মেয়াদ শেষের চার দিন আগে শিক্ষক মূল্যায়নের একটি ওয়েবসাইট চালু করে বর্তমান ডাকসু। সাইটের নাম ‘ডিইউ টিচার্স ইভাল্যুশন’। সেখানে শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করেছেন। শিক্ষকদের মূল্যায়নের ফলাফল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে নানান বিতর্কও তৈরি হয়।
সাইটটিতে রিভিউ ফলাফল প্রকাশ ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। এই লেখা যখন লিখছি, তখন ৭ হাজার ৫০ জন শিক্ষার্থী সাইনআপ করেছেন, ২ হাজার ৪৫ জন শিক্ষকের জন্য ১১ হাজার ৩৪৭টি রিভিউ জমা পড়েছে। ডাকসুর এ উদ্যোগ নিয়ে সৃষ্ট ব্যাপক বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে নিবন্ধটি লিখছি। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ইউনিভার্সিটি/কলেজে পাঠদানের অভিজ্ঞতার আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করব।
শিক্ষকদের মূল্যায়ন শিক্ষার্থীরা করবেন—এটা বেশ স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এর আয়োজন করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, হয়তো তার রূপরেখা নির্ধারণ করবে একাডেমিক কাউন্সিল, বাস্তবায়ন করবে অনুষদ বা বিভাগ। এমনকি মূল্যায়নের ফলাফল কেবল শিক্ষকদের কাছে যাবে, শিক্ষার্থীরা তা জানতে পারবেন না।
শিক্ষকেরা মূল্যায়ন দেখে ধারণা পাবেন, তাঁর পাঠদানের প্রক্রিয়াটি শিক্ষার্থীরা কীভাবে গ্রহণ করছেন। তিনি ফলাফল দেখে তাঁর পাঠদানের প্রক্রিয়াটি পুনর্বিন্যাস করবেন। প্রয়োজনে বিভাগের চেয়ারম্যান বা অনুষদের ডিন তাঁর সঙ্গে ফলাফল নিয়ে বসবেন। বিশেষত যেসব শিক্ষকের মূল্যায়ন-ফলাফল সন্তোষজনক নয়, কীভাবে তাঁর উন্নয়ন ঘটানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রথমেই বলতে হয়, ডাকসুর এ উদ্যোগ তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত। মোটাদাগে ডাকসুর মূল কাজ হলো শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা—তাঁদের সুযোগ-সুবিধার তত্ত্বাবধান করা, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে কর্মসূচি দেওয়া, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ লালন করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব তৈরিতে অবদান রাখা। তাদের সব কার্যক্রম শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক, শিক্ষকদের বিষয়ে ভূমিকা রাখা তাদের কাজ নয়। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় মূল্যায়নব্যবস্থা চালু না থাকায় এবং ডাকসুর বিশেষ সামাজিক গুরুত্ব থাকায়, আলাপটি উপেক্ষাও করা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে বর্তমান শিক্ষার্থী-ইউনিয়নগুলো একটি ছাত্রসংগঠনের প্রাধান্যে রয়েছে এবং জুলাই আন্দোলন–পরবর্তী হট্টগোল পরিস্থিতিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একের পর এক এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ করেই গেছেন (যেমন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়জন ডিনকে পদত্যাগে বাধ্য করা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিবাদের দোসর চিহ্নিত করে শিক্ষকদের হেনস্তা করা, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দের নামীদামি সংবাদপত্র ও সাংস্কৃতিক ভবনকে ভস্মীভূত করতে উসকানি দেওয়া ইত্যাদি)। ফলে তাদের এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য নিয়েও তর্ক ওঠা অস্বাভাবিক নয়।
তবে তাদের এ উদ্যোগের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়নের পদ্ধতির অনুপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা জোরদার হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষগুলোও একটা চাপের মুখে পড়েছে। আমি চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুকাল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘকাল পড়িয়েছি।
কখনোই শিক্ষার্থীদের দ্বারা শিক্ষক মূল্যায়নের মুখোমুখি হইনি। তবে ঢাকাতেই কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নানান সময়ে পড়িয়েছি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শিক্ষক হিসেবে আমাকে শিক্ষার্থীরা মূল্যায়ন করেছেন। অন্তত একবার বিভাগীয় প্রধান মূল্যায়ন নিয়ে আমার সঙ্গে আলাপ করেছেন। তা থেকে আমার শিক্ষার্থীরা আমার পাঠদান কীভাবে গ্রহণ বা মূল্যায়ন করছেন, তার ধারণা পেয়েছি।
সাইনআপের সংখ্যার বিচারে এটি বড় একটি পোর্টালে পরিণত হয়, যা পরে ভায়াকম, চেড্ডার ও অল্টিস ইউএসএর মতো বড় বড় কোম্পানি একে কিনে নেয়। তবে ওসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ নিজ মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকায় এদের রেটিংকে কিছুটা বিবেচনায় নেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষকেরা অত বেশি পাত্তা দেন না। আর আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মূল্যায়নের ব্যবস্থা না থাকায় ডাকসুর উদ্যোগটাই বড় হয়ে কানে বাজছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াতে গিয়ে ব্যাপকভাবে বিষয়টির মুখোমুখি হলাম। বাংলাদেশে পড়ানোর অভিজ্ঞতা আর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাসরুমে পড়ানোর মধ্যে প্যারাডাইমগত পার্থক্য রয়েছে। সংক্ষেপে বললে, দেশে পড়ানো প্রায় পুরোটাই শিক্ষকের লেকচারনির্ভর। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াতে গেলে দেখলাম, লেকচার কমিয়ে ক্লাস-অ্যাকটিভিটি বাড়ানোর একটা ব্যাপার আছে। লেকচারের পাশাপাশি গ্রুপ আলোচনা, রিডিং, ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিং ইত্যাদির সমন্বয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে হয়।
বড় ইউনিভার্সিটি নটর ডেম ছেড়ে যখন ছোট লিবারেল আর্টস কলেজ বার্ডে পড়াতে এলাম, এখানে দেখলাম বাড়তি একটা জিনিস—শিক্ষার্থীরা চ্যালেঞ্জড হতে পছন্দ করেন। অর্থাৎ শিক্ষক কিছুটা আলোচনা করে কঠিন একটা প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ছুড়ে দেবেন, এবার শিক্ষার্থীরা গ্রুপ আলোচনায় তার উত্তর খুঁজে বের করবেন। বড় ক্লাসে, দেশে তো বটেই, বিদেশেও অনেক অনুৎসাহী-উদাসীন শিক্ষার্থী থাকেন। কিন্তু বার্ড কলেজের ছোট আকারের ক্লাসে শিক্ষার্থীরা কেবল শিখতে আসেননি, তাঁরা কঠিন কঠিন প্রশ্ন শিক্ষকের কাছ থেকে শুনতে চান, উত্তরটা নয়। উত্তর তাঁরা নিজে বের করতে চান, গ্রুপ ডিসকাশনে।
এমন পড়ানোর ধরন যেখানে, প্রথম সেমিস্টারে আমার মূল্যায়নের ফল ভালো আসেনি। এবার আমার সুপাইরভাইজার অধ্যাপক আমাকে নিয়ে বসলেন, হাতে মূল্যায়নপত্র। সেখানে ওভারঅল রেটিংয়ের পাশাপাশি বিস্তারিত অনেক বিষয় নিয়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে—শিক্ষক কি প্রস্তুত হয়ে ক্লাসে আসেন, শিক্ষক কি আইডিয়া-তত্ত্ব পরিষ্কারভাবে বোঝাতে পারেন, শিক্ষক কি অ্যাসাইনমেন্টের ফিডব্যাক ঠিকঠাক দেন, শিক্ষককে কি প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায়, শিক্ষকের পাঠদান কি ক্লাসরুমের বাইরেও ভাবতে প্ররোচিত করে ইত্যাদি।
এ ছাড়া বাড়তি ঘরে রয়েছে কোর্স ও শিক্ষক সম্পর্কে একটু বিস্তারিত লেখার সুযোগ। এসব পর্যালোচনা করে, পরের সেমিস্টারে সুপারভাইজার আমার সঙ্গে সঙ্গে রইলেন। আমার স্লাইড দেখে দেন, পরিবর্তনের পরামর্শ দেন এবং জোর দেন, গ্রুপ ডিসকাশনের প্রশ্নটি আরও সৃজনশীল করার ওপরে, যাতে শিক্ষার্থীরা সত্যিকার অর্থে চ্যালেঞ্জ অনুভব করেন। একদিন তিনি আমার ক্লাসে এলেন, পুরো ক্লাস শুনলেন, উন্নতির পরামর্শ দিলেন। পরের সেমিস্টারেরই আমার মূল্যায়নে লক্ষণীয় উন্নতি ঘটল।
শিক্ষার্থীর মূল্যায়নের পদ্ধতি এভাবে শিক্ষকের পাঠদানে উন্নতি ঘটাতে পারে। এখানে মন ভার করার বা অসম্মানিত বোধ করার কিছু নেই। চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো, ভালো মানের পাঠদানের পদ্ধতি আত্মস্থ করা ও তা বাস্তবায়ন করা। কেবল একটা গড় রেটিং দিলেই হবে না, রেটিংটা কোন কোন নিক্তিতে এল, তা–ও বের করা দরকার।
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এসব ছাড়াই প্রতিষ্ঠাকাল থেকে পাঠদান করে আসছেন। সেটা এ যুগেও চলমান, সেটা বেশ বিস্ময়ের। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে আজকালকার অধ্যাপকেরা অপরিচিত, তা–ও বলা যাবে না। তাঁরা যখন বিদেশে পিএইচডি করেছেন, দেখেছেন। তারা যখন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়িয়েছেন, মূল্যায়িত হয়েছেন। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকের মধ্যে নিজের পাঠদানের পদ্ধতি উন্নত করায় অনাগ্রহ রয়েছে; বছরের পর বছর একই বিষয়, পুরোনো নোট-বইনির্ভর থেকে পড়ানোর চর্চা রয়েছে।
অথচ যেকোনো জ্ঞানকাণ্ডেই, জ্ঞান হালনাগাদ হতে থাকে। নিজেকে পুরোনো জ্ঞানে সীমাবদ্ধ রাখার মাধ্যমে তাঁরা শিক্ষার্থীদেরও নতুন জ্ঞান থেকে বঞ্চিত রেখে দেন। আর ক্লাস ঠিকঠাক না নেওয়া, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব করা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অকারণ দুর্ব্যবহার করা, ক্লাস ও বিভাগের চেয়ে ক্লাসের বাইরে (রাজনীতি ও কনসাল্ট্যান্সি) বেশি ব্যস্ত থাকা, পছন্দ অনুযায়ী কাউকে সুবিধা দেওয়া ও অন্য কাউকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনাগুলো যদি কেউ ঘটিয়ে থাকেন, মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকলে সেসব শিক্ষক বিপদে পড়বেন।
এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেবেন যাঁরা, সেসব কর্তা শিক্ষকদের অনেকেই এসব অবিদ্যায়তনিক কাজে জড়িত থাকেন। তাই মূল্যায়নের ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি বলবৎ থাকলেও ব্যাপারটা ঘটেনি শেষ পর্যন্ত। ডাকসুর এ উদ্যোগের ফলে তাঁরা চাপের মুখে পড়েছেন। এবার যদি কিছু হয়! তবে এরপরও বলতে হবে, ডাকসুর এ উদ্যোগ এখতিয়ারবহির্ভূত এবং তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে তারা কতটুকু আন্তরিক ও সৎ, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।
তাদের উদ্যোগকে তুলনা করা যায় ‘রেট মাই প্রফেসর’ উদ্যোগের সঙ্গে। রেট মাই প্রফেসর হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে একটা স্বাধীন উদ্যোগ। ১৯৯৯ সালে জন সোয়াপচেনস্কি নামের স্যান হোসে স্টেট ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী (পরে তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হন) এই পোর্টাল চালু করেন। এখানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রফেসরদের রেট করেন, কমেন্ট লেখেন।
সাইনআপের সংখ্যার বিচারে এটি বড় একটি পোর্টালে পরিণত হয়, যা পরে ভায়াকম, চেড্ডার ও অল্টিস ইউএসএর মতো বড় বড় কোম্পানি একে কিনে নেয়। তবে ওসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ নিজ মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকায় এদের রেটিংকে কিছুটা বিবেচনায় নেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষকেরা অত বেশি পাত্তা দেন না। আর আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মূল্যায়নের ব্যবস্থা না থাকায় ডাকসুর উদ্যোগটাই বড় হয়ে কানে বাজছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত অবিলম্বে মূল্যায়নের ব্যবস্থা চালু করে উদ্ভূত পরিস্থিতির সামাল দেওয়া।
● ফাহমিদুল হক যুক্তরাষ্ট্রের বার্ড কলেজের শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক
মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এর আগেও দিল্লি ক্যাপিটালসের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে সৌরভের। দলটির উপদেষ্টা ও ক্রিকেট পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই অভিজ্ঞ সাবেক অধিনায়ক।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১০০ জন সেরা ও গুণী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করেছে সরকার।
লালমনিরহাটের সদর উপজেলায় স্ত্রী মিতু আক্তারকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।