জাতীয়

শিক্ষায় বৈষম্য বেড়েই চলছে, কোচিং-প্রাইভেট বাড়ছে, সঙ্গে ব্যয়ও

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
শিক্ষায় বৈষম্য বেড়েই চলছে, কোচিং-প্রাইভেট বাড়ছে, সঙ্গে ব্যয়ও
শিক্ষায় বৈষম্য বেড়েই চলছে, কোচিং-প্রাইভেট বাড়ছে, সঙ্গে ব্যয়ও

সর্বশেষ জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পঞ্চম থেকে বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে শিক্ষানীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সুপারিশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা করার পক্ষে যুক্তি ছিল, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে শিক্ষার্থীরা মৌলিক শিক্ষা পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারে না। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হলে শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করার পাশাপাশি পরবর্তী শিক্ষাজীবনের পথও প্রশস্ত হতো।

প্রাথমিক স্তরের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ থাকলেও শেখার ঘাটতি পূরণে অনেক শিক্ষার্থীকে কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে অবৈতনিক শিক্ষার ধারণাটি বাস্তবে হোঁচট খাচ্ছে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী কুদরাত-এ-খুদাকে প্রধান করে দেশে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এরপর নানা সরকারের সময় আটটি শিক্ষা কমিশন বা কমিটি গঠিত হয়েছে। এখন বিএনপি সরকার নতুন শিক্ষানীতি করবে নাকি অন্য কিছু করবে, তা স্পষ্ট নয়। যদিও এরই মধ্যে ২০২৮ সাল থেকে শিক্ষাক্রমে ব্যাপক মাত্রায় পরিমার্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়েও বেশ কিছু পরিমার্জনের পাশাপাশি চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি বই যুক্ত করা হবে।

এ পরিস্থিতিতে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন শরিফ শিক্ষা কমিশনের প্রতিবাদ থেকে যে শিক্ষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার কেন্দ্রে ছিল সবার জন্য গণমুখী ও বৈষম্যহীন শিক্ষা। ৬৪ বছর পরও সেই লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি; বরং শিক্ষায় বৈষম্যের নানা ধরন যুক্ত হয়েছে।

এদিকে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—প্রতিটি স্তরেই আয়, অবস্থান ও সুযোগের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতা। কোথাও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, কোথাও গবেষণার সুযোগ সীমিত, কোথাও শিক্ষার্থীরা কোচিংনির্ভর। ফলে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ধারিত হচ্ছে সে কোথায় জন্মেছে, পরিবারের সামর্থ্য কেমন বা কোন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে—এসবের ওপর।

এ পরিস্থিতিতে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন শরিফ শিক্ষা কমিশনের প্রতিবাদ থেকে যে শিক্ষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার কেন্দ্রে ছিল সবার জন্য গণমুখী ও বৈষম্যহীন শিক্ষা। ৬৪ বছর পরও সেই লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি; বরং শিক্ষায় বৈষম্যের নানা ধরন যুক্ত হয়েছে।

তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ওই শিক্ষানীতির প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে প্রাণ হারান কয়েকজন ছাত্র। এর পর থেকে দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনগুলো।

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ইউনিট গত জুনে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের দুই হাজারের বেশি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে। দেখা যায়, অনেক শিশু বাংলা বর্ণ সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না। ইংরেজি ও গণিতেও রয়েছে দুর্বলতা।

বৈষম্যের শুরু প্রাথমিক স্তর থেকেই

দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের অধিকাংশ শিশুর শিক্ষার প্রধান ভরসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে টিউশন ফি নেই। কিন্তু শিক্ষকসংকট, শিক্ষার মান ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি সরকারি এক পরিদর্শন প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ইউনিট গত জুনে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের দুই হাজারের বেশি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে। দেখা যায়, অনেক শিশু বাংলা বর্ণ সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না। ইংরেজি ও গণিতেও রয়েছে দুর্বলতা।

অন্যদিকে সচ্ছল পরিবারের শিশুরা কিন্ডারগার্টেন, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে শিক্ষাজীবনের শুরুতেই তৈরি হচ্ছে দুই ধরনের বাস্তবতা।

পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কাগজে-কলমে অবৈতনিক হলেও এ সুবিধা কার্যত সরকারি বিদ্যালয়েই সীমিত। কিন্ডারগার্টেনে টিউশন ফি কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই উচ্চ আয়ের পরিবারের সন্তান। এর বাইরে কওমি মাদ্রাসায় বিপুলসংখ্যক শিশু পড়ে।

এর সঙ্গে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ঝরে পড়ার হার। বর্তমানে প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ১৬ শতাংশের বেশি, যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ঝরে পড়া কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়াও চলছে।

শিক্ষাবিদদের বড় অংশের মতে, এতে শিক্ষার সমতা প্রতিষ্ঠার বদলে প্রতিযোগিতা ও বৈষম্য বাড়তে পারে। তাঁদের যুক্তি, বৃত্তির জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীরা আরও পিছিয়ে পড়তে পারে। একই প্রশ্ন রয়েছে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা নিয়েও।

শিক্ষকসংকটে আটকে মানসম্মত শিক্ষা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১: ২৮। তবে এর আড়ালে রয়েছে বড় বৈষম্য। শহরের তুলনায় চর, হাওর, পাহাড় ও দুর্গম এলাকার অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট বেশি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদের মধ্যে ৩৬ হাজার ২৩৫টি এখনো শূন্য। অবশ্য এসব পদে পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে কাজ করতে হবে। আলোচনা শুরু হয়েছে এবং আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে অগ্রগতি জানানো যাবে।

নিয়োগবিধি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের পদের ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ হয়। ফলে একসঙ্গে অনেক সহকারী শিক্ষকের পদোন্নতি হলে নতুন সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার মান উন্নত করতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও তাঁদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর।

এদিকে আবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চালু হয়েছে। শিক্ষাবিদদের বড় অংশের মতে, এতে শিক্ষার সমতা প্রতিষ্ঠার বদলে প্রতিযোগিতা ও বৈষম্য বাড়তে পারে। তাঁদের যুক্তি, বৃত্তির জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীরা আরও পিছিয়ে পড়তে পারে। একই প্রশ্ন রয়েছে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা নিয়েও।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় বৈষম্য প্রকট। শহর ও গ্রামের বিদ্যালয়ে সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষকসংকট, অবকাঠামো ও শিক্ষার মানে বিস্তর পার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় বৈষম্য মানে জাতির ভিত্তি দুর্বল করা। এটি রোধ করা জরুরি।

পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কাগজে-কলমে অবৈতনিক হলেও এ সুবিধা কার্যত সরকারি বিদ্যালয়েই সীমিত। কিন্ডারগার্টেনে টিউশন ফি কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই উচ্চ আয়ের পরিবারের সন্তান। এর বাইরে কওমি মাদ্রাসায় বিপুলসংখ্যক শিশু পড়ে।

মাধ্যমিকে বৈষম্য আরও বেশি

প্রাথমিকের পর মাধ্যমিকে এসে বৈষম্য আরও স্পষ্ট হয়। এ স্তরের ৭৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ে মাত্র ৬ শতাংশ। অর্থাৎ অধিকাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে শিক্ষক, অবকাঠামো ও শিক্ষার মানে রয়েছে ব্যাপক তারতম্য।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্রমতে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ১৫ হাজার ২৯৩টি পদের মধ্যে ৩ হাজারের বেশি শূন্য। প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩টি পদ খালি। সবচেয়ে বেশি সংকট বিজ্ঞান, গণিত ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে।

শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষকসংকট ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের অভাব—দুই সংকট মিলেই মাধ্যমিক শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী গ্রাম ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা।

পুরান ঢাকার এক শিক্ষার্থীর পরিবারের মাসে দুটি গৃহশিক্ষকের পেছনে খরচ হয় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা। সচ্ছল পরিবার যেখানে এই ব্যয় বহন করতে পারে, নিম্ন আয়ের পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব নয়।

শ্রেণিকক্ষের বাইরে ব্যয়নির্ভর শিক্ষা

এখন মাধ্যমিকে বিদ্যালয়ের পাঠদানই যথেষ্ট নয়। পরীক্ষায় ভালো ফল করতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে কোচিং বা গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ব্যয়নির্ভর একটি সমান্তরাল শিক্ষাব্যবস্থা।

পুরান ঢাকার এক শিক্ষার্থীর পরিবারের মাসে দুটি গৃহশিক্ষকের পেছনে খরচ হয় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা। সচ্ছল পরিবার যেখানে এই ব্যয় বহন করতে পারে, নিম্ন আয়ের পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব নয়।

এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি বাদে ওপরের সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। লটারি পদ্ধতি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষাবিদদের আশঙ্কা, এতে শিশুদের ওপর চাপ বাড়বে এবং ভর্তি-কোচিংয়ের প্রবণতা নতুন করে বাড়তে পারে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারি অর্থসহায়তা পায় না। পরিচালন ব্যয় মেটাতে তাদের প্রায় পুরোপুরি টিউশন ফির ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় সাধারণ পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যায়।

উচ্চশিক্ষায় বরাদ্দে ফারাক

সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশে ১৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে বছরে ব্যয় ২ লাখ ৫২ হাজার ২৪১ টাকা, অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় মাত্র ৭৮৯ টাকা। দেশের উচ্চশিক্ষার ৭০ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীই পড়ছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোয়। অধিকাংশ কলেজেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও গবেষণার পরিবেশ সীমিত।

অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারি অর্থসহায়তা পায় না। পরিচালন ব্যয় মেটাতে তাদের প্রায় পুরোপুরি টিউশন ফির ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় সাধারণ পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যায়।

বৈষম্য কমাতে প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ

শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নীতিনির্ধারণ, অর্থায়ন, শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে অসম অগ্রাধিকারের ফলে আজকের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকসংকট দূর করা, প্রাথমিক স্তরে মৌলিক শেখার দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং গবেষণা ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

নতুন সরকার আগামী অর্থবছরে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে, যা জিডিপির ২ শতাংশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।

শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, প্রয়োজনের ভিত্তিতে এবং বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য সামনে রেখে অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ৬৪ বছর আগে শিক্ষা আন্দোলনের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল—সবার জন্য গণমুখী ও বৈষম্যহীন শিক্ষা—তা শুধু শিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ বাড়ালেই পূরণ হবে না। শিক্ষার্থীর জন্ম কোথায়, পরিবারের আয় কত কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানে পড়ছে—এসবের বাইরে গিয়ে সমমানের শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে সেই আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণই থেকে যাবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ এসোসিয়েশনের প্রশাসক হলেন আতিকুর রহমান
কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ এসোসিয়েশনের প্রশাসক হলেন আতিকুর রহমান

সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সমাজকল্যাণ সংস্থার নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী সংগঠনটির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডা. মো. আতিকুর রহমান তালুকদারকে সংগঠনটির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
নেশার টাকার জন্য বাবাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

নেশার টাকার জন্য বাবাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

২২ বছর পর কারামুক্ত শ্রমিক নেতা নুরুল আমিন

২২ বছর পর কারামুক্ত শ্রমিক নেতা নুরুল আমিন

গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় পতনের ঝুঁকিতে ইসরায়েল : সিআই-এর প্রতিবেদন

গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় পতনের ঝুঁকিতে ইসরায়েল : সিআই-এর প্রতিবেদন

নগরায়ণের সঙ্গে বাড়ছে লিফটের চাহিদা, উৎপাদনে জোর ওয়ালটনের
নগরায়ণের সঙ্গে বাড়ছে লিফটের চাহিদা, উৎপাদনে জোর ওয়ালটনের

বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে ৫, ৬ ও ৭ অক্টোবরের আয়োজনে ওয়ালটনের প্রদর্শনীকেন্দ্রে এবার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে লিফট। বিভিন্ন ধরনের লিফটের পাশাপাশি এগুলোর উৎপাদন ও পরীক্ষার সক্ষমতাও তুলে ধরছে প্রতিষ্ঠানটি। আবাসিক ভবন থেকে শুরু করে হাসপাতাল, বাণিজ্যিক ভবন ও শিল্পকারখানার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের লিফট তৈরির সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ালটন।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, নিন্দার ঝড়

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, নিন্দার ঝড়

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ

কায়দা করেই বিশ্বসেরা মেসি

কায়দা করেই বিশ্বসেরা মেসি

0 Comments