল্পীকে। স্বাভাবিকভাবেই সেই গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের মোট খরচ অনুমান করাও কঠিন। পুরো বিয়ের খরচের হিসাবে নাই–বা গেলাম।

এ ঘটনা তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হয়েছিল। সমস্যা হলো, এ ঘটনার প্রভাব অন্যদের ওপরও পড়বে। যার সামর্থ্য আছে তিনি চাইবেন, তার সন্তানের বিয়েতে আরও বড় কোনো সেলিব্রিটিকে নিয়ে আসতে। অথচ এটা একটা স্ট্যাটাস কনজাম্পশন, বিয়ের কোনো অপরিহার্য উপাদান নয়।

সচরাচর দেখা যায়, প্রয়োজনের বাইরেও অনেকে দামি কোনো রেস্টুরেন্টে খেয়েছেন বা ভ্রমণে গিয়ে দামি কোনো হোটেলে উঠেছেন। এ ধরনের স্ট্যাটাস কনজাম্পশন আবার ফেসবুকের চেকইন ও নানা রকম ছবি–ভিডিওর মাধ্যমে আরেকজনকে প্রভাবিত করছে। এটাই ডেমোনস্ট্রেশন ইফেক্ট, অর্থাৎ অপরকে অনুসরণ করে একই কাজ করা। এসব কনটেন্ট ছড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে স্ট্যাটাস কনজাম্পশনও বাড়ছে।

২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন গবেষক মিলে জার্নাল অব রিটেইলিং অ্যান্ড কনজ্যুমার সার্ভিসেস নামক সাময়িকীতে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন। ‘স্ট্যাটাস কনজাম্পশন ইন নিউলি ইমার্জিং কান্ট্রিজ’ শিরোনামে বাংলাদেশের ২৬৯ জন রিয়েল এস্টেট ও পোশাকশিল্প মালিকের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে করা হয় সে গবেষণা। সেখানে দেখা যায়, এ দুই খাতের প্রবৃদ্ধির কারণে এসব ব্যক্তি স্ট্যাটাস কনজাম্পশনের দিকে ঝুঁকেছেন।

নিওলিবারেল অর্থনীতিতে এই স্ট্যাটাস কনজাম্পশন খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। এ ব্যবস্থা বিলাসী জিনিসকেও অপরিহার্য বানায়। মানুষ তখন বৈধ–অবৈধ যেকোনো উপায়ে টাকা আয় করতে চায়। ফলে ঘুষ–দুর্নীতি আর বিবেকে বাধে না। আমরা উঠতে–বসতে বলি, মানুষের নীতিনৈতিকতা বলে আর কিছু নেই। কিন্তু এটা তো হুট করে আসা কোনো পরিবর্তন নয়। আমাদের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই এর জন্য দায়ী। আয়বৈষম্য এখানে বাড়বেই।

এদিকে সমাজে আয়বৈষম্য যত বাড়ে, স্ট্যাটাস কনজাম্পশনও তত বাড়ে। ফলে কার্বন নিঃসরণও পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে।

করণীয় কী

সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে আয়বৈষম্য কমানোর দাবি ছিল বহুদিনের। এখন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেও সরকারের উচিত আয়বৈষম্য কমিয়ে আনতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া। এ ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদদের একটি অন্যতম পরামর্শ হলো পুনর্বণ্টনমূলক আর্থিক নীতি, যার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করা যাবে। প্রগতিশীল আয়কর হিসেবে পরিচিত করনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জন করা যায়।

কার্বন নিঃসরণ কমাতে একটি বহুল পরিচিত উপায় হলো কার্বন কর আরোপ। এর মাধ্যমে একই সঙ্গে আয়বৈষম্য ও কার্বন নিঃসরণ দুটোই কমানো যাবে বলে রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন। তাঁদের মতে, কার্বন কর আরোপ করলে তা জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও দরিদ্রদের আয় না কমিয়েই কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারে। উল্টো কার্বন কর থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তিতে ব্যয় করা যায়।

যদিও বহু পরিবেশবাদী এর সমালোচনা করেন। কারণ, যার সামর্থ্য আছে, সে যদি জানে তার মুনাফা আসবেই, তাহলে বাড়তি কর দিয়ে হলেও কার্বন নিঃসরণ করবে। ফলে পৃথিবী গ্রহের উপকার হবে সামান্যই।

অবশ্য কেউ কেউ মনে করেন ‘অনুমতি নিলামের’ মাধ্যমে নিঃসরণের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া বেশি যুক্তিসংগত নীতি। তা ছাড়া অদক্ষ ও কম দক্ষ শ্রমিকদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাঁদের দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে আয়বৈষম্য কমে আসবে। গ্রামীণ অবকাঠামো, কৃষি ও মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগের মাধ্যমেও আয়বৈষম্য কমানো যায়।

মোদ্দা কথা, আয়বৈষম্য কমানো শুধু সামাজিক ন্যায্যতার বিষয়ই নয়, প্রাণ–প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

  • খলিলউল্লাহ্‌ লেখক ও সাংবাদিক; প্রথম আলোর জলবায়ু প্রকল্প ব্যবস্থাপক

    মতামত লেখকের নিজস্ব

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
পরীক্ষায় অসদুপায়ের অভিযোগে রুয়েটের ১২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
পরীক্ষায় অসদুপায়ের অভিযোগে রুয়েটের ১২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ১২ শিক্ষার্থীকে আগামী দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

News অক্টোবর ১৩, ২০২৬ 0
ছেলের মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার পরপরই প্রাণ গেল মায়ের

ছেলের মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার পরপরই প্রাণ গেল মায়ের

কলকাতায় ইরান সোসাইটিতে নজরুল-স্মরণ

কলকাতায় ইরান সোসাইটিতে নজরুল-স্মরণ

মেলান্দহে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সালিস, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

মেলান্দহে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সালিস, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

রংপুরের পীরগঞ্জে পৌরভবনের ছাদ ধসে ২ শ্রমিক নিহত
রংপুরের পীরগঞ্জে পৌরভবনের ছাদ ধসে ২ শ্রমিক নিহত

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে পীরগঞ্জ পৌরভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন ১৩ শ্রমিক। বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ ছাদ ঢালাইয়ের জন্য তৈরি অস্থায়ী কাঠামো (সাটারিং) ভেঙে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক তার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে

News অক্টোবর ১৩, ২০২৬ 0
আগাম প্রস্তুতিতে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কমেছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আগাম প্রস্তুতিতে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার কমেছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রামে সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

কুড়িগ্রামে সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

সিকৃবিতে বিশ্ব ডিম দিবস পালিত

সিকৃবিতে বিশ্ব ডিম দিবস পালিত

0 Comments